নৌ বিমানচালনা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

নৌ বিমানচালনা বা নেভাল এভিয়েশন হলো নৌবাহিনীর দ্বারা কোন যুদ্ধজাহাজ বা কোন স্থল ঘাঁটি থেকে সামরিক বিমান পরিচালনা।

ফাস্ট রুপিং ম্যানুভার ইউএসএস এইচ.ড্বু. বুশ
মার্কিন মেরিন কর্পসের বিমানটি একটি অ্যাসল্ট শিপের ফ্লাইট ডেক থেকে উড্ডয়ন করছে


নৌ বিমান চলাচল সাধারণত একটি বিমানবাহী রণতরী দ্বারা পরিচালনা করা হয়। ক্যারিয়ার-ভিত্তিক বিমানগুলিকে অব্যশই ক্যারিয়ারের অপারেশনের জন্য যথেষ্ট দৃঢ় হতে হবে। তাদের অবশ্যই অল্প দূরত্বে টেক-অফ করতে সক্ষম হতে হবে এবং ছোট ফ্লাইট ডেকে হঠাৎ থামার সক্ষমতা থাকতে হবে। সাধারণত বিমানবাহী রণতরী গুলোতে দুটি অংশ থাকে নীচের ডেকগুলির হ্যাঙ্গারে এবং ফ্লাইট ডেকে ছোট ছোট জায়গাগুলিতে সংরক্ষন করা হয়। এই ধরনের বিমানগুলি বিমান-থেকে-বায়ু যুদ্ধ, পৃষ্ঠে আক্রমণ, সাবমেরিন আক্রমণ, অনুসন্ধান এবং উদ্ধার, ম্যাট্রিয়েল পরিবহন, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, পুনর্বিবেচনা এবং প্রশস্ত অঞ্চলে কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণ দায়িত্ব সহ অনেকগুলি উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা হয়।

বিমানবাহী রণতরী, হেলিকপ্টারবাহী রণতরী, ড্রেস্টয়ার এবং ফ্রিগেট থেকে অপারেশন করার সময় নৌ-হেলিকপ্টারগুলো ফিক্স-উইং এয়ারক্রাফ্ট হিসাবে একই মিশনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ভূমিকা[সম্পাদনা]

ইউএসএস হ্যারি ট্রুমেনের ফ্লাইং ডেক

নৌ বিমানবাহিনী প্রধানত সমুদ্রের উপরে নৌবাহিনীর ভূমিকা পালন করে। তবে এগুলি অন্যান্য কাজের জন্যও ব্যবহৃত হয়। এই ধরনের বাহিনীর জন্য সাধারণ ভূমিকাগুলো হলো:

বহরের আকাশ প্রতিরক্ষা[সম্পাদনা]

ক্যারিয়ার-ভিত্তিক নৌ বিমানগুলি একটি দেশের সমুদ্র সীমায় মোতায়েন করা হয়ে থাকে যেখানে স্থল-ভিত্তিক বিমানগুলো পৌঁছনীয় নাও হতে পারে‌। এরূপ ক্ষেত্রে তারা বিমানবাহিনীর ন্যায় কাজ করে এবং আকাশ প্রতিরক্ষায় অংশ নেয়।

কৌশলগত সুবিধা[সম্পাদনা]

নৌ বিমান চালনা দেশগুলিকে স্থলভাগে বিমান ঘাঁটির প্রয়োজন ছাড়াই স্থল ও সমুদ্রের উপরে সামরিক বিমান মোতায়েনের সুযোগ প্রদান করে।

অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধ[সম্পাদনা]

সাবমেরিনগুলির বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্রগুলির মধ্যে একটি হ'ল এএসডাব্লু হেলিকপ্টার, যার বেশ কয়েকটি এই হালকা ক্যারিয়ার জাহাজের উপর ভিত্তি করে ফ্লিট তৈরি হতে পারে। এই ক্যারিয়ারগুলি সাধারণত প্রায় ২০,০০০ টন ওজনের হয় এবং এএসডাব্লু হেলিকপ্টার এবং বিএই হ্যারিয়ার বা হ্যারিয়ার IIভি/এসটিএল বিমানগুলো বহন করে। স্থল-ভিত্তিক সামুদ্রিক টহল বিমানগুলিও এই ভূমিকাতে কার্যকর, যেহেতু তারা বিমান বাহী রণতরী থেকে স্বাধীনভাবে কাজ পরিচালনা করতে পারে।

অ্যান্টি-সারফেজ যুদ্ধ[সম্পাদনা]

নৌবাহিনী দ্বারা চালিত বিমানগুলি শত্রু জাহাজ এবং অন্যান্য, ভূমির যোদ্ধাদের আক্রমণ করতে অ্যান্টি সারফেজ যুদ্ধের (ASUW বা ASUW) ভূমিকাতেও ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত বিমান চালিত অ্যান্টি শিপ মিসাইল ব্যবহার করে পরিচালিত হয়।

উভচর যুদ্ধ[সম্পাদনা]

নৌ বিমানচালনা উভয় যুদ্ধের অংশ হিসাবেও ব্যবহৃত হয়। নৌ জাহাজের উপর ভিত্তি করে বিমানগুলি সামুদ্রিক এবং উভচর অবতরণকারী অন্যান্য বাহিনীকে সহায়তা সরবরাহ করে। জাহাজভিত্তিক বিমানগুলি অভ্যন্তরীণভাবে স্থানান্তরিত হওয়ার সাথে সাথে উভচর বাহিনীকে সমর্থন করতে ব্যবহৃত হতে পারে।

সমুদ্রে টহল[সম্পাদনা]

নৌ বিমানগুলি সমুদ্রে টহল মিশনের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন পুনরুদ্ধার, অনুসন্ধান এবং উদ্ধার এবং সামুদ্রিক আইন প্রয়োগের জন্য।

পুনরুদ্ধার[সম্পাদনা]

ভার্ট্রিইপ হেলিকপ্টার দ্বারা সমুদ্রে নৌবাহিনীর মাঝে রেশন সরবরাহ করার একটি পদ্ধতি। এর অর্থ নৌ-হেলিকপ্টার ব্যবহার করে অন্যান্য নৌ-জাহাজের ফ্লাইট ডেকে সরবরাহ, জাহাজ থেকে সরবরাহ করা।

ত্রাণ বিতরণ[সম্পাদনা]

দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে নৌ বিমানগুলো ব্যবহার করে ত্রাণ বিতরণ এবং উদ্ধার কাজ পরিচালনা করা হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

উইকিমিডিয়া কমন্সে নৌ বিমানচালনা সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন।