নিকোলাস পারসন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
নিকোলাস পারসন্স

Nicholas Parsons 2007.png
২০০৭ সালে এডিনবার্গের দ্য প্লিজেন্স গ্রাউন্ডে জাস্ট আ মিনিট অনুষ্ঠানের রেকর্ডিং করছেন
জন্ম
ক্রিস্টোফার নিকোলাস পার্সনস

(১৯২৩-১০-১০)১০ অক্টোবর ১৯২৩
গ্রান্থাম, লিংকনশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২৮ জানুয়ারি ২০২০(2020-01-28) (বয়স ৯৬)
আইলেসবারি, বাকিংহ্যামশায়ার, ইংল্যান্ড
শিক্ষাসেন্ট পল'স স্কুল, লন্ডন
গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়
পেশাঅভিনেতা, রেডিও ও টিভি উপস্থাপক
কর্মজীবন১৯৪৪–২০২০
পরিচিতির কারণজাস্ট আ মিনিট (১৯৬৭–২০২০)
সেল অব দ্য সেঞ্চুরি গেম (১৯৭১-১৯৮৩)
উপাধিসেন্ট অ্যান্ড্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর
(১৯৮৮–১৯৯১)
লর্ডস ট্যাভার্নার্সের প্রেসিডেন্ট
(১৯৮৮–১৯৯৯)
দাম্পত্য সঙ্গীডেনিস ব্রায়ার (বি. ১৯৫৪; বিচ্ছেদ. ১৯৮৯)
অ্যান রেনল্ডস
(বি. ১৯৯৫)
সন্তান
ওয়েবসাইটwww.nicholasparsons.info

ক্রিস্টোফার নিকোলাস পারসন্স CBE (১০ অক্টোবর ১৯২৩ – ২৮ জানুয়ারি ২০২০) একজন ইংরেজ অভিনেতা এবং রেডিও ও টেলিভিশন উপস্থাপক ছিলেন। তিনি কমেডি রেডিও শো "জাস্ট আ মিনিট"-এর দীর্ঘকালীন উপস্থাপক ছিলেন এবং ১৯৭০ এর দশক ও ১৯৮০ এর দশকের গোড়ার দিকে গেম শো "সেল অফ দ্য সেঞ্চুরি"-এর হোস্ট ছিলেন।

পারসন্স লিংকনশায়ারের গ্রান্থামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং এখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি লন্ডনের সেন্ট পলস স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে তিনি পূর্ণকালীন অভিনেতা হয়ে ওঠেন এবং আর্থার হেইনেসের সমর্থন সহ বিভিন্ন থিয়েটার, ফিল্ম এবং টেলিভিশন চরিত্রে অভিনয় শুরু করেছিলেন। ১৯৬৭ সালে তিনি "জাস্ট আ মিনিট" উপস্থাপন শুরু করেছিলেন এবং ২০১৮ সাল পর্যন্ত কোনও অনুষ্ঠানই মিস করেন নি। "সেল অব দ্য সেঞ্চুরি" নামক গেম শোতে সুপরিচিত ভূমিকা ছাড়াও তিনি "ডক্টর হু" ও "হ্যাভ আই গট নিউজ ফর ইউ" সহ অন্যান্য টেলিভিশন শোতে অতিথি হিসাবে উপস্থিত হয়েছিলেন।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

ক্রিস্টোফার নিকোলাস পার্সনস[২] জন্মগ্রহণ করেছিলেন লিঙ্কনশায়ারের গ্রান্থ্যামের, ১ ক্যাসলিগেটে; তিনি ছিলেন পরিবারের মেজো সন্তান, তাঁর একজন বড় ভাই এবং একটি ছোট বোন ছিল। তাঁর বাবা পল একজন সাধারণ চিকিত্সক ছিলেন যার রোগীদের মধ্যে মার্গারেট থ্যাচারের পরিবারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।[৩] তাঁর মা নেল নী ম্যাগস বিয়ের আগে একজন নার্স ছিলেন।[৪]

পার্সনস বামহাতি হয়েই জন্মগ্রহণ করেছিলেন তবে তিনি ডানহাত দিয়ে লিখতেন। শিশুবয়সে তিনি তোতলা ছিলেন, যা তিনি বড় হওয়ার সাথে সাথে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিলেন।[৫] তিনি মাইগ্রেনের সমস্যায়ও ভুগছিলেন, এরপরও তিনি স্কুলে বেশ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। [৬]

লন্ডনের কোলেট কোর্ট এবং সেন্ট পলস স্কুলে পড়াশোনা করার পরে পার্সনসের ক্যারিয়ারের প্রাথমিক পরিকল্পনাটি ছিল একজন অভিনেতা হওয়া। তবে তার বাবা-মা বিশ্বাস করতেন যে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ক্যারিয়ার আরও ভাল হবে। এর কারণটা ছিলো তিনি যুবক বয়সে দাদুর ঘড়ি মেরামত করতেন এবং কাজেকর্মে খুবই সৃজনশীল ছিলেন।[৬] স্কুলে থাকাকালীন তিনি জন ট্র্যাচারের সবচেয়ে ভাল বন্ধু ছিলেন, যার একজন কমান্ডার-ইন-চিফ ফ্লীট হওয়ার কথা ছিল। স্কুলে পার্সনসের ডাকনাম ছিল "শিরলে", তৎকালীন বর্ধমান আমেরিকান প্রতিভাধর শিরলে টেম্পলের নামানুসারে।[৭]

তিনি স্কুল ছাড়ার পরে তার পরিবার স্কটল্যান্ডে তাদের আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ করেছিল যারা গ্লাসগোর নিকটবর্তী ক্লাইডেব্যাঙ্কে তাঁর জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা করেছিলেন। সেখানে তিনি মেরিন পাম্প প্রস্তুতকারক ড্রাইসডালসে ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষানবিশ হিসাবে পাঁচ বছর নিযুক্ত ছিলেন।[৮] এছাড়াও সেখানে থাকাকালীন তিনি গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং অধ্যয়নের জন্য দুটি ছয়-মাসিক পিরিয়ড কাটিয়েছিলেন।[৯] তিনি কখনই স্নাতক হন নি, তবে শিক্ষানবিশতা শেষ করেন এবং যান্ত্রিক প্রকৌশলী হওয়ার পর্যাপ্ত যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাকে মার্চেন্ট নেভিতে একটি পোস্টিংয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু প্লুরিসিতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পরে সেবার তিনি যোগদান করেননি। সেসময় তিনি পাঁচ মাস হাসপাতালে কাটিয়েছিলেন এবং এক পর্যায়ে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনার রেট দেওয়া হয়েছিল ৫০-৫০।[৪][১০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Edward Lear"Great Lives। ১৩ মে ২০০৮। BBC Radio 4। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০১৪ 
  2. "FreeBMD Entry Info"www.freebmd.org.uk 
  3. pt91। "Oration for Nicholas Parsons CBE — University of Leicester"www2.le.ac.uk (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০১৮ 
  4. Dixon, Stephen (২০২০-০১-২৮)। "Nicholas Parsons obituary"The Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0261-3077। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০১-২৯ 
  5. The Daily Telegraph, 24 September 2013, page 11
  6. "Desert Island Discs with Nicholas Parsons"Desert Island Discs। ৯ নভেম্বর ২০০৭। BBCRadio 4 
  7. Parsons, N. (2010), With Just a Touch of Hesitation, Repetition and Deviation: My Life in Comedy, Mainstream Publishing, আইএসবিএন ৯৭৮-১৮৪৫৯৬৭১২৩
  8. "Drysdale & Co"। Grace's Guide to British Industrial History। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০১৩ 
  9. "Ed Doolan Interviews..."Ed Doolan Interviews। ২৫ অক্টোবর ২০০৮। BBCRadio 7 
  10. "Obituary : Nicholas Parsons"BBC News। ২৮ জানুয়ারি ২০২০।