নাফিস বিন জাফর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
নাফিস বিন জাফর
NafeesBinZafarAspire.png
জন্ম (1978-10-08) ৮ অক্টোবর ১৯৭৮ (বয়স ৪১)
ঢাকা, বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাংলাদেশী
শিক্ষাস্নাতক, সফটওয়্যার প্রকৌশল
যেখানের শিক্ষার্থীকলেজ অব চার্লসটন
পেশাসফটওয়্যার প্রকৌশলী
কার্যকাল২০০০-বর্তমান
নিয়োগকারীড্রিম ওয়ার্কস অ্যানিমেশন
পরিচিতির কারণপ্রথম অস্কার বিজয়ী বাংলাদেশী
পিতা-মাতাজাফর বিন বাশার
নাফিসা জাফর
পুরস্কারঅস্কার
ওয়েবসাইটnafees.net

নাফিস বিন যাফর (জন্ম: অক্টোবর ৮, ১৯৭৮) একজন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশী সফটওয়্যার প্রকৌশলী এবং অ্যানিমেশন বিশেষজ্ঞ। নাফিস প্রথম বাংলাদেশী ব্যক্তি হিসেবে ২০০৭ সালে অস্কার পুরষ্কার জেতেন। হলিউডের পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান: অ্যাট ওয়ার্ল্ড’স এন্ড চলচ্চিত্রে ফ্লুইড অ্যানিমেশনের জন্য সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল বিভাগে ডিজিটাল ডোমেইন নামে ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস ডেভেলপার কোম্পানির হয়ে দুই সহকর্মী ডাগ রোবেল ও রিয়ো সাকাগুচি সাথে নাফিস এ পুরস্কার জেতেন। [১][২]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

নাফিসের জন্ম ১৯৭৮ সালের ৮ অক্টোবর, ঢাকায়। তার বাবার নাম জাফর বিন বাশার এবং মায়ের নাম নাফিসা জাফর। [৩] তিনি সম্পর্কে বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ও পাপেট নির্মাতা মুস্তফা মনোয়ারের ভাতিজা এবং প্রয়াত কবি ও লেখক গোলাম মোস্তফার নাতি।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর নাফিসের মূলত ক্যারিয়ার শুরু হয় প্রোগ্রামার হিসেবে, আমেরিকার দক্ষিণ ক্যারোলিনার ‘কলেজ অফ চারলেস্টন’ থেকে । পরবর্তীতে ‘NASA’র জন্য একটা প্রোগ্রাম বানানোর মধ্য দিয়ে প্রোগ্রামিং -এর প্রতি একটা বিশেষ ভালোবাসা অনুভূত হয় নাফিসের মধ্যে ।

এরপর ১৯৯৮ তে মাত্র বিশ বছর বয়সে গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর এই অসাধারন ট্যালেন্টেড ছেলে নাফিস যোগ দেন ‘ডিজিটাল ডোমেইন’ নামের একটা কোম্পানীতে । এই প্রতিষ্ঠানে থাকা অবস্থাতেই তিনি আবিষ্কার করেন ‘ফ্লুইড সিম্যুলেশন’ (Fluid Simulation) নামে একটা অ্যানিমেশন টুলের । ‘ফ্লুইড সিম্যুলেশন’ হলো এমন এক ধরনের কম্পিউটার গ্রাফিক্স টুল যার ব্যবহারে ‘পানি’, ‘আগুন’ কিংবা ‘ধোঁয়া’র মতো পদার্থের দ্বারা সৃষ্ট কোন অ্যানিমেশন কয়েকগুন জীবন্ত মনে হবে ! নাফিসের এই আবিষ্কারে তার সহযোগী ছিলেন আরেক দুইজন সফটওয়্যার ডেভেলপার ‘ডউগ রোবল’ এবং ‘রায়ো সাকাগুচি’ । নাফিস ও তাদের সহযোগীদের আবিষ্কৃত এই বিশেষ গ্রাফিক্স টুলটি ব্যবহৃত হয় ২০০৭ -এ মুক্তি পাওয়া তৎকালীন সময়ের অন্যতম আলোচিত চলচ্চিত্র ‘Pirates of the Caribbean : At Worlds End’ -এর স্পেশাল ইফেক্টে ! এর ফলাফল স্বরুপ পরের বছর পেয়ে যান অস্কারের ‘সায়েন্টিফিক এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাওয়ার্ড’ নামে বিশেষ এক পুরস্কার, যা তার গোটা ক্যারিয়ারকেই সম্পূর্ন বদলে দেয় ।

পেয়ে যান স্টিভেন স্পিলবার্গের প্রতিষ্ঠান ‘Dreamworks Animation’ -এ কাজ করার সুযোগ । সিনিয়র প্রোডাকশন ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন ‘Shrek Forever After’, ‘Megamind’, ‘Kung Fu Panda 2’, ‘Puss in Boots’, ‘Madagascar 3’, ‘The Croods’… এর মতো কিছু অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রে । এছাড়াও কাজ করেন… ‘Stealth’, ‘Flag of Our Fathers’, ‘The Seeker’, ‘2012’, Percy Jackson and the Olympians’… এর মতো কিছু চলচ্চিত্রেও ! পাশাপাশি ‘Tron’ এবং ‘Transformers 2’ চলচ্চিত্রের স্পেশাল ইফেক্টের জন্যও নির্মান করেন বেশ কিছু অ্যানিমেশন ।

এবং সম্প্রতি নাফিস এবং তার সহযোগী স্টিভেন মার্শাল -এর যৌথ আবিষ্কৃত আরো একটি স্পেশাল ইফেক্টের বিশেষ গ্রাফিক্স টুল – বুলেটের উপর বেইস করে দুটি বড় স্কেলে ‘ডেস্ট্রাকশন সিম্যুলেশন সিস্টেম’ -এ বিশাল অবদানের জন্য ‘অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস (অস্কার)’ কর্তৃপক্ষ ‘Technical Achievement Award’ হিসেবে এবছর তুলে দিলো বিশেষ এক অস্কার পুরস্কার, নাফিস বিন জাফর এবং তার সহযোগী স্টিভেন মার্শাল -এর হাতে ।

চলচ্চিত্রসমূহ[সম্পাদনা]

  • মাদাগাস্কার ৩: ইউরোপ'স মোস্ট ওয়ান্টেড (প্রধান প্রকৌশলী)
  • পুস ইন বুটস (জৈষ্ঠ সফটওয়্যার প্রকৌশলী )
  • কুংফু পান্ডা ২ (জৈষ্ঠ সফটওয়্যার প্রকৌশলী )
  • মেগামাইন্ড (জৈষ্ঠ প্রোডাকশন প্রকৌশলী )
  • শ্রেক ফরেভার আফটার (জৈষ্ঠ প্রোডাকশন প্রকৌশলী )
  • পার্সি জ্যাকসন এ্যান্ড দ্য লাইটেনিং থিফ (সফটওয়্যার প্রকৌশলী )
  • দ্য সিকার: দ্য ডার্ক ইজ রাইজিং
  • পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান: অ্যাট ওয়ার্ল্ড’স এন্ড
  • ফ্ল্যাগস অফ আওয়ার ফাদার
  • স্টিল্‌থ্‌
  • দ্য ক্রুড[৪]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দৈনিক প্রথম আলো
  2. "দৈনিক সমকাল"। ২৬ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  3. "ই-কথা ডট কম"। ৯ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  4. "Nafees Bin Zafar: The Genius Behind Caribbean Waves"। The Daily Star। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৩ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]