নয়াতন্ত্র

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

নয়াতন্ত্র, নবতন্ত্র ( সংস্কৃত : नव, 'নতুন') বা তান্ত্রিক যৌনতা হল পারম্পরিক হিন্দুবৌদ্ধ তন্ত্রের আধুনিক পাশ্চাত্য প্রকরণ যা এক নয়া ধর্মীয় আন্দোলনের সংগেও কিছুটা জড়িত। একে আংশিক প্রাচীন পুঁথি ও মতবাদের ভিত্তি দিয়ে ,[১][২] এবং কিছুটা অনেকে তন্ত্রকে 'পবিত্র যৌনতা' নাম দিয়ে ব্যবহার করেন আর সহজীয়া অনুশীলনের মতও যোগ করেন। নবতন্ত্রে প্রথাগত ভারতীয় তন্ত্রের পুরো কাঠামো গ্রহণ করা হয় না, বিশেষ করে গুরু পরম্পরার নির্ভরতা।

তান্ত্রিক যৌনতা[সম্পাদনা]

১৯৬০ এর দশকে পাশ্চাত্যে তান্ত্রিক অনুশীলন এক নতুন মাত্রা পায় এর যৌন প্রক্রিয়াগুলির জন্য। ফলশ্রুতিতে, এর আধ্যাত্মিক অনুশীলনের প্রয়োজনীয় দিকগুলি অনেকক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়। তবে প্রচলিত তন্ত্রে এবং নয়া তন্ত্রে যৌনতার ভূমিকা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যভেদে আলাদা আলাদা হয়। 'প্রাণী চুম্বকত্ব'এর মতো বিদ্যা নয়াতন্ত্রে নতুন মাত্রা পায়।

অনুশীলনকারী[সম্পাদনা]

তন্ত্রের এই নয়া মতবাদের অনেক শিক্ষকই এতে যৌনতা এবং যৌন অভিজ্ঞতাগুলিকে 'পবিত্র কর্ম' বলে মনে করেন শিক্ষার্থীদের আধ্যাত্মিক স্তরের উন্নতির জন্য।[৩] এরা প্রায়শই কুণ্ডলিনী শক্তির জাগরণের কথা বলে থাকেন,[৪][৫] মাতৃকাপূজা করে ষটচক্রকে সক্রিয় করে তোলার জন্য। [৬] এক্ষেত্রে, "তন্ত্র"কে যৌন ও প্রেমের সম্বন্ধ পূরণের মাধ্যম হিসাবে গণ্য করা হয়। অপরপক্ষে, আধুনিক তন্ত্রের প্রাঙ্গনে অনেক নিষ্ঠাবান পণ্ডিত ও শিক্ষক নিয়োজিত।

গুরু ভগবান শ্রী রজনীশ (যিনি পরে ওশো নামে পরিচিত হন) তন্ত্রকে শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল, জৈব-শক্তি, যোগসাধনা, এবং অঙ্গ-মর্দনের সাথে মিলিয়ে তাঁর আশ্রমের শিষ্যদের শেখান। তিনি টাও, বৌদ্ধ ও অতীন্দ্রীয় দর্শনের উপর তান্ত্রিক মতাবলম্বী অনেক বই রচনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে একটি হল Tantra, The Supreme Understanding, যেখানে তিনি তিলোপা বিরচিত "মহামুদ্রা সঙ্গীত"-এর গূঢ় অর্থ বিশ্লেষণ করেছেন। এছাড়া বিজ্ঞান ভৈরব-এ রয়েছে ১১২ টি উপায় যেখানে নির্বাণ তত্ত্বের আলোচনা আছে গূহ্য সাধনামূলক গ্রন্থের বিভিন্ন বিষয়ের ফলাফলের উপর।[৭] তাঁর শিষ্যেরা এই মতাদর্শকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

ওশোর একজন শিষ্য মার্গট আনন্দ "আকাশনৃত্য" তন্ত্র নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর লেখা বিভিন্ন বইয়ের মধ্যে হল প্রতিদিনের পরমানন্দের বিদ্যা এবং যৌন জাদু বিদ্যা। অপর এক আধুনিক তান্ত্রিকা ড্যানিয়েল ওডিয়ের, যিনি বিশ্বাস করেন যে, কামনা-বাসনা হল অতীন্দ্রীয় বা তুরীয় অবস্থায় পৌঁছানোর যুক্তিসিদ্ধ পথ।[৮] যৌন-বিশেষজ্ঞ এনি স্প্রিঙ্কলে এবং যৌনবিদ জোসেফ ক্রেমার হলেন 'পবিত্র যৌন অঙ্গ মর্দন'-এর দুজন অনুশীলনকারী। ১৯৯৭ সালে দেবরাহ্ আনাপল একটি 'জাতীয় প্রেম উদযাপন'-এর আয়োজন করে বলেন, "পবিত্র যৌনতার উপর এটি একটি আলাপ-আলোচনাসভা যেখানে বৌদ্ধ, সুফি, টাও, ইহুদি, পেগান, হিন্দু, শিন্টো, উইকান, ওকাল্ট, আমেরিকার আদিম জনজাতি, এবং আফ্রো-ক্যারিবিয়ান সংস্কৃতির তান্ত্রিক গুরুদের এক জায়গায় প্রথমবার নিয়ে আসা হল।"

সমালোচনা[সম্পাদনা]

জর্জ ফিউয়ারস্টেন, একজন জার্মান ভারতবিদ , যিনি তন্ত্রে দীক্ষিতও, তাঁর তন্ত্র :পরমানন্দ লাভের পথ: বইয়ের শেষে উল্লেখ করেন,

"অনেকেই নয়া তান্ত্রিক মতবাদে আকৃষ্ট হয় এতে লৈঙ্গিক যৌন-উত্তেজনা ও আনন্দ আস্বাদনের জন্য, যেহেতু এতে আধ্যাত্মিক অনুভূতি জাগরণের লক্ষ্যে আবেগঘন অবস্থার দরকার হয়। আমরা যদি ভারতে তন্ত্রের ইতিহাস সম্বন্ধে আরও ভালভাবে অবগত হতাম , তাহলে প্রত্যেক প্রজন্মের জন্য একটা তুলনামূলক পরিস্থিতি তৈরী হতে পারত।"

তিনি আরও বলেন , "আজকাল তন্ত্রের তর্জমা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই পুস্তকের আকারে পাওয়া যায়...

যা হবু তান্ত্রিকদের নিজ নিজ মতাদর্শমূলক অনুষ্ঠানাদি করার সুযোগ করে দিচ্ছে, যেটাকে তারা খুব সহজেই তন্ত্রের নামে চালাতে পারে। "[৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Yoga Spandakarika: The Sacred Texts at the Origins of Tantra, Daniel Odier (2004)
  2. The Yoga of Delight, Wonder, and Astonishment, A Translation of the Vijnaya-bhairava, Jaideva Singh, Motilal Banarsidass Publisher (1991)
  3. Sacred Orgasms, Kenneth Ray Stubbs (1992)
  4. Kundalini: Evolution and Enlightenment, Edited by John White, Paragon House (1979), Page 27-47
  5. Tantric Yoga: The Royal Path to Raising Kundalini Power, Gavin and Yvonne Frost, Samuel Weiser Publishing (1989)
  6. Jewel in the Lotus: The Sexual Path to Higher Consciousness, Sunyata Saraswati and Bodhi Avinasha, Kriya Jyoti Tantra Society (1987), Pages 77- 90
  7. Bhagwan Shree Rajneesh (1998)
  8. Desire: The Tantric Path To Awakening, Daniel Odier, Inner Tradition Publishing (2001)
  9. Tantra: The Path of Ecstasy, Georg Feuerstein, Shambala Press (1998), Page 271