ধোঁয়াশা
ধোঁয়াশা একধরনের বায়ু দূষণ।[১] "ধোঁয়াশা" শব্দটি "ধোঁয়া" ও "কুয়াশা" শব্দদুটি থেকে তৈরি করা হয়েছে। এধরনের দৃশ্যমান বায়ু দূষণে নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফার অক্সাইড, ওজোন গ্যাস, ধোঁয়া ও অন্যান্য পার্টিকুলেট পদার্থ বর্তমান। মনুষ্যসৃষ্ট ধোঁয়াশা কয়লা দহন, যানবাহন, শিল্প এবং দাবানলে থেকে নির্গত দূষক এবং সেইসব দূষকের সঙ্গে আলোক-রাসায়নিক বিক্রিয়া।
মনুষ্যসৃষ্ট কারণ
[সম্পাদনা]কয়লা
[সম্পাদনা]কয়লা দহনের ফলে প্রচুর ধোঁয়া উৎপন্ন হয়, যা শীতকালে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করতে সাহায্য করে। কয়লা সাধারণত প্রত্যেক ভবনে তাপ উৎপাদন কিংবা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়। মধ্যযুগ থেকেই ইংল্যান্ডে কয়লাজনিত বায়ুদূষণের কথা জানা যায়।[২][৩] বিশেষত লন্ডনের বিশ শতাব্দী পর্যন্ত কয়লাজনিত ধোঁয়াশার জন্য কুখ্যাত ছিল। এখনও পর্যন্ত ঐসব জায়গায় এধরনের বায়ু দূষণ বিদ্যমান যেসব জায়গায় কয়লা দহনের ফলে প্রচুর ধোঁয়া উৎপন্ন হয়। এটি চীনে বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ।[৪]
যানবাহন
[সম্পাদনা]ট্রাক, বাস, মোটর গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে নির্গত দূষকও ধোঁয়াশা সৃষ্টির জন্য দায়ী।[৫] যানবাহন থেকে নির্গত বায়ব দূষক কিছু বড় শহরে ধোঁয়াশা সৃষ্টির মূল উপাদান।[৬][৭][৮][৯]
প্রভাবিত এলাকা
[সম্পাদনা]ভারত
[সম্পাদনা]
দিল্লি
[সম্পাদনা]
ভারতের রাজধানী দিল্লি বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর[১৩] এবং এক অনুমান অনুযায়ী, বায়ু দূষণের জন্য প্রতি বছর দিল্লিতে ১০,৫০০ জনের মৃত্যু হয়।[১৪][১৫][১৬] দিল্লি এবং তার আশেপাশের অঞ্চলে (তথা ভারতের জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের) বায়ু দূষণের কারণে নিয়মিতভাবে ধোয়াঁশা সৃষ্টি হয়।[১৭] এই সময় বায় দূষণ পিএম ২.৫ এবং পিএম ১০ উভয় মাত্রার স্তরের উপরে ছিল। [১৮] এটি ১৯৯৯ সালের পর থেকে দিল্লিতে বায়ুগত মানের সবচেয়ে খারাপ মাত্রা হিসাবে রিপোর্ট করা হয়েছে।[১৯] কম দৃশ্যমানতা শহর জুড়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে, বিশেষ করে যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে ২৪ টি গাড়ির দুর্ঘটনা ঘটেছে। [২০]
__LEAD_SECTION__
[সম্পাদনা]


| দূষণ |
|---|
| বিষয়ক একটি ধারাবাহিকের অংশ |
|
|
ধোঁয়াশা মূলত একটি বায়ুমণ্ডলীয় ঘটনা, যেখানে ধূলিকণা, ধোঁয়া এবং বাতাসে ভেসে থাকা অন্যান্য শুষ্ক সূক্ষ্ম কণা দৃশ্যমানতা এবং আকাশের স্বচ্ছতাকে ব্যাহত করে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা তাদের 'ম্যানুয়াল অফ কোড্স্'-এ অণুভূমিক দৃশ্যমানতা হ্রাসকারী কণাসমূহকে নিম্নলিখিত বিভাগগুলোতে শ্রেণীবদ্ধ করেছে: ঘন কুয়াশা (Fog), বরফ কুয়াশা (Ice fog), বাষ্প কুয়াশা (Steam fog), কুয়াশা/কুয়াশিকা (Mist), ধোঁয়াশা (Haze), ধোঁয়া (Smoke), আগ্নেয়গিরির ছাই (Volcanic ash), ধূলিকণা (Dust), বালু (Sand), এবং তুষার (Snow)।[২১] ধোঁয়াশা সৃষ্টিকারী কণাগুলোর উৎসের মধ্যে রয়েছে কৃষি কার্যক্রম (যেমন ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো বা শুষ্ক আবহাওয়ায় জমি চাষ), যানবাহন, শিল্পকারখানা, ঝড়ো আবহাওয়া, আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা এবং দাবানল।দূর থেকে লক্ষ্য করলে (যেমন কোনো অগ্রসরমান উড়োজাহাজ থেকে) এবং সূর্যের সাপেক্ষে দেখার কোণের ওপর ভিত্তি করে ধোঁয়াশাকে বাদামী বা নীলাভ মনে হতে পারে, যেখানে কুয়াশিকা (mist) সাধারণত নীলাভ ধূসর বর্ণের হয়ে থাকে। যদিও ধোঁয়াশাকে সাধারণত শুষ্ক বাতাসে ঘটা একটি আবহাওয়াজনিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কুয়াশিকা তৈরির প্রক্রিয়াটি মূলত সম্পৃক্ত ও আর্দ্র বাতাসে ঘটে থাকে। তবে, ধোঁয়াশার কণাগুলো অনেক সময় ঘনীভবন কেন্দ্র (condensation nuclei) হিসেবে কাজ করতে পারে যা জলীয় বাষ্পকে ঘনীভূত করে কুয়াশার জলকণা তৈরিতে সহায়তা করে; ধোঁয়াশার এই বিশেষ রূপটি 'সজল ধোঁয়াশা' (wet haze) নামে পরিচিত।
আবহাওয়া বিজ্ঞানের সাহিত্যে, 'ধোঁয়াশা' শব্দটি সাধারণত বায়ুমণ্ডলে ভেসে থাকা সজল প্রকৃতির অ্যারোসলকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয় যা দৃশ্যমানতা হ্রাস করে। এই ধরণের অ্যারোসল সাধারণত কিছু জটিল রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়; দহন প্রক্রিয়ার সময় নির্গত সালফার ডাই অক্সাইড গ্যাস যখন বায়ুমণ্ডলে উন্মুক্ত হয়ে সালফিউরিক অ্যাসিডের তরল ক্ষুদ্র বিন্দুকণায় রূপান্তরিত হয়, তখনই এটি ঘটে। সূর্যের আলো, উচ্চ আপেক্ষিক আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহের অনুপস্থিতিতে এই বিক্রিয়াগুলো আরও ত্বরান্বিত হয়। সজল-ধোঁয়াশা সৃষ্টিকারী অ্যারোসলের একটি ক্ষুদ্র অংশ গাছপালা থেকে নির্গত বিভিন্ন যৌগ (যেমন - টারপিন) থেকেও তৈরি হতে পারে। এই সকল কারণে, সজল ধোঁয়াশা মূলত একটি উষ্ণ ঋতু বা গ্রীষ্মকালীন প্রাকৃতিক ঘটনা। প্রতি গ্রীষ্মে যখন দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাপক অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করে, তখন হাজার হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে এমন ধোঁয়াশা সৃষ্টি হতে পারে।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Olga Kornienko, Grinin L, Ilyin I, Herrmann P, Korotayev A (২০১৬)। "Social and Economic Background of Blending" (পিডিএফ)। Globalistics and Globalization Studies: Global Transformations and Global Future। Volgograd: Uchitel Publishing House। পৃ. ২২০–২২৫। আইএসবিএন ৯৭৮-৫-৭০৫৭-৫০২৬-৯।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - ↑ Chris (২০০৭)। "Environmentalism in 1306"। By Environmental Graffiti। ২৫ জুলাই ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ Karl (২০০৮)। "Environmentalism in 1306"। By Environmental Graffiti। ১৩ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০২৩।
- ↑ Heilmann, Sebastian, সম্পাদক (২০১৭)। China's Political System। Rowman & Littlefield। পৃ. ৩৬০। ১১ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ "Clearing the Air"। The Surface Transportation Policy Project। ১৯ আগস্ট ২০০৩। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০০৭।
- ↑ "EPA Tools Available as Summer Smog Season Starts" (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)। Boston, Massachusetts: United States Environmental Protection Agency। ৩০ এপ্রিল ২০০৮।
- ↑ "Sprawl Report 2001: Measuring Vehicle Contribution to Smog"। Sierra Club। ২০০১। ১৫ নভেম্বর ২০০১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০১৩।
- ↑ "Smog – Causes"। The Environment: A Global Challenge। ১৯ জানুয়ারি ২০০১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০১৩।
- ↑ Smog — Who Does It Hurt? What You Need to Know About Ozone and Your Health (EPA-452/K-99-001) (পিডিএফ) (প্রতিবেদন)। United States Environmental Protection Agency। জুলাই ১৯৯৯। ২৮ মার্চ ২০০৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- ↑ Badarinath, K. V. S., Kumar Kharol, S., & Rani Sharma, A. (2009), Long-range transport of aerosols from agriculture crop residue burning in Indo-Gangetic Plains—a study using LIDAR, ground measurements and satellite data. Journal of Atmospheric and Solar-Terrestrial Physics, 71(1), 112–120
- ↑ Sharma, A. R., Kharol, S. K., Badarinath, K. V. S., & Singh, D. (2010), Impact of agriculture crop residue burning on atmospheric aerosol loading—a study over Punjab State, India. Annales Geophysicae, 28(2), pp 367–379
- ↑ Adler, Tina (নভেম্বর ২০১০)। "Respiratory Health: Measuring the Health Effects of Crop Burning"। Environmental Health Perspectives। ১১৮ (11): A৪৭৫। ডিওআই:10.1289/ehp.118-a475। পিএমসি 2974718। পিএমআইডি 21465742।
- ↑ "Delhi is most polluted city in world, Beijing much better: WHO study"। Hindustan Times। ৮ মে ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০১৪।
- ↑ "Delhi's Air Has Become a Lethal Hazard and Nobody Seems to Know What to Do About It"। Time magazine। ২ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪।
- ↑ "India's Air Pollution Triggers Comparisons with China"। Voice of America। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪।
- ↑ "A Delhi particular"। The Economist। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০১২।
- ↑ Sweta Goswami (৭ নভেম্বর ২০১৭)। "Delhi's worst smog yet wakes up govt, emergency measures announced"। Hindustan Times।
- ↑ Express Web Desk (২ নভেম্বর ২০১৭)। "Delhi wakes up to hazardous pollution levels, reduced visibility due to smog"। Indian Express।
- ↑ PTI (৮ নভেম্বর ২০১৭)। "Delhi pollution: Government issues health advisory as smog chokes city"। Hindustan Times।
- ↑ "Blinding Smog Causes 24-Vehicle Pile-Up On Expressway Near Delhi"। NDTV.com। সংগ্রহের তারিখ ৯ নভেম্বর ২০১৭।
- ↑ "WMO Manual on Codes" (পিডিএফ)। ২২ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০১৭।