ধুপি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ধুপি
Pale grass blue
Close wing position of Pseudozizeeria maha Kollar, 1844 – Pale Grass Blue WLB DSC 2505.jpg
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: Arthropoda
শ্রেণী: Insecta
বর্গ: Lepidoptera
পরিবার: Lycaenidae
গণ: Pseudozizeeria
প্রজাতি: P. maha
দ্বিপদী নাম
Pseudozizeeria maha
(Kollar 1848)

ধুপি (বৈজ্ঞানিক নাম: Pseudozizeeria maha(Kollar))[১] এক প্রজাতির ছোট আকারের প্রজাপতি যার শরীর ও ডানা হালকা ধূসর-খয়েরি বর্ণের এবং বিন্দু দেখা যায়। এরা 'লাইসিনিডি' গোত্রের এবং 'পলিয়োম্যাটিনি' উপগোত্রের সদস্য।

আকার[সম্পাদনা]

ধুপি এর প্রসারিত অবস্থায় ডানার আকার ২৬-৩০ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের হয়।[২]

উপপ্রজাতি[সম্পাদনা]

ভারতে প্রাপ্ত ধুপি এর উপপ্রজাতিসমূহ হল-[৩]

  • Pseudozizeeria maha maha Kollar, 1844 – হিমালয়ান ধুপি (Himalayan Pale Grass Blue)
  • Pseudozizeeria maha ossa Swinhoe, 1885 – ডেকান ধুপি(Dakhan Pale Grass Blue)

বিস্তার[সম্পাদনা]

সারা ভারত জুড়ে এদের উপস্থিতি।[৪] সিকিমের প্রায় ৮০০০ফুট উচ্চতা পর্যন্ত এদের দেখা যায়। এছাড়া নেপাল, তিব্বত, মায়ানমার, চীন,[৫] জাপানেও এদের দেখা মেলে।

বর্ণনা[সম্পাদনা]

পুরুষ ধুপির ওপর-পিঠ হালকা নীলচে আকাশি বর্ণের। ডানার প্রান্ত বরাবর সরু কালচে পাড় থাকে। স্ত্রী ধুপি খয়েরি বর্ণের এবং ডানার গোড়ার কাছে ঘষা ঘষা নীলচে গুঁড়ো গুঁড়ো ভাব লক্ষ্য করা যায়। নীচের পিঠ হালকা ধূসর খয়রি এবং ডানার ওপর গাঢ় রঙের বিন্দু আঁকা। সামনের ডানার খোপ সেষ হয়েছে একটা বাঁকা দাগে। খোপের মধ্যে একটা কালো দাগ দেখা যায়। পিছনের ডানার প্রান্ত বরাবর বিন্দুর সারি থাকে। মাঝ আঁচলে কালচে খয়েরি বিন্দুর সারি অনেকটা কাস্তের আকারে।[৬]

আর্দ্র ঋতুরূপ[সম্পাদনা]

পুরুষ[সম্পাদনা]

ডানার উপরিতল রূপলী হালকা নীল। নির্দিষ্ট কিছুপ্রকার আলোতে এদের ডানায় একধরনের দাগযুক্ত দীপ্তি অথবা জেল্লা দেখা যায়। সামনের ডানার কোস্টার এপিকাল অর্দ্ধ সংকীর্ন ভাবে এবং টার্মিনাল প্রান্তরেখা বাইরের দিকে একটি অস্পষ্ট কালো রেখা দ্বারা সীমায়িত অথবা ঘেরা। পিছনের ডানায় কোস্টা চওড়া ভাবে এবং টার্মেন কিছুটা সংকীর্ন ভাবে ধূসর কালো বর্ণের। টার্মেনের কালচে কিনারা কমবেশী সংকীর্ন অথবা চওড়া। এছাড়া, একসারি খুব আবছা এবং অস্পষ্ট সাবটার্মিনাল ছোপ রয়েছে যেগুলি ধূসর কালো টার্মিনাল প্রান্তরেখা অপেক্ষা বেশী কালো।

ডানার নিম্নতল ঈষৎ বাদামী এবং ছাই রঙের মিশ্রন। সামনের ডানায় সেল এ একটি ছোপ রয়েছে। ডিসকোসেলুলার অংশে একটি তীর্যক অর্ধচন্দ্রাকৃতি ছোপ এবং ভিতরের দিকে বাঁকা ৮টি কালো ডিসকাল ছোপের একটি তীর্যক সারি বিদ্যমান। উল্লিখিত প্রতিটি ছোপ (অর্ধচন্দ্রাকৃতি ছোপ এবং ডিসকাল ছোপগুলি) সরু সাদা কিনারা দ্বারা পরিবেস্টিত। ডিসকাল ছোপ এর সারির পশ্চাতবর্তী ছোপ দুটি জোড়া। এদের খানিক দূরে একসারি পোস্টডিসকাল এবং অপর একসারি সাবটার্মিনাল ছোট তেরচা ধূসর কালো অস্পষ্ট ছোপ বক্রাকারে এবং প্রায় সমান্তরাল ভাবে অবস্থিত। এদের পরে টার্মিনাল প্রান্তরেখার সমান্তরাল এবং বক্র একটি অয়ান্টি সিলিয়ারী কালো রেখা চোখে পড়ে। ডিসকাল, পোস্টডিসকাল এবং সাবটার্মিনাল ছোপের সারিগুলির মধ্যবর্তী অংশের মূল রঙ ডানার বাকী অংশের রঙ অপেক্ষা ফ্যাকাশে। পিছনের ডানায় সাববেসাল অংশে ইষদ বক্রাকার ৪টি ক্ষুদ্র ছোপ এর একটি সারি অবস্থিত। ডিসকোসেলুলার অংশে একটি ছোট ইশদ বাঁকানো রেখা পরিলক্ষিত হয় যার পরেই অতি বক্রভাবে ৮টি ছোট কালো ডিসকাল ছপের সারি। উক্ত সমস্ত ছোপগুলি এবং ছোট বক্র রেখাটিও সরু সাদা কিনারা দ্বারা পরিবেষ্টিত।

ডিসকাল ছোপের সারির প্যশ্চাতভাগের দুটি ছোপ সামনের ডানার মত যুগ্ম অথবা জোড়ায় স্থাপিত। পোস্টডিসকাল অংশের শেষপ্রান্তে সামনের ডানার অনুরূপ ধূসর এবং অস্পষ্ট ছোপের দুটি প্রায় সমান্ত্রাল বক্রাকার সারি বিদ্যমান (এই সারি দুটির ছোপগুলি সামনের ডানা অপেক্ষা পিছনের ডানায় অপেক্ষাকৃত বেশী অর্ধচন্দ্রাকার)। উক্ত দুই সারির এবং ডিসকাল ও পোস্টডিসকাল চোপের সারির মধ্যবর্তী অংশের রঙ সামনের ডানার মত একইরকম ভাবে ইষদ ফ্যাকাশে। টার্মিনাল অংশে সিলিয়া অথবা প্বার্শপ্রান্তিক রোয়ার সামান্য নিচে টার্মেন জুড়ে একটি সরু কালো রেখা রয়েছে। উভয় ডানার সিলিয়া অথবা প্বার্শপ্রান্তিক রোয়া সাদাটে বাদামী, সামনের ডানার অগ্রভাগে রোয়া অধিকতর ঘন বাদামী বর্নের।

শুংগ, মাথা, থোরাক্স এবং উদর উপরিতলে ঘন বাদামী। শুংগ সাদা সুক্ষ্ম বলয়যুক্ত। একদম নতুন নমুনাতে বক্ষদেশ (থরাক্স) এবং উদরে উপরিতলে ঈষৎ হালকা নীল আভা চোখে পড়ে। নিম্নতলে পাল্পি, বক্ষদেশ এবং উদরদেশ সাদা।

স্ত্রী[সম্পাদনা]

ডানার উপরিতল এর মূল রঙ হালকা বাদামী ও কালো মেশানো। উভয় ডানার বেসাল অর্ধ ঈষৎ হালকা নীল রঙ্গে ছাওয়া। সিলিয়া অথবা প্বার্শপ্রান্তিক রোয়ার নিচে সরু কালো রেখাটি উভয় ডানাতেই বিদ্যমান। পিছনের ডানায়, পুরুষ নমুনার মতই, একসাতি আবছা সাবটার্মিনাল ছোপ রয়েছে।

ডানার নিম্নতল পুরুষ নমুনারই অনুরূপ।শুধুমাত্র মূল রঙ অপেক্ষাকৃত ঘন। ডানার দাগ ছোপ গুলি পুরুষ অপেক্ষা বড় এবং আরো সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান।

শুংগ, মাথা, বক্ষ ও উদর পুরুষ নমুনার অনুরূপ, তবে একদম নতুন নমুনাতে বক্ষ ও উদরে পুরুষের ন্যায় ইষদ হালকা নীল আভা অনুপস্থিত।

শুষ্ক ঋতুরূপ[সম্পাদনা]

পুরুষ[সম্পাদনা]

ডানার উপরিতল ফ্যাকাশে ধূসর রঙের। কিন্তু কিছু নমুনাতে ইষদ গোলাপী আভাও দেখা যায়। সামনের ডানার দাগ ছোপ আর্দ্র ঋতুরূপ এর অনুরূপ, তবে কিছু নমুনাতে কালো টার্মিনাল কিনারাটি অপেক্ষাকৃত কম চওড়া হয়ে একটি তীর্যক, কিছুটা অস্পষ্ট ও খুব সরু বন্ধনীর আকার ধারন করেছে যা সিলিয়া অথবা প্বার্শপ্রান্তিক রোয়ার ভিতরের দিকের কালো রেখাটির সীমানা সৃষ্টি করেছে।

অন্যান্য নমুনাতে টার্মিনাল কিনারাটি অপেক্ষেকৃত চওড়া, পূর্বোক্ত বন্ধনীর আকার ধারন করেছে যেটি সিলিয়ার নিম্নের কালো সরু রেখাটির সাথে মিশেছে। টার্মেন এর এই কিনারা অথবা প্রান্তরেখাটি কখনো নিয়মিত অথবা সমান। আবার কখনো সরু রেখা থেকে শীর্ষের দিকে উঠে যাওয়া কালো চওড়া পটিতে পরিবর্তিত হয়েছে। পিছনের ডানায় টার্মিনাল কালো প্রান্তরেখাটি আর্দ্র ঋতুরূপের তুলনায় অপেক্ষাকৃত সরু এবং প্রায়শই আরো সরু হয়ে সিলিয়ায় অবস্থিত একটি কালো রেখায় পরিলক্ষিত হয়, যার ভিতরের দিকে একসারি কালো ছোপ চোখে পড়ে। মাঝেমধ্যে এই ছোপগুলি রেখাটিকে ঘিরেছে, আবার মাঝেমধ্যে রেখাটির সাথে মিশে গেছে।

ডানার নিম্নতল আর্দ্র রূপেরি অনুরূপ, তবে ডানার মূল রঙ তুলনামূলক ফ্যাকাসে এবং কিছু নমুনাতে খুবই ফ্যাকাশে। সামনে এবং পিছনের উভয় ডানার দাগ ছোপগুলি আর্দ্ররূপের নমুনার মতই। টার্মিনাল দাগ ছোপগুলি মাঝেমধ্যেই অবলুপ্ত অথবা অস্পষ্ট। সিলিয়া অথবা প্বার্শপ্রান্তিক রোয়া সাদাটে ধরনের। শুংগ, মাথা, বক্ষ এবং উদর আর্দ্রঋতুরূপের অনুরূপ।

স্ত্রী[সম্পাদনা]

শুষ্কঋতুরূপের স্ত্রী নমুনা আর্দ্ররূপের স্ত্রী নমুনার সাথে সাদৃশ্যযুক্ত, তবে পুরুষ নমুনার সাথে সাদৃশ্য বেশী। হালকা রূপালী নীল বর্নচ্ছায় অংশ খুবই অনিয়মিত। ডানার নিম্নতল পুরুষ নমুনার অনুরূপ, মূল রঙ ইষদ ঘন অথবা কালচে। এদের অন্যান্য রূপ বর্তমান।[৭]

আচরণ[সম্পাদনা]

এদের সাধারনত পুকুর পাড়ের ঘাস জমিতে, নালার ধারে ধারে ঘাস-গুল্মের ঝোপে মাটির কাছাকাছি এদের উড়তে দেখা যায়।[৮] এরা খোলামেলা জায়গা পছন্দ করে। ধুপিদের ওড়ার ধরন কমজোরি। ছোট ছোট গুল্ম জাতীয় গাছের ফুলের মধু পান করে।[৯]

বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

ডিম[সম্পাদনা]

ধুপিরা ডিম পাড়ে পাতার নীচের পিঠে। আমরুল (Oxalis corniculata)পাতার বোঁটা এবং কান্ডের সংযোগস্থলে ডিম পাড়তেও দেখা যায়। ডিম হালকা আকাশি বর্ণের হয়।

শূককীট[সম্পাদনা]

শূককীট সবুজ বর্ণের এবং দেহে অজস্র রোঁয়া দেখা যায়। পরিণত অবস্থায় পাতার সাথে মিশে থেকে আত্মগোপন করে। ডিম ফুটে বেরিয়ে প্রথমেই ডিমের খোলার কিছুটা অংশ খেয়ে নেয়। এরা সাধারনত পাতার নীচের পিঠে থাকে। আমরুল পাতার বোঁটার গায়ে অথবা কান্ডের গায়েও দেখা যায়। ফুলের কুঁড়ি অথবা কচি পাতা এদের প্রধান আহার্য। প্রথম অবস্থায় এরা পাতার উপরের ত্বক অক্ষত রেখে নীচের পিঠ থেকে খায়, পরে পাতার ধার বরাবর খেতে থাকে। পূর্নাংগ শূককীট পিঁপড়েদের পরিচর্যা পায়।

আহার্য উদ্ভিদ[সম্পাদনা]

এই শূককীট Leguminosae,Acanthaceae,Tephrosia[১০] প্রজাতির গাছের কচি পাতার রসালো অংশ আহার করে।

মূককীট[সম্পাদনা]

এরা সাধারনত পাতার নীচে অথবা পাথরের গায়ে শূককীট তৈরী করে। শরীরের পশ্চাত অংশ এবং একটা বেড় দিয়ে মূককীট আটকানো থাকে।

জীবনচক্রের চিত্রশালা[সম্পাদনা]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. A Pictorial Guide Butterflies of Gorumara National Park (2013 সংস্করণ)। Department of Forests Government of West Bengal। পৃষ্ঠা 139। 
  2. দাশগুপ্ত, যুধাজিৎ (২০০৬)। পশ্চিমবঙ্গের প্রজাপ্রতি (১ম সংস্করণ সংস্করণ)। কলকাতা: আনন্দ। পৃষ্ঠা 136–137। আইএসবিএন 81-7756-558-3 
  3. "Pseudozizeeria maha Kollar, 1844 – Pale Grass Blue"। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০১৭ 
  4. Saha, M. et.al.,। "Butterfly Diversity of Berhampore Girls' College Campus, Murshidabad, West Bengal, India: A preliminary Assessment" (PDF)। The Beats of Natural Sciences(2015)। পৃষ্ঠা 1-12। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৭ 
  5. Timothy, C. et.al.,। "Butterfly diversity, habitat and vegetation usage in Hong Kong urban parks"। Urban Ecosystems(2016)। পৃষ্ঠা 721–733। 
  6. Manwar, N; Wankhade, V। "Seasonal Variation in Diversity and Abundance of Butterfly at Sawanga Vithoba Lake Area District Amravati, maharastra, India." (PDF)। Journal of Biological Sciences(2014)। পৃষ্ঠা 485-493। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৭ 
  7. Bingham, C.T. (১৯০৭)। The Fauna of British India, Including Ceylon and BurmaII (1st সংস্করণ)। London: Taylor and Francis, Ltd.। 
  8. Islam, M.A. et.al.,। "Butterfly abundance in relation to abiotic-biotic factors of forest ecosystem of the butterfly research park, Gazipur, Bangladesh"। Bangladesh Journal of Zoology(2013)। পৃষ্ঠা 566-575। 
  9. Kunte, Krushnamegh (২০১৩)। Butterflies of The Garo Hills। Dehradun: Samrakshan Trust, Titli Trust and Indian Foundation of Butterflies। পৃষ্ঠা 50। 
  10. Robinson, G. S. Phillip R. Ackery, Ian J. Kitching, George W. Beccaloni AND Luis M. Hernández. HOSTS - a Database of the World's Lepidopteran Hostplants [১]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]