দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট
The-kathmandu-post-big-logo.png
দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট প্রচ্ছদ.jpg
কাঠমান্ডু পোস্ট সংবাদপত্রের প্রধান পাতা, ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
ধরনব্রডশিট দৈনিক
ফরম্যাটমুদ্রণ, অনলাইন
প্রকাশককান্তিপুর পাবলিকেশন্স
প্রধান সম্পাদকসঞ্জীব শতগৈন্য[১]
ভাষাইংরেজি
সদরদপ্তরকাঠমান্ডু
প্রচলন৯৫,০০০[২]
দাপ্তরিক ওয়েবসাইটkathmandupost.com

দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট হলো নেপাল থেকে প্রকাশিত একটি প্রধান সংবাদপত্র। এটি ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে শ্যাম গোয়েংকা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।[৩] এটি নেপালের সর্ববৃহৎ ইংরেজি ভাষার সংবাদপত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম।[৪][৫] সংবাদপত্রটি স্বাধীনভাবে পরিচালিত।[৬] এটি নেপালের বৃহত্তম নেপালি ভাষার সংবাদপত্র দৈনিক কান্তিপুর এর সাথে কান্তিপুর পাবলিকেশন্স কর্তৃক প্রকাশিত হয়।[৭] কাঠমান্ডু পোস্ট এশিয়ার ১৯টি সংবাদপত্রের সংগঠন এশিয়া নিউজ নেটওয়ার্কের অন্যতম সদস্য।[৮] কাঠমান্ডু পোস্ট নেপালের প্রথম স্বাধীনভাবে প্রকাশিত ইংরেজি ভাষার ব্রডশিট দৈনিক সংবাদপত্র এবং নেপালের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত ইংরেজি দৈনিক। এই সংবাদপত্রের দৈনিক প্রকাশিত কপির পরিমাণ ৯৫,০০০।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রথম পাঁচ পৃষ্ঠা প্রধানত দেশের সংবাদের জন্য বরাদ্দ থাকে। এবং প্রতিদিন শেষের পাতায় বিভিন্ন ফিচার, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার, মূল্যায়ন, রেস্তোরাঁর পর্যালোচনা, ভ্রমণ ইত্যাদি বিষয় প্রকাশিত হয়। সাপ্তাহিকভাবে পত্রিকায় সংস্কৃতি ও শিল্পকলা বিষয়ে ফিচার প্রকাশিত হয়; জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও সামাজিক ঘটনাবলি, জীবনযাপন, ফ্যাশন ও প্রযুক্তি ইত্যাদি ফিচারের অন্তর্ভুক্ত হয়। সপ্তাহান্তে কাঠমান্ডু পোস্ট দীর্ঘস্থায়ী সাংবাদিকতা, ব্যঙ্গ বিদ্রূপ ও কাল্পনিক সৃজনশীলতার প্রতি দৃষ্টি দেয়।[৯]

২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে সংবাদপত্রটি দীর্ঘ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন,[১০] বিশ্লেষক ও বিশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করছে এবং দৈনিক সংবাদে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রাখছে।

বিতর্ক[সম্পাদনা]

২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে সাবেক মাওবাদী বিদ্রোহী নেপালের একীকৃত সমাজবাদী পার্টি (মাওবাদী) সমর্থিত সর্ব নেপাল মুদ্রণ ও প্রকাশনা শ্রমিক ইউনিয়ন নামক একটি সংগঠন দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট এর কার্যালয়ে আক্রমণ চালায়। প্রতিষ্ঠানের প্রিন্টিং প্রেসে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয় এবং পত্রিকাটি প্রকাশে বাধা দেওয়া হয়। আক্রমণের প্রতিবাদে প্রায় দুই শতাধিক সাংবাদিক ও আইনজীবী কাঠমান্ডুর সড়কে অবস্থান নেন।[১১][১২]

চীনা দূতাবাস বিতর্ক[সম্পাদনা]

২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট ন্যাটোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত আইভো দালদেরের একটি প্রবন্ধ পুনঃপ্রকাশ করে, যা ইতোপূর্বে এশিয়া নিউজ নেটওয়ার্কের অন্যতম সহযোগী কোরিয়া হেরাল্ডে প্রকাশিত হয়েছিল। প্রবন্ধে শাটারস্টক থেকে নেওয়া একটি চিত্রও সংযোজিত করা হয়, যেখানে চীনের সমাজতান্ত্রিক নেতা মাও সে তুংকে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। নেপালের চীনা দূতাবাস এই প্রবন্ধ এবং চিত্রের ব্যাপারে গুরুতর আপত্তি জানায়। দূতাবাস থেকে এই মর্মে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় যে, প্রবন্ধটি "বিদ্বেষী মনোভাব" নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে এবং "সুচিন্তিতভাবে নতুন করোনাভাইরাস জনিত নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে চীনা সরকার ও জনগণ কর্তৃক সমস্ত প্রচেষ্টাকে অবমূল্যায়নের চেষ্টা করা হয়েছে এমনকি অনৈতিকভাবে চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর আক্রমণ করা হয়েছে।"[১৩][১৪] সাংবাদিক ও কূটনীতিকেরা এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিকে "কূটনৈতিক শালীনতার লঙ্ঘন" বলে নিন্দা জানায়। একে চীনা সরকার কর্তৃক প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মুক্ত গণমাধ্যমকে অবদমনের চেষ্টা হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়।[১৫][১৬][১৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Sanjeev Satgainya appointed new editor of The Kathmandu Post Sanjeev Satgainya appointed new editor of The Kathmandu Post"। The Kathmandu Post। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২০ 
  2. "The Kathmandu Post"। Kantipur Media Group। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  3. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২ জুলাই ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ নভেম্বর ২০২০ 
  4. Mayhew, Bradley; Everist, Richard; Brown, Lindsay; Finlay, Hugh; Vivequin, Wanda (২০০৩)। Lonely Planet NepalLonely Planet। পৃষ্ঠা 57। আইএসবিএন 1-74059-422-3। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৮-১২ 
  5. Reed, David; McConnachie, James (২০০২)। The Rough Guide to NepalRough Guides। পৃষ্ঠা 53। আইএসবিএন 1-85828-899-1। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৮-১২ 
  6. "Pro-royal candidates sweep Nepal poll"The Sunday Times। ২০০৬-০২-১০। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৮-১২ [অকার্যকর সংযোগ]
  7. "Nepal's largest newspaper office attacked by ex-communist rebels' union"International Herald TribuneAssociated Press। ২০০৭-১০-০১। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৮-১২ [অকার্যকর সংযোগ]
  8. "Pakistan's 'The Nation' joins Asia News Network"The Jakarta Post। ২০০৮-০৬-১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৮-১২ 
  9. "Kantipur Publications (P) Ltd."Kantipur Media Group। ২৩ এপ্রিল ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৯ 
  10. "Kathmandu Post Investigations"The Kathmandu Post। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  11. "Nepalese protest in capital over attack on newspaper"International Herald TribuneAssociated Press। ২০০৭-১০-০২। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৮-১২ [অকার্যকর সংযোগ]
  12. "Nepal media protest over attack"BBC News। ২৩ ডিসেম্বর ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৮-০৫ 
  13. "Statement of the Embassy of the People's Republic of China in Nepal"np.china-embassy.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪ 
  14. "Chinese Embassy takes exception to article carried by Post on coronavirus"kathmandupost.com (English ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪ 
  15. "Nepali editors condemn Chinese embassy's statement regarding the Post"kathmandupost.com (English ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪ 
  16. "'A picture of malicious intention'"Himal Southasian (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-০২-১৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪ 
  17. "Nepali Editors Condemn Chinese Embassy for Statement Criticising Newspaper"The Wire। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪