দুকড়িবালা দেবী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দুকড়িবালা দেবী
জন্ম২১ জুলাই, ১৮৮৭
মৃত্যু২৮ এপ্রিল, ১৯৭০
আন্দোলনব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন

দুকড়িবালা দেবী (২১ জুলাই, ১৮৮৭ ― ২৮ এপ্রিল, ১৯৭০) ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন নারী বিপ্লবী। তিনি ছিলেন বাংলার প্রথম দিকের নারী বিপ্লবীদের মধ্যে অন্যতম। ব্রিটিশ শাসক দ্বারা তিনিই প্রথম সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্ত নারী ছিলেন।[১]

পরিবার[সম্পাদনা]

দুকড়িবালা দেবীর জন্ম বীরভূম জেলার নলহাটি থানার ঝাউপাড়া। তার পিতা ছিলেন নীলমণি চট্টোপাধ্যায় এবং মা কমলকামিনী দেবী। স্বামীর নাম ফনিভূষন চক্রবর্তী।দুকড়িবালা দেবীর বোনপো নিবারণ ঘটক ছিলেন সশস্ত্র বিপ্লববাদী।[২]

বিপ্লবী কর্মকাণ্ড[সম্পাদনা]

দুকড়িবালার বোনপোর নাম ছিলও নিবারণ ঘটক। মাসিমা দুকড়িবালা নিবারণ ঘটককে খুব স্নেহ করতেন। বোনপো প্রায়ই তার বাড়িতে বন্ধুবান্ধব নিয়ে আসতেন। স্বদেশী বই বা বে-আইনি বই লুকিয়ে পড়ার স্থান ছিল মাসিমার বাড়ি। এইসব দেখে দুকড়িবালা দেবীর কেমন সন্দেহ হতো। তিনি সকলের আড়ালে বইগুলি দেখেন এবং পড়েন।[৩] নিবারণ ঘটকের প্রভাবে দুকড়িবালা দেশের কাজে এগিয়ে আসেন। বিপ্লবী দলে 'মাসীমা' নামে পরিচিত ছিলেন। ১৯১৪ সালে কলকাতায় বিপ্লবী বিপিনবিহারী গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রডা কোম্পানীর মাউজার পিস্তল ও তার কার্তুজের ৫০ টি বাক্স লুট হয়। তার কিছু আসে নিবারন ঘটকের কাছে, তার দেওয়া সাতখানি মাউজার পিস্তল ও কার্তুজ নিজের হেফাজতে লুকিয়ে রাখেন দুকড়িবালা। পুলিশ খবর পেয়ে ৮ জানুয়ারি ১৯১৭ সালে তার বাড়ি তল্লাশি চালায় এবং দুকড়িবালা দেবী গ্রেপ্তার হন। কোলের শিশুকে ছেড়ে তাকে জেলে যেতে হয়। ১৯১৮ সালে ডিসেম্বর মাসে তিনি জেল থেকে মুক্তি পান। উল্লেখ্য, দুকড়িবালা দেবীই পরাধীন ভারতে অস্ত্র আইনে দন্ডিতা প্রথম মহিলা।[৪][৫]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

২৮ এপ্রিল, ১৯৭০ দুকড়িবালা দেবী মারা যান।[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "জ্বলজ্বল করছে বীরভূম জেলার নাম"www.anandabazar.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৬-২৫ 
  2. "বীরভূমের "মাসিমা"ই ছিলেন অস্ত্র আইনে দন্ডিতা প্রথম মহিলা বিপ্লবী | বীরভূমের "মাসিমা"ই ছিলেন অস্ত্র আইনে দন্ডিতা প্রথম মহিলা বিপ্লবীBangla Amar Pran - The glorious hub for the Bengal"banglaamarpran.in (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-০৬-১৪। ২০২১-০৬-২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৬-২৫ 
  3. কমলা দাশগুপ্ত (জানুয়ারি ২০১৫)। স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার নারী, অগ্নিযুগ গ্রন্থমালা ৯কলকাতা: র‍্যাডিক্যাল ইম্প্রেশন। পৃষ্ঠা ২৩২। আইএসবিএন 978-81-85459-82-0 
  4. প্রথম খন্ড, সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত (২০০২)। সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান। কলকাতা: সাহিত্য সংসদ। পৃষ্ঠা ২০৯। আইএসবিএন 81-85626-65-0 
  5. বীরভূম রাঢ় বাংলা, বীরভূম (৩ জুলাই ২০১৮)। "অস্ত্র আইনে দন্ডিতা প্রথম মহিলা"। ৮ জুলাই ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩.০৭.২০১৮  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)