থান শি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জেনারেল থান শি
သန်းရွှေ
Than Shwe 2010-10-11.jpg
স্টেট পিস এন্ড ডেভেলপম্যান্ট কাউন্সিলের সভাপতি
কাজের মেয়াদ
২৩ এপ্রিল, ১৯৯২ – ৩০ মার্চ, ২০১১
ডেপুটিমং ই
পূর্বসূরীসও মং
উত্তরসূরীথিন সিন (সভাপতি)
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ
কাজের মেয়াদ
২৩ এপ্রিল, ১৯৯২ – ৩০ মার্চ, ২০১১
ডেপুটিমং ই
পূর্বসূরীসও মং
উত্তরসূরীমিন অং হ্লাইং
মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
২৩ এপ্রিল, ১৯৯২ – ২৫ আগস্ট, ২০০৩
পূর্বসূরীসও মং
উত্তরসূরীখিন ন্যুন্ট
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (1933-02-02) ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৩ (বয়স ৮৮)[১] or
(1935-05-03) ৩ মে ১৯৩৫ (বয়স ৮৬)[২]
কিয়কসি, উচ্চতর বার্মা, ব্রিটিশ ভারত
(বর্তমানে: মায়ানমার)
জাতীয়তাব্রিটিশ ভারত (১৯৩৩-১৯৩৭)
ব্রিটিশ বর্মী (১৯৩৭-১৯৪২, ১৯৪৫-১৯৪৮)
জাপানী বর্মী (১৯৪২-১৯৪৫)
বর্মী (১৯৪৮-বর্তমান)
দাম্পত্য সঙ্গীকিয়ায়িং কিয়ায়িং
সন্তান
সামরিক পরিষেবা
শাখামায়ানমার সেনাবাহিনী
কাজের মেয়াদ১৯৫৩-২০১১
পদসিনিয়র জেনারেল

সিনিয়র জেনারেল থান শি (বর্মী: သန်းရွှေ উচ্চারিত: [θáɴ ʃwè] থাঁ শুয়ে; জন্ম: ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৩) কিয়কসি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বার্মার বিশিষ্ট শক্তিধর রাজনীতিবিদ। ১৯৯২ থেকে ২০১১ মেয়াদে বার্মার রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন। এছাড়াও, স্টেট পিস এন্ড ডেভেলপম্যান্ট কাউন্সিলের (এসপিডিসি) সভাপতি ছিলেন থান শি। এ সময়ে বার্মার প্রধানমন্ত্রী, বার্মিজ আর্মড ফোর্স-সহ প্রধান পদগুলোর দায়িত্বে ছিলেন। ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে থিন সিনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন তিনি।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

১৯৩৩ কিংবা ১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ বার্মার কিয়কসির কাছাকাছি মিনজু গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন থান শি।[২] ১৯৫১ সালে কিয়কসির সরকারি বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন তিনি। ১৯৫২ সালে মেইখতিলা ডাকঘরের কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। এরপর বার্মিজ আর্মিতে তালিকাভূক্ত হন ও আর্মি অফিসার ট্রেইনিং স্কুলে প্রশিক্ষণ নেন।[৩] সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রী নিয়ে ১নং পদাতিক ব্যাটলিয়নে স্কোয়াড লিডার হিসেবে ১১ জুলাই, ১৯৫৩ তারিখে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। একই ব্যাটলিয়নে অবস্থান করে প্লাটুন কমান্ডার ও পরবর্তীকালে কোম্পানী কমান্ডার হন। দক্ষিণাঞ্চলীয় শন স্টেট ও পূর্বাঞ্চলীয় থনলিন এলাকায় সামরিক অভিযান পরিচালনার সাথে নিজেকে জড়িত করেন।[৩]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৮১ সালে ক্ষমতাসীন বার্মা সোশ্যালিস্ট প্রোগ্রাম পার্টি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির চতুর্থ অধিবেশনে সদস্য নির্বাচিত হন।[৩] ৪ নভেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে মেজর জেনারেল ও ৪ নভেম্বর, ১৯৮৭ তারিখে লেফট্যানেন্ট জেনারেল পদে নিযুক্ত হন। ২৭ জুলাই, ১৯৮৮ তারিখে উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান।[৩]

১৮ মার্চ, ১৯৯০ তারিখে মায়ানমার আর্মির কমান্ডার ইন চীফ পদে মনোনীত হন। কিন্তু, ২৩ এপ্রিল, ১৯৯২ তারিখে স্বাস্থ্যজনিত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।[৪] এরপর নিজেকে সিনিয়র জেনারেল পদবী ধারণ করেন। স্টেট ল এন্ড অর্ডার রেস্টোরেশন কাউন্সিলের (স্লর্ক) প্রধান ও মায়ানমার সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ স মংয়ের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি।

এরপর অর্থনীতির উপর কতিপয় নিয়ন্ত্রণ শিথীল করেন।[৫] তিনি আসিয়ানে বার্মার অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সমর্থন ব্যক্ত করেন। ১৯৯৭ সালে দূর্নীতি উৎপাটনে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও আঞ্চলিক কমান্ডারদেরকে বরখাস্ত করেন।

ডিসিপ্লিন ডেমোক্রেসি নিউ কনস্টিটিউশন শীর্ষক সম্মেলনের মাধ্যমে ৭ জানুয়ারি, ১৯৯৩ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৭ তারিখ পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্বভার লাভ করেন। কিন্তু, ১৯৯০ সালের বহুদলীয় সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী অং সান সু কি’র ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি ঐ সম্মলনে যোগ দেয়নি।

সমালোচনা[সম্পাদনা]

বার্মার অর্থনীতিতে কতিপয় শর্তাবলী শিথীল করলেও তার অর্থনৈতিক নীতিকে দূর্বল-পরিকল্পনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।[৬][৭]

বার্মার গণতন্ত্রচর্চার বিরোধী হিসেবে অবস্থান করেছেন।[৮] জাতীয় ছুটি ও উৎসবগুলোয় রাষ্ট্র মালিকানাধীন সংবাদপত্রে বিবৃতি প্রকাশ করলেও খুব কম সময়ই প্রচারমাধ্যমে অংশ নিতেন। প্রচারমাধ্যমের স্বাধীনতায় নজরদারী অব্যাহত রাখেন ও তার আমলে বিরোধী সাংবাদিকদের গ্রেফতারে হস্তক্ষেপ করেন। তার কন্যার জাকজমকপূর্ণ বিয়েতে হীরে-জহরত ও মদ্যপানের ঘটনা নিয়ে বেশ বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন যেখানে দেশের জনগণ দারিদ্রসীমায় অবস্থান করছে।[৯]

ক্ষমতার সংঘাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খিন নুয়ান্টকে ২০০৪ সালে গ্রেফতারে ভূমিকা রাখেন।[১০]

মে ও নভেম্বর, ২০০৬ সালে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইব্রাহীম গাম্বারির সাথে নতুন প্রতিষ্ঠিত রাজধানী নেপিয়াডয়ে স্বাক্ষাৎ করেন ও অং সান সু কি’র সাথে স্বাক্ষাতে অনুমতি দেন। কিন্তু, নভেম্বর, ২০০৭ ও ১০ মার্চ, ২০০৮ তারিখে বার্মা সফরে আসা গাম্বারি’র সাথে স্বাক্ষাৎ করতে অস্বীকার করেন।[১১] ২ মে, ২০০৮ তারিখে ঘূর্ণিঝড় নার্গিসের পর অনেক বিদেশী ত্রাণ কর্মীকে বার্মায় প্রবেশে বাঁধা দেন।[১২] এরফলে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হয়।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী পা-ও সম্প্রদায়ের সদস্য কিয়ায়িং কিয়ায়িংয়ের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তাদের সংসারে পাঁচ কন্যা ও তিন পুত্র রয়েছে। তিনি ডায়াবেটিক রোগী ও তার ক্যান্সার হয়েছে বলে গুজব রয়েছে। ২০০৬ সালে পারিবারিক ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে প্রকাশ পায়। এতে তার কন্যা থান্ডার শয়ের অতি জাকজমকপূর্ণ বৈবাহিক অনুষ্ঠানের দৃশ্যাদি ছিল।[১৩]

২০০৯ সালে প্যারেড ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে বিশ্বের সর্বাপেক্ষা মন্দ স্বৈরশাসকের তালিকায় তাকে ৪র্থস্থানে রাখা হয়।[১৪] এছাড়াও, লিস্টভার্সেসের শীর্ষ দশ জীবিত মন্দ শাসকের তালিকায় তার অবস্থান দ্বিতীয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Than Shwe"। Alternative Asean Network on Burma। ২০০৮-০৭-১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৭-০২ 
  2. "၂၀၁၅ အထွေထွေ ရွေးကောက်ပွဲ မဲဆန္ဒရှင်စာရင်း (Voter list)" (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)। Union Election Commission। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫  একের অধিক |archive-url= এবং |আর্কাইভের-ইউআরএল= উল্লেখ করা হয়েছে (সাহায্য); একের অধিক |archive-date= এবং |আর্কাইভের-তারিখ= উল্লেখ করা হয়েছে (সাহায্য)
  3. Leaders of Tatmadaw, published by Defence Services Historical Museum and Research Institute (DSHMRI)
  4. Wheeler, Ned (২৮ জুলাই ১৯৯৭)। "Obituary: General Saw Maung"The Independent। London। 
  5. Johnson (2005), p. 67
  6. Independence Online Newsletter ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৯ আগস্ট ২০১০ তারিখে. Shan Herald Agency for News. Issue 6, January 2007.
  7. Smith, Matthew; Htoo, Naing (2008). "Energy Security: Security for Whom?". Yale Human Rights and Development Law Journal.
  8. "'The General must not be disturbed' | Democratic Voice of Burma"। Dvb.no। ২০১১-০৩-০২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৩-১৩ 
  9. Beaumont, Peter; Alex Duval Smith (২০০৭-১০-০৭)। "Drugs and astrology: how 'Bulldog' wields power"The Observer। London: The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৫-০৮ 
  10. Justin McCurry, Jonathan Watts & Alex Duval Smith (September 30, 2007). How Junta stemmed a saffron tide. The Observer.
  11. How Myanmar leader snubs U.N. envoy. CNN. March 11, 2008
  12. "The Worst of the Worst - By George B.N. Ayittey"। Foreign Policy। ২০১১-০৪-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৩-১৩ 
  13. Cropley, Ed (২০০৬-১১-০২)। "Lavish Myanmar junta wedding video sparks outrage"The Star Online। ২০০৮-০৫-১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৫-০৮ 
  14. Parade Magazine. " The Worlds 10 Worst Dictators", 22 March 2009

গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

রাজনৈতিক দপ্তর
পূর্বসূরী
স মং
স্টেট পিস এন্ড ডেভেলপম্যান্ট কাউন্সিলের সভাপতি
১৯৯২-২০১১
উত্তরসূরী
‎থিন সিন
মায়ানমারের রাষ্ট্রপতি হিসেবে
মায়ানমারের প্রধানমন্ত্রী
১৯৯২-২০০৩
উত্তরসূরী
খিন নুয়ান্ট