তুঘ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
উলানবাতার এর সুখবাতার চত্বরে উড্ডীয়মান একটি নিশান
১৫৫৬ সালে দ্বিতীয় ফার্দিনান্দ দ্বারা ধারণকৃত উসমানীয় হাঙ্গেরীয় তুঘ[১]
উনবিংশ শতকের একটি উসমানীয় তুঘ

তুঘ (মঙ্গোলীয়: туг, তুর্কী: tuğ, উসমানীয় তুর্কি: طوغ ṭuġ বা توغ tuġ) বা সুলদ (মঙ্গোলীয়: сүлд) হলো একটি দন্ড যার শীর্ষে ঘোড়া বা ইয়াক এর বিভিন্ন রংয়ের পুচ্ছলোম বৃত্তাকারে সজ্জিত থাকে। এটি ঐতিহাসিকভাবে মঙ্গোল সাম্রাজ্যের আমলে উড্ডয়ন করা হতো যা পরে তুর্ক-মঙ্গোল এবং উসমানীয় সাম্রাজ্যের তুর্কি খানাতসমূহের মধ্যে গৃহীত হয়।[২] সপ্তদশ শতাব্দীতে, এটি বানছাক (ইউক্রেনীয়: Бунчук, পোলীয়: Buńczuk) নামে স্ল্যাভীয় অশ্বারোহীদের (কসাক সৈনিকগণ, হাইদামাকা) দ্বারা গৃহীত হয়। এটি এখনো পোলিশ সেনাবাহিনীর কিছু ইউনিট কর্তৃক ব্যবহৃত হয়।[৩]

মঙ্গোল[সম্পাদনা]

সাদা লোম আবৃত নিশান শান্তি প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করা হয়, যেখানে কালো নিশান ছিলো যুদ্ধের জন্য। ঘোড়ার পুচ্ছ ব্যবহার প্রতীকী কারণ ঘোড়া মঙ্গোলদের জীবিকা নির্বাহের মূল কেন্দ্র ছিল। এটি মরিন খুর (মঙ্গোলীয় বাদ্যযন্ত্র) এর জন্য ঘোড়ার লেজের চুল ব্যবহারের অনুরূপ।

মূল সাদা নিশানটি ইতিহাসের প্রথম দিকে বিলীন হয়ে যায়, তবে কালো নিশানটি চেঙ্গিস খানের আত্মার ভাণ্ডার হিসাবে বেঁচে যায়। মঙ্গোলরা নিশানটিকে সম্মান জানাতে থাকে এবং ১৭শ শতাব্দীতে জানাবাজারে (১৬৩৫-১৭২৩) কালো নিশানটি উড়ানো ও সুরক্ষার বিশেষ উদ্দেশ্যসহ একটি আশ্রম তৈরি করে।[৪] ১৯৩৭ সালের দিকে জাতীয়তাবাদী, সন্ন্যাসী এবং বুদ্ধিজীবীদের পরম শুদ্ধি এবং আশ্রমগুলির ধ্বংসের মাধ্যমে কালো নিশানটি বিলীন হয়ে গেল।

১৯৯০ এর দশকের গোড়ার দিকে গণতন্ত্র গৃহীত হওয়ার পরে পূর্ববর্তী কমিউনিস্ট লাল পতাকার পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী মঙ্গোলিয় রাষ্ট্রের প্রতীক হিসাবে নয়টি সাদা নিশানসমূহ নতুনভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছিল।

মঙ্গোলদের দ্বারা প্রবর্তিত রাষ্ট্রীয় নিশান, নয় মূল সাদা পতাকা (মঙ্গোলীয়: Есөн хөлт цагаан туг), ছিলো একটি গোলাকার পৃষ্ঠ থেকে ঝুলানো সাদা ঘোড়ার লেজের চুলের সাথে শীর্ষে একটি শিখা বা ত্রিশূলের অনুরূপ আকৃতি দ্বারা সজ্জিত নয়টি পতাকা দন্ড। নয়টি সাদা পতাকা ছিলো একটি শান্তির প্রতীক যা দ্বারা কেবলমাত্র মঙ্গোলীয় খানদের দ্বারা তাদের ইয়ুর্ত (এক ধরনের তাবু) এর সামনে ব্যবহৃত হতো। কেন্দ্রস্থিত নিশান বা পতাকাটি বাকীগুলির চেয়ে আকারে বড় এবং অন্য আটটির মাঝখানে স্থাপিত। আধুনিক মঙ্গোলিয় নয়টি সাদা পতাকা রাখা হয় উলানবাতার এর সরকারি প্রাসাদে।

চার মূল কালো পতাকা (মঙ্গোলীয়: Dörvön khölt khar sulde[৫][৬], মঙ্গোলীয়: Дөрвөн хөлт хар сүлд) যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হতো। এটি কালো ঘোড়ার লেজের চুল দিয়ে তৈরি এবং একই রকমভাবে উড়ানো হতো। সচিত্র মতে জাপানি সচিত্র ধারাবিবরণী মোকো শুরাই একোতোবা অনুযায়ী জাপান আক্রমণকারী মঙ্গোলীয় ইউয়ান বহরের নিশান বা পতাকা ছিল কালো। আধুনিক মঙ্গোলিয় কালো পতাকাগুলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে রাখা হয়েছে।

মঙ্গোলিয় সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে, সামরিক পতাকা দন্ডের শীর্ষে কারুকার্য হিসাবে কালো তুঘ ব্যবহৃত হয়, যেখানে সাদা তুঘ ব্যবহৃত হয় মঙ্গোলিয় স্টেট অনার গার্ড দ্বারা এবং নাগরিক সুরক্ষা পরিষেবাদির পতাকার দন্ডের শীর্ষে কারুকার্য হিসাবে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Boeheim (1890), pp. 510, 511
  2. Довідник з історії України. За ред. І. Підкови та Р. Шуста. — Київ: Генеза, 1993.
  3. Бунчук // Энциклопедический словарь Ф.А. Брокгауза и И.А. Ефрона
  4. Jack Weatherford Genghis Khan, p.XVI
  5. "Монгол Улсын бүх цэргийн хар сүлдний товч танилцуулга"। ৮ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০২০ 
  6. [১]
  • বোহাইম, ওয়েন্ডেলিন (1890)। হ্যান্ডবুচ ডার ওয়াফেনকুন্ডে: সিনিয়ার হিস্টোরিচেন এন্টারউইকেলুং ভম বিগেন ডেস মিটেলাল্টার্স বিস জুম এন্ডে ডেস 18. জহরহন্ডার্টস। ইএ সিমেন, লাইপজিগ। [২]
  • উইলিয়াম এরস্কাইন। তৈমুর, বাবার এবং হুমায়ূনের দুই প্রথম সার্বভৌমত্বের অধীনে ভারতের ইতিহাস। লংম্যান, ব্রাউন, গ্রিন এবং লংম্যানস, 1854. পৃষ্ঠা 265. [৩]
  • জেডজিস্টলু জাইগলস্কি, অটোম্যান আর্ট ইন দ্য সার্ভিস অফ এম্পায়ার, হাগোপ কেভোরকিয়ান সিরিজ অন ইস্টার্ন আর্ট অ্যান্ড সিভিলাইজেশন, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস (1992)।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]