তাঞ্জাবুর শিল্পকলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
তাঞ্জাবুর শিল্প ফলক

তাঞ্জাবুর শিল্পকলা হল বিশেষভাবে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের তাঞ্জাবুরে নির্মিত একটা হস্তশিল্প। এটা উপহারের সামগ্রী হিসেবে বানানো একটা চক্রাকার থালা। রুপো, ব্রোঞ্জ এবং তামা তিন ধাতুর সমন্বয়ে তৈরি এই হস্তশিল্পের মাঝখানে থাকে দেবদেবীর প্রতিমূর্তি।[১] ট্রেড রিলেটেড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস (টিআরআইপিআর) চুক্তি অনুযায়ী ভৌগোলিক নির্দেশকের আওতায় সুরক্ষিত করার জন্য এই শিল্পকর্মটি নিবন্ধভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের জি আই অ্যাক্ট ১৯৯৯ মোতাবেক এই শিল্পকে 'তাঞ্জাবুর আর্ট প্লেট' নামে দফা ৬৩ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে, যে নথিভুক্তি নিশ্চিত করেছেন কন্ট্রোলার জেনারেল অব পেটেন্টস ডিজাইনস এবং ট্রেডমার্কস। [২] শুধুমাত্র বস্তুর আকারকে আলাদা হতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে যখন অন্যান্য ধাতব সংযুক্তি এবং বিশদীকরণ জিআই অনুমোদনের মতো একই থাকতে হবে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মারাঠা শাসন আমলে রাজা সারফোজি-২(১৭৭৭-১৮৩২) তাঞ্জাবুরে এই তাঞ্জাবুর শিল্পকলার প্রচলন করেছিলেন। রাজার পরামর্শে কেবলমাত্র একটা উপহার হিসেবে তাঞ্জাবুরের শিল্পীরা এই শিল্পকলা তৈরি করেছিলেন।[১][৩]

এই হস্তনির্মিত বস্তু কারুকার্যখচিত করেছিলেন বিশ্বকর্মা সম্প্রদায়, যে সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঞ্জাবুরের স্বর্ণশিল্পীদের কয়েকটা পরিবার ছিল। এটা ছিল বংশপরম্পরায় শিল্প, এবং এটাই ছিল তাঁদের বাঁচার রাস্তা। যেহেতু হস্তশিল্পীদের গৃহে তৈরি হোত, সেজন্যে একে কুটিরশিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এই শিল্প সৃষ্টি এখানকার লোকশিল্পের অহংকার।[৪]

২০১১ সময়কালে তাঞ্জাবুরের সরকারি যাদুঘরে বিশ শতকে তৈরি একটা ফলক প্রদর্শিত হয়। নির্ধারিত ধাতু দিয়ে তৈরি ফলকে আছে কারুশিল্প নির্মিত নটরাজ মূর্তি, পতঞ্জলি ঋষি এবং পদ্মের ওপর দণ্ডায়মান ভঙ্গিতে দেবী শিবকামি মূর্তি, যা ফলকের মাঝখানে কঠিন আবরণে আবৃত করা আছে।[৩]

তৈরির পদ্ধতি[সম্পাদনা]

হস্তনির্মিত তাঞ্জাবুর শিল্পকলার তিনটে উপাদান আছে: মূল ভিত্তি পাত, প্রাথমিক কারুশিল্প সহ একটা ধাতুনির্মিত চক্রাকার পাত, এবং দ্বিতীয় কারুশিল্প। ভিত্তিতে পিতলের পাত ব্যবহৃত হয়, রুপোর পাত দিয়ে কারুশিল্প বানানো হয়, ত্রিমাত্রিক প্রতিমূর্তি দৃশ্যমান করে ছাঁচ বানাতে পিচ অথবা মোমের পাটায় পাতটাকে আটকানো হয়। প্রথমে হস্তশিল্পীরা ভিত্তি পাতটাকে বিশেষ শক্ত ধাতু দিয়ে প্রস্তুত করেন। তারপর নকশা অনুযায়ী শিল্পকর্ম অথবা কারুশিল্পগুলো সৃষ্টি করেন মণিকাররা, এবং বিশেষ অধিকারপ্রাপ্ত হিরে-সেটিং বিশেষজ্ঞ শিল্পীগণ পূর্ণরূপ দেন। এই শিল্পকর্ম তৈরির পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত আছে: ভিত্তি পাত তৈরি, তামার পাত ঢালাই, ছাঁচ প্রস্তুতি, এবং তামার পাতের ওপর মূল ভাব অনুযায়ী কারুশিল্প সৃষ্টি এবং রং করা। ভিত্তি পাতও মূল ভাবের কাজ দিয়ে ঢাকা হয়। ফুল এবং অন্যান্য নকশা দিয়ে কারুকাজের ওপর খোদাই করা হয়, এবং শেষে পালিশ করে শিল্পকর্মকে পূর্ণ রূপ দেওয়া হয়।[৫]

এই শিল্পকলা দেশের ভিতর বাজারজাতকরণ করা হয় এবং বিদেশে রপ্তানিও করা হয়ে থাকে। এগুলো সাধারণত শিল্পীরা নিজেরাই সরাসরি বিক্রি করেন অথবা হস্তশিল্পের বিপণিতে প্রদর্শনের মাধ্যমে এবং বিদেশে রপ্তানিকারকদের দ্বারা বাজারজাতকরণ করা হয়।[৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Cradle of traditional arts and crafts"The Hindu। ১৪ জুলাই ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১৬ 
  2. "State Wise Registration Details Of G.I Applications" (PDF)। Controller General of Patents Designs and Trademarks। ২৭ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১৬ 
  3. "Thanjavur art plate on display at museum"Express News Service। ৪ জুন ২০১৩। 
  4. Rathakrishnan 2010, পৃ. 250।
  5. Rathakrishnan 2010, পৃ. 250–51।
  6. Rathakrishnan 2010, পৃ. 252।