ঢাকার জলবায়ু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(ঢাকার আবহাওয়া থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ঢাকার জলবায়ু প্রধানত উষ্ণ, বর্ষণমুখর এবং আর্দ্র গ্রীষ্মমন্ডলীয়। কোপেন জলবায়ু শ্রেণীবিভাগ এর অধীনে, ঢাকার জলবায়ু ক্রান্তীয় সমভাবাপন্ন। এই শহরের একটি স্বতন্ত্র মৌসুম রয়েছে, এখানে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৭৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এবং জানুয়ারী থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৬৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) থেকে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৮৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট)-এর মধ্যে থাকে।[১] মে থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে গড়ে প্রায় ১,৮৫৪ মিলিমিটার (৭৩.০ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে, যা সারাবছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮৭%।[১] যানজট এবং এবং শিল্প কারখানার অপরিকল্পিত বর্জ্য নির্গমনের ফলে প্রতিনিয়ত বায়ু এবং পানি দূষণ বাড়ছে, ফলে শহরের জনস্বাস্থ্য এবং জীবন মান মারাত্বকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।[২] ঢাকার চারপাশে জলাশয় এবং জলাভূমি গুলি ধ্বংসের সম্মুখীন, কারণ বহুতল ভবন এবং অন্যান্য আবাসন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এগুলো ভরাট করা হচ্ছে। দূষণের ফলে প্রকৃতির যে ক্ষতি হচ্ছে তার ফলে এই এলাকার জীববৈচিত্র হুমকির সম্মুখীন।[৩]

ঢাকা ও এর আশেপাশে শীত আবহাওয়া অস্বাভাবিক। যখন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (৪৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বা তার চেয়ে কম হয়ে যায়, গরম পোশাকবিহীন এবং অপর্যাপ্ত তাপমাত্রাযুক্ত বাড়িতে বাস করা মানুষ শীতে মারা যেতে পারে।[৪][৫][৬]

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব[সম্পাদনা]

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে গ্রামাঞ্চলে বসবাসরত মানুষ ঢাকার পাড়ি জমান, যার কারণে শহরে বস্তি জনসংখ্যার তীব্র বৃদ্ধির ঘটছে। যেহেতু বাংলাদেশ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০ ফুটেরও কম উপরে রয়েছে, সুতরাং এই আশঙ্কা রয়েছে যে একবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে, দেশের এক চতুর্থাংশেরও বেশি অঞ্চল জলে ডুবে যাবে এবং ১.৫ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে।  ২০২৫ সাল নাগাদ ঢাকার জনসংখ্যা, বর্তমানে ১.৩ কোটির জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২ কোটিতে উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। [৭] এতে ঢাকায় পানিবাহিত রোগ এবং আরও বেশ কয়েকটি রোগের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা রয়েছে। জাতিসংঘ এবং ডাব্লুডাব্লুএফের একটি প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে এশিয়াতে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে ঢাকা শীর্ষে রয়েছে ।[৮][৯]

বর্তমান ঢাকা[সম্পাদনা]

মৌসুমি বৃষ্টিপাত[সম্পাদনা]

২০০৪ সালে বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে ঢাকার রাস্তা বন্যায় ভেসে যায়।

বর্ষা মৌসুম জুনে শুরু হয় ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যের ভিত্তিতে গত কয়েক বছরের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমান নিম্নরূপ:[১০]

  • ২০০০ সালে, সর্বমোট ৫,২২০ মিলিমিটার (২০৬ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়।
  • ২০০১ সালে, সর্বমোট ৫,৫৯০ মিলিমিটার (২২০ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়।
  • ২০০২ সালে, সর্বমোট ৭,২৫৭ মিলিমিটার (২৮৫.৭ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়।
  • ২০০৩ সালে, সর্বমোট ৪,৯৩৪ মিলিমিটার (১৯৪.৩ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়।
  • ২০০৪ সালে, সর্বমোট ৮,৩০৮ মিলিমিটার (৩২৭.১ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়।
  • ২০০৫ সালে, সর্বমোট ৬,৯০৩ মিলিমিটার (২৭১.৮ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়।
  • ২০০৬ সালে, সর্বমোট ৭,১৩৭ মিলিমিটার (২৮১.০ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়।
  • ২০০৭ সালে, সর্বমোট ৮,৮৯৫ মিলিমিটার (৩৫০.২ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়।
  • ২০০৮ সালে, সর্বমোট ৬,৭১২ মিলিমিটার (২৬৪.৩ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়।
  • ২০০৯ সালে, সর্বমোট ৬,২৫২ মিলিমিটার (২৪৬.১ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়।
  • ২০১০ সালে, সর্বমোট ৫,০১৬ মিলিমিটার (১৯৭.৫ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়।

পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

ঢাকা-এর আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য
মাস জানু ফেব্রু মার্চ এপ্রিল মে জুন জুলাই আগস্ট সেপ্টে অক্টো নভে ডিসে বছর
সর্বোচ্চ °সে (°ফা) রেকর্ড ৩২.০
(৮৯.৬)
৩৪.৪
(৯৩.৯২)
৪০.৯
(১০৫.৬২)
৪২.২
(১০৭.৯৬)
৪১.৮
(১০৭.২৪)
৪০.৪
(১০৪.৭২)
৩৯.৩
(১০২.৭৪)
৩৮.৫
(১০১.৩)
৩৭.৮
(১০০.০৪)
৩৬.২
(৯৭.১৬)
৩৪.৭
(৯৪.৪৬)
৩১.২
(৮৮.১৬)
৪২.২
(১০৭.৯৬)
সর্বোচ্চ °সে (°ফা) গড় ২৫.৪
(৭৭.৭২)
২৮.১
(৮২.৫৮)
৩২.৫
(৯০.৫)
৩৩.৭
(৯২.৬৬)
৩২.৯
(৯১.২২)
৩২.১
(৮৯.৭৮)
৩১.৪
(৮৮.৫২)
৩১.৬
(৮৮.৮৮)
৩১.৬
(৮৮.৮৮)
৩১.৬
(৮৮.৮৮)
২৯.৬
(৮৫.২৮)
২৬.৪
(৭৯.৫২)
৩০.৬
(৮৭.০৮)
দৈনিক গড় °সে (°ফা) ১৯.১
(৬৬.৩৮)
২১.৮
(৭১.২৪)
২৬.৫
(৭৯.৭)
২৮.৭
(৮৩.৬৬)
২৮.৭
(৮৩.৬৬)
২৯.১
(৮৪.৩৮)
২৮.৮
(৮৩.৮৪)
২৯.০
(৮৪.২)
২৮.৮
(৮৩.৮৪)
২৭.৭
(৮১.৮৬)
২৪.৪
(৭৫.৯২)
২০.৩
(৬৮.৫৪)
২৬.১
(৭৮.৯৮)
সর্বনিম্ন °সে (°ফা) গড় ১২.৭
(৫৪.৮৬)
১৫.৫
(৫৯.৯)
২০.৪
(৬৮.৭২)
২৩.৬
(৭৪.৪৮)
২৪.৫
(৭৬.১)
২৬.১
(৭৮.৯৮)
২৬.২
(৭৯.১৬)
২৬.৩
(৭৯.৩৪)
২৫.৯
(৭৮.৬২)
২৩.৮
(৭৪.৮৪)
১৯.২
(৬৬.৫৬)
১৪.১
(৫৭.৩৮)
২১.৫
(৭০.৭)
সর্বনিম্ন °সে (°ফা) রেকর্ড ১.১
(৩৩.৯৮)
০.০
(৩২)
৭.৪
(৪৫.৩২)
১২.৬
(৫৪.৬৮)
১২.১
(৫৩.৭৮)
১৯.২
(৬৬.৫৬)
১৭.০
(৬২.৬)
১৭.৫
(৬৩.৫)
১৫.৫
(৫৯.৯)
১০.১
(৫০.১৮)
৮.৩
(৪৬.৯৪)
৪.০
(৩৯.২)
০.০
(৩২)
গড় অধঃক্ষেপণ মিমি (ইঞ্চি) ৭.৭
(০.৩০৩১৫)
২৮.৯
(১.১৩৭৮)
৬৫.৮
(২.৫৯০৫৫)
১৫৬.৩
(৬.১৫৩৫৪)
৩৩৯.৪
(১৩.৩৬২২)
৩৪০.৪
(১৩.৪০১৫৭)
৩৭৩.১
(১৪.৬৮৮৯৮)
৩১৬.৫
(১২.৪৬০৬৩)
৩০০.৪
(১১.৮২৬৭৭)
১৭২.৩
(৬.৭৮৩৪৬)
৩৪.৪
(১.৩৫৪৩৩)
১২.৮
(০.৫০৩৯৪)
২,১৪৮
(৮৪.৫৬৬৯৩)
অধঃক্ষেপণ দিনের গড় (≥ ০.১ মিমি) ১১ ১৬ ১২ ১৬ ১২ ৮৬
গড় আর্দ্রতা (%) ৪৬ ৩৭ ৩৮ ৪২ ৫৯ ৭২ ৭২ ৭৪ ৭১ ৬৫ ৫৩ ৫০ ৫৭
মাসিক গড় সূর্যালোকের ঘণ্টা ২৭৯ ২২৬ ২১৭ ১৮০ ১৫৫ ৯০ ৬২ ৬২ ৯০ ১৮৬ ২৪০ ২৭৯ ২,০৬৬
উৎস #১: ওয়েদারবেজ (নিয়মাফিক, ৩০ বছর সময়)[১১]
উৎস #২: সিস্তেমা দে ক্লাসিফিকেশন বিয়োক্লিমাতিকা মন্দিয়াল (চরম),[১২] বিবিসি ওয়েদার (আর্দ্রতা ও সূর্য)[১৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Weatherbase: Historical Weather for Dhaka, Bangladesh"। weatherbase.com। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১২-১৫ 
  2. Lawson, Alistair (২০০২-১০-৩০)। "Dhaka 'winning' waste disposal battle"। BBC News। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৯-২৭ 
  3. মন্ডল, মোঃ আব্দুল লতিফ (২০০৬-০৯-২৭)। "Our Cities: 15th Anniversary Special" (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য ডেইলি স্টার। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৯-২৭ 
  4. "Cold Wave Kills 102 People in Bangladesh"Los Angeles Times। জানুয়ারি ৬, ১৯৯৫। পৃষ্ঠা 6। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৫ 
  5. "33 in Northern Bangladesh Are Reported Killed by Cold"The New York Times। Associated Press। ডিসেম্বর ২৯, ১৯৮৯। পৃষ্ঠা A3। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৫ 
  6. "Hundreds Dead in Bangladeshi Cold Spell"। The Washington Post। ৬ জানুয়ারি ১৯৯৮। পৃষ্ঠা A14। 
  7. "Climate migration drives slum growth in Dhaka"। ২০১২-০৩-১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১১-১৯ 
  8. "Case study: Dhaka's extreme vulnerability to climate change - PreventionWeb.net" 
  9. Fogarty, David (২০০৯-১১-১২)। "Dhaka tops risk table in Asia climate threat study"Reuters 
  10. "Bangladesh Meteorological Department"। ২০১১-০২-১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১১-১৯ 
  11. "Weatherbase: Historical Weather for Dhaka, Bangladesh"। Weatherbase। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  12. "Bangladesh – Dacca" (স্পেনীয় ভাষায়)। Centro de Investigaciones Fitosociológicas। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  13. "Average Conditions – Bangladesh – Dhaka" (ইংরেজি ভাষায়)। বিবিসি। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩