ঢাকার আবহাওয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ঢাকা একটি গরম, ভেজা এবং আর্দ্র গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ুবিশিষ্ট মনোরম অঞ্চল। কোপেনের জলবায়ু শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী , ঢাকায় একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ও শুষ্ক জলবায়ু রয়েছে। বিখ্যাত শহরটির একটি নির্দিষ্ট মৌসুমী জলবায়ু রয়েছে, যার বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২৫ ° সে (৭৭ ° ফা) এবং জানুয়ারি মাসে ১৮ ° সে (৬৪ ° ফা) এবং আগস্ট মাসে ২৯ ° সে (৮৪ ° ফা) এর মাঝামাঝি পরিবর্তিত হয়। [১] বর্ষা মৌসুমে ১ হাজার ৮৫৪ মিলিলিটার (৭৩.০ ইঞ্চি) বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের প্রায়৮০% বৃষ্টিপাত মে মাস থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত। ট্র্যাফিক, জনাকীর্ণ এলাকায় শিল্প ও মানব বর্জ্য থেকে বায়ু ও জলদূষণের জন্য জনস্বাস্থ্য এবং শহরের জীবনধারার মানের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিচ্ছে ।ঢাকার চারপাশে জলাশয় ও নিচু অঞ্চল জবরদখল হয়ে আসছে, কারন, বহুতল ভবন এবং অন্যান্য রিয়েল এস্টেটের আকাশছোঁয়া উন্নয়নের জন্য জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে। দূষণ এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল ক্ষয়ের জন্য এই অঞ্চলের আঞ্চলিক জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে গেছে।

ঢাকা ও তার  আশেপাশে শীতকালের আবহাওয়া অস্বাভাবিক। যখন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড (৪৬ ° ফা) বা তার কম হয়, তখন উষ্ণ পোশাক ছাড়া এবং অনুপযুক্ত বাড়িতে বসবাসকারী মানুষ ও পশু ঠান্ডায় মারা যায়।

[২]

[৩][৪][৫]

 উপাদানগুলো[সম্পাদনা]

ঢাকা একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ভিজা এবং শুষ্ক জলবায়ু অঞ্চল।মৌসুমী মৌসুমে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় 80% মে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে 1,854 মিলিমিটার (73 ঈঞ্চি) হয়। [৬]

  • গ্রীষ্মের মাসগুলিতে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণপশ্চিম মৌসুমী বায়ু প্রবাহ হয়। এই সময়ে খুব ভারী বৃষ্টিপাত শহরের সাথে সমগ্র দেশকে ধুয়ে যায় । প্রায় প্রতিবছর ঢাকায় আকস্মিক বন্যা হয়।  
  • গ্রীষ্মকালীন মাসগুলিতে এপ্রিল থেকে জুন এবং তারপর সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্তগ্রীষ্মকালীন ঝড় হয়।এই ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের প্রায় প্রতিবছরই ঘটে, যদিও তাদের তীব্রতা প্রতি বছর পরিবর্তিত হয়। 
  •  টর্নেডো বাংলাদেশে মোটামুটি সাধারণ কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পরে বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি টর্নেডো হয়  ।
    [৭]

<grammarly-btn>

</grammarly-btn>

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব[সম্পাদনা]

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের  গ্রামাঞ্চলে বসবাসরত অনেক মানুষ শহরগুলোতে ঢুকে পড়ছেন যার ফলে সুবিখ্যাত ও সুন্দর শহর ঢাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।[৮] যেহেতু বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০ ফুট থেকে কম উচু, তাই এই আশঙ্কা যে ২১ শতকের শেষ নাগাদ দেশের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি জলপ্লাবিত হবে এবং ১৫ মিলিয়ন লোক বাস্তুচ্যুত হবে। [৮]  ঢাকার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৩ মিলিয়ন যা ২০২৫ সাল নাগাদ ২৫ মিলিয়নে পৌঁছাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।এটার ফলে জলবাহিত রোগ এবং অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাবের ভয় দেখা দিচ্ছে। [৯] জাতিসংঘ এবং ডব্লিউডব্লিউএফ রিপোর্টে সতর্ক করে দেওয়া হয় যে ঢাকা এশিয়ার জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির শীর্ষে রয়েছে। [১০]

 ঢাকায় মৌসুমি বৃষ্টিপাত[সম্পাদনা]

<grammarly-btn>

</grammarly-btn>

বর্ষার মৌসুম জুন থেকে শুরু হয়ে সেপ্টেম্বরে শেষ হয়।বাংলাদেশ আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী গত কয়েক বছর ধরে বর্ষার বার্ষিক বৃষ্টিপাত নিম্নরুপ[১১]

<grammarly-btn>

</grammarly-btn>

  • . ২০০০ সালে, মোট ৫,২২0 মিলিমিটার (২০৬ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়েছিল
  •  ২০০১ সালে, মোট ৫,৫৯০ মিলিমিটার (২২0 ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়েছিল।
  •  ২০০২ সালে, মোট৭,২৫৭ মিলিমিটার (২৮৫.৭ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়েছিল।
  •  ২০০৩ সালে, মোট ৪,৯৩৪ মিলিমিটার (১৯৪.৩ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়েছিল।
  • ২০০৪ সালে, মোট ৮,৩০৮ মিলিমিটার (৩২৭.১ ঈঞ্চি) রেকর্ড করা হয়েছিল।
    ২০০৪ সালে বিখ্যাত ঢাকা শহরে আকস্মিক বন্যায় জলমগ্ন হওয়া একটি উন্নত এলাকার রাস্তা
  • ২০০৫ সালে, মোট ৬,৯০৩ মিলিমিটার (২৭১.৮ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়েছিল।
  •  ২০০৬ সালে, মোট ৭,১৩৭ মিলিমিটার (২৮১.০ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়েছিল।
  • ২০০৭ সালে, মোট ৮,৮৯৫ মিলিলিটার (৩৫০.২ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়েছিল।
  • ২০০৮ সালে, মোট ৬,৭১২ মিলিমিটার (২৬৪.৩ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়েছিল।
  • ২০০৯ সালে মোট ৬২২২ মিলিমিটার (২৪৬.১ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়েছিল।
  •  ২০১০ সালে, মোট ৫,০১৬ মিলিমিটার (১৯৭.৫ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়েছে।

 চরম আবহাওয়া ঘটনা[সম্পাদনা]

চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলির মধ্যে রয়েছে গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, টানাবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা

  •  ১৯৫৬ সালে ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৩২৬ মিলিমিটার (১২.৮ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
    [১২]
  • ১৯৭০ সালে, একটি ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ৫০০,০০০ লোককে হত্যা করে।[১৩]
  • ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে একটি টর্নেডোর ১,৩০০ জনকে হত্যা করে।[১৪]
  • ১৯৯১ সালে, একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় দেশটিতে ১৩৮,৮৬৬ জনকে হত্যা করে.[১৫]
  • ২০০৪ সালে, ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার রেকর্ড ভাঙা ৩৪১ মিলিমিটার (১৩.৪ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়।[১২]
  • ২০০৯ সালে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় প্রায় ৩৩৩ মিলিমিটার (১৩.১ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়।
    [১২]

References[সম্পাদনা]

  1. "Weatherbase: Historical Weather for Dhaka, Bangladesh"। weatherbase.com। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১২-১৫ 
  2. Mondal, M. Abdul Latif (২০০৬-০৯-২৭)। "Our Cities: 15th Anniversary Special"। The Daily Star। ২০০৭-০৩-০২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৯-২৭ 
  3. "Cold Wave Kills 102 People in Bangladesh"। Los Angeles Times। জানুয়ারি ৬, ১৯৯৫। পৃষ্ঠা 6। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৫Temperatures plunged to 39 degrees this week in northern Bangladesh, killing people too poor to afford jackets or sweaters. It was the lowest temperature recorded in Bangladesh since 1964, when the temperature dropped to 38 degrees. 
  4. "33 in Northern Bangladesh Are Reported Killed by Cold"। The New York Times। Associated Press। ডিসেম্বর ২৯, ১৯৮৯। পৃষ্ঠা A3। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৫A cold wave in normally tropical northern Bangladesh has killed at least 33 people in the last week, a newspaper reported today. Temperatures in the region have hovered around 42 degrees Fahrenheit since Monday, and the newspaper said the victims were laborers and other poor people who were unable to protect themselves from the cold. 
  5. "Hundreds Dead in Bangladeshi Cold Spell"The Washington Post। ৬ জানুয়ারি ১৯৯৮। পৃষ্ঠা A14। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৫(নিবন্ধন করা প্রয়োজন (সাহায্য))In northern Bangladesh, temperatures dipped to 46 degrees Sunday, the Independent newspaper said. Although the temperature was above freezing, it was cold enough to kill people in tropical Bangladesh, where half the population of 120 million people can't afford enough food or warm clothes. 
  6. "Dhaka, Bangladesh Travel Weather Averages (Weatherbase)" 
  7. "The Online Tornado FAQ (by Roger Edwards, SPC)" 
  8. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১৩ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  9. "Case study: Dhaka's extreme vulnerability to climate change - PreventionWeb.net" 
  10. Fogarty, David (২০০৯-১১-১২)। "Dhaka tops risk table in Asia climate threat study"Reuters 
  11. "Archived copy"। ২০১১-০২-১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১১-১৯ 
  12. "'Cloud Burst' Breaks 53-year Record"। ১২ মার্চ ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  13. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১৭ মে ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  14. "Bangladesh Tornado Climatology" 
  15. http://www.swissre.com/resources/dd6346004d4e9669ac76eecedd316cf3-sigma2_2009_e.pdf[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]