বিষয়বস্তুতে চলুন

টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ

টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ
টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ-এর মনোগ্রাম
অবস্থান
মানচিত্র
আউচপাড়া, টঙ্গী, গাজীপুর
স্থানাঙ্ক২৩°৫৪′২৯″ উত্তর ৯০°২৩′৪৮″ পূর্ব / ২৩.৯০৮০° উত্তর ৯০.৩৯৬৮° পূর্ব / 23.9080; 90.3968
তথ্য
ধরনমাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক (এমপিওভুক্ত)
নীতিবাক্যআলোকিত মানুষ গড়ার প্রত্যয়ে
প্রতিষ্ঠাকাল৩ মার্চ ১৯৪৬ (শিক্ষা কার্যক্রম শুরু: ১৯৪৭)
কর্তৃপক্ষমাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা
বিদ্যালয় কোড১০৯০৬২
ইআইআইএন১০৯০৬২ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
অধ্যক্ষমো. আলাউদ্দিন মিয়া
ভর্তি৫,০০০+
ভাষাবাংলা
শিক্ষায়তন৪.৩ একর (১.৭ হেক্টর) (৪৩০ শতাংশ)
ক্যাম্পাসের ধরনসমতল ভূমি
ওয়েবসাইটtongipilotsagc.edu.bd

টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ (ইংরেজি: Tongi Pilot School and Girls' College), যা সংক্ষেপে টিপিএসজিসি (TPSGC) নামে পরিচিত, বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের গাজীপুর জেলার টঙ্গীর আউচপাড়ায় অবস্থিত একটি অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।[] এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিক শাখাটি অফিশিয়ালি বা রেজিস্টার্ড খাতা-কলমে এখনও টঙ্গী পাইলট হাই স্কুল নামে নিবন্ধিত। তবে ১৯৯১ সালে এখানে বালিকা কলেজ শাখা চালু করার পর এর অফিশিয়াল নাম হয় টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ এবং সর্বসাধারণের কাছে এটি সামগ্রিকভাবে এই নামেই ব্যাপকভাবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক (নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি) ও মাধ্যমিক (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি) শাখা ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য উন্মুক্ত (সহ-শিক্ষা); তবে ১৯৯১ সালে খোলা উচ্চ মাধ্যমিক তথা কলেজ (একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি) শাখাটি শুধুমাত্র ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত। ১৯৪৬ সালের ৩ মার্চ প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৯৪৭ সালে এর আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম (ক্লাস) শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা-এর অধীনে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় শিক্ষা প্রদান করে।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

টঙ্গী অঞ্চলের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান শিক্ষার চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ১৯৪৬ সালের ৩ মার্চ প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয় এবং ১৯৪৭ সালে নিয়মিত ক্লাস শুরু হয়। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য একটি সাধারণ কো-এডুকেশনাল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে এবং অফিশিয়ালি এর নাম নিবন্ধিত হয় টঙ্গী পাইলট হাই স্কুল

পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে নারী শিক্ষার আরও প্রসারে ১৯৯১ সালে এখানে মেয়েদের জন্য একটি ডেডিকেটেড উচ্চ মাধ্যমিক (কলেজ) শাখা যুক্ত করা হয়। ১৯৯১ সালে কলেজ শাখা খোলার পর সামগ্রিক প্রতিষ্ঠানটির অফিশিয়াল নাম রাখা হয় টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ। তবে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের কাছে এটি মূলত এই নামেই সর্বাধিক পরিচিত ও সমাদৃত।

একাডেমিক কার্যক্রম

[সম্পাদনা]

প্রতিষ্ঠানটিতে বাংলা মাধ্যমে জাতীয় শিক্ষাক্রমের অধীনে নার্সারি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা প্রদান করা হয়। শিক্ষাদানের কাঠামোটি মূলত তিনটি স্তরে বিন্যস্ত:

  • প্রাথমিক স্তর: নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত (ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য)।
  • মাধ্যমিক স্তর: ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত (ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য)।
  • উচ্চ মাধ্যমিক (কলেজ) স্তর: একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি (১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত, শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য)।

উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—এই তিনটি প্রধান শাখার যেকোনো একটিতে অধ্যয়নের সুযোগ পায়।

প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (DSHE) দ্বারা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। ১৯৯৬ সালের ১ নভেম্বর এটি উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে। কলেজটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে এমপিওভুক্ত (Monthly Pay Order) যার রেজিস্ট্রেড কোড যথাক্রমে ২৭০৬০২১৩০২ এবং ২৭০৬MDE১৩১০১। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫,০০০-এরও বেশি, যা বর্তমান অধ্যক্ষ মো. আলাউদ্দিন মিয়া-এর প্রশাসনিক নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে।

শিফট ও সময়সূচি

[সম্পাদনা]

বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর সুষ্ঠু পাঠদানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটিতে আলাদা শিফটে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শাখার মেয়েদের জন্য প্রভাতী (মর্নিং) শিফট এবং ছেলেদের জন্য দিবা (ডে) শিফট চালু রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক (কলেজ) শাখার ছাত্রীদের ক্লাস প্রভাতী ও দিবা উভয় শিফটেই অনুষ্ঠিত হয়।

সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যালয় প্রতিদিন সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত খোলা থাকে। দুপুর ১:০০ থেকে দুপুর ২:০০ পর্যন্ত মধ্যাহ্নভোজ ও নামাজের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। পরীক্ষা বা ভর্তি কার্যক্রম চলাকালীন অধ্যক্ষের বিশেষ নির্দেশনার এই সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে।

ক্যাম্পাস ও অবকাঠামো

[সম্পাদনা]
টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজের একাডেমিক ভবন

প্রতিষ্ঠানটি টঙ্গী পৌরসভার আউচপাড়া এলাকায় প্রায় ৪০০ শতাংশ (আনুমানিক ৪.৩ একর) সমতল ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর ক্যাম্পাস অবকাঠামোতে প্রায় ১৫,৪৮১ বর্গফুট আয়তনের ফ্লোর স্পেস রয়েছে, যা একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজের জন্য মোট ৬০টি কক্ষে বিন্যস্ত। ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য ২১০ শতাংশের একটি নিজস্ব খেলার মাঠ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিচালনা, উন্নয়ন ও নীতি নির্ধারণের দায়িত্বেও রয়েছে একটি অফিশিয়াল গভর্নিং বডি (পরিচালনা পর্ষদ)।

ছাত্রজীবন

[সম্পাদনা]

নির্ধারিত পোশাক (ড্রেস কোড)

[সম্পাদনা]

প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরা বাধ্যতামূলক। বিভিন্ন শাখার জন্য পোশাকের নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:

  • মাধ্যমিক শাখা (ছেলে): সাদা হাফ বা ফুল হাতা শার্ট (বুকের বাম পকেটে প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রাম এবং দুই কাঁধে শোল্ডার ব্যাজ যুক্ত), কালো ফুল প্যান্ট, নেভি ব্লু টাই, কালো বেল্ট, কালো কেডস এবং সাদা মোজা।
  • মাধ্যমিক শাখা (মেয়ে): নেভি ব্লু ফ্রক, সাদা ক্রস-বেল্ট (বামে মনোগ্রাম এবং কাঁধে শোল্ডার ব্যাজ যুক্ত), সাদা সালোয়ার, সাদা স্কার্ফ বা হিজাব, কালো কেডস এবং সাদা মোজা।
  • উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ শাখা (মেয়ে): সাদা কামিজ, সাদা সালোয়ার, সাদা ওড়না বা হিজাব, কালো কেডস এবং সাদা মোজা।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Tongi Pilot School and Girls College, Admission Circular for Session 2014"। GEE Bangladesh। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৪

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

ক্যাটাগরি:টঙ্গী ক্যাটাগরি:গাজীপুর জেলার বিদ্যালয় ক্যাটাগরি:গাজীপুর জেলার কলেজ

টেমপ্লেট:গাজীপুর-শিক্ষা-অসম্পূর্ণ