বিষয়বস্তুতে চলুন

জুলস অ্যারন্স

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জুলস অ্যারন্স
জন্ম(১৯২১-১০-০৩)৩ অক্টোবর ১৯২১
মৃত্যু২১ নভেম্বর ২০০৮(2008-11-21) (বয়স ৮৭)
জাতীয়তাআমেরিকান
শিক্ষানিউ ইয়র্ক সিটি কলেজ
বস্টন ইউনিভার্সিটি
প্যারিস ইউনিভার্সিটি
পরিচিতির কারণপদার্থবিজ্ঞান, ফটোগ্রাফি

জুলস অ্যারন্স (অক্টোবর ৩, ১৯২১ – নভেম্বর ২১, ২০০৮) ছিলেন একজন আমেরিকান মহাকাশ পদার্থবিজ্ঞানী, যিনি রেডিও-তরঙ্গ গবেষণায় তার অবদানের জন্য এবং বোস্টনে স্ট্রিট ফটোগ্রাফির জন্য পরিচিত উল্লেখযোগ্য আলোকচিত্রশিল্পীদের একজন।

প্রথম জীবন ও শিক্ষা

[সম্পাদনা]

অ্যারনস নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কসে জন্মগ্রহণ করেন, যেখানে তার বাবা পোশাক শিল্পে কাজ করতেন। তিনি ১৯৪২ সালে নিউ ইয়র্ক সিটি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি আর্মি সিগন্যাল কর্পসে কর্মরত ছিলেন। তিনি বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান অধ্যয়ন করেন, ১৯৪৯ সালে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি একটি ফুলব্রাইট বৃত্তি অর্জন করেন এবং প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। [১][২]

পদার্থবিজ্ঞানে অবদান

[সম্পাদনা]

১৯৪৮ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত অ্যারনস হ্যান্সকম ফিল্ডের এয়ার ফোর্স জিওফিজিক্স রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে উচ্চপদস্থ্ বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেন, যেখানে তার গবেষণা স্যাটেলাইট এবং বৈশ্বিক অবস্থান নির্ণয় প্রযুক্তির উন্নয়নে সাহায্য করে। ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের সুনন্দা বসু অ্যারনসকে "আয়নোস্ফিয়ারের বিকন স্যাটেলাইট গবেষণার অগ্রদূত" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্যারিসে অধ্যয়নের সময় অনেক ইউরোপীয় বিজ্ঞানীর সাথে কাজ করার পর, ১৯৫৭ সালে তিনি যৌথ স্যাটেলাইট স্টাডিজ গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন, এটি হলো বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল যারা স্যাটেলাইট সংকেত এর উপর বায়ুমণ্ডলীয় প্রভাব সম্পর্কে অধ্যয়ন করেন। এই দলটি অবশেষে বিকন স্যাটেলাইট স্টাডিজ (বিএসএস) গ্রুপে পরিণত হয়।

১৯৮১ সালে অ্যারন্স বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হন, এবং ১৯৮৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকাশ পদার্থবিজ্ঞান কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেন। বি.ইউতে থাকাকালীন তিনি জিপিএস স্যাটেলাইট ব্যবহার করে নিরক্ষীয় ও উচ্চ অক্ষাংশের আয়নোস্ফিয়ারের উপর চৌম্বক ঝড়ের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি তার কর্মজীবনে ১০০টি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র প্রকাশ, এবং স্কিনটিলেশন ঘটনা সম্পর্কে একটি বই সম্পাদনা করেছেন।

আলোকচিত্রশিল্প

[সম্পাদনা]

অ্যারন্স প্রথম তরুণ বয়সে ফটোগ্রাফিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন, তখন নিউ ইয়র্কের রকওয়েতে তার পরিবারের ছবি তুলতেন।পরবর্তীতে, তার কলেজ ডিগ্রী অর্জন এবং একজন বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করার সময়, তিনি তার শিল্পকে বিকশিতকরণে মনোনিবেশ অব্যাহত রাখেন,তিনি বিশ্বব্যাপী ব্যবসায়িক ভ্রমণে তার ক্যামেরা তার সঙ্গে নিতেন। অন্যান্য স্ট্রিট ফটোগ্রাফারদের মত ৩৫ মিমি ক্যামেরার পরিবর্তে তিনি একটি টুইন-লেন্স রিফ্লেক্স ক্যামেরা বেছে নেন। চোখের স্তরের বদলে কোমর স্তর থেকে ছবি তোলা তাকে কম স্পষ্ট করে তোলে, এবং তাই স্পষ্ট দৃশ্যে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা কম। তার বিষয়বস্তু নির্বাচনের চেয়ে, তার মুদ্রণ দক্ষতা তাকে একজন আলাদা আলোকচিত্রশিল্পী পরিচিত করে তুলে। তিনি তার বাড়ির বেসমেন্টে একটি অন্ধকার ঘর রাখেন, যা ২০১০ সালে দিস ওল্ড হাউসঅনুষ্ঠানের একটি পর্বে প্রদর্শিত হয়;এটি ছিল অনুষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তার ফটোগ্রাফির প্রতি একটি নিবেদন। তার ছবি ধারণকৃত ছবির মধ্যে রয়েছে আধুনিক শিল্প জাদুঘর, বিবলিওথেক ন্যাশনাল দে ফ্রান্স, বোস্টন মিউজিয়াম অফ ফাইন আর্টস, রোড আইল্যান্ড স্কুল অফ ডিজাইন মিউজিয়াম, ডিকর্ডোভা জাদুঘর, বোস্টন সোসাইটি ইত্যাদি।

ব্যক্তিগত জীবন

[সম্পাদনা]

অ্যারনস ১৯৪৪ সালে জিনেট ল্যাম্পার্ট বিয়ে করেন এবং ফিলিপ এবং হার্বার্ট নামে দুইন পুত্র ছিল। তিনি ২১ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে ম্যাসাচুসেটসের নিউটনে তার বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Mendillo, Michael (মার্চ ২০০৯)। "Jules Aarons (1921-2008)"। Eos90 (9): 71–72। ডিওআই:10.1029/2009EO090005 
  2. Feeney, Mark (২৪ নভেম্বর ২০০৮)। "Jules Aarons, 87, renowned documentary photographer"The Boston Globe। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০১৫