জামের মিনার
| জামের মিনার | |
|---|---|
জামের মিনার | |
| ধরন | মিনার |
| অবস্থান | শাহরক জেলা, ঘোর প্রদেশ, আফগানিস্তান |
| স্থানাঙ্ক | ৩৪°২৩′৪৭.৬″ উত্তর ৬৪°৩০′৫৭.৮″ পূর্ব / ৩৪.৩৯৬৫৫৬° উত্তর ৬৪.৫১৬০৫৬° পূর্ব |
| উচ্চতা | ৬৫ মি (২১৩ ফু) |
| নির্মিত | আনু. 1190 |
| স্থাপত্যশৈলী | ঘুরিদ স্থাপত্য |
| পরিচালকবর্গ | আফগানিস্তানের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় |
| ওয়েবসাইট | http://whc.unesco.org/en/list/211 |
| প্রাতিষ্ঠানিক নাম | জামের মিনার ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন |
| ধরন | সাংস্কৃতিক |
| মানদণ্ড | (ii), (iii), (iv) |
| মনোনীত | ২০০২ (২৬তম অধিবেশন) |
| সূত্র নং | 211 |
| অঞ্চল | মধ্য এশিয়া |
| বিপন্ন | ২০০২–বর্তমান |
জামের মিনার (পশতু: د جام منار, দারি: منار جام) পশ্চিম আফগানিস্তানে অবস্থিত একটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান। এটি ঘোর প্রদেশের শাহরক জেলার একটি দুর্গম ও প্রায় অগম্য অঞ্চলে, জাম নদী ও হরি নদীর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। ৬২ মি (২০৩ ফু)[১] অথবা ৬৫ মি (২১৩ ফু)[২] উঁচু এই মিনারটি আনুমানিক ১১৯০ সালের দিকে সম্পূর্ণ পোড়া ইট দিয়ে নির্মিত হয়। এটি এর জটিল ইটের নকশা, স্টুকো এবং চকচকে টালির অলংকরণের জন্য বিখ্যাত। এসব অলংকরণে পর্যায়ক্রমে কুফী ও নাসখ সুলেখন, জ্যামিতিক নকশা এবং কুরআন থেকে উদ্ধৃত আয়াত ব্যবহৃত হয়েছে। ২০০২ সাল থেকে মিনারটি বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত রয়েছে। নদীভাঙন ও ক্ষয়ের গুরুতর হুমকির মুখে থাকা সত্ত্বেও এর সক্রিয় সংরক্ষণ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্তভাবে পরিচালিত হয়নি।[৩] ২০১৪ সালে বিবিসি জানায় যে মিনারটি আসন্ন ধসে পড়ার গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।[২]
২০২০ সালে ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন জামের মিনারকে ইসলামি বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যস্থলগুলোর অন্যতম হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এর মতে, জামের মিনারই আফগানিস্তানের প্রথম সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যস্থল, যা আইসেসকোর ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।[৪]
ব্যুৎপত্তি
[সম্পাদনা]মিনার শব্দটি আরবি منارة (মানারা) থেকে এসেছে। সাধারণত এটি মসজিদের পাশে অবস্থিত সেই সুউচ্চ স্তম্ভ বা টাওয়ারকে বোঝায়, যেখান থেকে মুয়াজ্জিন মুসল্লিদের আজান দিয়ে নামাজের আহ্বান জানান। তবে শব্দটির অর্থ বাতিঘরও হতে পারে এবং প্রসঙ্গভেদে এর আরও কয়েকটি অর্থ রয়েছে। এখানে শব্দটি বিস্তৃত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
স্থাপত্য
[সম্পাদনা]জামের মিনারের উচ্চতা ৬৫ মিটার (২১০ ফুট)। এটি পোড়া ইট, স্টুকো, টেরাকোটা এবং ফিরোজা রঙের চকচকে টালি দিয়ে নির্মিত। মিনারটির বহির্ভাগে ফুলেল ও জ্যামিতিক নকশা দ্বারা অলংকরণ করা হয়েছে। টাওয়ারের পূর্বমুখী অংশে স্থপতি আহমদ ইবনে ইব্রাহিম আল-নিশাপুরীর নাম ব্যতীত বাকি শিলালিপিগুলি অলংকৃত কৌণিক কুফী লিপিতে উৎকীর্ণ, আর স্থপতির নামটি উৎকীর্ণ হয়েছে কার্সিভ লিপিতে। মিনারের শীর্ষে একটি প্রদক্ষিণপথ-সংবলিত বারান্দা (গ্যালারি) রয়েছে। মিনারটির অভ্যন্তরে একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভকে ঘিরে যুগ্ম সর্পিল সিঁড়ি নির্মিত হয়েছে। প্রতিটি সিঁড়িতে ১৫৯টি ধাপ রয়েছে, যা উপরের দুটি কাঠের বারান্দায় পৌঁছায়। প্রতিটি ধাপ চারটি স্তরে নির্মিত এবং অতিরিক্ত চার বা পাঁচটি পোড়া ইট অনুভূমিকভাবে সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছে। নিচের অংশে ধাপগুলোর প্রস্থ ৪.৫৯ ফুট (১.৪ মিটার), আর শীর্ষে পৌঁছানোর সময় তা ৩.২৮ ফুট (১.০ মিটার) হয়ে যায়। ধাপগুলো পর্যায়ক্রমে মিনারের কেন্দ্রীয় স্তম্ভ এবং বহির্ভাগের প্রাচীরের সঙ্গে সংযুক্ত। কেন্দ্রীয় স্তম্ভ ও উভয় সিঁড়িই একটি অবতরণমঞ্চে (ল্যান্ডিং) এসে শেষ হয়েছে, যার উপরে ধারাবাহিকভাবে ছয়টি খিলানযুক্ত ইটের প্ল্যাটফর্ম নির্মিত রয়েছে। মিনারের বহির্ভাগে কৌণিক বর্গাকার কুফী লিপিতে কুরআন থেকে উদ্ধৃত আয়াত উৎকীর্ণ রয়েছে। এছাড়া এর গায়ে ফিতার মতো অলংকরণ এবং পরস্পর ছেদকারী ডিম্বাকার গিঁট-আকৃতির নকশা পর্যায়ক্রমে বিন্যস্ত রয়েছে।[৫]
স্থান
[সম্পাদনা]জামের মিনারটি সম্ভবত ঘুরি সাম্রাজ্য-এর রাজধানী ফিরোজকোহের স্থানে অবস্থিত।[৬]

বৃত্তাকার মিনারটি একটি অষ্টভুজাকার ভিত্তির ওপর নির্মিত। এতে দুটি কাঠের বারান্দা ছিল এবং শীর্ষে একটি লণ্ঠনাকৃতির কাঠামো স্থাপিত ছিল। মিনারটি পোড়া ইট, স্টুকো, টেরাকোটা এবং ফিরোজা রঙের চকচকে টালি দিয়ে নির্মিত; এর বহির্ভাগ ফুলেল ও জ্যামিতিক নকশায় সজ্জিত। অভ্যন্তরে একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভকে ঘিরে যুগ্ম সর্পিল সিঁড়ি রয়েছে, যার প্রতিটিতে ১৫৯টি ধাপ রয়েছে এবং যা দুটি বারান্দায় পৌঁছে। প্রতিটি ধাপ চারটি স্তরে নির্মিত এবং অতিরিক্ত চার বা পাঁচটি পোড়া ইট অনুভূমিকভাবে সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছে। নিচের অংশে ধাপগুলোর প্রস্থ ৪.৫৯ ফুট (১.৪ মিটার), আর শীর্ষে তা ৩.২৮ ফুট (১.০ মিটার); ধাপগুলো পর্যায়ক্রমে টাওয়ারের কেন্দ্রীয় স্তম্ভের সঙ্গে সংযুক্ত।[৭] এর সামগ্রিক নকশা গজনির মিনারসমূহ, বিশেষত তৃতীয় মাসউদ কর্তৃক নির্মিত মিনারগুলোর সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য বহন করে।[৮] এটি ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত কুতুব মিনার নির্মাণে প্রত্যক্ষ প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল বলে মনে করা হয়।
জামের মিনারটি মধ্য এশিয়া, ইরান এবং আফগানিস্তানে একাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত প্রায় ৬০টি মিনার ও টাওয়ারের একটি গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে কুতলুগ তৈমুর মিনার (প্রাচীন উরগেঞ্চ) অন্যতম, যা দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের বিদ্যমান স্থাপনাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বলে বিবেচিত হয়েছে।[৬] সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, এসব মিনার ইসলাম ধর্মের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে নির্মিত হয়েছিল; অন্যদিকে কিছু টাওয়ার কেবলমাত্র দিকনির্দেশক স্থাপনা বা প্রহরী টাওয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে জামের মিনারে উৎকীর্ণ কুরআনের মূল বিষয়বস্তু মারইয়াম বা মরিয়ম, যিনি ইসলামে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। এ ছাড়া এমন কিছু প্রমাণও পাওয়া গেছে যে মিনারটি সম্ভবত ঘুরিদ রাজবংশের কোনো সম্ভ্রান্ত নারীর পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত হয়েছিল।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
জামের প্রত্নতাত্ত্বিক ভূদৃশ্যে একটি 'প্রাসাদ', দুর্গপ্রাচীর, মৃৎপাত্র পোড়ানোর ভাটি এবং একটি ইহুদি কবরস্থানের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এগুলোকে হারিয়ে যাওয়া ফিরোজকোহ বা টারকয়েজ মাউন্টেন নগরীর অবশেষ বলে ধারণা করা হয়। প্রত্নস্থলের চারপাশে অবস্থিত অবৈধ খননের গর্ত (robber holes), উচ্চ-রেজোলিউশনের উপগ্রহচিত্র এবং গুগল ম্যাপসের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা অনুমান করেছেন যে মিনারকে কেন্দ্র করে ঘুরিদদের গ্রীষ্মকালীন রাজধানীর আয়তন ছিল প্রায় ১৯.৫ হেক্টর।[৬]
জামের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি ২০০২ সালে সফলভাবে আফগানিস্তানের প্রথম বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান হিসেবে মনোনীত হয়। একই বছর মিনারটির নাজুক সংরক্ষণাবস্থা এবং প্রত্নস্থলে লুটপাটের কারণে এটিকে ইউনেস্কোর বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।[৯]
প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, মিনার থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে একটি ইহুদি কবরস্থানও আবিষ্কৃত হয়েছে। সেখানে একটি সামরিক স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ, একটি প্রাসাদের অবশেষ এবং মৃৎপাত্রের জার উদ্ধার করা হয়েছে।[১০]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]

দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ঘুরি সাম্রাজ্য বর্তমান আফগানিস্তান ছাড়াও পূর্ব ইরান, মধ্য এশিয়া, উত্তর ভারত এবং পাকিস্তানের কিছু অংশের ওপর শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল।[১১]
মিনারের তারিখ-সংবলিত আরবি শিলালিপিটি স্পষ্ট নয়। গ্রেগরীয় পঞ্জিকায় রূপান্তর করলে এটি ১১৯৩/৯৪ অথবা ১১৭৪/৭৫ খ্রিস্টাব্দ নির্দেশ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে এটি ১১৮৬ সালে লাহোরে গজনভিদের বিরুদ্ধে ঘুরিদ সুলতান গিয়াসউদ্দিন মুহাম্মাদের বিজয়ের স্মারক হতে পারে।[১২] তবে ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক এবং ১৯৭০-এর দশকে ব্রিটিশ ইনস্টিটিউট অব আফগান স্টাডিজ-এর পরিচালক রাল্ফ পিন্ডার-উইলসন জামের মিনার ও গজনির মিনারসমূহ নিয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় মত প্রকাশ করেন যে, মিনারটি গিয়াস উদ্-দীনের ভাই মুইজ উদ্-দীন মুহাম্মদ-এর পৃথ্বীরাজ চৌহান-এর বিরুদ্ধে বিজয় স্মরণে নির্মিত হয়েছিল। এই বিজয়ের ফলে উত্তর ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের বিস্তারের পথ সুগম হয়।[১২] পিন্ডার-উইলসনের মতে, মিনারটি সে সময়কার স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত হয়েছিল, যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ইসলামের বিজয় ও বিজেতার শক্তির ঘোষণা বহনকারী প্রারম্ভিক বিজয়স্তম্ভ নির্মাণের ঐতিহ্য।[১৩]
ধারণা করা হয়, মিনারটি ফিরোজকোহ-এর জুমার মসজিদের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। ঘুরিদ ইতিহাসকার মিনহাজ-ই সিরাজ জুজ্জানি উল্লেখ করেছেন যে, ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে মঙ্গোলদের অবরোধের কিছু আগে আকস্মিক বন্যায় মসজিদটি ভেসে যায়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] জামের মিনার প্রত্নতাত্ত্বিক প্রকল্পের খননকাজে মিনারের পাশে একটি বৃহৎ প্রাঙ্গণবিশিষ্ট স্থাপনার নিদর্শন এবং পোড়া ইটের পাকা মেঝের ওপর নদীবাহিত পলির স্তর আবিষ্কৃত হয়েছে, যা জুজ্জানির বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।[১৪]
১২০২ সালে গিয়াস উদ্-দীনের মৃত্যুর পর খোয়ারেজম সাম্রাজ্যের কাছে ভূখণ্ড হারাতে শুরু করলে ঘুরিদ সাম্রাজ্যের শক্তি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। জুজ্জানির বর্ণনা অনুযায়ী, ১২২২ সালে মঙ্গোলরা ফিরোজকোহ ধ্বংস করে।[১৪]
১৮৮৬ সালে আফগান সীমান্ত কমিশনের সদস্য হিসেবে কর্মরত অবস্থায় স্যার টমাস হোলডিচ জামের মিনারের বিবরণ প্রকাশ করার আগে আফগানিস্তানের বাইরে এটি প্রায় অজানাই ছিল। তবে ১৯৫৭ সালে ফরাসি প্রত্নতাত্ত্বিক আন্দ্রে মারিক[১৫][১৬] এবং গাস্তোঁ ভিয়ে-এর গবেষণার মাধ্যমে এটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীকালে ১৯৭০-এর দশকে ভের্নার হারবের্গ প্রত্নস্থলটির আশপাশে সীমিত জরিপ পরিচালনা করেন এবং একই দশকে রাল্ফ পিন্ডার-উইলসন তাঁর বিস্তৃত গবেষণা সম্পন্ন করেন। কিন্তু ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত আগ্রাসনের ফলে এলাকাটিতে বিদেশি গবেষকদের প্রবেশাধিকার আবারও দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
শিলালিপির বিষয়বস্তু
[সম্পাদনা]- সর্বোচ্চ ব্যান্ডে মুসলিমদের ঈমানের ঘোষণা, শাহাদা, উৎকীর্ণ রয়েছে: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল।"
- এর নিচের উপরের দুটি ব্যান্ডে সূরা আস-সাফ (৬১)-এর ১৩ নম্বর আয়াত উৎকীর্ণ রয়েছে: "আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এবং আসন্ন বিজয়। আর মুমিনদের সুসংবাদ দিন। হে ঈমানদারগণ।"
- এর নিচের ব্যান্ডে গিয়াস উদ্-দীন মুহাম্মদ ইবনে সাম-এর নাম ও উপাধি উৎকীর্ণ রয়েছে।
- এর নিচে ফিরোজা রঙের মোজাইক টালি দিয়ে গিয়াস উদ্-দীন মুহাম্মদের নাম ও উপাধির একটি বিস্তৃত রূপ উৎকীর্ণ রয়েছে।
- একটি আয়তাকার ষড়ভুজের নিচে নাসখ লিপিতে দুটি পঙ্ক্তি রয়েছে: (১) "আলি ইবনে ...-এর নির্মাণকর্ম", (২) অপাঠোদ্ধারযোগ্য।
- স্টুকো দিয়ে নির্মিত হওয়ায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একটি শিলালিপিতে "আবুল ফাতহ" উৎকীর্ণ রয়েছে।
- পরস্পর জড়ানো ব্যান্ডজুড়ে সূরা মারইয়াম (১৯)-এর আয়াত উৎকীর্ণ রয়েছে।[১৭]
- উত্তরমুখী পাশে কুফি লিপিতে উৎকীর্ণ রয়েছে: "পাঁচশ নব্বই সনের তারিখে"—যা ২৭ ডিসেম্বর ১১৯৩ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ১১৯৪ খ্রিস্টাব্দ সময়কালকে নির্দেশ করে।[১৮]
সংরক্ষণ-সংক্রান্ত সমস্যা
[সম্পাদনা]হুমকি
[সম্পাদনা]জামের মিনারটি হরি নদী এবং জাম নদীর নিকটবর্তী হওয়ায় নদীভাঙন, পানির অনুপ্রবেশ এবং বন্যার কারণে মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন।[১৯][২০] এ ছাড়া অঞ্চলটিতে ঘন ঘন সংঘটিত ভূমিকম্পও এর জন্য একটি বড় ঝুঁকি। এসব কারণে মিনারটির কাঠামো ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে এবং এটি ক্রমশ হেলে পড়ছে।[১৯]
২০০২ সালে স্থানটি পরিদর্শনের পর ব্রিটিশ অভিযাত্রী এবং পরবর্তীকালে সংসদ সদস্য রোরি স্টুয়ার্ট জানান যে, লুটপাট এবং অবৈধ খননের ফলে মিনারসংলগ্ন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।[২১]
২০১৮ সালের ২১ জুলাই *পাজওয়ক নিউজ* জানায় যে, জামের মিনারের নিকটবর্তী তল্লাশি চৌকিগুলোতে তালিবান ও স্থানীয় বাহিনীর মধ্যে ছয় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এ সময় জঙ্গিরা ঐতিহাসিক স্থানের আশপাশের বনাঞ্চলে আগুন ধরিয়ে দেয়, যার ফলে একটি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘোরের সংস্কৃতি ও তথ্য বিভাগের পরিচালক ফখরুদ্দিন আরিয়াপুর অঞ্চলটির নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সবুজ এলাকার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং যদিও মিনারটি অক্ষত রয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে জঙ্গিরা ভবিষ্যতে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ধ্বংস করতে পারে।[২২]
২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি পশ্চিম আফগানিস্তানে একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যাতে ২৮ জন নিহত হন। ভূমিকম্পের ফলে মিনারের কিছু ইট খসে পড়ে এবং এর পর থেকে এটি ধসে পড়ার আরও বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।[২৩]
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তীব্র বন্যার কারণে কাঠামোটির অখণ্ডতা এবং ধসে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে একাধিকবার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৪,[২৪] ২০১৯[২৫] এবং ২০২৪ সালে[২৬] এ ধরনের হুমকির খবর প্রকাশিত হয়।
সংরক্ষণ প্রচেষ্টা
[সম্পাদনা]মিনারটির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার কাজ ১৯৭০-এর দশকে শুরু হয়েছিল, কিন্তু পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০০১ সালের পর পুনরায় কাজ শুরু হলেও ২০০৮ সালের মধ্যে তা আবার বন্ধ হয়ে যায়।[১৯]

ইউনেস্কো মিনারটির অবস্থা মূল্যায়নের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের চেষ্টা করেছে। ২০১২ সালে সংস্থাটি মিনারের ত্রিমাত্রিক (৩ডি) স্ক্যান, জলবিদ্যাগত পরিমাপ এবং সহায়ক বিম ও প্রাচীর শক্তিশালী করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ভবিষ্যতে পুনর্নির্মাণের সুবিধার্থে বহির্ভাগের আলোকচিত্রও সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে আইকোনেম (Iconem) ইউনেস্কোর জন্য মিনারটির ৩ডি মডেল তৈরি করলেও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে অর্থায়নের অভাব দেখা দেয় এবং কোনো নিয়মিত সংরক্ষণকাজ পরিচালিত হয়নি। তদুপরি, দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে প্রত্নস্থলে পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় সংরক্ষণকাজ ব্যাহত হয়েছে। তবে এসব মূল্যায়ন ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ প্রচেষ্টার জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।[২৭] মাঠপর্যায়ের গবেষণা এখনও কঠিন হলেও প্রত্নতাত্ত্বিকেরা উপগ্রহচিত্র ও গুগল ম্যাপসের তথ্য বিশ্লেষণ করে মিনার এবং এর পার্শ্ববর্তী প্রত্নস্থল সম্পর্কে নতুন তথ্য আবিষ্কার করেছেন।[২৮]
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ঘোর প্রদেশের স্থানীয় গভর্নর ঘোষণা দেন যে সাম্প্রতিক বন্যায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে রিটেইনিং প্রাচীর (ধারণপ্রাচীর) নির্মাণসহ সংহতকরণমূলক কাজ শিগগিরই শুরু হবে।[২৯] ২০২৫ সালের মার্চে জানানো হয় যে, ৫০ দিনের কাজ শেষে ধারণপ্রাচীর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতে, দীর্ঘমেয়াদে মিনারের অবনতি রোধ করতে আরও ব্যাপক ও কার্যকর সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।[৩০]
চিত্রশালা
[সম্পাদনা]- জামের মিনারের বহির্ভাগের অলংকৃত শিলালিপি
- জামের মিনারের নিকট দৃশ্য
- জামের মিনারের বহির্ভাগের অলংকৃত শিলালিপির অংশ
- জামের মিনারের অলংকৃত বহির্ভাগ, আগস্ট ২০০৫
- কাররামিয়া মতবাদের প্রভাবে নির্মিত নকশাসহ জামের মিনার
- জামের মিনারের অভ্যন্তর
- হরি রুদ নদীর তীরে অবস্থিত জামের মিনার
- জামের মিনারের নিকটে পোড়া ইটের প্রাঙ্গণের মেঝে, আগস্ট ২০০৫
- মিনারের পথে একটি খামারবাড়ি
আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]- Cruickshank, Dan (২৩ এপ্রিল ২০০৮)। "Meeting with a Minaret"। The Guardian।
- Sampietro, Albert (২৮ জুলাই ২০০৩)। "The Minaret of Jam in Afghanistan"। albertsampietro.com।
- Freya Stark: The Minaret of Djam, an excursion in Afghanistan, London: John Murray, 1970
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Pinder-Wilson, Ralph (২০০১)। "Ghaznavid and Ghūrid Minarets"। Iran। খণ্ড ৩৯। পৃ. ১৬৭।
- 1 2 "Afghan historic minaret of Jam 'in danger of collapse'"। BBC News (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ২৮ আগস্ট ২০১৪। ১৯ জুলাই ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০২২।
- ↑ Discover Afghanistan - The Minaret of Jam। NATO। ১৫ আগস্ট ২০১৩। ৭ জুন ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০২২ – YouTube এর মাধ্যমে।
- ↑ "Minaret of Jam Listed as ICESOCO Heritage Site"। TOLOnews (ইংরেজি ভাষায়)। ২০ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০২১।
- ↑ Lintz, Ulrike (২০১৩)। Calligraphy and Architecture in the Muslim World। Edinburgh University Press। পৃ. Gharipour, Mohammad, and İrvin Cemil Schick, editors. Calligraphy and Architecture in the Muslim World. Edinburgh University Press, ২০১৩. JSTOR, http://www.jstor.org/stable/১০.৩৩৬৬/j.ctvxcrjh৭. Accessed ২ Dec. ২০২৫। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৭৪৪-৬৮৪২-৮।
- 1 2 3 Thomas, David (২০১৮)। The ebb and flow of the Ghūrid empire। [Sydney]: Sydney University Press। আইএসবিএন ৯৭৮১৭৪৩৩২৫৪১৪। ওসিএলসি 1003642529।
- ↑ Lintz, Ulrike (২০১৩)। Calligraphy and Architecture in the Muslim World (English ভাষায়)। Edinburgh University Press। পৃ. Lintz, Ulrike-Christiane. “The Qur’anic Inscriptions of the Minaret of Jām in Afghanistan.” Calligraphy and Architecture in the Muslim World, edited by Mohammad Gharipour and İrvin Cemil Schick, Edinburgh University Press, ২০১৩, pp. ৮৩–১০২. JSTOR, http://www.jstor.org/stable/১০.৩৩৬৬/j.ctvxcrjh৭.৯. Accessed ১ Dec. ২০২৫। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৭৪৪-৬৮৪২-৮।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - ↑ Pinder-Wilson, Ralph (২০০১)। "Ghaznavid and Ghūrid Minarets"। Iran। খণ্ড ৩৯। পৃ. ১৬৯–১৭০।
- ↑ "Minaret and Archaeological Remains of Jam"। UNESCO World Heritage Center। UNESCO। ২২ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১১।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "tolonews.com2" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "unesco2" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - 1 2 Pinder-Wilson, Ralph (২০০১)। "Ghaznavid and Ghūrid Minarets"। Iran। খণ্ড ৩৯। পৃ. ১৭০।
- ↑ "Warwick Ball: Ralph Pinder-Wilson and Afghanistan"। backdoorbroadcasting.net। ১৪ জানুয়ারি ২০১০। ২৯ মে ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- 1 2 Minaret of Jam Archaeological Project, http://antiquity.ac.uk/ProjGall/thomas/ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০০৬-০৪-২৬ তারিখে
- ↑ Maricq, André; Wiet, Gaston (১৯৫৯)। La découverte de la capitale des sultans ghorides : XIIe-XIIIe s. (প্রতিবেদন)। Mémoires de la Délégation archéologique française en Afghanistan। Paris: Klincksieck। পৃ. ১৬।
- ↑ Pinder-Wilson, Ralph (২০০১)। "Ghaznavid and Ghūrid Minarets"। Iran। খণ্ড ৩৯। পৃ. ১৬৬।
- ↑ Cruickshank, Dan (২৩ এপ্রিল ২০০৮)। "Dan Cruickshank relives his epic journey to a threatened wonder in Afghanistan"। the Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০২২।
- ↑ Pinder-Wilson, Ralph (২০০১)। "Ghaznavid and Ghūrid Minarets"। Iran। খণ্ড ৩৯। পৃ. ১৬৮–১৬৯।
- 1 2 3 Cruickshank, Dan (২৩ এপ্রিল ২০০৮)। "Meeting with a Minaret"। The Guardian। ১১ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০১৬।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "unesco3" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Stewart, Rory (২০০৬)। The places in between (1st U.S. সংস্করণ)। Orlando: Harcourt, Inc। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৫-৬০৩১৫৬-১।
- ↑ خسرو, منصور (২১ জুলাই ২০১৮)। "Taliban storm checkpoints near ancient Ghor minaret" (ইংরেজি ভাষায়)। ২১ জুলাই ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২৫।
- ↑ "Minaret of Jam, a UNESCO world heritage monument, in danger of 'collapse' after earthquakes"। firstpost.com। ২০ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২২।
- ↑ Qazizada, Mohammad; Qarizadah, Daud (২৮ আগস্ট ২০১৪)। "Afghan historic minaret of Jam 'in danger of collapse'"। BBC News (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২৫।
- ↑ "Afghanistan: Floods threaten Jam minaret"। DW (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ মে ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২৫।
- ↑ Mohammad (২২ মে ২০২৪)। "Floods and the Destruction of History: Minaret of Jam at Risk of Collapse"। Hasht-e Subh (কানাডীয় ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২৫।
- ↑ "Safeguarding of World Heritage Site of the Minaret of Jam | United Nations Educational, Scientific and Cultural Organization"। [www.unesco.org](http://www.unesco.org) (ইংরেজি ভাষায়)। ৭ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১৮।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; ":02" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Sayeedi, Nasrin (১০ ডিসেম্বর ২০২৪)। "Work on Jam minaret retaining walls to begin soon" (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২৫।
- ↑ Rahmati, Fidel (২৩ মার্চ ২০২৫)। "Completion of Gabion Wall Project for Minaret of Jam Protection in Ghor Province" (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০২৫।
- Dan Cruickshank (ed.), Sir Banister Fletcher's A History of Architecture, Twentieth edition, Architectural Press 1996, আইএসবিএন ০-৭৫০৬-২২৬৭-৯
- Herberg, W. with D. Davary, 1976. Topographische Feldarbeiten in Ghor: Bericht über Forschungen zum Problem Jam-Ferozkoh. Afghanistan Journal 3/2, 57-69.
- Maricq, A. & G. Wiet, 1959. Le Minaret de Djam: la découverte de la capitale des Sultans Ghurides (XIIe-XIIIe siècles). (Mémoires de la Délégation archéologique française en Afghanistan 16). Paris.
- Sourdel-Thomine, J., 2004. Le minaret Ghouride de Jam. Un chef d'oeuvre du XIIe siècle. Paris: Memoire de l'Academie des Inscriptions et Belles Lettres.
- Stewart, Rory. 2006. The Places In Between. Harvest Books. আইএসবিএন ০-১৫-৬০৩১৫৬-৬.
- Thomas, David, 2004. Looting, heritage management and archaeological strategies at Jam, Afghanistan
- Thomas, D.C., G. Pastori & I. Cucco, 2004. “Excavations at Jam, Afghanistan.” East and West 54 (Nos. 1-4) pp. 87–119.
- Thomas, D.C., G. Pastori & I. Cucco, 2005. The Minaret of Jam Archaeological Project at Antiquity
- Thomas, D.C., & A. Gascoigne, in press. Recent Archaeological Investigations of Looting at Jam, Ghur Province, in J. van Krieken (ed.) Afghanistan’s Cultural Heritage: its Fall and Survival. Leiden: E.J. Brill.
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- Dupree, Nancy Hatch (1977): An Historical Guide to Afghanistan. 1st Edition: 1970. 2nd Edition. Revised and Enlarged. Afghan Tourist Organization.
- Minaret of Jam Archaeological Project ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০০৬ তারিখে
- UNESCO site on threats to the minaret
- UNESCO World Heritage Center-Minaret and Archaeological Remains of Jam
- Hidden jewel of Afghan culture BBC News 3 May 2008
