জাউইজেনিক জোনু জিগমুনতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জাউইজেনিক জোনু জিগমুনতা
Matejko Hanging of the Zygmunt bell.jpg
শিল্পীJan Matejko
বছর১৮৭৪[১]
ধরনতৈলচিত্র
আয়তন120 cm × 88 cm (৪৭ ইঞ্চি × ৩৫ ইঞ্চি)
অবস্থানজাতীয় যাদুঘর, ওয়ারসও

জাউইজেনিক জোনু জিগমুনতা (১৫২১ সালে ক্রাকাউ-এর ক্যাথেড্রাল টাওয়ারে সিগিসমুন্ড ঘণ্টা ঝুলানো) [২] জ্যান মাতেজকোর করা একটি চিত্রকর্ম যা ১৮৭৪ সালে সম্পন্ন হয়। এটা ১৫২১ সালে ক্রাকাঊ এর ওয়ায়েল ক্যাথেড্রালে এই সিগিসমুন্ড ঘণ্টা ঝুলানোর কাহিনী বর্ণনা করে। ঘণ্টাটি সিগিসমুন্ড টাওয়ারে ঝুলানো হয় এবং প্রথমবার বাজানো হয় ১৫২১ সালের ১৩ জুলাই।[৩] এই ঘণ্টাটি পোলান্ডের একটি অন্যতম জাতীয় চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়।[৪] এই চিত্রকর্মটি মাজেতকোর অসংখ্য চিত্রকর্মের একটি।এখানে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তির ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এটা পোলিশ রেনেসার স্বর্ণযুগ ও পোল্যান্ড রাজ্যের শক্তিমত্তার পরিচয় বহন করে। চিত্রকর্মটির অনেকগুলো বিকল্প নাম আছে।যেগুলোর মধ্যে, মিকজিস্ল এর প্রস্তাবিত “সিগিসমুন্ড ঘণ্টার উৎসর্গ”[৫] , “সিগিসমুন্ড ঘণ্টার উত্থান”[৬], “মহারাজ সিগিসমুন্ড ঘণ্টা”[৭] অথবা শুধুই “সিগিসমুন্ড ঘণ্টা”( জোন জিগমুনতা) [৫][৮]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

সিগিসমুন্ড ঘণ্টার এই চিত্রকর্মটি তৈরী হয় ১৮৭৪ সালে।[৫] যে ভারাটি ঘণ্টাটি নাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হত তার একটি প্রতিরূপ তৈরী করে দেয়ার জন্য মাতেজকো কাজের মধ্যে একজন ছুতারকে ভাড়া করেন । এতে তিনি ঘণ্টার বাস্তবসম্মতভাবে প্রতিকৃতি আকানোর জন্য এটার মোটামুটি সঠিক অবস্থান নির্ণয় করতে পারেন।[৫] চিত্রকর্মটির সাথে নানান গল্প জড়িয়ে আছে।[৫] মাজেতকো তার পরিবারের সদস্যদের ব্যবহার করেন মডেল হিসেবে এবং চিত্রকর্মটিতে তার পরিবারের প্রায় সব সদস্যই আছে।[৫] চিত্রকর্মটি সমসাময়িকদের কাছে খুব ভালোভাবেই আদৃত হয় এবং স্টেইনস্ল তারনোভস্কি ১৮৭৫ সালে এটির একটি ব্যপক এবং তারিফসূচক পর্যালোচনা প্রকাশ করেন জেগল্যাদ পোলস্কি তে।[৫] এই কাজটি প্যারিসে প্রদর্শিত হয় ১৮৭৫ সালে। এবং সম্ভবত এটাই একাডেমী ফ্যাঞ্চাইজের দ্বারা মাজেতকোর পরিচিতি আনতে সাহায্য করে। তিন বছর পর এটা আবার সেখানে “এক্সপোজিশন ইউনিভার্সেল(১৯৭৮)” এ প্রদর্শিত হয়। এবং এটি তাকে সম্মানজনক স্বর্ণপদক এনে দেয় (আরও দুটো চিত্রকর্ম- “উনিয়া ইউবেলস্কা” এবং “ওয়াক্ল উইলচেক” এর সাথে যৌথভাবে)।[৯][১০][১১]

এই চিত্রকর্মটি ওয়ারসও এর জাতীয় যাদুঘরের সংগ্রহে রাখা আছে।[১২]

গঠন ও গুরুত্ব[সম্পাদনা]

মাজেতকো পোল্যান্ডের রেনেসা যুগের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করতেন। এবং এই চিত্রকর্মটি সে সময়ে তিনি যেসব ঐতিহাসিক চিত্রকর্মগুলো একেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম।[৫] চিত্রকর্মটির অলংকরণটি অনেক রঙ্গিন আবার বাস্তবিকও বটে।[৫] এটা পোলিশ রেনেসার স্বর্ণযুগ ও সম্ভ্রান্ত ও সাধারণ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত সমসাময়িক পোল্যান্ড রাজ্যের শক্তিমত্তার পরিচয় বহন করে। চিত্রকর্মটির বামদিকে প্রকাশিত হয় বিত্তশালী মানুষেরা এবং যুগটির মহিমা। আর ডানদিক দেখায় সাধারন ব্যক্তিদের অক্লান্ত পরিশ্রম যারা এই মহান কর্মটিকে বাস্তবে রূপদান করেছিল।[৯] যদিও এটার নাম “সিগিসমুন্ড ঘণ্টা ঝুলানো” কিন্তু এটা ঝুলানোর মুহূর্ত দেখায় না। এটা দেখায় ছাচ থেকে ঘণ্টাটির উদ্ভবকে। [১৩]

চিত্রকর্মটিতে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তির ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বামপাশে, রাজকীয় দরবার কিন্তু শুধুমাত্র রাজা সিগিসমুন্ড প্রথম, রাণী বোনা স্ফ্রোজা সহ তার পরিবার এবং জেস্টার স্ট্যানজিকের দরবার দেখা যায়।.[৫][৯] সিগিসমুন্ড ঘণ্টার পৃষ্ঠপোষক সিগিসমুন্ড ও তার ছেলে সিগিসমুন্ড অগাস্ট মাজেতকোর অন্যান্য কাজকে উৎসাহিত করেন যেগুলোর মধ্যে “দ্য ব্যাবিন রিপাবলিক” ও “পোজনানে লুব্রান্সকি একাডেঈর প্রতিষ্ঠা” অন্যতম।[১] এটি এমন এক চিত্রকর্ম যেখানে মাজেতকো সিগিসমুন্ডকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও গৌরব সহকারে দেখিয়েছেন।[৫] অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যাংকার জন বোনার, বণিক সিউরিন বেথম্যান এবং ক্যাস্টেল্যান এবং ভোইভোড স্টেইনস্ল মিতাকে দেখা যায়।[৯] যাজক জ্যান চোজেন্সকিকেও দেখা যায় ঘণ্টাটিকে জেগরজ লুব্রান্সকি কামান দিয়ে উদ্বোধিত করতে।[৯][১৩]

দরবারের বাইরে, ঘণ্টার নির্মাতা হ্যান্স বেহামকে ঘণ্টার উপরে দেখা যায়। তার এবং দরবারের মাঝে দুইটি কালো অবয়ব দেখা যায়। তারা হলেন ওয়ায়েলের স্থপতি বারতোলোমিও বেরেক্কি ও সঙ্গীতশিল্পী ভেলেন্টিন বাকফার্ক জিনি তার বাদ্যযন্ত্র থেকে একটি তার ঘণ্টাটির ছাচে ছুড়ে দিচ্ছেন। পিছনে ওয়ায়েল ক্যাসল দেখা যাচ্ছে। [৯] মাজেতকো প্রায়ই যা করতেন, যুগের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরকে অন্তর্ভুক্ত করতেন তার চিত্রকর্মে। কিন্তু তিনি সিগিসমুন্ড প্রথমের ছেলে সিগিসমুন্ড দ্বিতীয় অগাস্টকে দেখাননি যিনি তখন মাত্র এক বছরের শিশু ছিল।[৯] ১৮৮৫ সালে মাজেতকো একটি অনুরুপ ছবি আকান যাতে বয়স্ক সিগিসমুন্ড ও স্ট্যানজিক তাদের অতিক্রম হয়ে যাওয়া যুগ নিয়ে ভাবছিলেন।[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Micke-Broniarek, Ewa (জুন ২০০৪)। "Jan Matejko"National Museum in Warsaw। ১২ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০১২ 
  2. Janusz Wałek (১৯৮৮)। A history of Poland in painting। Interpress। পৃষ্ঠা 46। আইএসবিএন 978-83-223-2115-7। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুন ২০১২ 
  3. "The Royal Sigismund Bell"The Wawel Royal Cathedral of St Stanislaus BM and St Wenceslaus M। Parafia Archikatedralna św. Stanisława BM i św. Wacława। ২০১০-১২-২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০১-০৩ 
  4. "Sigismund Bell | poland.gov.pl"। En.poland.gov.pl। ২০১৪-০৪-১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৫-১২ 
  5. (পোলীয়) Marek Rezler, Z Matejką przez polskie dzieje: Zawieszenie dzwonu Zygmunta . Interklasa: polski portal edukacyjny. Retrieved 3 June 2012.
  6. Instytut Historii (Polska Akademia Nauk) (১৯৮২)। A Panorama of Polish history। Interpress Publishers। পৃষ্ঠা 20। আইএসবিএন 978-83-223-1997-0। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুন ২০১২ 
  7. Stefan Muthesius (১৯৯৪)। Art, architecture and design in Poland, 966–1990: an introduction। K.R. Langewiesche Nachfolger H. Köster Verlagsbuchhandlung। পৃষ্ঠা 66। আইএসবিএন 978-3-7845-7611-4। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুন ২০১২ 
  8. Art Institute of Chicago; Stanisław Lorentz; National Gallery of Canada (১৯৬৬)। Treasures from Poland: a loan exhibition from the State Art Collection of Wawel Castle; Cracow; the Treasury of Wawel Cathedral; the National Museum of Cracow; and the National Museum of Warsaw। Art Institute of Chicago। পৃষ্ঠা 51। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুন ২০১২ 
  9. "Kopie obrazów dawnych mistrzów-Malarstwo historyczne Zawieszenie Dzwonu Zygmunta"। Piotrwalerski.alte.pl। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৬-০৪ 
  10. Jan Matejko; Janusz Maciej Michałowski (১৯৭৯)। Jan Matejko। Arkady। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুন ২০১২ 
  11. Maria Szypowska (1992*)। Jan Matejko wszystkim znany। Fundacja Artibus-Wurlitzer oraz Wydawn. Domu Słowa Polskiego। পৃষ্ঠা 266। সংগ্রহের তারিখ 4 June 2012  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  12. "Serce, które waży... 350 kg!, Monika Hyla"। TK Niedziela। ২০১২-০৭-০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৬-০৪ 
  13. SPACER PO MUZEUM NARODOWYM W WARSZAWIE. DRUK EDUKACYJNY DLA DZIECI W WIEKU 7–12 LAT PRZYGOTOWANY PRZEZ OŚRODEK OŚWIATOWY MNW. Muzeum Narodowe w Warszawie. Retrieved 3 June 2012.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]