গেম ওভার (২০১৯-এর চলচ্চিত্র)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
গেম ওভার
গেম ওভার (২০১৯) এর পোস্টার.jpeg
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পোস্টার
পরিচালকঅশ্বিন সর্বনন
প্রযোজকএস শশীকান্ত
চক্রবর্তী রামচন্দ্র
রচয়িতাঅশ্বিন সর্বনন
কাব্য রামকুমার
(তামিল সংলাপ)
ভেঙ্কট কাচর্লা
(তেলুগু সংলাপ)
কাহিনিকারঅশ্বিন সর্বনন
কাব্য রাজকুমার
শ্রেষ্ঠাংশেতাপসী পান্নু
সুরকাররণ এথান ইয়োহান
চিত্রগ্রাহকএ বসন্ত
সম্পাদকরিচার্ড কেভিন
প্রযোজনা
কোম্পানি
ওয়াই নট স্টুডিয়োস
রিলায়েন্স এন্টারটেইনমেন্ট
পরিবেশকওয়াই নট স্টুডিয়োস
এপি ইন্টারন্যাশনাল
মুক্তি
  • ১৪ জুন ২০১৯ (2019-06-14)
দৈর্ঘ্য৯৭ মিনিট
দেশভারত
ভাষাতামিল
তেলুগু
নির্মাণব্যয়₹৫ কোটি
আয়প্রা. ₹১৫.৯১ কোটি

গেম ওভার হচ্ছে ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি তামিল-তেলুগু দ্বিভাষী চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি ছিলো মনস্তাত্ত্বিক সহিংসতাবাদী ঘরানার, এবং এটির পরিচালক ছিলেন অশ্বিন সর্বনন যিনি কাব্য রামকুমারের সঙ্গে কাহিনী আংশিক লিখেছিলেন। এই চলচ্চিত্রটির মূল অভিনেত্রী ছিলেন তাপসী পান্নু; চলচ্চিত্রটির মূল ভাষা ছিলো তামিল এবং তেলুগু দুটিই, আলাদা আলাদা ভাবে দুই ভাষাতেই নির্মিত হয়েছিলো চলচ্চিত্রটি। এছাড়া হিন্দিভাষী দর্শকদের জন্যও চলচ্চিত্রটি অনুবাদ করা হয়েছিলো একই নামে তবে হিন্দি ভাষায় অনুবাদ ভালো হয়নি। চলচ্চিত্রটির কাহিনী নারীহত্যা নিয়ে, নারীবিদ্বেষী মুখোশধারী পুরুষের ঘরে এসে নারীখুনই এই চলচ্চিত্রের মূল কাহিনী, তাপসী পান্নুও হত্যাকারীদের কবলে পড়ে যায় তবে সে বহু কষ্টে নিজেকে বাঁচায়।[১][২][৩] ২০১৮ সালের ১০ই অক্টোবর চলচ্চিত্রটির মুখ্য চিত্রগ্রহণ শুরু হয়েছিলো। চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছিলো ২০১৯ সালের ১৪ই জুন তারিখে এবং তাপসী পান্নুর অভিনয় ভূয়সী প্রশংসিত হয়েছিলো।[৪]

পটভূমি[সম্পাদনা]

চেন্নাই শহরে একটি বড় বাংলোতে একা থাকে স্বপ্না নামের এক তরুণী, তার একটি কাজের মহিলা আছে যার নাম হচ্ছে কলাম্মা। চেন্নাইতে হঠাৎ নারীবিদ্বেষী পুরুষদের হত্যার উৎপাত বাড়ে যারা নারীদের খুন করে তাদের মাথা ধড় থেকে আলাদা করে মাথা লাথি মারে এবং ধড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্বপ্নাও এই ধরনের নারীবিদ্বেষীর কবলে পড়ে তবে সে আগে একবার ধর্ষক পুরুষের কবলে পড়ে নিজেকে কোনো মতে বাঁচায় এবং পরে অন্ধকারের প্রতি তার একধরনের ভীতি তৈরি হয়। স্বপ্না একবার মানসিক কষ্টে ভুগে আত্মহননের চেষ্টা করে এবং দালানের উঁচু থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়লে তার পা ভেঙে যায় আর সে পরে হুইল চেয়ারে চলাফেরা করা শুরু করে। এই হুইলচেয়ারে চলাফেরা করা অবস্থাতেই একদিন সে নারীবিদ্বেষী পুরুষদের কবলে পড়ে যায় এবং প্রথম দুইবার নিজেকে বাঁচাতে না পারলেও শেষবার সে মানসিক শক্তি থাকার কারণে নিজেকে বাঁচাতে পারে, এটাকে একটা গেমের মতোই দেখানো হয় যে স্বপ্নার তিনটি জীবন আছে।

অভিনয়ে[সম্পাদনা]

  • তাপসী পান্নু - স্বপ্না
  • বিনোদিনী বৈদ্যনাথন - কলাম্মা
  • অনীশ কুরুভিল্লা - মনোরোগ বিশেষজ্ঞ
  • সঞ্চনা নেতারাজ - আমুদা (তেলুগুতে অমৃতা)
  • রম্য সুব্রমণিয়ন - বর্ষা
  • পার্বতী টি. - রীনা (আমুদার/অমৃতার মা)

প্রযোজনা[সম্পাদনা]

তাপসী পান্নু তামিল/তেলুগু চলচ্চিত্রে অভিনয় হঠাৎ বাদ দিয়ে দিয়েছিলেন কিন্তু তিনি ২০১৮ সালে এই চলচ্চিত্রটিতে অভিনয়ের জন্য স্বাক্ষর করেন।[৫] ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর এই চলচ্চিত্রটির প্রথম পোস্টার প্রকাশ হয়, পোস্টারটিতে তাপসী একটি হুইলচেয়ারে বসেছিলেন, এবং তার পায়ে প্লাস্টার করা ছিলো।[৬][৭] ২০১৮ সালের ১১ই অক্টোবর চলচ্চিত্রটির শুটিং শুরু হয়, তাপসী হুইলচেয়ারে চলাফেরা করার প্রশিক্ষণ ভালোভাবে নিয়েছিলেন এই চলচ্চিত্রটিতে অভিনয়ের জন্য।[২] ২০১৮ সালের ১৪ই ডিসেম্বর চলচ্চিত্রটির অর্ধেক শুটিং শেষ হয়েছিলো।[৮]

অভ্যর্থ্যনা ও সমালোচনা[সম্পাদনা]

চলচ্চিত্রটি মূলত তাপসী পান্নুর অভিনয়ের কারণেই দর্শক দেখেছিলো; বিভিন্ন চলচ্চিত্র-সমালোচক চলচ্চিত্রটির পক্ষে কথা বলতে গিয়ে তাপসীর পক্ষেই কথা বলেছেন। স্ক্রল ডট ইনের নন্দিনী রামনাথ বলেছিলেন যে, এই চলচ্চিত্রটি দানবের বিরুদ্ধে এক নারীর প্রতিবাদের চিত্র। চলচ্চিত্রটি মানুষের মনে ভীতি জাগাতে সক্ষম।[৯] ফার্স্টপোস্টের আন্না এম ভেট্টিকাড বলেন যে, চলচ্চিত্রটি নারীস্বাধীনতার প্রতীক।[১০] তিনি তাপসীর অভিনয়ের অনেক প্রশংসা করেন। নিউজ১৮-এর প্রিয়াঙ্কা সিনহা ঝা বলেন, চলচ্চিত্রটি দেখতে দেখতে কেমন যেন মনে হয় যে, ভারতে এরকম নারী অনেক আছেন যারা পুরুষদের দ্বারা বিদ্বেষের শিকার, তাপসীর অভিনয় ছিলো একদম প্রাকৃতিক।[১১] হিন্দুস্তান টাইমসের রাজা সেন তাপসী পান্নুর চরিত্রটিকে ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী নারী চরিত্র বলে আখ্যা দেন।[১২] দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের শুভ্রা গুপ্ত বলেন, ভারতের নারীরা এখন অনেক স্বাধীন, ভারতের নারীরা অনেক এগিয়ে গিয়েছে, তারা একা একা থাকতে পারে, তারা একা একা বিপদের লড়াই করতে পারে, নারীবিদ্বেষের বিরুদ্ধে চলচ্চিত্রটি একটি প্রতিবাদ। তাপসী পান্নুর অভিনয় খুবই শিহরণ জাগানো।[১৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Taapsee Pannu to star in Ashwin Saravanan's Game Over"The Indian Express (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-১০-১২। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০২ 
  2. "Taapsee Pannu undergoes intense prep for 'Game Over'"Times of India। ২৮ মে ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মে ২০১৯ 
  3. Kumar, Pradeep (২০১৯-০৬-০৩)। "Women in films needn't be damsels in distress, says 'Game Over' writer Kaavya Ramkumar"The Hindu (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0971-751X। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৬ 
  4. October 10, Adithya Narayan On; 2018 (২০১৮-১০-১০)। "First Look Of Taapsee Pannu's 'Game Over' Revealed"Silverscreen.in (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০২-০২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০২ 
  5. "Taapsee's comeback Tamil film titled 'Game Over'"Sify (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০২ 
  6. "Taapsee Pannu's next Tamil film titled Game Over, first look out. See pic"Hindustan Times (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-১০-১০। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০২ 
  7. "Game Over poster: Taapsee Pannu is wheelchair-bound in Ashwin Saravanan's bilingual thriller- Entertainment News, Firstpost"Firstpost (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-১০-১১। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০২ 
  8. "Taapsee Pannu wraps up shooting for 'Game Over' - Times of India"The Times of India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০২ 
  9. Ramnath, Nandini (১৫ জুন ২০১৯)। "'Game Over' movie review: A taut thriller about demons within and without"Scroll.in। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুন ২০১৯ 
  10. M. M. Vetticad, Anna (১৪ জুন ২০১৯)। "Game Over movie review: Taapsee Pannu hits the ball out of the park through a terrifying thriller"Firstpost। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১৯ 
  11. Sinha Jha, Priyanka (১৪ জুন ২০১৯)। "Game Over Movie Review: Taapsee Pannu and Fantastic Storytelling Techniques Keep You Hooked"News18। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১৯ 
  12. Sen, Raja। "Game Over movie review: Taapsee Pannu tries her best in this slasher film with three climaxes"Hindustan Times। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০১৯ 
  13. Gupta, Shubhra। "Game Over review: A patchy affair"The Indian Express। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]