গাবুন ভাইপার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
গাবুন ভাইপার
(Gaboon viper)
GaboonViper.jpg
গাবুন ভাইপার
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: কর্ডাটা
উপপর্ব: Vertebrata
শ্রেণী: Reptilia
বর্গ: Squamata
উপবর্গ: Serpentes
পরিবার: Viperidae
উপপরিবার: Viperinae
গণ: Bitis
প্রজাতি: B. gabonica
দ্বিপদী নাম
Bitis gabonica
(A.M.C. Duméril, Bibron & A.H.A. Duméril, 1854)
প্রতিশব্দ
  • Echidna Gabonica A.M.C. Duméril, Bibron & A.H.A. Duméril, 1854
  • Bitis gabonica Boulenger, 1896
  • Cobra gabonica Mertens, 1937
  • Bitis gabonica gabonica
    — Mertens, 1951
  • Bi[tis]. javonica Suzuki & Iwanga, 1970
  • Bitis gabonica — Golay et al., 1993[১]

গাবুন ভাইপার (বৈজ্ঞানিক নাম: Bitis gabonica) নামে সুপরিচিত এই সাপ বিষধর ভাইপার প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত উপ-সাহারান আফ্রিকার রেইন ফরেষ্ট এবং সাভানা (নিস্পাদপ) অঞ্চলে এদের দেখা যায়।[১] এই সাপটি শুধুমাত্র বিটিস (Bitis),[২] বর্গভুক্ত দীর্ঘতম সদস্যই নয়, এরা বিশবের সবচেয়ে ভারী ভাইপারিড[৩] প্রজাতির সাপ। এদের সবচেয়ে লম্বা বিষদন্ত (২ ইঞ্চি বা ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত) দেখা যায় এবং এরা বিষধর সর্পকূলের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণে বিষ উৎপাদন[৩] করতে পারে। বিটিস বর্গস্থ দুটি প্রজাতিকে সম্প্রতি সনাক্ত করা গেছে যাদের একটি বর্তমানে আলোচ্য Bitis gabonica[৪]

বর্ণনা[সম্পাদনা]

পূর্নবয়স্ক গাবুন ভাইপারদের শরীর এবং লেজ মিলিয়ে গড় দৈর্ঘ্য হল ১২৫-১৫৫সেন্টিমিটার (৪-৫ ফুট)। সিয়েরা লিওনএ পাওয়া সর্ববৃহত নমুনাটির দৈর্ঘ্য ছিল ২০৫সেন্টিমিটার(৮১ইঞ্চি)। শরীরের দৈর্ঘ্যের সাপেক্ষে দাঁতের দৈর্ঘ্য দেখে এদের লিঙ্গ নির্ধারন করা যায়; পুরুষদের ক্ষেত্রে আনুমানিক ১২% এবং স্ত্রী গাবুন ভাইপারদের ক্ষেত্রে আনুমানিক ৬%। পূর্নবয়স্ক সাপগুলি বিশেষত স্ত্রী সাপেরা খুব ভারী এবং সুঠাম গঠনযুক্ত হয়। একটি গাবুন ভাইপারের উপর সমীক্ষায় নিম্নলিখিত তথ্যগুলি পাওয়া গেছেঃ-[৩]

সম্পূর্ন দৈর্ঘ্য ১৭৪ সেন্টিমিটার (৬৯ ইঞ্চি)
মাথার প্রস্থ ১২ সেন্টিমিটার (৪.৭ ইঞ্চি))
দেহের পরিধি ৩৭ সেন্টিমিটার (১৪.৬৫ ইঞ্চি))
ওজন (খালি পেটে) ৮.৫ কিলোগ্রাম (১৯ পাউন্ড)


B. gabonicaর সম্পূর্ন কঙ্কাল
B. gabonicaর নাসিকা ছিদ্রের মাঝে একজোড়া ছোট শিঙ্গের মতো উঁচু অংশ থাকে এবং চোখের নিচে দুটি ডোরা বা দাগ দেখা যায়

B. gabonicaর বর্ননাক্রমে স্পাউলস ও অন্যান্যরা ২০০৪ সালে গাবুন ভাইপার সম্বন্ধে যে তথ্য প্রদান করেন, তাতে দেখা যায় যে এদের গড় দৈর্ঘ্য ৮০-১৩০সেন্টিমিটার (৩২-৫১.৫ইঞ্চি) এবং সর্বোচ্চ সামগ্রিক দৈর্ঘ্য ১৭৫সেন্টিমিটার (৬৯.৩ইঞ্চি)। সমীক্ষায় তারা এও জানিয়েছেন যে এই প্রজাতির সাপগুলি দৈর্ধ্যে আরো বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। ওনারা ১.৮মিটার(৬ফুট) অথবা এমনকি ২মিটারের বেশী (৬.৫ ফুট) দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট গাবুন ভাইপারের কিছু নমুনার কথা বলেন, তবে এই তথ্যের সমর্থনে কোনো যুক্তিপূর্ন তথ্য প্রমান পাওয়া যায়নি একথাও স্বীকার করেছেন।[৫] ১৯৭৩সালে এই প্রজাতির একটি সাপ ধরা হয়েছিল যার সম্পূর্ন দৈর্ঘ্য ছিল ১.৮মিটার(৫.৯ফুট) এবং খালি পেটে ওজন ছিল ১১.৩কিলোগ্রাম (২৫পাউন্ড)।[৬] অতিবৃহৎ নমুনাগুলির সম্ভাব্য ওজন ২০কিলোগ্রাম(৪৪পাউন্ড) অবধি হতে পারে। এই কারণেই ডায়মন্ডব্যাক র‍্যাটলস্নেক (Eastern diamondback rattlesnake)এর উপস্থিতি ছাপিয়ে গাবুন ভাইপার বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ভারী বিষধর সর্পের তকমা লাভ করেছে। যদিও ইষ্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র‍্যাটলস্নেক এর সাথে তুলনার তথ্যপ্রমান এখনো যাচাই করা হয়নি। [৬][৭]

গাবুন ভাইপারের মাথাটি ত্রিভুজাকৃতি হয় এবং ঘাড় ভীষন সরু হয়। ঘাড়টি প্রস্থে প্রায় মাথার এক-তৃতীয়াংশ।[৩] নাসিকা ছিদ্রের মাঝে একজোড়া ছোট শিঙ্গের মতো উঁচু অংশ দেখা যায়। এই শিং জোড়া B. g. gabonicaর ক্ষেত্রে ছোট আকৃতির এবং B. g. rhinocerosএর ক্ষেত্রে অনেক বড় হয়।[৫] এদের চোখগুলি আকারে বড় এবং এরা চোখ ঘোরাতে পারে[৩], চোখগুলি বাইরের দিকে ঠেলে বের হওয়া ধরনের। [৫]

আঁশের বিন্যাস[সম্পাদনা]

গাবুন ভাইপারদের চোখের চারপাশে ১৫-২১টি সারকাম অরবিটাল[৩] আঁশ থাকে। মাথার উপরে আড়াআড়ি ভাবে ১২-১৬টি ইন্টারঅকুলার আঁশ দেখা যায়। চার-পাঁচটি আঁশের সারি সাব-অকুলার এবং সুপ্রাঅকুলার অঞ্চলকে পৃথক করেছে। সুপ্রালেবিয়াল আঁশের সংখ্যা ১৩ থেকে ১৮টি এবং সাবলেবিয়াল আঁশ ১৬-২২টি[৩] থাকে। এদের বিষদন্ত ৫৫মিলিমিটার(২.২ইঞ্চি)[২] পর্যন্ত হয় এবং যে কোনো বিষধর সর্পের মধ্যে সর্ববৃহৎ বিষদন্ত এই প্রজাতিরই দেখা যায়।[৩]

দেহের মধ্যভাগে, পৃষ্টদেশে ২৮-৪৬টি আঁশের সারি রয়েছে। দেহের দুই পাশের সারিগুলি ছাড়া সব আঁশের সারিগুলি জাহাজ অথবা নৌকার তলদেশের ন্যায় আকৃতিবিশিষ্ট। পার্শ্বীয় আঁশগুলি খানিকটা তীর্যক। উদরদেশস্থ আঁশের সংখ্যা ১২৪ থেকে ১৪০টি। পুরুষদের ক্ষেত্রে উদর দেশীয় আঁশ ১৩২এর বেশি এবং স্ত্রী সাপেদের ক্ষেত্রে ১৩২টির কম আঁশ দেখা যায়। সাবক্যাডুয়াল আঁশের সংখ্যা ১৭-৩৩ জোড়া। পুরুষদের ক্ষেত্রে ২৫ জোড়ার কম হয় না আবার স্ত্রীদের ক্ষেত্রে ২৩ জোড়ার বেশি হয় না। পায়ুপথের উপর আঁশ একটি হয়। [৩]

বর্ন[সম্পাদনা]

গাবুন ভাইপারদের বর্ন বিন্যাস বিবর্ন অথবা ঈষৎ হলদে চতুর্ভূজের ন্যায় ছোপ দ্বারা গঠিত। এই চতুর্ভূজের মত আকৃতির ছোপ অথবা দাগগুলি পিঠের মধ্যস্থল থেকে নিচের দিকে নেমে এসেছে। দাগগুলির ফাঁকে ফাঁকে কালচে, হলুদ প্রান্তযুক্ত বালিঘড়ির মত ছোপ দেখা যায়। দেহের দুই পবার্শদেশে হরিদ্রাভ-বাদামী অথবা বাদামী বর্নের রম্বস আকৃতির দাগ রয়েছে সারিবদ্ধ ভাবে যাদের মধ্যভাগে হালকা উল্লম্ব দাগ রয়েছে। এদের উদরদেশের ব্ররন ফ্যাকাশে হলুদ এবং কালো অথবা বাদামী ছিট ছিট দাগ অবিন্যস্ত ভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। মাথা সাদা অথবা ঈষৎ হলদেটে বর্নের এবং মাথার মধ্যভাগ বরাবর একটি সুক্ষ্ম কালো রেখা দেখা যায়। মাথার পশ্চাতভাগের দুই পাশে কালো ছোপ এবং প্রত্যেক চোখের নিচে এবং পিছনে কালচে নীল অথবা কালো ত্রিভুজাকৃতি দাগ দেখা যায়।[৫] চোখের মনি ক্রীমবর্নের, হলুদ-সাদা, কমলা[৫] অথবা রূপালী রঙের হয়।[৮]

সাধারন নাম[সম্পাদনা]

এই সাপের সাধারণ নামগুলি হল গাবুন ভাইপার, বাটারফ্লাই অ্যাডার, ফরেস্ট পাফ অ্যাডার, হুইস্পার,[৩] সোয়াম্পজ্যাক,[৩] গাবুন অ্যাডার[২] এবং গাবন ভাইপার।[৯]

গাবুন নামটি আসলে পর্তুগীজদের (Portuguese) দেওয়া। Gabon (Gabão) কথাটি গাবনএ যে নদী মোহনায় Libreville শহরটি গড়ে উঠেছে সেই নদী মোহনাকে নির্দেশ করে। এই জায়গাটি সমুদ্রের একটি শাখার উভয় তীরস্থ সরু একফালি ভূখন্ড। ১৯০৯ সালে,ফ্রেঞ্চ কঙ্গোর উত্তরাংশ এবং নিরক্ষরেখার দক্ষিণ অংশে যে জায়গাটি আতলান্তিক মহাসাগর এবং ১২°E লঙ্গিটিউড এর মধ্যে অবস্থিত ছিল, সেই অঞ্চল্টিকে গাবুন বলা হত।[১০]

ভৌগলিক সীমা[সম্পাদনা]

ম্যাপে চিহ্নিত করা কালো অঞ্চলটি B. gabonicaর ভৌগোলিক সীমা[২]

Bitis gabonica প্রজাতির সাপকে দেখা যায় গিনি,ঘানা,টোগো,নাইজেরিয়া,ক্যামেরুন, ইক্যুয়এটরিয়াল গিনি, গাবন, রিপাবলিক অফ কঙ্গো,ডি আর কঙ্গো, নর্দান অ্যাংগোলা, মধ্য আফ্রিকান রিপাবলিক, উত্তর সুদান,উগান্ডা, কেনিয়া, পূর্ব তানজানিয়া, জাম্বিয়া, মালয়, পূর্ব জিম্বাবোয়ে, মোজাম্বিক এবং দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর পূর্ব কাওয়াজুলু-নাটাল প্রভিন্স এ। Mallow এবং অন্যান্যরা(২০০৩) Bitis gabonicaর প্রাপ্তিস্থল হিসাবে সিয়েরা লিওন এবং পশ্চিম আফ্রিকার[৩] লেবিয়া তে নথিভুক্ত করেছেন। এই প্রজাতির সাপের আদর্শ বাসভূমি হল আফ্রিকার গাবন[১]

বাসভূমি[সম্পাদনা]

গাবুন ভাইপারকে সাধারনত দেখা যায় রেইন ফরেস্ট এবং পবার্শবর্তী জঙ্গলে, প্রধানত নিম্ন উচ্চতা বিশিষ্ট অঞ্চলে[৮]। মাঝে মধ্যে ১৫০০ মিটার উচ্চতায়ও এদের দেখা যায়।[৩] Spawls এবং অন্যান্যরা (২০০৪) উল্লেখ করেছেন যে সর্বাধিক ২১০০ মিটার উচ্চতা[৫] পর্যন্ত এই প্রজাতির সাপের দেখা পাওয়া যায়। ব্রডলে এবং কক এর মতানুসারে(১৯৭৫), সাধারণত এদের নিকটাত্মীয় B. arietans এর বাসভূুমির অনুরূপ পরিবেশে এদের দেখা পাওয়া যায়।B. arietans এই প্রজাতির সাপেদের দেখা মেলে অধিকতর খোলামেলা পরিবেশে। [১১]

তানজানিয়াতে এই প্রজাতির সাপেদের দেখা পাওয়া যায় ঘন ঝোপঝাড়ে, কাজু বাদাম চাষের বাগানে এবং ঝোপঝাড়যুক্ত কৃষিজমিতে। উগান্ডাতে গাবুন ভাইপারের দেখা মেলে জঙ্গলে এবং জঙ্গলের পবার্শবর্তী তৃনভূমিতে, পতিত অবস্থা থেকে পুনরুদ্ধার করা জঙ্গলে, পশ্চিম আফ্রিকার কোকো চাষের জমিতে এবং পূর্ব আফ্রিকার কফি চাষের বাগানে এরা বসবাস করে। জাম্বিয়ার চিরহরিৎ বৃক্ষের জঙ্গলে গাবুন ভাইপারের খোঁজ মেলে। জিম্বাবোয়ের পূর্বভাগে শুধুমাত্র উচ্চ বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলের জঙ্গলের খাড়া উতরাই অথবা ঢালে এদের দেখা পাওয়া যায়। সাধারনত জলাভূমিতে এবং স্থির ও চলমান জলে এদের দেখা যায়। জঙ্গলের আশেপাশের কৃষিজমিতে এবং রাতের বেলায় জঙ্গলের অথবা পবার্শবর্তী অঞ্চলের রাস্তায় এদের প্রয়শই দেখা যায়।[৩]

আচরন[সম্পাদনা]

গাবুন ভাইপাররা মূলতঃ নিশাচর। এরা খুব ধীরগতি সম্পন্ন, কম নড়াচড়াযুক্ত শান্ত স্বভাবের সাপ হিসাবে সুপরিচিত। এরা সাধারনত লুকিয়ে থেকে শিকার ধরে এবং উপযুক্ত শিকার কখন এসে হাজির হয়, সেই অপেক্ষায় দীর্ঘসময় ধরে নিথর নিশ্চল হয়ে পড়ে থাকে। পক্ষান্তরে এই প্রজাতির সাপ সক্রিয়ভাবে দ্রুত শিকার ধরে এবং প্রধানত রাতের প্রথম ৬ ঘন্টার মধ্যে এদের শিকারপর্ব সম্পন্ন হয়। ঘানার কুমাসিতে জঙ্গল থেকে মোটামুটি ৫০০মিটারের মধ্যে অবস্থিত ফাঁকা অঞ্চলে যেখানে কিছু আস্তাবল রয়েছে, সেখানে নিয়মিত ভাবে এদের মারা হয় বলে জানা গেছে। এই ঘটনা প্রমান করে যে জঙ্গলের পবার্শবর্তী তৃনভূমিতে এরা নিয়মিত ইঁদুর শিকার করে। গাবুন ভাইপার সাধারনত খুবই সহিষ্ণু এবং শান্ত প্রকৃতির সাপ, এমনকি যখন এদের নাড়াচাড়া করা হয়। তখন কদাচিৎ কামড় দিতে অথবা হিস শব্দ করতে দেখা যায়। গাবুন ভাইপারের এই সহিষ্ণু স্বভাব অধিকাংশ ভাইপারের মধ্যে দেখা যায় না। যাইহোক, এই প্রজাতির কোনো কোনো বদমেজাজী সাপের ক্ষেত্রে কামড় দেওয়ার ঘটনা ঘটে।[৫]

এটিB. g. rhinoceros (পশ্চিম আফ্রিকান গাবুন ভাইপার)। এদের ত্বকের বর্ন কেমফ্লেজ করতে সাহায্য করে।

গাবুন ভাইপারদের গমন প্রধানত সরলরৈখিক-উদরদেশীয় আঁশগুলির সাহায্যে আলস্যপরায়ন মন্থর এদের চলন। সচকিত হলে এদের চলন প্রনালীর বদল হতে পারে। সেক্ষেত্রে দুই পাশে দেহ মুচড়ে চলতে পারে এরা, তবে সেটা সামান্য দূরত্ব পর্যন্ত।[৩] ১৯৩৩ সালে Ditmars এমনকি একথাও বন্ননা করেছেন যে গাবুন ভাইপার আঁকাবাকা ভাবে চলনেও সক্ষম। [১২]

ভয় দেখানো হলে অথবা ভয় পেলে সশব্দে হিস হিস আওয়াজ করে সতর্কবানী হিসাবে। এক স্থায়ীছন্দে এরা এই হিস হিস আওয়াজ করে চলে এবং প্রতিবার শ্বাসবায়ু নির্গত হওয়ার পর মৃদুভাবে মাথা নাড়ায় একপাশ থেকে অন্যপাশে।[৩][৫][১২] তদসত্তবেও এরা ছোবল প্রবন নয় এবং প্রবল্ভাবে উত্ত্যক্ত না করা হলে ছোবল দেওয়ার অনীহা প্রকাশ পায়।[৩] তবে মনে রাখতে হবে যে এরা পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা দ্রুতবেগে ছোবল দেওয়া বা আঘাত হানা সাপেদের মধ্যে অন্যতম। সেই কারণে এদের নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময় সচেতন এবং সাবধান থাকা প্রয়োজন।

গাবুন ভাইপারের এই স্বাভাবিক অনাগ্রাসী অথবা অনাক্রমনাত্বক স্বভাবয়ের অসংখ্য বর্ননা রয়েছে। ১৯৬১ সালে Sweeney লিখেছিলেন, "এরা এতই শান্ত প্রকৃতির যে এদের যেকোনো নির্বিষ সাপের মত নিশ্চিন্ত মনে যেরকম খুশি নাড়াচাড়া করা যায়", যদিও এটি সম্পূর্ন্রুপেই নিষেধ করা হয়ে থাকে। Laneএ Ionides ১৯৬৩ সালে ব্যাখ্যা করেছিলেন যে গাবুন ভাইপারকে ধরার সময় তিনি সর্বপ্রথমে গাবুন ভাইপারটিকে মাথার উপর দিক দিয়ে টং(tong) অথবা ক্যাঁচার এর সাহায্যে আলতো করে স্পর্শ করে তার প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষন করবেন, যদি বদমেজাজ অথবা রাগের কোনো বহিপ্রকাশ না দেখা যায়, তবে উনি টং অথবা ক্যাঁচার সরিয়ে রেখে এক হাত দিয়ে সাপটির ঘাড় শক্ত করে মুঠোর মধ্যে নেবেন এবং অন্য হাত দিয়ে শরীরের অন্য অংশ ধরে রাখবেন এবং এইভাবে সাপটিকে সাপ রাখার বাক্সের ভিতর ভরবেন। তিনি জানিয়েছেন যে এইভাবে ধরলে সাপটি সংগ্রাম করার ন্যুন্যতম সুযোগটুকুও পাবে না।[৩]

প্যারি (১৯৭৫) বর্ননা করেছেন কিভাবে এই সর্প প্রজাতি অন্যান্য সাপেদের অপেক্ষা অধিকতর বিস্তৃত সীমানা অবধি চোখ ঘোরাতে পারে। আনুভূমিক অবস্থানে এরা ৪৫° অবধি চোখ ঘোরাতে পারে যদি মাথাকে উপর থেকে নিচ অবধি ঘোরায়। যদি মাথা ৩৬০° অবধি ঘোরাতে সক্ষম হয়, তবে ঘূর্ননের দিক অনুসারে একটি চোখ উপরের দিকে এবং একটি নিচের দিকে হেলে যায়। দুটি চোখই তাদের মধ্যবর্তী অক্ষের উপর একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে যুক্ত থাকায় এরা একইসাথে এক চোখ দিয়ে সামনে এবং অপর চোখ দিয়ে পিছনে দেখতে পারে। স্বাভাবিক ভাবে চোখ দুটি ঝাঁকুনি সহকারে দ্রুত সামনে পিছনে করতে পারে। ঘুমানোর সময় এদের চোখ স্থির থাকে;চোখের কোনো রকম নড়াচড়া লক্ষ্য করা যায় না এবং চোখের তারাগুলি ভীষনভাবে সঙ্কুচিত হয়ে থাকে, আবার জেগে ওঠার সাথে সাথেই চোখের নড়াচড়া শুরু হয়ে যায়।[৩]

খাদ্য গ্রহন[সম্পাদনা]

গাবুন ভাইপারদের বিশাল এবং ভারী দেহের কারণে, পূর্নবয়স্করা অনায়াসেই সম্পূর্ন বৃদ্ধিপ্রাপ্ত খরগোস অথবা এই জাতীয় গোটা শিকারকেই খেয়ে ফেলে। শিকার হাজির হলে, এরা অতি ক্ষিপ্রতার সাথে যে কোনো কৌনিক অবস্থান থেকেই ছোবল দেয়। শিকারকে আঘাত হানার পর এরা এদের বিশাল মাপের বিষদন্ত দিয়ে কামড়ে ঝুলে থাকে। শিকারকে চলে বেড়াতে দেয় না অথবা শিকারের মৃত্যুর জন্য এরা অপেক্ষা করে থাকে না। গাবুন ভাইপারদের এই আচরন অন্যান্য ভাইপার প্রজাতির সাপেদের চেয়ে সম্পূর্ন ভিন্ন। এই প্রজাতির সাপেরা নানাবিধ প্রকারের পাখী এবং স্তন্যপায়ী প্রানী যেমন-ঘুঘু, বিভিন্ন প্রকার তীক্ষনদন্ত প্রানী, ছোট এবং বড় ইঁদুর, খরগোস ইত্যাদি খায়। এদের শিকার তালিকায় অস্বাভাবিক কিছু সঙ্গযোজনের নথিপ্রমানও রয়েছে যেমন- বৃক্ষবাসী বাঁদর, ব্রাস-টেইলড পরক্যুপাইন (brush-tailed porcupine) (Atherurus) এবং এমনকি ছোট র‍য়েল অ্যান্টিলোপ (royal antelope)(Neotragus) পর্যন্ত।[৩]

প্রজনন[সম্পাদনা]

চূড়ান্ত যৌনকর্ম চলাকালীন পুরুষ গাবুন ভাইপার একে অন্যের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই সংঘর্ষ শুরু হয় যখন একটি পুরুষ সাপ অপর একটি পুরুষ সাপের পিঠে তার চিবুক ঘসতে থাকে। দ্বিতীয় পুরুষটি তখন তার মাথা যথাসম্ভব উঁচুতে তুলে ধরে এবং তারপর প্রথম সাপটিও নিজের মাথা উঁচু করতে থাকে। দুজনেই এইরকম করায়,তাদের জলা অথবা ঘাড় পরস্পরের সাথে জড়িয়ে যায়। দুজনের মাথায় যখন একই উচ্চতায় পৌঁছায়, তারা একে অপরের দিকে ঘোরে এবং একে অন্যকে ঠেলতে থাকে। এই সময় তারা ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন করায় তাদের দেহও পরস্পরের সাথে জড়িয়ে যায়। সংঘর্ষ চলাকালীন এরা পারিপবার্শিক সব বিষয়ে বিস্মৃত হয়ে যায় এবং এমনকি কোনোখান থেকে নিচে পড়ে গেলে অথবা জলে পড়ে গেলেও লড়াই চালিয়ে যায়। মাঝেমধ্যে লড়াইের তীব্রতা এমনই বৃদ্ধি পায় যে তারা পরস্পরকে এত শক্তভাবে পেঁচিয়ে এবং চেপে ধরে যার ফলে অত্যধিক চাপে তাদের আঁশগুলি খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এমতবস্থায় এদের একে অপরকে মুখ বন্ধ করে ছোবল মারতে দেখা যায়। অনেকসময় প্রতিদ্বন্দ্বীরা লড়াই করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং সহমত হয়ে লড়াই বন্ধ করে। খনিক বিশ্রাম নিয়ে আবার শুরু হয় সংঘর্ষ। পরিশেষে, একটি সাপ ২০-৩০সেন্টিমিটার মাথা তুলে অন্যটির মাথা মাটিতে ঠেসে ধরলে বিবাদের নিষ্পত্তি এবং লড়াইয়ের সমাপ্তি। বন্দী অবস্থায় এই জাতীয় লড়াই সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ বার অবধি ঘটতে পারে যতক্ষন না পর্যন্ত মিলনেচ্ছা প্রকাশ এবং যৌনসঙ্গম এর কাল সাঙ্গ হয়। [৩]

গ্ররভধারন কাল প্রায় ৭মাস চলে যা থেকে বোঝা যায় যে প্রজনন চক্র চলে দুই থেকে তিন বছর। এমনকি এই প্রজনন কাল ৫বছর পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়া সম্ভব। সাধারণতঃ এরা বাচ্চার জন্ম দেয় গরমকালের শেষ ভাগে। B. g. gabonica ৮ থেকে ৪৩টি প্রাণবন্ত বাচ্চার জন্ম দেয়, অপরদিকে B. g. rhinoceros ৬০টি পর্যন্ত বাচ্চার জন্ম দিতে পারে। যাইহোক, নবজাত সর্পশিশুর সংখ্যা কদাচিৎ ২৪ [৩] অতিক্রম করে। নবজাতকগুলি ২৫-৩২ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট এবং ২৫ থেকে ৪৫ গ্রাম ওজন[২] সম্পন্ন হয়।

বিষ[সম্পাদনা]

গাবুন ভাইপারটি তার বিষদাঁত দেখাচ্ছে

গাবুন ভাইপার প্রজাতির সাপের কামড়ানোর ঘটনা খুবই কদাচিৎ ঘটে কারণ এরা অতিমাত্রায় সহনশীল এবং এদের মধ্যে আক্রমণাত্বক ভাবের প্রবনতা ভীষনরকম কম। গাবুন ভাইপার এর কামড়ানোর ঘটনা কদাচিৎ ঘটার অপর কারণ হল এদের সর্বাত্বক উপস্থিতি রেইন ফরেস্ট এবং রেইন ফরেস্ট লাগোয়া অঞ্চলে সীমাবদ্ধ।[২] এদের আলস্যধর্মী স্বভাব এবং নড়াচড়ায় অনাগ্রহ এদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট। এমনকি এদের দিকে এগিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও এই চারিত্রিক স্বভাবের পরিবর্তন খুব একটা ঘটে না। সেই কারণেই দূর্ঘটনা বশতঃ এদের গায়ে পা দিয়েই অধিকাংশ কামড়ের ঘটনা ঘটে। যদিও অনেক ক্ষেত্রে এমন দূর্ঘটনাজনিত ব্যাপারের পরও গাবুন কামড়ানোর ইচ্ছা থেকে বিরত থাকে।[১৩] যাইহোক এদের কামড়ের ঘটনা যখন সত্যিই ঘটে তা মারাত্মক ঘটনা হয় এবং চিকিৎসা পরিভাষায় জরুরী অবস্থার অবতরণ ঘটনা। এমনকি মাঝারি মাপের কোনো গাবুন ভাইপারের মাঝারি মানের কামড়ও প্রকৃতপক্ষে মারাত্মক হয়ে ওঠে।[২] যত শীর্ঘ সম্ভব অ্যান্টিভেনাম প্রয়োগ করা উচিত যাতে আক্রান্ত অঙ্গটিকে রক্ষা করার পাশাপাশি প্রানরক্ষা করাও সম্ভবপর হয়।[১১]

গাবুন ভাইপারের সাইটোটক্সিক বিষ ইঁদুরের উপর প্রয়োগের পরীক্ষায় দেখা গেছে যে এই বিষ গঠনগত উপাদানের ভিত্তিতে খুব একটা বিষাক্ত বলে গন্য হয় না। ইঁদুরের উপর প্রয়োগে প্রাপ্তব্য এলডি50 ০.৮ থেকে ৫.০মিগ্রা/কেজি ইন্ট্রাভেনাস, ২.০মিগ্রা/কেজি ইন্ট্রাপেরিটোনিয়াল এবং ৫.০ থেকে ৬.০মিগ্রা/কেজি সাবকিউটেনিয়াস।[১৪] তবে এদের বিষথলি দুটি বিশালাকার হয় এবং কামড় প্রতি নির্গত বিষের পরিমাণ যে কোনো বিষাক্ত সাপের তুলনায় বেশী। এই সর্বাধিক পরিমানে বিষ ঢালার একটি আংশিক কারণ হল পাফ্ অ্যাডার এবং অন্যান্য আফ্রিকান ভাইপারের মত গাবুন ভাইপার কামড় দেবার পরে পরেই ছেড়ে দেয় না। গাবুন ভাইপার কামড় দিয়ে কিছুক্ষন ধরে রাখে যার ফলে এরা সর্বাধিক মাত্রায় বিষ ঢালতে পারে। কামড় প্রতি নির্গত বিষের পরিমাণ সাপের দেহের ওজনের সমানুপাতিক।[৩] ১৯৭৩ সালে ব্রাউন বিষ উৎপাদন সীমার একটি পরিমাপ দিয়েছেন যেটি হল ২০০ থেকে ১০০০ মিগ্রা (শুকনো বিষের ক্ষেত্রে)[১৪]; ১২৫ থেকে ১৫৫ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট নমুনার উৎপাদিত বিষের সীমা ২০০ থেকে ৬০০ মিগ্রা এর নথিভুক্ত প্রমান রয়েছে।[৩] Spawls এবং Branch (১৯৯৫) বর্ননা করেছেন যে এরা কামড়প্রতি ৫ থেকে ৭ মিলিলিটার (৪৫০-৬০০মিগ্রা) পর্যন্ত বিষ নির্গত করতে পারে।[২]

মার্শ এবং হোয়েলার (১৯৮৪)এর গবেষণা অনুসারে সর্বাধিক ৯.৭ মিলিলিটার অবধি সিক্ত বিষ নির্গত হওয়া সম্ভব যা ২৪০০ মিগ্রা শুষ্ক বিষের সমতুল্য এবং সমক্রিয়। ১৩৩ থেকে ১৩৬ সেন্টিমিটার দীর্ঘ, ২৩ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার চওড়া এবং ১.৩-৩.৪ কিলোগ্রাম ওজন বিশিষ্ট কয়েকটি নমুনাকে চেতনানাশক প্রয়োগ করে ওনারা নমুনাগুলির হাঁ করা চোয়ালে কৌনিক ভাবে অ্যালিগেটর ক্লিপ ইলেকটোডস লাগান এবং ১.৩ থেকে ৭.৬ মিলিলিটার(গড়ে ৪.৪ মিলিলিটার) বিষ সংগ্রহ করেন। ৫সেকেন্ড অন্তর দু-তিনবার তড়িৎ বিস্ফোরন বিষথলিগুলি খালি করে সমস্ত বিষ নির্গত করার জন্য যথেষ্ট। এইভাবে সমীক্ষায় ব্যাবহৃত নমুনাগুলি ১২ মাস ধরে ৭ থেকে ১১ বার বিষ নিষ্কাশন করা হয়। এই ক্রমিক বিষ আহরনকালে নমুনা গাবুন ভাইপারগুলি সুস্থ দেহেই ছিল এবং তাদের বিষের কার্যকারিতা একইরকম ছিল। [৩]

বানরএর উপর গাবুন ভাইপারের বিষের প্রতিক্রিয়ার সমীক্ষার উপর ভিত্তি করে ১৯৭১ সালে হোয়েলার হিসাব করে দেখেছেন যে মানুষ মারার জন্য ১৪মিলিগ্রাম বিষই যথেষ্ট। যা .০৬মিলিলিটার বিষের সমতুল্য এবং একবার বিষ নিষ্কাশন করে যতখানি বিষ পাওয়া যায় তার ১/৫০ থেকে ১/১০০০ভাগ। মার্শ এবং হোয়েলার (১৯৮৪) লিখেছেন যে ৩৫মিগ্রা বিষ (গড় উৎপাদিত বিষের ১/৩০ ভাগ) একটি ৭০কিলোগ্রাম (১৫০ পাউন্ড)[৩] ওজনসম্পন্ন মানুষকে মারার জন্য যথেষ্ট। ১৯৯২ সালে ব্রাঞ্চ বলেছিলেন যে মানুষের ক্ষেত্রে ৯০ থেকে ১০০ মিলিগ্রাম বিষ মা্রাত্বক এবং মারণ ক্ষমতাসম্পন্ন। তবে এই জাতীয় সর্পাঘাত খুবই কম ঘটায়। এই বিষয়ে আরো অনুসন্ধান প্রয়োজন।

গাবুন ভাইপারের কামড়ে দংশনস্থান দ্রুত ফুলে ওঠে সঙ্গে তীব্র যন্তনা, দংশন স্থলের আশেপাশে ফোঁসকা পড়া ইত্যাদি লক্ষন দেখা যায়। অন্যান্য লক্ষন গুলি হল অসংলগ্ন নড়াচড়া, শুষ্কতা, প্রসাব করে ফেলা। জিভ এবং চোখের পাতা ফুলে ওঠা, খিঁচুনি এবং অচৈতন্যতা।[৩] ফোসকা, জ্বালা ভাব এবং কোষের পচন চরম মাত্রায় হয়। হটাৎ রক্ত চাপ কমে যাওয়া, হৃদযন্ত্র বিকল এবং শ্বাসকষ্টও[৫] দেখা যায়। অনেকক্ষেত্রে রক্ত জমাট বাধতে পারে না এবং তাই আভ্যন্তরীন রক্তপাত চলতে থাকে যার ফলে মূত্রের সাথে রক্তপাত এবং রক্ত বমি দেখা যায়।[২][৫] স্থানীয় কোষগুলির ক্ষতিসাধন এমন মাত্রায় হয় যে অস্ত্রপাচারের প্রয়োজন হয়, এমনকি অঙ্গ ব্যবচ্ছেদও করতে হতে পারে।[২] আক্রান্ত ব্যাক্তির সেরে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং এই সময়েও অনেক মা্রাত্বক সংক্রামন দেখা যায়।[৫]

উপপ্রজাতি[সম্পাদনা]

উপপ্রজাতি[৪] Taxon author[৪] সাধারন নাম[৩] ভৌগোলিক বিস্তৃতি[২]
B. g. gabonica (Duméril, Bibron & Duméril, 1854) পূর্ব আফ্রিকা গাবুন ভাইপার মধ্য,পূর্ব এবং দক্ষিণ আফ্রিকা
B. g. rhinoceros (Schlegel, 1855) পশ্চিম আফ্রিকা গাবুন ভাইপার পশ্চিম আফ্রিকা

শ্যেনীবিন্যাস[সম্পাদনা]

লেঙ্ক এবং অন্যান্য (১৯৯৯) B. gabonicaর দুটি চিহ্নিত উপপ্রজাতির মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য আবিষ্কার করেছেন। তাদের গবেষণা অনুসারে, এই দুই উপপ্রজাতির মধ্যে পার্থক্য এদের সাথে B. nasicornis এর পার্থক্যের সমতুল্য। এর ফলে লেঙ্ক এবং অন্যান্য (১৯৯৯) পশ্চিমভাগে প্রাপ্ত উপপ্রজাতিটিকে একটি পৃথক প্রজাতি B. rhinoceros হিসাবে গন্য করেছেন।[১৫]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

সংগৃহীত চিত্র[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. McDiarmid RW, Campbell JA, Touré T. 1999. Snake Species of the World: A Taxonomic and Geographic Reference, Volume 1. Herpetologists' League. 511 pp. আইএসবিএন ১-৮৯৩৭৭৭-০০-৬ (series). আইএসবিএন ১-৮৯৩৭৭৭-০১-৪ (volume).
  2. Spawls S, Branch B. 1995. The Dangerous Snakes of Africa. Ralph Curtis Books. Dubai: Oriental Press. 192 pp. আইএসবিএন ০-৮৮৩৫৯-০২৯-৮.
  3. Mallow D, Ludwig D, Nilson G. 2003. True Vipers: Natural History and Toxinology of Old World Vipers. Malabar, Florida: Krieger Publishing Company. 359 pp. আইএসবিএন ০-৮৯৪৬৪-৮৭৭-২.
  4. "Bitis gabonica"ইন্টিগ্রেটেড ট্যাক্সোনোমিক ইনফরমেশন সিস্টেম 
  5. Spawls S, Howell K, Drewes R, Ashe J. 2004. A Field Guide To The Reptiles Of East Africa. London: A & C Black Publishers Ltd. 543 pp. আইএসবিএন ০-৭১৩৬-৬৮১৭-২.
  6. Wood, Gerald (১৯৮৩)। The Guinness Book of Animal Facts and Featsআইএসবিএন 978-0-85112-235-9 
  7. [১]
  8. Mehrtens JM. 1987. Living Snakes of the World in Color. New York: Sterling Publishers. 480 pp. আইএসবিএন ০-৮০৬৯-৬৪৬০-X.
  9. Gotch AF. 1986. Reptiles -- Their Latin Names Explained. Poole, UK: Blandford Press. 176 pp. আইএসবিএন ০-৭১৩৭-১৭০৪-১.
  10. Gaboon at New Advent Catholic Encyclopedia. Accessed 8 July 2007.
  11. Broadley DG, Cock EV (1975). Snakes of Rhodesia. Longman Africa, Salisbury. OCLC 249318277
  12. Ditmars RL. 1933. Reptiles of the World. Revised Edition. New York: The MacMillan Company. 329 pp. + 89 plates.
  13. Marais J. 2004. A Complete Guide to the Snakes of Southern Africa. Cape Town: Struik. 214 pp. আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৬৮৭২-৯৩২-৬.
  14. Brown JH. 1973. Toxicology and Pharmacology of Venoms from Poisonous Snakes. Springfield, Illinois: Charles C. Thomas. 184 pp. LCCCN 73-229. আইএসবিএন ০-৩৯৮-০২৮০৮-৭.
  15. Venomous Snake Systematics Alert - 1999 Publications at Homepage of Dr. Wolfgang Wüster of the University of Wales, Bangor.

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Boulenger GA. 1896. Catalogue of the Snakes in the British Museum (Natural History). Volume III., Containing the...Viperidæ. London: Trustees of the British Museum (Natural History). (Taylor and Francis, printers.) xiv + 727 pp. + Plates I.- XXV. (Bitis gabonica, pp. 499–500.)
  • Bowler JK. 1975. Longevity of Reptiles and Amphibians in North American Collections as of 1 November 1975. Athens, Ohio: Society for the Study of Amphibians and Reptiles. Herpetological Circulars (6): 1–32.
  • Branch, Bill. 2004. Field Guide to Snakes and Other Reptiles of Southern Africa. Third Revised edition, Second impression. Sanibel Island, Florida: Ralph Curtis Books. 399 pp. আইএসবিএন ০-৮৮৩৫৯-০৪২-৫. (Bitis gabonica, p. 115 + Plates 3, 12.)
  • Duméril A-M-C, Bibron G, Duméril A. 1854. Erpétologie générale ou histoire naturelle complète des reptiles. Tome septième. — Deuxième partie. Comprenant l'histoire des serpents venimeux. Paris: Roret. xii + pp. 781–1536. (Echidna gabonica, pp. 1428–1430.)
  • Forbes CD, Turpie AGG, Ferguson JC, McNicol GP, Douglas AS. 1969. Effect of gaboon viper (Bitis gabonica) venom on blood coagulation, platelets, and the fibrinolytic enzyme system. Journal of Clinical Pathology 22: 312–316.
  • Lane, M. 1963. Life with Ionides. London: Hamish-Hamilton. 157 pp.
  • Lenk P, Herrmann H-W, Joger U, Wink M. 1999. Phylogeny and Taxonomic Subdivision of Bitis (Reptilia: Viperidae) Based on Molecular Evidence. Kaupia, Darmstädter Beiträge zur Naturgeschichte (8): 31–38.
  • Marsh NE, Whaler BC. 1984. The Gaboon viper (Bitis gabonica) its biology, venom components and toxinology. Toxicon 22 (5): 669–694.
  • Morris PA. 1948. Boy's Book of Snakes: How to Recognize and Understand Them. A volume of the Humanizing Science Series, edited by Jacques Cattell. New York: Ronald Press. viii + 185 pp. (Gaboon viper, Bitis gabonica, pp. 158–159, 182.)
  • Sweeney RCH. 1961. Snakes of Nyasaland. Zomba, Nyasaland: The Nyasaland Society and Nyasaland Government. 74 pp.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]