খয়রা জহুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

খয়রা জহুর
Paintbrush swift
Close wing busking of Baoris farri (Moore, 1878) – Complete Paint-brush Swift (Male) WLB DSC 6157.jpg
ডানা বন্ধ অবস্থায়
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: Arthropoda
শ্রেণী: Insecta
বর্গ: Lepidoptera
পরিবার: Hesperiidae
গণ: Baoris
প্রজাতি: B. farri
দ্বিপদী নাম
Baoris farri
(Moore, 1878)

খয়রা জহুর(বৈজ্ঞানিক নাম: Baoris farri (Moore)) 'হেসপারিডি' (Hespaeriidae) বা স্কিপারস (Skippers) গোত্র ও হেসপারিনি (Hesperiinae) উপ-গোত্রের অন্তর্ভুক্ত প্রজাতি।[১]

আকার[সম্পাদনা]

খয়রা জহুর এর প্রসারিত অবস্থায় ডানার আকার ৪৩-৪৮ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের হয়।[২]

বিস্তার[সম্পাদনা]

ভারত (পশ্চিমঘাট পর্বত [দক্ষিণ গোয়া], পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খন্ড, উত্তরাঞ্চল থেকে সিকিম, অসম, অরুণাচল প্রদেশ, উত্তর-পূর্ব ভারত, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ) ভুটান, নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, মায়ানমার এর বিভিন্ন অঞ্চলে এদের পাওয়া যায়।[৩][৪][৫]

বর্ণনা[সম্পাদনা]

ডানা মেলা অবস্থায় ফুলের মধু পানরত Baoris farri (Moore, 1878) – Complete Paint-brush Swift (স্ত্রী) প্রজাতি।

প্রজাপতির দেহাংশের পরিচয় বিষদ জানার জন্য প্রজাপতির দেহ এবং ডানার অংশের নির্দেশিকা দেখুন:-

পুরুষ প্রকারে পিছনের ডানার উপরিতলে কালো, রঙ করার বুরুশের (brash) রোঁয়ার মতো ঘন অংশ (androconical scale) থাকার কারণেই এদের এইরূপ নামকরণ করা হয়েছে।

ডানার উপরিতল কালচে বাদামি।স্ত্রী-পুরুষ উভয় প্রকারেই সামনের ডানায় সেল -এর প্রান্ত, ডিসকাল ও শীর্ষভাগ বা এপিক্যাল অংশ জুড়ে বক্রাকৃতি (বাংলা '৩' এর মতন ) সম্পূর্ণ একসারি স্বচ্ছ ও সাদা বা হলদেটে সাদা ছোপ বর্তমান। উক্ত ছোপসারির সেল-নিকটস্থ ছোপগুলি মাঝারি আকৃতির, মধ্যভাগের গুলি বৃহত্তর এবং শীর্ষভাগের গুলি ক্ষুদ্রতর। একদম শীর্ষের ক্ষুদ্রতর ছোপদুটি সারির থেকে সামান্য ভিতরে সরে গেছে। স্ত্রী প্রকারে সামনের ডানায় ১বি শিরামধ্যে (interspace) একটি বা দুটি অস্বচ্ছ ছোপ চোখে পড়ে। কিছু কিছু নমুনায় সামনের ডানার কয়েকটি বা সবকটি ছোপই অনুপস্থিত থাকতে পারে, বিশেষত পুরুষের ক্ষেত্রে। পিছনের ডানায় উভয় প্রকারেই কোনো দাগ-ছোপ দেখা যায় না।

ডানার নিম্নতল চকলেট রঙা থেকে জলপাই-বাদামি (olive - brown)পর্যন্ত হয়। পুরুষ প্রকারে সামনের ডানার উজ্জ্বল-মসৃন (polished) ও ধূসর ডরসাল (ডরসাম প্বার্শবর্তী) অঞ্চলে একটি ছোট ডিম্বাকৃতি (oval - shaped) মার্কা বা দাগ (brand) দেখা যায় যেটি স্ত্রী-প্রকারে অনুপস্থিত। স্ত্রী-পুরুষ উভয়েরই সামনের ডানার নিম্নতলে উপরিতলের ছোপসারিটি স্বচ্ছতার কারণে দৃশ্যমান। পিছনের ডানা উভয় প্রকারেই দাগ-ছোপ হীন।

পেইন্টব্রাশ সুইফট প্রজাতির স্ত্রী-প্রকার কানাড়া সুইফট (Caltoris canaraica) প্রজাতির স্ত্রী-প্রকারের সাথে সাদৃশ্যযুক্ত, তবে পরোক্ত প্রজাতির পিছনের ডানার নিম্নতলের হালকা ছোপগুলি পূর্বোক্ত প্রজাতিতে থাকে না।[৬][৭]

আচরণ[সম্পাদনা]

কম দেখতে পাওয়া এই প্রজাতি অন্যান্য সুইফট প্রজাতির ন্যায় দ্রুত উড়ান বিশিষ্ট ও ভূমির বেশ খানিক উপর দিয়ে ওড়ে। এদের স্বভাব স্থানিক (territorial) এবং প্রায়শই রোদ পোহানোর জন্য একই বসার জায়গায় ফিরে ফিরে আসে। এরা ফুলে ও পাতায় বসে মধু ও রসপান করে। উন্মুক্ত বনাঞ্চলে জঙ্গলের পথে নিচু গাছপালায় ও ঝোপঝাড়ে এবং নদী বা ঝর্ণার কিনারে সাধারণত সকালের প্রথম ভাগে এই প্রজাতিকে অতি সক্রিয় দেখা যায় ও দুপুরের আগেই এদের বিচরণ বন্ধ হয়ে যায় এবং আবার পড়ন্ত বিকেলে চোখে পরে।পশুর তাজা বিষ্ঠায় অবস্থান করা পুরুষ প্রকারের ভীষণ পছন্দের অভ্যাস বলে সমীক্ষায় জানা গেছে। রোদ পোহানোর সময় এরা অন্যান্য সুইফটদের মতোই মূলত ডানা বন্ধ অবস্থায় থাকে, তবে মাঝেমধ্যেই ডানা আংশিক উন্মুক্ত করে। ৯০০ মি, উচ্চতা পর্যন্ত আর্দ্র চিরহরিৎ পাহাড়ি বনাঞ্চল এদের বিশেষ পছন্দের বাসভূমি। পছন্দসই পরিবেশে মার্চ , জুলাই এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এদের দর্শন মেলে। তবে এই প্রজাতিকে কখনোই সমতলে বা ৯০০ মি, এর অধিক উচ্চতায় দেখা যায় না।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Isaac, Kehimkar (২০০৮)। The book of Indian Butterflies (ইংরেজি ভাষায়) (1st সংস্করণ)। নতুন দিল্লি: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস। পৃষ্ঠা ৮৬। আইএসবিএন 978 019569620 2 
  2. Kunte, Krushnamegh (২০১৩)। Butterflies of The Garo Hills। Dehradun: Samrakshan Trust, Titli Trust and Indian Foundation of Butterflies। পৃষ্ঠা ২১। 
  3. R.K., Varshney; Smetacek, Peter (২০১৫)। A Synoptic Catalogue of the Butterflies of India। New Delhi: Butterfly Research Centre, Bhimtal & Indinov Publishing, New Delhi। পৃষ্ঠা 58। doi:10.13140/RG.2.1.3966.2164আইএসবিএন 978-81-929826-4-9 
  4. W. H., Evans (১৯৪৯)। A Catalogue of the Hesperiidae from Europe, Asia, and Australia in the British Museum। London: British Museum (Natural History). Department of Entomology। পৃষ্ঠা 448–449। 
  5. Swinhoe, Charles (১৯১২–১৯১৩)। Lepidoptera Indica. Vol. X। London: Lovell Reeve and Co.। পৃষ্ঠা 297–299। 
  6. E. Y., Watson (১৮৯১)। Hesperiidae Indicae : being a reprint of descriptions of the Hesperiidae of India, Burma, and Ceylon। Madras: Vest and Company। পৃষ্ঠা 44। |
  7. Wynter-Blyth, M.A. (1957) Butterflies of the Indian Region, pg ৪৮৪.