ক্যাথলিক টিভি (পাকিস্তান)
২০০৯ সালে পাকিস্তানে প্রথম ক্যাথলিক টিভি চ্যানেল চালু করা হয়েছিল।
ক্যাথলিক টিভি পাকিস্তান চার্চের জন্য চালু করা হয়,রেডিও ভেরিটাস এশিয়ায় উর্দু সার্ভিস সরবরাহকারী মিডিয়ার মাধ্যমে বাইবেলের সুসমাচার প্রচারের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত সুযোগ । এটি ১৪ আগস্ট ১৯৮৭ সাল থেকে রেডিও ভেরিটাস পাকিস্তান ও ভারতের জন্য একটি উর্দু পরিষেবা সম্প্রচার করে আসছে ।[১]
পুরোহিত মরিস জালাল পরিবারের পরিদর্শন করেন এবং লাহোরের রোমান ক্যাথলিক আর্কাইডিসে চার্চ অনুষ্ঠানগুলিতে যোগদান করেন এবং পাকিস্তানে প্রথম ক্যাথলিক টিভি চ্যানেলের সম্প্রদায়ের লাইভ সম্প্রচারের জন্য একটি ভিডিও ক্যামেরা সংযোজন করেন । ক্যাথলিক টিভি এর প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী পরিচালক এই পরিষেবা স্থানীয় ক্যাবল চ্যানেলের জন্য সংযোজন করেছেন ।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য মানুষের জীবনমান উন্নত করে দ্রুত যোগাযোগের যুগের সুবিধা গ্রহণ এবং সাধারণ শ্রোতাদের জন্য সুসমাচারের খবর প্রদান করা। যদিও খৃস্টান মুদ্রণ মাধ্যম কেবলমাত্র শিক্ষাক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে তবে ইলেকট্রনিক মিডিয়া সকলের মাঝে প্রচারিত হয় এবং সমাজে শান্তি ও সহনশীলতা আনে । অনুষ্ঠানের মধ্য খ্রিস্টান ছায়াছবি, চার্চ কার্যক্রম নেভিগেশন ডকুমেন্টারীগুলি, টক শো, সাক্ষাৎকার, পবিত্র গান, জমজমাট কবিতা, বাইবেল ক্যুইজ প্রতিযোগিতা এবং লাইভ রবিবার মাস প্রচার করা হয় ।
ক্যাথলিক টিভি সেন্ট ফ্রান্সিস প্যারিশের কেন্দ্রীয় লাহোর কম্পাউন্ডের ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সম্প্রচার করা হয়, যেখানে প্রায় ৮০০০ ক্যাথলিক পরিবার বসবাস করে। সম্প্রচার সুবিধা সাধারণ । প্যারিসের ২টি ডাইনিং রুমে রেকর্ডিং সাক্ষাৎকারের জন্য এবং একটি ছোট ভাঁড়ারঘরে এডিটিং সুবিধাগুলি রাখা হয়েছে । ১১ ক্যাথলিক টিভি কর্মীদের জন্য বেতন প্রতি মাসে ৬৮০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত এবং টাকা পয়সা প্রদানের জন্য বাইরের থেকে কোন তহবিল নেই।
সরকার এর মিডিয়া রেগুলেটরি সংস্থা কোন খ্রিস্টীয় রেডিও, টিভি বা সংবাদ পরিসেবা এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাকিস্তান টেলিভিশন হিসাবে অনুমতি প্রদান করে নি, খ্রিস্টানরা ক্রিসমাস এবং ইস্টার প্রোগ্রামের জন্য বছরে মাত্র ৩০ মিনিটের স্লট দেয়। [২]
ক্যাথলিক কমিউনিকেটাররা চার্চের জন্য পাকিস্তানি আকাশসীমা সম্প্রচার দিতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তারা তাদের পথ খুঁজে নিয়েছে । তারা তাদের বার্তা সম্প্রচারের জন্য কেবল এবং ইন্টারনেটের সুবিধা গ্রহণ করছে । প্রথম ক্যাথলিক টিভি চ্যানেল লাহোরের আর্চবিশপ লরেন্স সালদানহা , ন্যাশনাল সেন্টার ফর সোসাল কমিউনিকেশনস এর সভাপতির অনুমোদন দিয়েছে।[৩]
তাদের স্বেচ্ছাসেবীদের সবাই দেশটির প্রথম ক্যাথলিক টেলিভিশন চ্যানেলটি তার কার্যক্রমকে সম্মান করে তার প্রথম বার্ষিকী উদ্যাপন করেছিল । লাহোরের সেন্ট ফ্রান্সিস চার্চ এ ২8 শে এপ্রিল, ২০১০ সালে এই কর্মসূচির জন্য প্রায় ৫০০ জনেরও বেশি লোক সমবেত হয়েছিল । একটি ক্যাথলিক টিভি হিসাবে, স্থানীয় ক্যাবল সেবা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, বর্তমান বিষয়, খৃস্টান ব্যক্তিত্ব এবং পাদরীবর্গের লাইফস্টাইল সম্পর্কে প্রোগ্রামগুলি তাদের শোতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ক্যাথলিক টিভি সম্পূর্ণরূপে স্থানীয় ক্যাথলিকদের অর্থায়নে দ্বারা পরিচালিত হয়। এই অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন লাহোরের অক্জিলিয়ারী বিশপ সেবাস্তিয়ান ফ্রান্সিস শাহ । তিনি বলেন যে, জনগণের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করার জন্য এই ধরনের মিডিয়া প্রয়োজন।[৪]
পাকিস্তানি ইলেকট্রনিক মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটি কর্তৃক ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ তারিখে একটি আদেশ জারি করা হয়, তাতে ক্যাথলিক টিভিসহ উর্দুতে পাকিস্তানের ১১ খ্রিস্টান টেলিভিশন চ্যানেল অবৈধ ঘোষণা করে।.[৫] ক্যাথলিক টিভির ডিরেক্টর জাস্বার আসিক বলেন, তাদের কার্যক্রমের জন্য ফেসবুক এবং ইউটিউবে মত বিকল্প দেখতে হবে। [.[৬]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Agenzia Fides 2011-02-05"। ২ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০১৭।
- ↑ "Catholic channel broadcasts on cable TV"।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "Catholic Word Getting Out In Pakistan"। ২৬ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০১৭।
- ↑ "UCANews April 29, 2010"। ৪ মে ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০১৭।
- ↑ Agenzia Fides 10 October 2016
- ↑ "UCANews November 24, 2016"। ২০ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০১৭।