কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
স্ন্যাপড্রাগন
পূর্বসূরী স্করপিয়ন প্রসেসর
প্রতিষ্ঠাকাল নভেম্বর ২০০৭; ১০ বছর আগে (২০০৭-১১)
পণ্যসমূহ স্ন্যাপড্রাগন ২০০, ৪০০, ৬০০ ও ৮০০ সিরিজ
X সিরিজি স্ট্যান্ডএলোন মডেল
মালিক কোয়ালকম
ওয়েবসাইট www.qualcomm.com/products/snapdragon

স্ন্যাপড্রাগন মোবাইল ডিভাইসের জন্য কোয়ালকম কর্তৃক ডিজাইন ও বাজারজাতকৃত সিস্টেম-অন-চিপ (SoC) ব্যবস্থায় সন্নিবেশিত একটি অর্ধপরিবাহী। স্ন্যাপড্রাগন সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (CPU) ব্যবহার করে ARM RISC-এর নির্দেশ এবং একটি একক SoC যাতে একাধিক সিপিইউ কোর, একটি গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (GPU), ওয়্যারলেস মডেম এবং  একটি স্মার্টফোনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস), ক্যামেরা ও ভিডিও সমর্থনের জন্যে প্রয়োজনীয় অন্যান্য সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার থাকতে পারে। গুগল অ্যান্ড্রয়েড ও উইন্ডোজ ফোন ডিভাইস সহ আরও অনেক ধরনের যন্ত্রেই স্ন্যাপড্রাগনের অর্ধপরিবাহী ব্যবহৃত হচ্ছে।[১] এগুলো  নেটবুক, গাড়ি, পরিধানযোগ্য ডিভাইসসহ অন্যান্য ডিভাইসেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

২০০৭ সালের নভেম্বরে প্রথম স্ন্যাপড্রাগন পণ্য QSD8250 ভোক্তা ডিভাইস নির্মাতাদের জন্য  মুক্তি পায়। এটি মোবাইল ফোনের জন্য প্রথম ১ গিগাহার্জ প্রসেসর। কোয়ালকম ২০১১ সালে স্ন্যাপড্রাগন SoC-এর দ্বিতীয় প্রজন্মের মাইক্রোপ্রসেসর "ক্রেইট" তৈরি করে, এর বিশেষ বিশিষ্ট হচ্ছে এর প্রসেসরের প্রতিটি খণ্ড যন্ত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের গতি নির্ধারণ করতে পারে। ২০১৩-এর কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স শোতে, কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন প্রথম ৮০০ সিরিজের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং আগের মডেল গুলোর নাম পরিবর্তন করে ২০০, ৪০০এবং ৬০০ সিরিজ নামকরণ করে। এরপর কিছু নতুন স্ন্যাপড্রাগনও বের হয় যেমন ৮০৫, ৮১০ এবং ৬১৫। কোয়ালকম ডিসেম্বর ২০১৪-এ স্ন্যাপড্রাগন নামে এর আধুনিক পণ্য গুলো নামকরণ করে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাক-মুক্তি[সম্পাদনা]

কোয়ালকম নভেম্বর ২০০৫ সালে "স্করপিয়ন" সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (CPU) এর উন্নয়নের ঘোষণা দেয়।[২]  স্ন্যাপড্রাগন ২০০৬ এর নভেম্বরে সিস্টেম অন চিপ ( SoC ),  স্করপিয়ন প্রসেসর ও অন্যান্য অর্ধপরিবাহীর ঘোষণা করে।[২][৩] এর মধ্যে কোয়ালকমের প্রথম কাস্টম হেক্সা ডিজিটাল সিগনাল প্রসেসরও (DSP) ছিল।[৪]

কোয়ালকমের মুখপাত্রের মতে, এটি স্ন্যাপড্রাগন নামকরণ করা হয়েছিল কারণ "স্ন্যাপ এবং ড্রাগন শুনতে দ্রুত এবং প্রচণ্ড মনে হয়"।[৫] পরের মাসে কোয়ালকম অজ্ঞাত পরিমাণ টাকার বিনিময়ে এয়ারগো নেটওয়ার্ক কেনে;এটি বলা হয় যে,এয়ারগোর ৮০২.১১এ / বি / জি এবং ৮০২.১১ ওয়াই ফাই প্রযুক্তি স্ন্যাপড্রাগন পণ্যে একত্রে ব্যবহার করা হবে।[৬][৭] প্রথম সংস্করণের স্করপিয়নের কর্টেক্স - A8 এর মত প্রসেসর কোর ডিজাইন ছিল।[২]

শুরুর দিকের স্ন্যাপড্রাগন পণ্য[সম্পাদনা]

নভেম্বর ২০০৭ সালে স্ন্যাপড্রাগনের প্রথম চালান ছিল QSD8250 এর ।[৮] CNET এর মতে, প্রথম ১ গিগাহার্জ মোবাইলফোন প্রসেসরের জন্যে স্ন্যাপড্রাগনের খ্যাতি ছিল। [৮][৯] সেসময় অধিকাংশ স্মার্টফোনে ৫০০ মেগাহার্টজ প্রসেসর ব্যবহার হচ্ছিলো।.[৮] প্রথম প্রজন্মের স্ন্যাপড্রাগন পণ্য ৭২০পি রেজল্যুশন , ত্রি মাত্রিক গ্রাফিক্স এবং একটি ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সমর্থন করত।[৮][১০]  নভেম্বর ২০০৮ পর্যন্ত ১৫ ডিভাইস নির্মাতা কোম্পানি তাদের কনজিউমার ইলেক্ট্রনিক্স পন্যে স্ন্যাপড্রাগন সেমিকন্ডাক্টর ব্যবহার  করার সিদ্ধান্ত নেয়। [১১][১২]

নভেম্বর ২০০৮ এ কোয়ালকম ঘোষণা দিলো, তারাও ২০০৯ এর শেষে ডুয়াল কোর স্ন্যাপড্রাগন সিস্টেম অন চিপ প্রসেসর দিয়ে  ইন্টেলের বিরুদ্ধে নেটবুক মার্কেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবে।[১৩]  তারা একটি স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরের প্রদর্শন করল যেটি সেই সময় মুক্তি পাওয়া ইন্টেল চিপের তুলনায় কম শক্তি খরচ করে এবং দাবি করলো এটি মুক্তির পর দামেও কম হবে। [১৪][১৫][১৬] একই মাসে  কোয়ালকম একটি স্ন্যাপড্রাগন ভিত্তিক কায়াক নামে পরীক্ষামূলক নেটবুক প্রদর্শন করলো, এটি ১.৫ গিগাহার্জ প্রসেসর ব্যবহার করে, এটি উন্নয়নশীল দেশের কথা মাথায় রেখে বানানো হচ্ছিলো। [১১][১২][১৩]

২০০৯ এর মে মাসে জাভা এসই স্ন্যাপড্রাগনের জন্যে অপ্টিমাইজ করা হয়।[১৭] ২০০৯ এর নভেম্বরের কম্পিউটেক্স তাইপে শোতে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন পণ্য পরিবারের নতুন সদস্য QSD8650A এর ঘোষণা করে যা ৪৫ ন্যানোমিটার উৎপাদন প্রক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে নির্মিত। Iএটি একটি ১.২ গিগাহার্জের প্রসেসর এবং পূর্বের মডেলের চাইতে কম শক্তি ব্যবহার করে।[১৮][১৯]

গ্রহণ[সম্পাদনা]

২০০৯ নাগাদ স্মার্ট ফোন নির্মাতারা ঘোষণা দেয় যে তারা তাদের এসার লিকুইড ক্রিস্টাল, এইচটিসি এইচডি২,তোসিবা টিজি০১ এবং সনি এরিকসন এক্সপেরিয়া এক্স১০ এ স্ন্যাপড্রাগন সেমিকন্ডাক্টর ব্যবহার করতে থাকবে।[৯][২০][২১] ঐ ডিসেম্বরেই লেনোভা স্ন্যাপড্রাগন SoC ব্যবহার করে তাদের প্রথম নেটবুক উৎপাদন করে। [২২] পিসিওয়াল্ড অনুযায়ী স্ন্যাপড্রাগন ব্যবহার করা  মোবাইল ডিভাইস কম ব্যাটারি খরচ করে এবং আকারেও অন্যান্য  SoCs ব্যবহারকারিদের থেকে ছোট।[২৩]

২০১০ নাগাদ স্ন্যাপড্রাগন চিপ ২০ টি ডিভাইসে এ ব্যবহৃত হচ্ছিলো এবং ১২০ টি নতুন নকশায় ব্যবহারের কাজ চলছিলো।[২৪] সে সময় অ্যাপেল মার্কেটে আধিপত্য বিস্তার করছিল এবং তাদের একটি পণ্যও স্ন্যাপড্রাগন ব্যবহার করেনি। এজন্যে স্ন্যাপড্রাগনের সফলতা অ্যাপলের  প্রতিযোগী  এন্ডয়েড ফোন যেমন গুগল নেক্সাস ১ ও এইচটিসি ইঙ্ক্রেডিবল কেন্দ্রিক ছিল।[২৪] অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস শেষ পর্যন্ত আইফোন থেকে মার্কেট শেয়ার গ্রহণকরেনি এবং প্রধানত  স্ন্যাপড্রাগন ব্যবহার করছে। .[২৫][২৬][২৭][২৮] জুলাই ২০১৪এর হিসাবে , অ্যান্ড্রয়েড ফোন এর মার্কেট শেয়ার ৮৪.৬ শতাংশে বৃদ্ধি পায়।[২৮]

একটি অসমর্থিত কিন্তু বহুল প্রচারিত খবর ছড়িয়ে ছিল যে,অ্যাপল ভ্যারিজোনা ভিত্তিক আইফোনে স্ন্যাপড্রাগনের  ব্যবহার করতে যাচ্ছে। [২৫] ২০১২ পর্যন্ত, অ্যাপল তাদের নিজেদের সেমিকন্ডাক্টারি ব্যবহার করছে।  [২৯] ২০১০ সালের অক্টোবরে উইন্ডোস অপারেটিং সিস্টেমের জন্যে  স্ন্যাপড্রাগনকে সমর্থন যোগ্য করা হয় [২৬]  ২০১১ সালে হিউলেট প্যাকার্ডের ডিভাইস ওয়েব ওএস এ স্ন্যাপড্রাগন ব্যবহার শুরু হয়।[৩০] এবং $৭.৯ বিলিয়ন স্মার্টফোন প্রসেসর মার্কেটের ৫০% শেয়ার স্ন্যাপড্রাগনের হয়।[৩১] ২০১৫ নাগাদ অ্যাপল ছাড়া  প্রায় সব স্মার্ট ফোনে স্ন্যাপড্রাগন ব্যবহৃত হয়। [৩২][৩৩]

এন্ড্রয়েড ভিত্তিক বেশিরভাগ স্মার্ট ঘড়িতে স্ন্যাপড্রাগন চিপ ব্যবহার করা হয়।[৩৪] ভার্চুয়াল রিয়েলিটি পণ্য সহ বিভিন্ন গাড়িতেও  স্ন্যাপড্রাগন পণ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। [৩৫]

 পরবর্তী মডেল[সম্পাদনা]

২০১০ এর জুনে কোয়ালকম তৃতীয় প্রজন্মের স্ন্যাপড্রাগন পণ্যের নমুনা তৈরি শুরু করে। দুইটি ডুয়েল কোর ১.২ গিগাহার্জ   সিস্টেম-অন-চিপ(SoC) যার নাম মোবাইল ষ্টেশন মডেম (MSM) ৮২৬০ এবং ৮৬৬০। [৩৬] ৮২৬০ জিএসএম , ইউএমটিএস এবং এইচএসপিএ + নেটওয়ার্কের জন্যে,৮৬৬০ সিডিএম২০০০ এবং ইভিডিও নেটওয়ার্কের জন্যে।[৩৭] ঐ নভেম্বর কোয়ালকম MSM8960 ঘোষণা করে[৩৮][৩৯] এলটিই নেটওয়ার্কের জন্যে.[৩৭]

২০১১ এর শুরুতে কোয়ালকম একটি নতুন প্রসেসরের ঘোষণা দেয় যার নাম ক্রিট[৪০] যা এআরএম v7 নির্দেশ সেট ব্যবহার করে কিন্তু কোয়ালকম এর নিজস্ব প্রসেসর ডিজাইনের উপর ভিত্তি করে নির্মিত। এই প্রসেসরের নাম S4 যার ফিচার নাম অ্যাসিঙ্ক্রোনাস সিমেট্রিকাল মাল্টি প্রসেসিং ( ASMP ),যার অর্থ প্রতিটি প্রসেসর কোর তার ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে ডিভাইসের ব্যাটারি ব্যবহার কমাতে পারে।[৪১] এই বৈশিষ্টের জন্যে পূর্বের  মডেলের নামকরণ হয় S1, S2 এবং S3[৪২]

ফেব্রুয়ারী ২০১২ নাগাদ S4 ভিত্তিক স্ন্যাপড্রাগন SoCs MSM8960 প্রস্তুতকারকদের কাছে পৌঁছানো শুরু করে।.[৪৩] আনান্দটেকের করা বেঞ্চমার্ক পরিক্ষায় MSM8960 সব প্রসেসরের থেকে ভাল ফল  করেছে । I একটি সামগ্রিক বেঞ্চমার্ক পরিক্ষায়  8960 পেয়েছে ৯০৭,যেখানে গ্যালাক্সি নেক্সাস ও এইচটিসি রিজন্ড পেয়েছে যথাক্রমে ৫২৮ ও ৬৫৮ [৪৪] Iকোয়াডন্ট বেঞ্চমার্ক পরীক্ষায় (যা আসলে প্রসেসিং ক্ষমতা নিরূপণ করে) একটি ডুয়াল কোর ক্রিট স্কোর করে ৪৯৫২  যেখানে কোয়াড কোর টেগ্রা পায় ৪০০০। [৪৫] কোয়াড কোর সংস্করণ APQ8064,জুলাই ২০১২ থেকে বাজারে পাওয়া যায়। এটি ছিল প্রথম স্ন্যাপড্রাগন SoC যাতে কোয়ালকম এড্রিনো ৩২০ গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (GPU ) ব্যবহৃত হয়। [৪৬]

সাম্প্রতিক উন্নয়ন[সম্পাদনা]

স্ন্যাপড্রাগন গ্রহণ করায় কোয়ালকম একটি ওয়্যারলেস মডেম কোম্পানি থেকে মোবাইল ডিভাইসের জন্যে সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার প্রস্তুতকারী কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে ।[৪৭] I ২০১১ সালে কোয়ালকম  গ্যাসচারটেক কিনে নেয়  স্ন্যাপড্রাগন  SoCs এ এর গ্যাসচার ধারণ করার ক্ষমতা যুক্ত করার জন্যে।[৪৮] ২০১২ তে কোয়ালকম আপলাইং ডেভেলপার কনফারেন্সে এন্ড্রইড ডিভাইসের জন্যে স্ন্যাপড্রাগন এর সফটওয়্যার ডেভ্লপমেন্ট কিট (SDK) উন্মুক্ত করে। [৪৯] এই  SDK এর মধ্যে ছিল গেসচার সনাক্তকরণ, চেহেরা সনাক্তকরণ, কুলাহল দূরীকরণ এবং অডিও রেকর্ডিং ।[৪৯] ঐ নভেম্বরে কোয়ালকম  স্ন্যাপড্রাগন পণ্যে গেসচার সনাক্তকরণ ও স্টাইলাসের প্রযুক্তি যুক্ত করার জন্যে EPOS ডেভেলপমেন্ট থেকে কিছু সম্পত্তি পায়। [৫০] তারা উইন্ডোস ফোন ৮ এ স্ন্যাপড্রাগন সেমিকন্ডাক্টার আরও ভালো কাজের জন্যে মাইক্রোসফটের সাথেও একত্রে কাজ করে।[৫১]

বর্ণনা এবং বর্তমান মডেল[সম্পাদনা]

স্ন্যাপড্রাগন সিস্টেম-অন-চিপ পণ্যে সাধারণত একটি সিঙ্গেল সার্কিট বোর্ডে  একটি গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (GPU ) , একটি গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম ( জিপিএস ) এবং সেলুলার মডেম একসাথে যুক্ত থাকে।[৫২] এতে সফটওয়্যার যুক্ত আছে যা গ্রাফিক্স, ভিডিও ও ছবি তোলা পরিচালনা করে।[৫৩] ২০০,৪০০ও ৬০০ সিরিজের আওত্তায় যথাক্রমে কম থেকে বেশি ক্ষমতার প্রায় ১৪টি ভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে।[৫৪] তাদের কিছু পণ্যে এড্রিনো গ্রাফিক্স প্রসেসর যুক্ত। কোয়ালকম হেক্সাগন ডিএসপি কোয়ালকম  S4 স্থাপত্য অনুসরন করে নির্মিত। ৪০০ সিরিজ স্মার্ট ওয়াচে ব্যবহৃত হয়। [৫৫] এবং ৬০২এ গাড়ির ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রের জন্যে।[৫৬]

স্কিমা নামের বর্তমান স্ন্যাপড্রাগন ২০১৩ সালের কঞ্জুমার ইলেক্ট্রনিক শো তে স্ন্যাপড্রাগন ৮০০ ঘোষণা দেওয়ার পরই বাস্তবায়ন করা হয়। পূর্ববর্তী মডেল গুলোকে ২০০,৪০০ অথবা ৬০০ সিরিজ নামকরণ করা হয়। [৫৭][৫৮]  সিরিজ নিচু পর্যায়ের, ৬০০ মধ্যম পর্যায়ের আর ৮০০ সিরিজ উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ফোনের জন্যে।[৫৯]

২০১৩ সালে  নিচু পর্যায়ের ২০০ সিরিজকে  ২৮ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে নির্মিত ছয়টি নতুন প্রসেসরের সমন্বয়ে  বিস্তৃত করা হয়। জুন ২০১৩ তে ডুয়াল কোর ও কোয়াড কোর প্রচলন করা হয়।.[৬০] স্ন্যাপড্রাগন ৮০৫ সিরিজ নভেম্বর মুক্তি পায়।[৬১] উন্নয়নশীল দেশের জন্য তৈরি ৪১০ সিরিজও এই মাসেই বের হয়। .[৬২] জানুয়ারী ২০১৪ তে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬০০এর একটি নতুন ভার্সন বের করে যার নাম ৬০২এ। [৫৬] এটি গাড়ির ভেতরের তথ্য-বিনোদন স্ক্রিন, ব্যাকআপ ক্যামেরা ও অন্যান্য যন্ত্রের জন্যে তৈরি।[৬৩] ফেব্রুয়ারী ২০১৪ তে কোয়াড কোর ৬১০ ও  এইট কোর ৬১৫ ঘোষিত হয়[৬৪] স্ন্যাপড্রাগন ৮০৮ ও ৮১০ ২০১৪ এর এপ্রিলে ঘোষিত হয়।[৬৫] জুলাই ২০১৪ এ ৮১০ সিরিজ ছিল স্ন্যাপড্রাগন এর সবচেয়ে দ্রুত প্রসেসর।[৬৬]

স্ন্যাপড্রাগন ২১০ কমদামি ফোনের জন্যে তৈরি এটি সেপ্টেম্বর ২০১৪ তে ঘোষিত।[৬৭] ২০১৫ এর ফেব্রুয়ারি তে কোয়ালকম এর একমাত্র মডেম পণ্যকে নাম পরিবর্তন করে স্ন্যাপড্রাগন রাখে।এগুলোতে SoCs ব্যবহার করা হয় এবং  "এক্স" দিয়ে নাম দেওয়া হয় যেমন এক্স৭ অথবা এক্স ১২ মডেম।[৫৯]

সি নেট অনুযায়ী , এই ফোন গুলো ইউএস মার্কেট ফোন শেয়ারে ও সি নেট রিভিউ এ ভালো করছিল  এর ভালো সাড়া দেওয়ার জন্যে।[৬৮] স্ন্যাপড্রাগন SoCs বেশিরভাগ উইন্ডোস ফোনে [৫১] এবং মধ্য ২০১৩ এ বাজারে প্রবেশ করা বেশির ভাগ ফোনেই ব্যবহৃত হচ্ছে।[৬৯] এলজি জি২স্ন্যাপড্রাগন ৮০০ ব্যবহার করা বাজারের প্রথম ফোন।[৭০]

বেঞ্চমার্ক টেস্ট[সম্পাদনা]

পিসি ম্যাগাজিন এর একটি বেঞ্চমার্ক টেস্ট অনুযায়ী স্ন্যাপড্রাগন ৮০০ প্রসেসরের প্রোসেসিং ক্ষমতা এনভিডিয়া পন্যের মত।[৭১] স্ন্যাপড্রাগন ৮০৫ এর বেঞ্চমার্ক করে পাওয়া গিয়েছে যে এড্রিনো ৪২০ জিপিইউ গ্রাফিক্সের ক্ষেত্রে স্ন্যাপড্রাগন ৮০০এর জিপিইউ এড্রিনো ৩৩০ এর চেয়ে ৪০ শতাংশ উন্নয়ন করেছে, যদিও প্রসেসর বেঞ্চমার্কের ক্ষেত্রে এটি খুবই সামান্য।[৭২] একটি এইচটিসি ওয়ান এর ভেতরের  স্ন্যাপড্রাগন ৮০১ এর বেঞ্চমার্ক করে দেখা গেছে স্ন্যাপড্রাগন ৮০০ এর তুলনায় সব ক্ষেত্রেই একটু উন্নতি।[৭৩] ২০১৫তে স্যামসাং এর আসন্ন  নতুন  গ্যালাক্সি ৬ এ  স্ন্যাপড্রাগন ৮১০ না ব্যবহার করার সিদ্ধান্তে[৩২] স্ন্যাপড্রাগনের আয় ও জনপ্রিয়তায় ভাঁটা পরে।[৭৪] আর্স টেকনিকা এর বেঞ্চমার্ক টেস্ট ছড়ায় যে, ৮১০ কম ক্ষমতার এবং সাধারনের চেয়ে বেশি গরম হয়।[৩৩][৭৫] কোয়ালকমের একজন মুখপাত্র বলেন যে, এই পরীক্ষা টি ৮১০ এ শুরুর দিকে সংস্করন দিয়ে করা হয়েছে যেটি বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য তৈরি হয়নি।[৭৬] একটি নতুন সংস্করন মুক্ত করা হয় যেটিতে ভালো তাপ নিরুধক ব্যবস্থা, ভালো জিপিইউ ক্লক স্পীড, মেমোরি লেটেন্সি এবং মেমোরি ব্যান্ডউইথ  ভালো দেয়া হয়েছে।শাওমি এমআই নোট প্রো তে এই ফল পাওয়া যায়।[৭৭][৭৮]

উন্নয়ন অবস্থায়[সম্পাদনা]

ফেব্রুয়ারী ২০১৫ তে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৪১৫,৪২০,৬১৮ ও ৬২০  SoCs.ঘোষণা দেয় [৫৯] I২০১৫ এর মার্চে কোয়ালকম এনএক্সপি সেমিকন্ডাক্টারের সাথে কেনাকাটার জন্যে "নেয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন"(NFC) প্রযুক্তির জন্যে যুক্ত হয়।[৭৯]

বিশ্ব মোবাইল কনফারেন্সে কোয়ালকম ঘোষণা দেয় তারা একটি স্ন্যাপড্রাগন ৮২০ এর উন্নয়ন করছে।[৮০] স্যামসাং এর কারখানায় যেখানে পূর্বে তারা টিএসএমসি ব্যবহার করত।[৮০][৮১] তারা আরও জানায়, তারা ক্রীয় স্থাপত্য ব্যবহার করে একটি নতুন প্রসেসর তৈরি করছে[৮২] ২০১৫ এর শেষে মুক্তি দেওয়ার জন্যে।[৮৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Find Snapdragon Smartphones, Tablets and Smart Devices".
  2. BDTI (5 December 2007).
  3. "Qualcomm rolls out Snapdragon for mobile".
  4. Oram, John (12 October 2011).
  5. Kewney, Guy (May 2009).
  6. Taylor, Colleen (December 2006).
  7. Hachman, Mark (4 December 2006).
  8. Crothers, Brooke (3 February 2009).
  9. Crothers, Brooke (6 September 2009).
  10. Sidener, Jonathan (1 August 2008).
  11. Merritt, Rick (12 November 2008).
  12. Sidener, Jonathan (18 November 2008).
  13. Clark, Don (13 November 2008).
  14. Markoff, John (1 July 2008).
  15. Markoff, John (30 June 2008).
  16. "Next battleground for processors: powering the consumer computing device".
  17. Taft, Darryl (6 May 2009).
  18. Eddy, Nathan (1 June 2009).
  19. Perez, Marin (1 June 2009).
  20. Maisto, Michelle (14 October 2009).
  21. Eddy, Nathan (13 November 2009).
  22. Deagon, Brian (4 December 2009).
  23. Allen, Danny; Nystedt, Dan; Fletcher, Owen; Shah, Agam (August 2009).
  24. Freeman, Mike (17 June 2010).
  25. Fikes, Bradley (10 January 2010).
  26. Freeman, Mike (18 October 2010).
  27. "Qualcomm to buy Atheros for $3.2 billion".
  28. Smith, Chris (31 July 2014).
  29. Krause, Reinhardt (27 September 2012).
  30. Fitchard, Kevin (1 June 2011).
  31. Caulfield, Brian (18 July 2012).
  32. Lee, Jungah; King, Ian (20 January 2015).
  33. Cunningham, Andrew (23 April 2015).
  34. Sun, Leo (29 March 2015).
  35. Agomuoh, Fionna (8 January 2015).
  36. Maisto, Michelle (1 June 2010).
  37. Klug, Brian (30 March 2011).
  38. Gardner, David (18 November 2010).
  39. Maisto, Michelle (18 November 2010).
  40. Clarke, Peter (16 February 2011).
  41. Whitwam, Ryan (13 October 2011).
  42. Shimpi, Anand Lal (3 August 2011).
  43. Whitwam, Ryan (22 February 2012).
  44. Klug, Brian; Shimpi, Anand (21 February 2012).
  45. Whitwam, Ryan (28 March 2012).
  46. Anthony, Sebastian (25 July 2012).
  47. Fitchard, Kevin (3 June 2011).
  48. Burt, Jeffrey (25 July 2011).
  49. Kim, Ryan (16 July 2012).
  50. Wauters, Robin (16 November 2012).
  51. Shah, Agam (21 June 2012).
  52. Whitwam, Ryan (26 August 2011).
  53. Veverka, Mark (17 March 2012).
  54. Snapdragon Processors, Qualcomm, retrieved 4 October 2014 
  55. Lipsky, Jessica (31 July 2014).
  56. Silbert, Sarah (6 January 2014).
  57. Hruska, Joel (8 January 2013).
  58. Nuttall, Chris (9 January 2013).
  59. Hruska, Joel (18 February 2015).
  60. Gomez, Kevin (24 June 2013).
  61. Poeter, Damon (20 November 2013).
  62. Dolcourt, Jessica; Tibken, Shara (9 December 2013).
  63. Cunningham, Wayne (15 January 2015).
  64. Poeter, Damon (24 February 2014).
  65. Poeter, Damon (7 April 2014).
  66. Shah, Agam (28 July 2014).
  67. Cunningham, Andrew (11 September 2014).
  68. Dolcourt, Jessica (20 June 2012).
  69. Anthony, Sebastian (9 August 2013).
  70. Whitwam, Ryan (7 August 2013).
  71. Segan, Sascha (19 June 2013).
  72. Anthony, Sebastian (22 May 2014).
  73. Segan, Sascha (25 March 2014).
  74. Rubin, Ben (2 March 2015).
  75. Cunningham, Andrew (30 April 2015).
  76. McGregor, Jay (6 May 2015).
  77. D., Luis (6 May 2015).
  78. Ho, Joshua (18 June 2015).
  79. Yoshida, Junko (5 May 2015).
  80. Shah, Agam (20 April 2015).
  81. Fried, Ina (20 April 2015).
  82. Anthony, Sebastian (2 March 2015).
  83. Ribeiro, John (22 April 2015).

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]