কৃষ্ণনগর সাধারণ গ্রন্থাগার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

কৃষ্ণনগর সাধারণ গ্রন্থাগার হল নদীয়া জেলার প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যশালী গ্রন্থাগার। ১৮৫৬ সালে কৃষ্ণনগর শহরে এই গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাথমিকভাবে কৃষ্ণনগর সরকারী কলেজে জেলার শিক্ষানুরাগীদের নাগরিক সভায় একটি গ্রন্থাগার তৈরীর সিদ্ধান্ত হয়। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন ইয়ং বেঙ্গল প্রভাবিত প্রগতিশীল চিন্তায় উদ্বুদ্ধ মহারাজা শ্রীশচন্দ্র রায়, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক হজসন প্র্যাট, বাবু রামলোচন ঘোষ প্রমুখ। গ্রন্থাগারটি ১৮৫৬ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয় ও প্রথম নামকরণ হয় দ্য কৃষ্ণনগর পাবলিক লাইব্রেরী অ্যান্ড রিডিং ক্লাব (The Krishnagar Public Library and Reading Club)। তদানীন্তন বৃটিশ সরকারী আধিকারিক, শিক্ষিত ও বিত্তশালী স্বদেশীয় মানুষজন এর সদস্য হন। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন, সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন, স্বাধীনোত্তর খাদ্য আন্দোলন এবং নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে এই গ্রন্থাগারটি জড়িত ছিল। নদীয়া জেলার মুক্তিকামী আন্দোলনের কেন্দ্র হিসেবে এই গ্রন্থাগার ও সংলগ্ন টাউন হল ময়দানে বিভিন্ন সময় পদার্পন করেছেন বাঘা যতীন, অনন্তহরি মিত্র, বসন্ত বিশ্বাস, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, কাজী নজরুল ইসলাম, হেমন্তকুমার সরকার, বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায়, শিবরাম গুপ্ত, তারকদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, অমৃতেন্দু মুখোপাধ্যায় প্রমুখেরা। জাতীয় স্তরের নেতাদের মধ্যে সুভাষচন্দ্র বসু, রাজেন্দ্র প্রসাদ, মদনমোহন মালব্য, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিপিনচন্দ্র পাল, স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়, জ্যোতি বসু সহ বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাধারণ গ্রন্থাগারের মাঠে বক্তৃতা করে গেছেন।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Krishnanagar Public Library"। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০১৮ 
  2. "ভাঙ্গা গড়ার ১৬২ বছর: কৃষ্ণনগর পাবলিক লাইব্রেরী"। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০১৮