বিষয়বস্তুতে চলুন

কানুপার্তি ভারালক্ষাম্মা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কানুপার্তি ভারালক্ষাম্মা
জন্ম
কানুপার্তি ভারালক্ষাম্মা

৬ই অক্টোবর ১৮৯৬
বাপটলা, অন্ধ্রপ্রদেশ
মৃত্যু৬ আগস্ট ১৯৭৮(1978-08-06) (বয়স ৮১)
পেশাসক্রিয় কর্মী
দাম্পত্য সঙ্গীহনুমন্ত রাও

কানুপার্তি ভারালক্ষাম্মা (তেলুগু: కనుపర్తి వరలక్ష్మమ్మ) (১৮৯৬–১৯৭৮) ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন কর্মী ও সমাজ সেবী ছিলেন। তিনি নারী শিক্ষার প্রসারের জন্য লড়াই করেছিলেন।[১]

জীবনালেখ্য[সম্পাদনা]

ভারলক্ষাম্মা ১৮৯৬ সালের ৬ই অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর বাবা ও মায়ের নাম ছিল যথাক্রমে পালপার্তি শ্রেষাইয়া এবং হনুমায়াম্মা।[২] পিতা মাতার সাত ছেলে এবং তিন মেয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। তিনি ১৯০৯ সালে, স্বাস্থ্য পরিদর্শক কানুপার্তি হনুমন্ত রাওকে বিবাহ করেন।[২] তাঁর স্বামী তাঁর সমস্ত কার্যকলাপ আন্তরিকভাবে সমর্থন করেছিলেন, ভারলক্ষ্মম্মার সম্বন্ধে এই কথা জানা যায় পোলাপ্রগাড়া রাজ্যলক্ষ্মীর বায়োগ্রাফি অফ কানুপার্তি ভারালক্ষাম্মা বই থেকে।

১২ বছর বয়স থেকে শুরু করে, তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তিনি মহাত্মা গান্ধীর অনুসারী ছিলেন। তিনি নারীদের অনেক উন্নতির জন্য কাজ করেছিলেন এবং তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করেছিলেন। তিনি ১৯৭৮ সালের ৬ই আগস্ট মারা যান।

সাহিত্য ও সামাজিক কার্যক্রম[সম্পাদনা]

ভারালক্ষাম্মা ১৯২০ সালে "মা চেত্তুনীদা মুছাতলু" (আমাদের গাছের ছায়ায় আড্ডা) নামক চলমান শিরোনামে একটি ধারাবাহিক নিবন্ধ দিয়ে তাঁর সাহিত্যজীবন শুরু করেছিলেন। এটি সাপ্তাহিক অন্ধ্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। এই কলামে, ভারালক্ষাম্মা নারীদের শিক্ষা, ঐতিহ্য, রাজনীতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বর্তমান প্রবণতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। জনপ্রিয় কলামটি ছয় বছর ধরে চলেছিল।[২]

১৯২৮ সালে ভেরালক্ষাম্মা নতুন পত্রিকা গৃহলক্ষ্মীতে একটি কলাম লিখতে শুরু করেন। তাঁর নতুন কলাম, সারদা লেখালু (তেলুগু: శారద లేఖలు)(সারদার কাছ থেকে চিঠি), তিনি সারদা ছদ্মনামে লিখতেন।[২] চিঠিগুলো এক কাল্পনিক বন্ধু কল্পলতাকে উদ্দেশ্য করে লেখা ছিল। এই চিঠিগুলিতে, ভারালক্ষাম্মা শারদা আইন, বিবাহবিচ্ছেদ আইন, খাদি আন্দোলন, অসহযোগিতা, অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ, ভিত্তিহীন প্রথা, শারীরিক ব্যায়াম, পরিমাপ ও ওজনে বাস্তবায়িত পরিবর্তন এবং মাইক্রোফোনের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তিনি নারীদের শিক্ষা, বৃত্তিমূলক দক্ষতা এবং তাদের সামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য একটি মহিলা সংগঠন স্ত্রী হিতৈশিনী মন্ডলী শুরু করেন।[২]

ভারলক্ষাম্মা কবিতা, গল্প, উপন্যাস এবং নাটক লিখেছেন। তাঁর লেখা আকাশবাণী এবং দূরদর্শনে (ইন্ডিয়া টিভি) সম্প্রচারিত হয়েছে। তিনি তৎকালীন বিখ্যাত কবিদের সঙ্গে সাহিত্যসভায় অংশগ্রহণ করতেন। ভারলক্ষাম্মার প্রথম উপন্যাস বসুমতী প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২৫ সালে। তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস বিশ্বামিত্র ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।

তাঁর লেখা কিছু গল্প হল কুটিরলক্ষ্মী (একটি কুটিরে দেবী), পেনশানু পুক্কুন্না নাটি রাত্রি (অবসরের পরের রাত), কথা এতলা উন্দালে (কী ভাল গল্প!) এবং আইদু মাসামুলা ইরুভাদি দিনামুলু (পাঁচ মাস কুড়ি দিন)।

পুরস্কার[সম্পাদনা]

তিনি অন্ধ্রপ্রদেশ সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Kanuparti Varalakshmamma"। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২২ 
  2. "Kanuparthi Varalaxmamma Biography"। ১ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২২ 
  3. "Kanuparti Varalakshmamma"। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২২ 

বাইরের উৎস[সম্পাদনা]

  • Rajyalakshmi, Polapragada.(200) Kanuparthi Varalakshmamma. New Delhi: Sahitya Akademi.
  • Varalakshmamma. Kuteeralakshmi, translated into English. [১]
  • Comprehensive article on Varalakshmamma [২]
  • A comprehensive article on Varalakshmamma in Telugu [৩]