কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কাট্টলী নূরুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়
Kattali Nurul Haque Chowdhury High School.jpg
অবস্থান
কর্ণেল হাট, চট্টগ্রাম,
বাংলাদেশ
তথ্য
ধরনবে-সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠাকাল১৯৪১
বিদ্যালয় জেলাচট্টগ্রাম
অনুষদবিজ্ঞান,ব্যবসায় শিক্ষা,মানবিক
শিক্ষার্থী সংখ্যা১২০০
ক্যাম্পাসের আকার৩.২ একর
ক্যাম্পাসের ধরনশহর
অ্যাথলেটিক্সক্রিকেট
অন্তর্ভুক্তিচট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড
ওয়েবসাইট

কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত একটি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঐতিহ্যবাহি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

অবস্থান[সম্পাদনা]

কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়টি চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম জেলার আকবরশাহ থানার কর্ণেলহাট এলাকায় অবস্থিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

চট্টগ্রামের কাট্টলী গ্রামের জমিদার হাসেম-নাজির পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় কিছু দাতব্য জমি নিয়ে ১৯০৯ সালে কাট্টলী মাধ্যমিক ইংলিশ স্কুল ও ১৯২৬ সালে হাসেম নাজির দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। কাট্টলী মাধ্যমিক ইংলিশ স্কুলকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে উন্নিত করতে এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি অর্জনের জন্য স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ মৌলভী তমিজুর রহমান ও তৎকালীন কাট্টলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিদ্দিক চৌধুরী ১৯৪১ সালে কলকাতায় হাসেম-নাজির পরিবারের নিকট আত্নিয় নুরুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সহযোগিতা কামনা করেন। নুরুল হক চৌধুরী কলকাতার তৎকালীন উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এর নিকট উক্ত স্কুলটিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত করার আবেদন করলে তিনি এ ব্যাপারে নানা সরকারি দীর্ঘমেয়াদী সরকারি প্রক্রিয়ার কথা ব্যক্ত করেন। যেহেতু নুরুল হক চৌধুরী তৎকালীন বঙ্গিয় আইন পরিষদের সদস্য, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং কলকাতা উচ্চ আদালতের আইনজীবী হিসেবে সকলের নিকট পরিচিত ছিলেন, স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, নুরুল হক চৌধুরীর নামে স্কুলের নামকরন হলে, উক্ত প্রক্রিয়া ছাড়াই অধিভুক্তি দেয়া যাবে বলে মত প্রকাশ করেন। তাই স্কুলটিকে ১৯৪১ সালে কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী হাই ইংলিশ স্কুল নামে নামকরন করা হয় এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি প্রদান করা হয়। এ সময় নুরুল হক চৌধুরী উক্ত স্কুলটির নতুন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য মৌলভী তমিজুর রহমানকে নগদ অর্থ প্রদান করেন।[১]

বর্তমান অবস্থা[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়টি ৩.১২ একর জমির উপর অবস্থিত। এতে নব নির্মিত ৫ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত মোট ১৬টি সেকশনে ১০৩০ জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত আছে। বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখা চালু আছে। অভিজ্ঞ ও যোগ্যতাসম্পন্ন ২৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত আছেন। বিদ্যালয়ে ২টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ২টি আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও জীব বিজ্ঞানের জন্য পৃথক পরিক্ষাগার ও একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার আছে। তাছাড়া অফিসের কাজে সহযোগীতার জন্য ৩ জন অফিস সহকারি, ১ জন লাইব্রেরিয়ান ও ৯জন চতুর্থ কর্মচারী নিয়োজিত আছে।

শিক্ষকগণের তালিকা[সম্পাদনা]

প্রধান শিক্ষগনের তালিকা[১]
নাম কার্যকাল দায়িত্ব পালনের সময়
জনাব মাহমুদুল হক ১ জানুয়ারি ১৯৪৩ হতে ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৪৩ ৯ মাস
জনাব কামিনী কুমার নাথ ১ জানুয়ারি ১৯৪৪ হতে ৩১ আগস্ট ১৯৪৫ ১ বছর, ৮ মাস
জনাব মুহাম্মদ জামান ১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ হতে ৩১ জুলাই ১৯৭৬ ৩০ বছর, ১১ মাস
জনাব জিয়াউর রহমান ১ আগস্ট ১৯৭৬ হতে ৩১ আগস্ট ১৯৮০ ৮ বছর, ১ মাস
জনাব মোঃ আলতাফুর রহমান ১ সেপ্টেম্বর ১৯৮০ হতে ৩১ ডিসেম্ভর ১৯৯৪ ১৪ বছর, ৪ মাস
বাবু বসন্ত কুমার দাশ (ভারপ্রাপ্ত) ১ জানুয়ারি ১৯৯৫ হতে ৩১ মার্চ ১৯৯৫ ৩ মাস
জনাব মুহাম্মদ আলী ১ এপ্রিল ১৯৯৫ হতে ৪ মে ২০০৫ ১০ বছর, ১ মাস, ৪ দিন
বাবু বসন্ত কুমার দাশ (ভারপ্রাপ্ত) ৫ মে ২০০৫ হতে ১৭ জানুয়ারি ২০০৬ ৯ মাস, ১২ দিন
জনাব শেখ মুহাম্মদ আজম ১৮ জানুয়ারি ২০০৬ হতে ৩১ জানুয়ারি ২০০৭ ১ বছর, ১৪ দিন
বাবু বসন্ত কুমার দাশ (ভারপ্রাপ্ত) ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ হতে ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ৩ বছর, ২১ দিন
জনাব নূর মুহাম্মদ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১০ হতে বর্তমান (২০২০) চলমান

কৃতি শিক্ষার্থী[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. স্মৃতির অঙ্গনে। সাগরিকা প্রিন্টার্স, আন্দরকিল্লা, চট্টগ্রাম: কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পুনর্মিলনী পরিষদ। ডিসেম্বর ২০১৮। পৃষ্ঠা ৩১, ৩২। 
  2. "চৌধুরী, জহুর আহমদ"। বাংলাপিডিয়া (এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ)। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৫ 
  3. "কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ে সংবর্ধনা"দৈনিক আজাদী। ২২ জুন ২০১৫। ২০১৬-০৩-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৫ 
  4. "কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে সংবর্ধিত উপাচার্য ড. ইফতেখার"দৈনিক পূর্বকোণ। ১৮ জুন ২০১৫। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]