কনজুমার্স ইন্টারন্যাশনাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
কনজুমার্স ইন্টারন্যাশনাল
কনজুমার্স ইন্টারন্যাশনালের লোগো.svg
প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৬০ (১৯৬০)
ধরণ চ্যারিটি নং ১১২২১৫৫
ফোকাস ভোক্তাদের রক্ষাকরণ ওয়াচডগ
অবস্থান
  • লন্ডন, যুক্তরাজ্য
উত্পত্তি সাবেক ইন্টারন্যাশনাল অর্গ্যানাইজেশন অব কনজুমার্স ইউনিয়ন্‌স
পদ্ধতি প্রচারণা
সদস্য ২২০
ওয়েবসাইট www.consumersinternational.org

কনজুমার্স ইন্টারন্যাশনাল বা সিআই (ইংরেজি: Consumers International) ভোক্তাদের বৈশ্বিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত একটি অ-লাভজনক সংস্থা। ভোক্তাদের অধিকার সম্বন্ধে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টিতে এটি কাজ করে যাচ্ছে। ইংল্যান্ডের লন্ডন থেকে এ সংগঠনটি পরিচালিত হয়। ১ এপ্রিল, ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে কনজুমার্স ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ১১৫টি দেশের ২২০টিরও অধিক সংস্থা এর সদস্য। প্রায় দু্ই-তৃতীয়াংশ সদস্যই উন্নয়নশীল দেশের, বাকী এক-তৃতীয়াংশ সদস্য শিল্পোন্নত দেশের। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভোক্তাদের আন্দোলন ও ভোক্তাদের নিরাপত্তা প্রদানে সংস্থাটি সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ইন্টারন্যাশনাল অর্গ্যানাইজেশন অব কনজুমার্স ইউনিয়ন্‌স (আইওসিইউ) নামে ১৯৬০ সালে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে জাতীয় পর্যায়ে ভোক্তা সংঘগুলো কাজ করে। এ সংঘগুলো একত্রিত হয়ে সংস্থাটিকে প্রতিষ্ঠিত করে ও খুব দ্রুত প্রধান মুখপত্র হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে ভোক্তা আন্দোলনে - উৎপাদন এবং খাদ্যের মান, স্বাস্থ্য ও রোগীর অধিকার, পরিবেশ এবং ধ্বংস থেকে রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সাধারণ জনগণের উপযোগীতা বিষয়ে কাজ করছে।

হল্যান্ডভিত্তিক কনজুম্যান্টেনবন্ড সংস্থার সভাপতি এলিজাবেথ শেডি এবং ইংল্যান্ডের কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন হুইচ? সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ক্যাস্পার ব্রুক - উভয়ের চিন্তাধারার ফসলরূপে ইন্টারন্যাশনাল অর্গ্যানাইজেশন অব কনজুমার্স ইউনিয়ন্‌স (আইওসিইউ) গঠিত হয়।[১] দু'জনে ভোক্তা ও পণ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের জন্যে বৈশ্বিক সংগঠন গঠনের লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রস্তাবনা করেন, যাতে উভয় বিষয়কে কাছাকাছি নিয়ে আসা হবে।[১]মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনজুমার্স ইউনিয়ন সংস্থার পরিচালক কোলস্টন ওয়ার্ন বৈশ্বিক সংগঠন গঠনের লক্ষ্যে $১০,০০০ ডলার বরাদ্দ দেয়।[১] জানুয়ারি, ১৯৬০ সালে এ তিনটি সংগঠন একত্রিত হয়ে দ্য হেগে প্রথম আন্তর্জাতিক ভোক্তা পরীক্ষণ বিষয়ক সম্মেলন আহ্বান করে।[১] ১৪টি দেশের ১৭টি ভোক্তা সংগঠনের চৌত্রিশ ব্যক্তি এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা পণ্যের মান ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গ্যানাইজেশন অব কনজুমার্স ইউনিয়ন্‌স (আইওসিইউ) নামীয় আন্তর্জাতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন।[১] পরবর্তীতে বেলজিয়ামের টেস্ট-আচাটস এবং অস্ট্রেলিয়ার চয়েজ সংগঠন উপরিউক্ত তিন দেশের সাথে মিলিত হয়ে আরো তিনটি সম্মেলন আয়োজনের দায়িত্ব পালন করে।[১]

ভোক্তা অধিকার আইন[সম্পাদনা]

১৫ মার্চ, ১৯৬২ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি কংগ্রেসে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে বক্তৃতা দেন।[২] তিনি ভোক্তাদের চারটি মৌলিক অধিকার সম্পর্কে আলোকপাত করেন যা পরবর্তীতে ভোক্তা অধিকার আইন নামে পরিচিতি পায়। কংগ্রেসে তিনি বলেন,

কেনেডি'র বর্ণিত চারটি মৌলিক অধিকার হচ্ছে - নিরাপত্তার অধিকার, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার, পছন্দের অধিকার এবং অভিযোগ প্রদানের অধিকার।

বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস[সম্পাদনা]

১৯৮৫ সালে জাতিসংঘের মাধ্যমে জাতিসংঘ ভোক্তা অধিকার রক্ষার নীতিমালায় কেনেডি বর্ণিত চারটি মৌলিক অধিকারকে আরো বিস্তৃত করে অতিরিক্ত আরো আটটি মৌলিক অধিকার সংযুক্ত করা হয়। এরপর থেকেই কনজুমার্স ইন্টারন্যাশনাল এ সকল অধিকারকে সনদে অন্তর্ভুক্ত করে।[৩] কেনেডি'র ভাষণের দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৫ মার্চকে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস হিসেবে বৈশ্বিকভাবে উদযাপন করে আসছে।[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Brobeck, Stephen (১৯৯৭)। Encyclopedia of the consumer movement। Santa Barbara, Calif. [u.a.]: ABC-Clio। পৃ: 175–179। আইএসবিএন 0874369878 
  2. Kennedy, John F. (মার্চ ১৫, ১৯৬২)। "John F. Kennedy: Special Message to the Congress on Protecting the Consumer Interest."presidency.ucsb.edu। সংগৃহীত ৮ মার্চ ২০১৩ 
  3. http://www.consumersinternational.org/who-we-are/consumer-rights
  4. Guest, Jim (১৫ মার্চ ২০১২)। "Jim Guest: Fighting for Consumer Rights, Fifty Years After Kennedy's Call"huffingtonpost.com। সংগৃহীত ৮ মার্চ ২০১৩ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Consumers International