কচুরি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
কচুরি
উৎপত্তিস্থল  ভারত  বাংলাদেশ
অঞ্চল বা রাজ্য ভারতীয় উপমহাদেশ
পরিবেশন তাপমাত্রা গরম অথবা স্বাভাবিক তাপমাত্রা
প্রধান উপকরণ ময়দা, ঘি
রান্নার বই: কচুরি  উইকিমিডিয়া কমন্সে মিডিয়া: কচুরি সম্পর্কিত মিডিয়া রয়েছে
কচুরি সাধারণত তরকারি দিয়ে খাওয়া হয়।

কচুরি ভারতীয় উপমহাদেশ অর্থাৎ ভারত, বাংলাদেশ এবং পাকিস্থানের একটি মুখরোচক খাবার। ময়ান ও পুর ভেদে বিভিন্ন রকমের কচুরি প্রস্তুত করা হয়।

বাঙালির শীতকাল মানেই মুচমুচে গরম গরম কড়াইশুঁটির কচুরি আর শুকনো আলুর দম। রইল রেসিপি।

কী কী লাগবে-

ময়দা-১ কাপ তেল-১ টেবিল চামচ গরম জল-১/৪ কাপ নুন-১/৪ চামচ

পুরের জন্য-

কড়াইশুঁটি-১ কাপ লাললঙ্কা গুঁড়ো-১/৪ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো-১/৪ চা চামচ ধনে গুঁড়ো-১/২ চা চামচ মৌরি গুঁড়ো-১/২ চা চামচ চাট মশলা-১/২ চা চামচ আমচুর গুঁড়ো-১/২ চা চামচ কাঁচালঙ্কা-১,২টো আদা-আধ ইঞ্চি গোটা জিরে-১/৪ চা চামচ তেল-২ টেবিল চামচ নুন-পরিমান মতো

ভাজার জন্য-

তেল-২,৩ কাপ     কীভাবে বানাবেন-

ময়দা, তেল ও নুন দিয়ে প্রথমে মেখে নিন। এরপর জল দিয়ে ভাল করে ঠেসে মেখে নিয়ে ময়দা মাখা ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট চাপা দিয়ে রাখুন। গ্রাইন্ডারে প্রথমে কাঁচা লঙ্কা ও আদা রাখুন। এরপর কড়াইশুঁটি দিয়ে একসঙ্গে ভাল করে বেটে নিন। জল দেবেন না।

এবারে একটা ফ্রাইং প্যানে তেল গরম করে গোটা জিরে ফোড়ন দিন। কিছুক্ষণ বাটা কড়াইশুটি দিয়ে দিন। নুন মিশিয়ে ভাল করে নেড়ে ঝুরঝুরে করে নিন। এর মধ্যে অল্প গুঁড়ো মশলা ও বেসন দিয়ে ভাল করে নেড়েচেড়ে নামিয়ে নিন।

কড়াইশুঁটি থেকে হাতের চাপে গোল গোল বল তৈরি করে নিন। ময়দা মাখা থেকে ছোট ছোট লেচি গড়ে নিয়ে হাতের চাপে চ্যাপ্টা করে ভেতরে কড়াইশুঁটির পুর দিয়ে লেচির মুখ বন্ধ করে নিন। ছোট ছোট কচুরি বেলে নিয়ে ছাঁকা তেলে ভেজে তুলুন।

ছোলার ডাল বা শুকনো আুর দমের সঙ্গে পরিবেশন করুন গরম গরম কড়াইশুঁটির কচুরি।

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

সংস্কৃত ভাষায় কচুরি পূরিকা হিসাবে সমাদৃত।[১]

দেব ভোগ[সম্পাদনা]

নবদ্বীপের বিভিন্ন মঠ ও মন্দিরে শীতকালে কড়াইশুঁটির কচুরির মাধ্যমে দেবতাদের ভোগ নিবেদন করা হয়ে থাকে।

খাদ্যগুণ[সম্পাদনা]

কচুরি সুস্বাদু, রুচিকর, স্নিগ্ধ, গুরুপাক, বলকারক, শুক্রবর্ধক,বায়ু ও রক্ত-পিত্ত রোগে উপকারি।

ময়ান[সম্পাদনা]

কচুরির উৎকর্ষতা ময়ান অর্থাৎ ঘি-এর পরিমানের উপর নির্ভরশীল। সাধারনতঃ এক সের (০.৯৩৩ কেজি) ময়দার সঙ্গে আধ পোয়া (০.১১৭ কেজি)থেকে দেড় পোয়া (০.৩৫০ কেজি) পর্যন্ত ময়ান দেওয়া হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. রায়, প্রণব (জুলাই, ১৯৮৭)। বাংলার খাবার। কলকাতা: সাহিত্যলোক। পৃ: ৩৪-৩৫।