ওবায়দুল্লাহ মজুমদার
ওবায়দুল্লাহ মজুমদার ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্বকারী পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।[১] ওবায়দুল্লাহ ১৯২৭ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের নোয়াখালী জেলার ছাগলনাইয়া থানায় অবস্থিত দক্ষিণ সাতারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের সদস্য ছিলেন এবং পাকিস্তান আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলেন। তিনি ছাগলনাইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ফেনী কলেজে শিক্ষালাভের পর ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে কলাবিদ্যায় স্নাতকোত্তর অর্জন করেন। স্নাতকোত্তর অর্জনের পরের বছর থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত তিনি ফেনী কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। এরপর তিনি ফুলব্রাইট প্রোগ্রামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। দেশে ফিরে তিনি মোমেনশাহী ক্যাডেট কলেজে অধ্যাপনা করেন এবং ১৯৬৬ সালে পটিয়া সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হোন।[২] বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতে তিনি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ডক্টর আমির হোসেন এবং হাবিলদার নুরুদ্দিনের সাথে আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করে ভারতে যান এবং পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি মুক্তিবাহিনী ইউনিট প্রতিষ্ঠার জন্য সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তা চান।[৩][৪] তিনি বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের মেজর পি কে ঘোষের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন।[৩][৫] কিন্তু ভারতীয় শরনার্থী শিবিরে দুই মাস থাকার পর তিনি জুনে পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে আসেন।[৬] সেপ্টেম্বরে যুদ্ধ চলাকালে তাকে পূর্ব পাকিস্তানের মালেক মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্য ও তথ্য মন্ত্রী বানানো হয়।[৭] মন্ত্রিত্ব প্রাপ্তির পর তিনি নিজেকে পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাবি করেছিলেন যে মার্চে অপারেশন সার্চলাইটের পর প্রদেশে উদ্ভূত অবস্থার ফলে তিনি বাধ্য হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং সুযোগ পাওয়া মাত্র ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স দৃষ্টি এড়িয়ে পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে আসেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে অধিকাংশ শরনার্থী প্রদেশে ফিরে আসতে চাইলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কারণে পারছেন না।[৬] স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন।[৮]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Assembly, Pakistan National (১৯৭২)। Debates: Official Report (উর্দু ভাষায়)। Manager of Publications.।
- ↑ "সংক্ষিপ্ত পরিচিতি"। দৈনিক ইত্তেফাক। ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭১। পৃ. ৬।
- 1 2 "BSF helped form the first Mukti Bahini group 51 years ago along Tripura border | Law-Order"। Devdiscourse (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০২৩।
- ↑ "The first Indian to fight in Bangladesh's Liberation War"। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০২৩।
- ↑ "BSF salutes Major's role in Mukti Bahini formation and Bangla Liberation War"। The Times of India। ১৮ এপ্রিল ২০২২। আইএসএসএন 0971-8257। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০২৩।
- 1 2 "অভিজ্ঞতা বর্ণনা"। দৈনিক ইত্তেফাক। ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১। পৃ. ৬।
- ↑ মোমেন, এম এ (৬ মার্চ ২০২১)। "পাকিস্তানের বিখণ্ডীকরণ ঠেকাতে..."। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০২৫।
- ↑ মুকুল, এম আর আখতার (২০০০)। চরমপত্র। অনন্যা। পৃ. ৩৩০।