এ এস এম সোলায়মান
এ এস এম সোলায়মান | |
|---|---|
| ঢাকা-৩০ আসনের বাংলাদেশ সংসদ সদস্য | |
| কাজের মেয়াদ ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ – ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২ | |
| নেতা | শাহ আজিজুর রহমান |
| পূর্বসূরী | এ. কে. এম. শামসুজ্জোহা |
| উত্তরসূরী | আসন বিলুপ্ত |
| পূর্ব পাকিস্তানের শ্রমিক, সমাজকল্যাণ ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী | |
| কাজের মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ – ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ | |
| গভর্নর | আব্দুল মোতালেব মালিক |
| প্রশাসক | আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী |
| পূর্বসূরী | অজানা |
| উত্তরসূরী | সরকার বিলুপ্ত |
| এনই-৪৪ ঢাকা-৬ আসনের পাকিস্তান সংসদ সদস্য | |
| কাজের মেয়াদ ১৯৬৫ – ১৯৬৯ | |
| নেতা | খালি |
| পূর্বসূরী | বে-নজীর আহমদ |
| উত্তরসূরী | এ. কে. এম শামসুজ্জোহা |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | ২৫ জানুয়ারি ১৯২৬ ঢাকা জেলা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত |
| মৃত্যু | ৪ ডিসেম্বর ১৯৯৭ (বয়স ৭১) শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা, বাংলাদেশ |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশী |
| রাজনৈতিক দল | কৃষক শ্রমিক পার্টি |
| অন্যান্য রাজনৈতিক দল | বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (১৯৭৮–১৯৮১) |
| বাসস্থান | সোনারগাঁও ভবন, পল্লবী, ঢাকা |
এ এস এম সোলায়মান পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে পাকিস্তানের চতুর্থ জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে ঢাকা-৩০ আসনের সংসদ সদস্য হন।
জীবনী
[সম্পাদনা]সোলায়মানের জন্ম ২৫ জানুয়ারি ১৯২৬ সালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক অর্জন করেন।[১] তিনি ১৯৪৬ সালে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৪৭ সালে শ্রমিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার পর ১৯৫৪ সালে তিনি কৃষক শ্রমিক পার্টির যুগ্ম সম্পাদক হয়েছিলেন।[২] এরপর ১৯৫৬ সালে তিনি দলটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই সাল থেকে চার বছর পর্যন্ত তিনি "আওয়াজ" নামক একটি সাপ্তাহিক সংবাদপত্রের সম্পাদক ছিলেন।[১] ১৯৬৫ সালে ঢাকা-৬ আসনে তিনি পাকিস্তানের চতুর্থ জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।[৩] একই বছরে তিনি নিখিল পাকিস্তান কনফেডারেশন অব লেবারের সহ-সভাপতি হয়েছিলেন।[১] সোলায়মান ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের প্রধান হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[২] ১৯৬৬ সালের পরে নিউক্লিয়াস সংগঠনের পক্ষ থেকে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন করার জন্য তাকে রাজনৈতিক নেতা হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।[৪] ১৯৬৯ সালে তিনি কৃষক শ্রমিক পার্টির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।[৫] পরবর্তী বছর তাকে পাকিস্তান সরকার পরিবার পরিকল্পনা পরিষদের সদস্য ঘোষণা করেছিল।[১] তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিলেন।[৬] তখন তিনি পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির সদস্য হন।[৭] ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সালে তাকে পূর্ব পাকিস্তানের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী করা হয়।[৮][৯] বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সহযোগিতা করার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে গ্রেফতার করেছিল।[১০] ৩০ নভেম্বর ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার মন্ত্রিসভার আটক সদস্যদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করায় তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন।[১১] ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে সোলায়মান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৩০ আসন থেকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[১২] ১৯৮৪ সালের দিকে তিনি ইসলামী যুক্তফ্রন্ট নামক একটি রাজনৈতিক জোটের নেতৃত্বে ছিলেন।[১৩] তিনি ১৯৯৬ সালের পরে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। ৪ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।[২] কিন্তু সোলায়মান বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন বলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও প্রজন্ম ৭১ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে।[১৪] পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় দাফন করা হয়। তার দুই স্ত্রী ও চার সন্তান ছিল।[১৫]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 "সংক্ষিপ্ত পরিচিতি"। দৈনিক ইত্তেফাক। ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭১। পৃ. ৬।
- 1 2 3 "এ এস এম সোলায়মানের ইন্তেকাল"। দৈনিক ইত্তেফাক। ৫ ডিসেম্বর ১৯৯৭। পৃ. ১৫–১৬।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতিতে খালি অজানা প্যারামিটার রয়েছে:|1=(সাহায্য) - ↑ "প্রদেশে আসনওয়ারী ফলাফল"। দৈনিক ইত্তেফাক। ২২ মার্চ ১৯৬৫। পৃ. ১২।
- ↑ আহমদ, মহিউদ্দিন (৪ জুন ২০১৯)। "সিরাজুল আলম খান এবং স্বাধীনতার নিউক্লিয়াস"। প্রথম আলো।
- ↑ Pakistan Affairs (ইংরেজি ভাষায়)। Information Division, Embassy of Pakistan.। ১৯৬৯।
- ↑ "ভারতীয় ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করার জন্যে সোলায়মানের আহবান"। পূর্বদেশ। ১৬ মে ১৯৭১।
- ↑ ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর, সম্পাদকগণ (২০১২)। "শান্তি কমিটি"। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- ↑ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র। খণ্ড অষ্টম খণ্ড। পৃ. ৬৫৬।
- ↑ ইশতিয়াক, আহমদ (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১)। "১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭১: ১০ সদস্যের প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা ঘোষণা"। দ্য ডেইলি স্টার।
- ↑ ইশতিয়াক, আহমাদ (২৪ ডিসেম্বর ২০২১)। "২৪ ডিসেম্বর ১৯৭১: সাবেক গভর্নর ডা. এ এম মালিকসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা আটক"। দ্য ডেইলি স্টার।
- ↑ একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়। মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিকাশ কেন্দ্র। ১৯৯২ [১৯৮৭]। পৃ. ২১।
- ↑ "List of 2nd Parliament Members" (পিডিএফ)। Bangladesh Parliament। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০২১।
- ↑ খান, এলাহী নেওয়াজ (৩০ নভেম্বর ১৯৮৪)। "ইসলামী দলসমূহের অন্তর্বিরোধ"। সাপ্তাহিক বিচিত্রা।
- ↑ "সোলায়মানকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের প্রতিবাদ"। দৈনিক সংবাদ। ৫ ডিসেম্বর ১৯৯৭।
- ↑ "সাবেক মন্ত্রী এ এস এম সোলায়মানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ"। দৈনিক রুদ্রবার্তা। ৪ ডিসেম্বর ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২৫।