বিষয়বস্তুতে চলুন

এ এস এম সোলায়মান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
এ এস এম সোলায়মান
ঢাকা-৩০ আসনের
বাংলাদেশ সংসদ সদস্য
কাজের মেয়াদ
১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯  ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২
নেতাশাহ আজিজুর রহমান
পূর্বসূরীএ. কে. এম. শামসুজ্জোহা
উত্তরসূরীআসন বিলুপ্ত
পূর্ব পাকিস্তানের শ্রমিক, সমাজকল্যাণ ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৭১  ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
গভর্নরআব্দুল মোতালেব মালিক
প্রশাসকআমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী
পূর্বসূরীঅজানা
উত্তরসূরীসরকার বিলুপ্ত
এনই-৪৪ ঢাকা-৬ আসনের
পাকিস্তান সংসদ সদস্য
কাজের মেয়াদ
১৯৬৫  ১৯৬৯
নেতাখালি
পূর্বসূরীবে-নজীর আহমদ
উত্তরসূরীএ. কে. এম শামসুজ্জোহা
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম(১৯২৬-০১-২৫)২৫ জানুয়ারি ১৯২৬
ঢাকা জেলা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু৪ ডিসেম্বর ১৯৯৭(1997-12-04) (বয়স ৭১)
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা, বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাংলাদেশী
রাজনৈতিক দলকৃষক শ্রমিক পার্টি
অন্যান্য
রাজনৈতিক দল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (১৯৭৮–১৯৮১)
বাসস্থানসোনারগাঁও ভবন, পল্লবী, ঢাকা

এ এস এম সোলায়মান পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে পাকিস্তানের চতুর্থ জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে ঢাকা-৩০ আসনের সংসদ সদস্য হন।

জীবনী

[সম্পাদনা]

সোলায়মানের জন্ম ২৫ জানুয়ারি ১৯২৬ সালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক অর্জন করেন।[] তিনি ১৯৪৬ সালে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৪৭ সালে শ্রমিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার পর ১৯৫৪ সালে তিনি কৃষক শ্রমিক পার্টির যুগ্ম সম্পাদক হয়েছিলেন।[] এরপর ১৯৫৬ সালে তিনি দলটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই সাল থেকে চার বছর পর্যন্ত তিনি "আওয়াজ" নামক একটি সাপ্তাহিক সংবাদপত্রের সম্পাদক ছিলেন।[] ১৯৬৫ সালে ঢাকা-৬ আসনে তিনি পাকিস্তানের চতুর্থ জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।[] একই বছরে তিনি নিখিল পাকিস্তান কনফেডারেশন অব লেবারের সহ-সভাপতি হয়েছিলেন।[] সোলায়মান ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের প্রধান হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[] ১৯৬৬ সালের পরে নিউক্লিয়াস সংগঠনের পক্ষ থেকে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন করার জন্য তাকে রাজনৈতিক নেতা হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।[] ১৯৬৯ সালে তিনি কৃষক শ্রমিক পার্টির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।[] পরবর্তী বছর তাকে পাকিস্তান সরকার পরিবার পরিকল্পনা পরিষদের সদস্য ঘোষণা করেছিল।[] তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিলেন।[] তখন তিনি পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির সদস্য হন।[] ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সালে তাকে পূর্ব পাকিস্তানের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী করা হয়।[][] বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সহযোগিতা করার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে গ্রেফতার করেছিল।[১০] ৩০ নভেম্বর ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার মন্ত্রিসভার আটক সদস্যদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করায় তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন।[১১] ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে সোলায়মান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৩০ আসন থেকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[১২] ১৯৮৪ সালের দিকে তিনি ইসলামী যুক্তফ্রন্ট নামক একটি রাজনৈতিক জোটের নেতৃত্বে ছিলেন।[১৩] তিনি ১৯৯৬ সালের পরে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। ৪ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।[] কিন্তু সোলায়মান বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন বলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিপ্রজন্ম ৭১ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে।[১৪] পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় দাফন করা হয়। তার দুই স্ত্রী ও চার সন্তান ছিল।[১৫]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 "সংক্ষিপ্ত পরিচিতি"। দৈনিক ইত্তেফাক। ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭১। পৃ. ৬।
  2. 1 2 3 "এ এস এম সোলায়মানের ইন্তেকাল"। দৈনিক ইত্তেফাক। ৫ ডিসেম্বর ১৯৯৭। পৃ. ১৫–১৬। {{সংবাদ উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতিতে খালি অজানা প্যারামিটার রয়েছে: |1= (সাহায্য)
  3. "প্রদেশে আসনওয়ারী ফলাফল"। দৈনিক ইত্তেফাক। ২২ মার্চ ১৯৬৫। পৃ. ১২।
  4. আহমদ, মহিউদ্দিন (৪ জুন ২০১৯)। "সিরাজুল আলম খান এবং স্বাধীনতার নিউক্লিয়াস"প্রথম আলো
  5. Pakistan Affairs (ইংরেজি ভাষায়)। Information Division, Embassy of Pakistan.। ১৯৬৯।
  6. "ভারতীয় ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করার জন্যে সোলায়মানের আহবান"। পূর্বদেশ। ১৬ মে ১৯৭১।
  7. ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর, সম্পাদকগণ (২০১২)। "শান্তি কমিটি"বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১ওসিএলসি 883871743ওএল 30677644M
  8. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র। খণ্ড অষ্টম খণ্ড। পৃ. ৬৫৬।
  9. ইশতিয়াক, আহমদ (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১)। "১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭১: ১০ সদস্যের প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা ঘোষণা"দ্য ডেইলি স্টার
  10. ইশতিয়াক, আহমাদ (২৪ ডিসেম্বর ২০২১)। "২৪ ডিসেম্বর ১৯৭১: সাবেক গভর্নর ডা. এ এম মালিকসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা আটক"দ্য ডেইলি স্টার
  11. একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়। মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিকাশ কেন্দ্র। ১৯৯২ [১৯৮৭]। পৃ. ২১।
  12. "List of 2nd Parliament Members" (পিডিএফ)Bangladesh Parliament। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০২১
  13. খান, এলাহী নেওয়াজ (৩০ নভেম্বর ১৯৮৪)। "ইসলামী দলসমূহের অন্তর্বিরোধ"। সাপ্তাহিক বিচিত্রা
  14. "সোলায়মানকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের প্রতিবাদ"। দৈনিক সংবাদ। ৫ ডিসেম্বর ১৯৯৭।
  15. "সাবেক মন্ত্রী এ এস এম সোলায়মানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ"দৈনিক রুদ্রবার্তা। ৪ ডিসেম্বর ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২৫