এমানুয়েল মাক্রোঁ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এমানুয়েল মাক্রোঁ
Emmanuel Macron in 2019.jpg
২০১৯ সালে ফরাসি রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল মাক্রোঁ
ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
১৪ই মে, ২০১৭
প্রধানমন্ত্রীএদুয়ার ফিলিপ
জঁ কাস্তেক্স
পূর্বসূরীফ্রঁসোয়া ওলঁদ
অর্থনীতি, শিল্প ও ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
২৬শে আগস্ট, ২০১৪ – ৩০শে আগস্ট, ২০১৬
প্রধানমন্ত্রীমানুয়েল ভালস
পূর্বসূরীআর্নো মোঁতবুর
উত্তরসূরীমিশেল সাপাঁ
আরও...
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মএমানুয়েল জঁ-মিশেল ফ্রেদেরিক মাক্রোঁ
(1977-12-21) ২১ ডিসেম্বর ১৯৭৭ (বয়স ৪২)
আমিয়াঁ, ফ্রান্স
রাজনৈতিক দললা রেপ্যুব্লিক অঁ মার্শ (২০১৬-বর্তমান)
অন্যান্য
রাজনৈতিক দল
দাম্পত্য সঙ্গীব্রিজিত মাক্রোঁ (বি. ২০০৭)
পিতামাতা
বাসস্থানএলিজে প্রাসাদ
প্রাক্তন শিক্ষার্থী
পুরস্কারসম্মানসূচক খেতাব ও উপাধিসমূহ
স্বাক্ষর
ওয়েবসাইট

এমানুয়েল জঁ-মিশেল ফ্রেদেরিক মাক্রোঁ (Emmanuel Jean-Michel Frédéric Macron; জন্ম ২১শে ডিসেম্বর, ১৯৭৭) একজন ফরাসি রাজনীতিবিদ। তিনি ১৪ই মে, ২০১৭ তারিখ থেকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি এবং পদাধিকারবলে অ্যান্ডোরার সহরাজপুত্র

ফ্রান্সের উত্তরভাগের আমিয়াঁ শহরে জন্ম নেওয়া মাক্রোঁ পারি নঁতের বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি সিয়ঁস পো নামক মর্যাদাবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর উপাধি অর্জন করেন। পরিশেষে তিনি ফ্রান্সের খ্যাতিমান একল নাসিওনাল দাদমিনিস্ত্রাসিওঁ নামক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জনপ্রশাসন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে ২০০৪ সালে উত্তীর্ণ হন। তিনি ফ্রান্সের আঁস্পেকসিওঁ জেনেরাল দে ফিনঁস (অর্থসংস্থান পরিদর্শকদের সাধারণ কার্যালয়) প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মচারী হিসেবে এবং পরবর্তীতে রথসচাইল্ড অ্যান্ড কো নামক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ ব্যাংকার হিসেবে কাজ করেন।

২০১২ সালের ফরাসি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী ফ্রঁসোয়া ওলঁদ ২০১২ সালের মে মাসে মাক্রোঁকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের উপ-মহাসচিব পদে নিয়োগ দেন, ফলে তিনি ফরাসি রাষ্ট্রপতির অন্যতম জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টায় পরিণত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের আগস্টে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী মানুয়েল ভালস তাঁকে ফরাসি মন্ত্রীসভাতে অর্থনীতি, শিল্প ও ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দান করেন। এই ভূমিকায় মাক্রোঁ ব্যবসাবান্ধব বেশ কিছু সংস্কার সাধন করেন। ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে তিনি মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন এবং ২০১৭ সালের ফরাসি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা শুরু করেন।  যদিও তিনি ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের সমাজতান্ত্রিক দল পার্তি সোসিয়ালিস্তের সদস্য ছিলেন, তিনি তার আদি দল থেকে নয়, বরং ২০১৬-এর এপ্রিল মাসে নিজের প্রতিষ্ঠিত "অঁ মার্শ" নামক একটি মধ্যপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনের ছত্রছায়ায় নির্বাচনে অংশ নেন।

জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকলেও নির্বাচনের প্রথম পর্বে মাক্রোঁ সবচেয়ে বেশি ভোট পান এবং এরপর দ্বিতীয় পর্বে ফ্রোঁ নাসিওনাল দলের প্রার্থী মারিন ল্যপেনের বিরুদ্ধে ৬৬% ভোট পেয়ে ২০১৭ সালের ৭ই মে ফ্রান্সের ৫ম প্রজাতন্ত্র পর্বের ৮ম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। মাত্র ৩৯ বছর বয়সী মাক্রোঁ ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ রাষ্ট্রপতি। তিনি বিজয়ী হয়েই এদুয়ার ফিলিপকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দান করেন। এর এক মাস পরে মাক্রোঁর নেতৃত্বাধীন "লা রেপ্যুব্লিক অঁ মার্শ" নামক সদ্যগঠিত রাজনৈতিক দলটি ২০১৭ সালের ফ্রান্সের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

রাজনৈতিক অবস্থান[সম্পাদনা]

ধর্মনিরপেক্ষতা[সম্পাদনা]

মাক্রোঁ ধর্মনিরপেক্ষতা সংক্রান্ত ফ্রান্সের নিজস্ব মূলনীতি "লাইসিতে"-র (laïcité) জোরালো সমর্থক। ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতি পদপার্থী হিসেবে তিনি বলেছিলেন যে "প্রত্যেকে যেন মর্যাদা বজায় রেখে তার ধর্ম পালন করতে পারে, তা আমাদের কর্তব্য।"[১] ঐ বছরের জুলাই মাসে তাঁর রাজনৈতিক দল "অঁ মার্শ"-এর প্রথম সভাতে তিনি ফ্রান্সের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে মুসলমান নারীদের পরিহিত মস্তকাবরণী নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে মত দেন, যা ছিল তৎকালীন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী মানুয়েল ভালসের মতামতের পরিপন্থী।[২] ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে মারিয়ান সাময়িকীকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি ধর্মনিরপেক্ষতা যে কোনও "প্রজাতন্ত্রীয় ধর্ম" নয়, সে ব্যাপারে জোর দেন।[৩] তবে একই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন যে ব্যক্তিগত বলয়ে কোনও ফরাসি যদি আধ্যাত্মিকভাবে তাঁর ধর্মকে সর্বোচ্চ আইন হিসেবে মানতে চান, সেটা সম্ভব, কিন্তু জনসাধারণ্যের জন্য নির্ধারিত বলয়ে ফরাসি প্রজাতন্ত্রের আইন যেকোন ধর্মের চেয়ে ঊর্ধ্বে থাকবে। তিনি যেসব ধর্মভিত্তিক বিদ্যালয়ে আরবিতে বা হিব্রুতে ফরাসি প্রজাতন্ত্রের মূলনীতির বিরুদ্ধে শিক্ষা দেওয়া হয়, সেগুলির প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করেন।[৩] তাঁর এই মন্তব্যে ফ্রান্সের ফ্রোঁ সোসিয়াল জুইফ উ্যনিফিয়ে (ঐক্যবদ্ধ ইহুদীদের সামাজিক ফ্রন্ট) নামক ইহুদী সংগঠনটি, যারা ফ্রান্সের ইহুদী ধর্মীয় বিদ্যালয়গুলি পরিচালনা করে, নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে।[৪]

২০২০ সালের ২রা অক্টোবর মাক্রোঁ "ইসলামী উগ্রবাদের" বিরুদ্ধে ফরাসি প্রজাতন্ত্রের ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধসমূহকে রক্ষার উদ্দেশ্যে একটি পরিকল্পনা উন্মোচন করেন এবং এই মত দেন যে সারা বিশ্বে ইসলাম ধর্ম একটি "সংকটকালীন অবস্থা" অতিক্রম করছে। তিনি ঘোষণা দেন যে তাঁর সরকার ২০২০-এর ডিসেম্বর মাসে একটি আইন উত্থাপন করবে, যা ১৯০৫ সালের একটি আইনকে আরও শক্তিশালী করবে, যে আইনে রাষ্ট্র ও ধর্মকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পৃথক ঘোষণা করা হয়।[৫] মাঝ-অক্টোবরে একজন ইসলামী উগ্রবাদী অভিবাসী ফরাসি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সামুয়েল পাতি-কে শিরশ্ছেদ করে নৃশংসভাবে হত্যা করলে মাক্রোঁ শার্লি এব্দো নামক সাময়িকীতে প্রকাশিত ইসলামের নবী মুহাম্মদের ব্যঙ্গচিত্রগুলির প্রকাশের অধিকারের পক্ষে সমর্থন জ্ঞাপন করেন। তাঁর এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বের মুসলমান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন স্তর থেকে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়। একাধিক মুসলমান-অধ্যুষিত রাষ্ট্রের নেতা মাক্রোঁর প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করেন এবং বহু মুসলমান সামাজিক গণমাধ্যমগুলিতে তাদের দেশে ফরাসি পণ্য বয়কট বা বর্জন করার আহ্বান জানায়। তবে ইউরোপীয় রাজনৈতিক নেতারা মাক্রোঁর প্রতি সমর্থন জানান।[৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Rose, Michel (১৮ অক্টোবর ২০১৬)। "Macron outlines vision of French Islam, drops more ambition hints"। Reuters। সংগ্রহের তারিখ ২৫ এপ্রিল ২০১৭ 
  2. "Voile à l'université: Macron prend le contre-pied de Valls"Le Figaro (ফরাসি ভাষায়)। ১২ জুলাই ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  3. "Emmanuel Macron: "La République est ce lieu magique qui permet à des gens de vivre dans l'intensité de leur religion"" (ফরাসি ভাষায়)। Marianne.net। ১ অক্টোবর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  4. "Les écoles juives condamnent les propos d'Emmanuel Macron dans Marianne"La Croix। ৭ অক্টোবর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  5. https://www.aljazeera.com/news/2020/10/2/macron-announces-new-plan-to-regulate-islam-in-france
  6. https://www.cnn.com/2020/10/26/europe/france-boycott-muslim-countries-macron-intl/index.html