ইয়েমেন-ভারত সম্পর্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
ইয়েমেন-ভারত সম্পর্ক
মানচিত্র Yemen এবং India অবস্থান নির্দেশ করছে

ইয়েমেন

ভারত

ইয়েমেন-ভারত সম্পর্ক, ইয়েমেন এবং ভারত এর মাঝে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নির্দেশ করে। ১৯৬৭ সালের নভেম্বর মাসে এই দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তার পূর্বে ইয়েমেন, যুক্তরাজ্যের অধীনে ছিল। সেই সময় ভারত ইয়েমেনের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়। আর এর মাধ্যমেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সৌদি আরবের সাথে ভারতের ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব এবং পাকিস্তানের সাথে ইয়েমেনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে শীতলতা রয়েছে। [১] ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে ইয়েমেনের একটি স্থায়ী দূতাবাস রয়েছে। অপরদিকে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ভারতের একটি স্থায়ী দূতাবাস রয়েছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৮৩৯ সালে এডেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এর একটি অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। তখন এটি শাসিত হত বোম্বে প্রেসিডেন্সির মাধ্যেম। সে সময় এডেনে প্রায় ২ হাজার ভারতীয় সৈন্য পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে তারা এডেনে প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং ভারতীয় রূপি হয় সেই অঞ্চলের স্বীকৃত আনুষ্ঠানিক মুদ্রা। ১৮৫৫ সালে, বোম্বে থেকে এডেনে স্টিমার চালু হয়, যা একইসাথে ভারতের সাথে আরব উপদ্বীপের সংযোগ ঘটায়। ১৯০৬ সালে, ব্রিটিশ শাসকরা, ভারত থেকে প্রকৌশলী পাঠায়। প্রকৌশলীদের এডেনে পাঠানোর উদ্দেশ্য ছিল একটি ভূগর্ভস্থ নিষ্কাশন ব্যবস্থা তৈরি করা এবং একই সাথে সেই অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহের একটি পরিকল্পনা তৈরি করা এবং তা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা এবং অন্যান্য বিষয় বিশ্লেষণ করা।

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ[সম্পাদনা]

ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভারত নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকে। সে সময় ভারত তার সমস্ত নাগরিককে ফেরত নিয়ে গেলেও শুধু মাত্র ভারতীয় চিকিৎসক এবং নার্স ইয়েমেনে থেকে গিয়েছিলেন। তাঁরা, ইয়েমেনের মানুষদের মানবিক সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে ইয়েমেনে থেকে যান এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের মানুষদের সাহায্য করেন। [২]

১৯৯৪ সালের জুলাই মাসে, গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, ইয়েমেন সরকার। [ভারত সরকার]] এর কাছে, যুদ্ধে আহত ১৫০ জনকে ভারতের মুম্বাই (তৎকালীন বোম্বে) এর হাসপাতালে ভর্তি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার জন্য অনুরোধ করে। ইয়েমেনের সরকারের তরফ থেকে আসা এই অনুরোধে ভারত খুব দ্রুতই সাড়া দেয় এবং সেই যুদ্ধাহত ব্যাক্তিদের চিকিৎসার ব্যস্থা করে। ২০১৫ সালে, সৌদি আরব, ইয়েমেনে আগ্রাসন চালায়। এর উদ্দেশ্য ছিল, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহ দমন করে শান্তি প্রতিষ্ঠা। সেই সময়ে ইয়েমেনে ৪৬৪০ জন এরও অধিক ভারতীয় নাগরিক আটকা পড়ে। তখন ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ইয়েমেনে অপারেশন রাহাত নামে একটি অপারেশন চালায়। এর লক্ষ্য ছিল আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধার করা। ভারতের চালানো এই অপারেশন ছিল সফল। এবং ভারত তার ৪৬৪০ নাগরিককে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এর পাশাপাশি, ভারতের সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বের ৪১ টি ভিন্ন দেশের ৯৬০ জন নাগরিককেও উদ্ধার করে। [৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.yementimes.com/article.shtml?i=1122&p=local&a=7  |শিরোনাম= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  2. "Yemen: The Covert Apparatus of the American Empire"। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ৫, ২০১০ . ৫ অক্টোবর ২০১০
  3. "4,000 Indians rescued so far, Yemen air evacuation op to end on Wed"http://www.hindustantimes.com/। ২০১৫-০৪-০৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০৪-০৭  |website= এ বহিঃসংযোগ দেয়া (সাহায্য)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]