ইয়াওসাং

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইয়াওসাংয়ের দ্বিতীয় দিনে গোবিন্দজী মন্দিরে একটি সাধারণ মাইতইে হোলি দল অনুষ্ঠান করছে।
Kids in Traditional Attire.jpg
হয়তো ইয়াওসাং উৎসব চলাকালীন নাকাথেঙে যাবার জন্য বাচ্চাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সর্বাধিক দেখা যায়।

ইয়াওসাং হল মণিপুরে বসন্তকালে পাঁচ দিন ধরে উদযাপিত একটি উৎসব,যা লামদা মাসের (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) পূর্ণিমার দিন থেকে শুরু হয়। ইয়াওসাং হল মেইতেই জনগোষ্ঠীর দেশীয় ঐতিহ্যবাহী উৎসব। [১] এটিকে মণিপুরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হিসাবে বিবেচনা করা হয়।[২] হোলির মতো, মণিপুরের হিন্দু মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষ এই উৎসব চলাকালীন রং নিয়ে খেলা করে।

বিবরণ[সম্পাদনা]

প্রতিটি গ্রামে সূর্যাস্তের ঠিক পরে ইয়াওসাং মেই থাবা বা খড়ের ঘর পোড়ানোর মধ্য দিয়ে ইয়াওসাং উৎসব শুরু হয়। তারপরে বাচ্চারা প্রতিটি বাড়িতে আর্থিক অনুদানের জন্যে যায়, যার নাম নাকাথেং। দ্বিতীয় দিনে, স্থানীয় ব্যান্ডদলগুলি মণিপুরের ইম্ফল-পূর্ব জেলার গোবিন্দজী মন্দিরে সংকীর্তন করে। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দিনে, বালিকারা তাদের নাকাথেংয়ের জন্য তাদের আত্মীয়দের কাছে যায় এবং অর্থ সংগ্রহের জন্য দড়ি দিয়ে রাস্তা আটকায়। চতুর্থ এবং পঞ্চম দিনে, লোকেরা একে অন্যের উপরে জল ঢালে বা ছুঁড়ে দেয়। এই উপলক্ষে দড়ি টানাটানি এবং ফুটবলের মতো অনেকগুলি ক্রীড়া অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। এগুলি ছাড়াও উৎসবের সময় প্রতিবেশীদের সাথে স্থানীয় খাবার ভাগ করে নেওয়া হয়।[৩]

নৃত্য[সম্পাদনা]

এই উৎসবের আর একটি বৈশিষ্ট্য হল থাবাল চোংবা (চাঁদের আলোয় নৃত্য)। বিভিন্ন স্থান থেকে পুরুষরা উৎসবের জায়গায় এসে মেয়েদের হাত ধরে বৃত্তাকারে নাচে। ২০১৬ সালে, এটি ২৩-২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।[৪]

উদযাপন[সম্পাদনা]

স্থানীয়রাও এই আনন্দ উৎসবটি উদযাপনের জন্য ভোজনে অংশ নেয়। বেশ কিছুকাল ধরে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার ক্ষেত্রে প্রতিভা অন্বেষণের অন্য, এই উৎসবকে কাজে লাগানো হচ্ছে। এটি মাইতেইদের সমৃদ্ধ ক্রীড়া চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।[৫]

গ্যালারি[সম্পাদনা]

ইয়াওসাং ক্রীড়া উৎসবের অংশ হিসাবে, বয়স্ক লোকেরা কুস্তির একটি ঐতিহ্যবাহী রীতিতে তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করছে, এই রীতি মুকনা নামে পরিচিত। এই দু'জন ভদ্রলোকের বয়স ৮০ বছরেরও বেশি।
অশ্বারোহীরা কাঙলা দুর্গের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং একজন মেইতেই ইয়াওসাংয়ের প্রথম দিনে ক্রীড়া উৎসবের উদ্বোধন করার জন্য মশাল ধরে আছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Singh, Ksh Imokanta (২০০৮)। Religion and Development in North-east India: A sociological understanding (PDF)Religions and Development Research Programme। University of Birmingham। পৃষ্ঠা 76। আইএসবিএন 0 7044 2655 2। ১৯ জুন ২০১৫ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৫However, rather than starting a completely new religious system, their efforts have focused on establishing a parallel culture to counter the Vaisnavite forces, for example observance of Yaosang (Meitei version of Holi) during the same period as the Hindu Dol jatra festival. This movement may try to create a political fissure within the society, but it is very difficult to sort out which elements are purely Hindu and which indigenous, because people have long internalized both elements in their way of life. 
  2. Parratt, Saroj Nalini (এপ্রিল ১৯৭৪)। "The Public Festivals"। The Religion of Manipur: Beliefs, Rituals and Historical Development (PDF) (গবেষণাপত্র)। Australian National University। পৃষ্ঠা 43। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৫The third, and most important, of the Krishnaite festivals is Dol Jatra, or, to give it its Meitei name, Yaosang. This is the greatest of the Meitei festivals and is celebrated on the full moon of Lamda (FebruaryMarch), lasting for six days. 
  3. "Yaoshang festival"tourmyindia.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৮-২৯ 
  4. http://manipur.gov.in/wp-content/uploads/2013/02/general_holiday_2016.pdf
  5. "five-day-yaoshang-festival-begins-in-manipur"easternmirrornagaland.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৮-২৯