আশা রায়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আশা রায়
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম (1990-01-05) ৫ জানুয়ারি ১৯৯০ (বয়স ২৯)
ঘনশ্যামপুর, হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
ক্রীড়া
ক্রীড়াট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড
ঘটনাসমূহস্প্রিন্ট
সাফল্য ও খেতাব
ব্যক্তিগত সেরা১০০ মি: ১১.৭২ (লখনউ ২০১৩)
২০০ মি: ২৩.৫৯ (চেন্নাই ২০১৩)

আশা রায় (জন্ম ৫ই জানুয়ারি ১৯৯০) একজন ভারতীয় পেশাদার স্প্রিন্টার। ৭ই জুলাই ২০১৩ তারিখে তিনি পুনের ২০তম এশিয়ান অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের এশিয়ান ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের ২০০ মিটার দৌড়ে রৌপ্য পদক জেতেন।[১] ২০১১ সালে কলকাতার যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত ৫১তম জাতীয় ওপেন অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার দৌড়ে তিনি ১১.৮৫ সেকেন্ড সময় করেন। রায়ের রেকর্ড, ২০০০ সালে তিরুবনন্তপুরমে করা, রচিতা মিস্ত্রির জাতীয় রেকর্ড ১১.৩৮ সেকেন্ডের খুব কাছে ছিল।[২][৩] রায় দ্রুততম ২০০ মিটারও দৌড়েছিলেন, সময় করেছিলেন ২৪.৩৬ সেকেন্ড এবং বাংলার ৪ × ১০০মিটার রিলে দৌড়ের চূড়ান্ত পর্বে (অ্যাঙ্কর) দৌড়ে, প্রতিযোগিতায় দলকে রুপো এনে দেন, সময় হয়েছিল ৪৭.৪৯ সেকেন্ড। [৪]

প্রথম জীবন[সম্পাদনা]

রায়ের জন্ম হয়, ৫ই জানুয়ারি ১৯৯০ তারিখে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলার ঘনশ্যামপুর গ্রামে। তার বাবা ও মায়ের নাম ছিল যথাক্রমে ভোলানাথ রায় এবং বুলু রায়। তার বাবা একজন সব্জি বিক্রেতা এবং মা একজন গৃহকর্ত্রী। ভোলানাথ রায় ও বুলু রায়ের চার কন্যার মধ্যে রায় হলেন তৃতীয়। রায় পরিবার, চরম দারিদ্রের মধ্যে বসবাস করতেন এবং স্প্রিন্টার রায় সাধারণত দিনে দুবারের বেশি খেতে পেতেন না, এছাড়াও শীর্ষ ক্রীড়াবিদদের প্রয়োজনীয় পুষ্টির কোন ব্যবস্থাই তাতে থাকত না।[২][৩]

রায়, হুগলি জেলার শ্রীরামপুর কলেজে, তার স্নাতক ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা করেন। ভারতীয় রেল এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার দুজনেই রায়কে চাকরি এবং আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়। [২][৩] যদিও, চাকরি পেতে তার প্রায় এক বছর সময় লেগেছিল। রায়কে কয়েকটি কলকাতা ভিত্তিক কোম্পানি তাদের প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক মুখপাত্র (ব্র্যান্ড অ্যাম্বাস্যাডর) হিসাবে যোগ দিতে বলে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব সুযোগই নষ্ট হয়ে যায়। ২০১১র জানুয়ারি থেকে ২০১২র ফেব্রুয়ারির মধ্যে, রায় প্রায় খেলা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন, অবশেষে একটি সুযোগ তার সামনে আসে। রায় ২০১২র ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ পূর্ব রেলের অফিসে যোগ দেন।[৫]

ক্রীড়া জীবন[সম্পাদনা]

রায়, প্রশিক্ষক প্রবীর চন্দ্রের অধীনে শিক্ষণ লাভ করেন। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় বিদ্যালয়ের একটি প্রতিযোগিতায় প্রথম হবার পর রায়কে প্রথম লক্ষ্য করেন প্রবীর চন্দ্র। কোচ চন্দ্র, রায়ের প্রতিভা নিয়ে আলোচনা করার জন্য তার বাবার কাছে যান এবং তার প্রশিক্ষণের জন্য পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় রায় বাংলার অ্যাথলেটিক দলের সদস্য হন এবং তিনি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।[২][৩]

২০০৪-২০০৬: স্কুল গেমস এবং জুনিয়র জাতীয় ক্রীড়া[সম্পাদনা]

রায় চারটি স্বর্ণপদক জিতেছিলেন এবং ২০০৪ সালে স্কুল গেমসের সেরা ক্রীড়াবিদ হিসাবে মনোনীত হন। ২০০৬ সালে জুনিয়র জাতীয় ক্রীড়ায় ১০০ মিটার দৌড়ের পাশাপাশি লম্বা লাফে (লং জাম্প) দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন রায়।[২][৩]

২০০৯: ইন্দো-বাংলা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া[সম্পাদনা]

ইন্দো-বাংলা আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় ১০০ মিটার দৌড়ে রায় স্বর্ণপদক জেতেন।[২][৩]

২০১০: বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়ায় রায় রৌপ্যপদক জেতেন।[২][৩]

২০১১: ৫১তম জাতীয় মুক্ত অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা[সম্পাদনা]

রায়, কলকাতার যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত, ৫১তম জাতীয় মুক্ত অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার, ২০০ মিটার এবং ৪x১০০ মিটার রিলে দৌড়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ১০০ মিটার দৌড়ে ১১.৮৫ সেকেন্ড সময় করে এবং ২০০ মিটার দৌড়ে ২৪.৩৬ সেকেন্ড সময় করে সোনা জেতেন।[২][৩] বাংলার ৪ × ১০০ মি রিলে দলে দৌড়ের চূড়ান্ত পর্বে (অ্যাঙ্কর) দৌড়ে, রায় দলকে রুপো এনে দেন, ৪৭.৪৯ সেকেন্ড সময় করে। মুক্ত জাতীয় প্রতিযোগিতায় তার কর্মদক্ষতার পরই তার কর্মজীবনে গতি আসে।[৪]

২০১৩: ভারতীয় গ্রাঁ প্রি প্রতিযোগিতা এবং ২০তম এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা[সম্পাদনা]

পাটিয়ালায় দ্বিতীয় ইন্ডিয়ান গ্রাঁ প্রি প্রতিযোগিতায় ২০০ মিটার দৌড়ে সোনা জিতে রায় আবার ফিরে আসেন। রায় ২০০ মিটার দৌড়ে তার আগের সেরা ২৪.৩৩ সেকেন্ডকে উন্নত করতে সক্ষম হন এবং ২৪.২৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে একটি নতুন রেকর্ড করেন।[৫]

রায়, ৭ই জুলাই ২০১৩ তারিখে, পুনেতে ২০তম এশিয়ান অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে এশিয়ান ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ২০০ মিটার দৌড়ে রৌপ্য পদক জেতেন। পশ্চিমবঙ্গ অ্যাথলেটিক অ্যাসোসিয়েশন, ১৭ই জুলাই ২০১৩ তারিখে, রায়কে সংবর্ধিত করে এবং রাজ্য সমিতির পক্ষ থেকে তাকে ৫০,০০০ টাকা এবং পুরস্কার প্রদান করা হয়।[৬]

২০১৫: লড়াই এবং আঘাত[সম্পাদনা]

স্প্রিন্টের প্রধান জাতীয় কোচ তরুণ সাহার নির্দেশনা অনুসারে, আশা রায় রেলওয়ের প্রতিনিধিত্ব করে ২০০ মিটার প্রতিযোগিতায় রিও অলিম্পিকসে অংশগ্রহণের জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। [৭] রায় তিরুবনন্তপুরমে রিও অলিম্পিকের জন্য জাতীয় প্রস্তুতিমূলক ক্যাম্পে ছিলেন। সে সময় তার কোমরের আঘাত খারাপের দিকে যায় এবং তিনি আর প্রশিক্ষণ নিতে পারেন নি। কলকাতার সাই (এসএআই) ক্যাম্পাসে প্রশিক্ষণ শুরু করার পর রায়ের অবস্থা খারাপ হয়ে উঠল, যার ফলে তিনি রিও অলিম্পিকসে ব্যর্থ হন।[৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Sprinter Asha Roy gives Singur a reason to cheer"hindustantimes.com/ (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৩-০৭-১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৫-১৩ 
  2. Service, Women's Feature (২০১১-১১-০৯)। "Asha Roy Hailed as India's Fastest Woman"NewsBlaze News (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৫-১৩ 
  3. "India's Fastest Woman - Asia Sentinel"Asia Sentinel (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১১-১১-০৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৫-১৩ 
  4. "Track Results: 51st Open National Athletics Championships, 2011"। ২০১১-০৯-১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৫-১৩ 
  5. "After two years of darkness, Asha Roy returns in style"। ২০১৩-০৪-০৮। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৫-১৩ 
  6. "Asha Roy felicitated for Asian meet silver"The Hindu (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৫-১৩ 
  7. "Rush for Rio berths as athletes look to impress - Times of India"The Times of India। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৫-১৩ 
  8. "Asha Roy's dream of participating in Rio gets shattered due to injury - Sportzwiki"sportzwiki.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৫-১৩ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]