আল্লা দেমিডোভা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আল্লা দেমিডোভা
Alla Demidova3.jpg
আল্লা দেমিডোভা ২০০৯ সালে মস্কোতে
জন্ম
আল্লা সার্জেবনা দেমিডোভা

(1936-09-29) ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৩৬ (বয়স ৮২)
পেশাঅভিনেত্রী, লেখিকা
কার্যকাল১৯৬২-বর্তমান
দাম্পত্য সঙ্গীভ্লাদিমির ভালুটাস্কি
পুরস্কারইউএসএসআর স্টেইট প্রাইজ (১৯৭৭)
পিপল আর্টিস্ট অব রাশিয়া (১৯৮৪)
অর্ডার অব মেরিট ফর দা ফাদারল্যান্ড (২০১১,২০০৭)
অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ (১৯৯৭)
ওয়েবসাইটদেমিডোভা রাশিয়া

আল্লা সার্জেবনা দেমিডোভা (রুশ: А́лла Серге́евна Деми́дова; জন্মঃ২৯শে সেপ্টেম্বর ১৯৩৬, মস্কো) হচ্ছেন একজন রুশ অভিনেত্রী যিনি তার মঞ্চে অভিনয়ের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। তিনি ইউএসএসআর স্টেইট প্রাইজ (১৯৭৭), পিপল আর্টিস্ট অব রাশিয়া (১৯৮৪), অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ (১৯৯৭) এবং দুইবার অর্ডার অব মেরিট ফর দা ফাদারল্যান্ড (২০১১, ২০০৭) সম্মাননায় ভূষিত হন।

জীবনী[সম্পাদনা]

আল্লা দেমিডোভা জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৬ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর মস্কো এর জামোস্কব্রেচায়-এ এবং শৈশবের শুরুর দিকটা কাটান ওসিপেঙ্কো(বর্তমানে সাদোভনিচেস্কা) স্ট্রিট এ। তার বাবা আলেক্সিভিচ দেমিডোভ হচ্ছেন রুশ ইন্ড্রাস্টি দেমিডোভ এর উত্তরাধিকারী,[১] ১৯৪১ সালে রেড আর্মিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে যোগদান করেন এবং ১৯৪৪ সালে কর্মরত অবস্থায় ওয়াসো এর কাছে নিহত হন।[২] আল্লার মা আলেক্সন্ড্রা দিমিত্রিভনা দেমিডোভা মস্কো বিশ্ববিদ্যালয় এর অর্থনিতী বিভাগে কাজ করতেন।[৩] মা এবং মেয়ে দুজনেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মস্কো এর পূর্ব দিকে ভ্লাদামির শহরে অবস্থান করেন। “আমি সেই দিনগুলোতে আমার আশেপাশের মানুষজন থেকে খুব কম ভালবাসা পেয়েছি” দেমিডোভা পরবর্তিতে বলেন।[৪] তিনি অভিনেত্রী হিসাবে যাত্রা শুরু করেন তার স্কুলেরই মঞ্চে, প্রথম সফলতার স্বাদ উপভোগ করেন।[২]

পেশাজীবন[সম্পাদনা]

যখন স্কুলে ছিলেন তখন দেমিডোভা বিখ্যাত মস্কো অভিনেত্রী তাতিয়ানা সুচেকিন-করতভার কোর্সে যোগ দেন নাট্য শিক্ষা লাভের জন্য। স্নাতক শেষে তিনি ‘বরিস সুচেকিন থিয়েটার ইনস্টিউট”এ পরীক্ষা দেন কিন্তু রচনাশৈলীর জন্য অনুত্তীর্ন হন[৪] এবং মস্কো বিশ্ববিদ্যালয় এর অর্থনীতি বিভাগে যোগ দেন। ১৯৫৯ সালে স্নাতক পরে তিনি রাজনৈতিক অর্থনীতি এর উপর বিশ্ববিদ্যালয়টির দর্শন বিভাগে শিক্ষাদান শুরু করেন।[৫][৬] তার আগে তিনি তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী থাকাকালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের থিয়েটার এ যোগদান করেন, যার প্রথমে নির্দেশনায় ছিলেন ইগর লিপস্কি এবং পরে রলান বায়কভ।[৭] পরবর্তি নির্দেশিকায় দেমিডোভা ১৯৫৮ সালে তার মঞ্চের যাত্রা শুরু করেন ‘লিডা পেট্রুসোভা’ চরিত্রে “সাচ কাইন্ড অব লাভ” নাটকে।[৮] দ্বিতীয়বারের চেষ্ঠায় সুচেকিন শিক্ষায়তনে যোগদান করেন, দেমিডোভা অভিনেত্রী আন্না অরোচকো এর ক্লাস করতে থাকেন, যিনি তাকে অভিভাবকের মত নির্দেশনা দিয়েছেন এবং হ্যামলেট এ অভিনয় করতে সুপারিশ করেছেন। সুচেকিন এ থাকা অবস্থা তিনি ভাক্তানগভ থিয়েটার এর হয়ে ‘ডেথ অব গডস’ চরিত্রে “প্রিন্সেস তুরানডট” নাটকে[৪] এবং দা কুকি নাটকে অভিনয় করেন। তখন তিনি পরাসি থিয়েটার বিশেষজ্ঞ জিন উইলার এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, পরে তিনি তাকে জিমে দেখে আমন্ত্রণ জানান ‘থিয়েটার ন্যাশনাল পপুলারি’তে যোগদানের কিন্তু তিনি সে প্রস্তাব নাকচ করে দেন।[৯] সুচেকিনে থাকাকালে তিনি “দালিয়কয়”, “দা স্ক্যান্ড্যেলাস এফেয়ার অব মিস্টার ক্যাটল এন্ড মিসেস মুন”, “ফ্রিসতে” ইত্যাদি নাটকে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেন। ১৯৫৭ সালে তিনি রূপালী পর্দায় পদার্পন করেন পরিচালক জাখার আগ্রানখো এর “লেনিনগ্রাড সিম্পনি” তে। এরপর “নাইন ইয়ারস অব ওয়ান ইয়ার”(১৯৬১), “হোয়াট’স রিলেটিভিটি থিওরি?” (১৯৬৩) এবং কমাস্ক (১৯৬৫) ছবিতে অভিনয় করেন।[১০]

১৯৬৬-১৯৭৯[সম্পাদনা]

১৯৬৬ সালে দেমিডোভা ডেলাইট স্টার এর মূল ভূমিকায় অভিনয় করেন যেখানে তিনি একজন সাধারণ মহিলা কিন্তু কবি চরিত্রে অভিনয় করেন।.[১১] ১৯৬৮ সালে দেমিডোভা ছয়টি ছবিতে অভিনয় করেন যার মধ্যে হ্যামলেটও ছিল। হ্যামলেট এর সাফল্যের পর দেমিডোভার কাছে অসংখ্য কাজের প্রস্তাব আসতে লাগল কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তিনি হতাস হন যে পরিচালকরা তার মঞ্চ ব্যক্তিত্বকে কাজে লাগাতে চায়।[১২][১৩]

আশির দশক[সম্পাদনা]

আশির দশকের শুরুতে তার নিজের কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান করতে লাগলেন, আবৃত্তির সাথে মঞ্চ অভিনয়ও ছিল, যার কয়েকটি সোভিয়েত টিভিতে দেখানো হয় এবং সেগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।[১৪]

নব্বইয়ের দশক[সম্পাদনা]

১৯৯২ সালে তিনি স্পোক্লেস 'ইলেক্ট্রা' নাটকে ইলেক্ট্রা চরিত্রে গ্রীসের এথেন্সে অভিনয় করেন। যেটি বেশ প্রশংসিত হয়।[১৫] ১৯৯২ এর দিকে তিনি নিজের একটি থিয়েটার খুলেন।[১৬] নব্বই দশকে তাকে কিছু চলচিত্রেও অভিনয় করতে দেখা যায়। তিনি বরিস সুচেকিব থিয়েটার ইনস্টিউটে (সম্মানী নিতে অস্বীকৃতি জানান) দুই বছর শিক্ষকতা করেন এবং পরে তা ত্যাগ করেন তার তরুণ ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে সাড়া না পাওয়ায়। এর প্রভাবে তিনি বলেন যে শুধুমাত্র রাশিয়া নয় সারাবিশ্বের থিয়েটার এখন সঙ্কটে, ফলে তিনি সকল প্রকার মঞ্চ থেকে অব্যাহতি দেন।[১৭]

২০০০-বর্তমান[সম্পাদনা]

২০০০-২০০২ সালের মধ্যে দেমিডোভকে পর্দায় দুইবার দেখা যায়, লরা লইনস চরিত্রে রুশ টিভি সিরিয়াল “রিমেম্ভারিং শার্লক হোলমস” এবং পরে এলসা চরিত্রে “লেটারস টু এলসা” ছবিতে। ২০০৫ সালে তিনি দা টার্নার ছবিতে অভিনয় করেন, যার জন্য তিনি সেরা অভিনেত্রী হিসাবে নিকা এওয়ার্ড এবং গোল্ডেন ঈগল এওয়ার্ড জেতেন।[১৮] ২০০৮ সালে তিনি বলেন যে চলচিত্রে তার আর কোন আগ্রহ নেই।[১৯] ২০০০ সাল থেকে আল্লা দেমিডোভা তার কাব্য নাট্য মঞ্চায়িত করে আসছেন রাশিয়া, ইউক্রেন, পোলেন্ড, ইসরায়েল ইত্যাদি দেশসমূহে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি থিয়েটার এর উপর নয়টি বই প্রকাশ করেন।[১][২]

পুরুষ্কার এবং সম্মাননা[সম্পাদনা]

২০১১ সালে আল্লা দেমিডোভা অর্ডার ফর মেরিট টু দা ফাদারল্যান্ড সম্মাননা রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ এর কাছে থেকে।
  • ইউএসএসআর স্টেইট প্রাইজ (১৯৭৭)
  • পিপল আর্টিস্ট অব দা আরএসএফএসআর(১৯৮৪)
  • দা স্টেইনিস্লাভস্কি এওয়ার্ড (১৯৯৩)
  • অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ (১৯৯৭) –রাজ্যের প্রতি সেবা এবং জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা বাড়ানোয় গুরুত্বপুর্ণ অবদান রাখার জন্য, শিল্প এবং সংস্কৃতিতে অনেক বছরের সক্রিয়তার জন্য
  • দা প্রেসিডেন্ট অব দা রুশ ফেডারেশন’স প্রাইজ (২০০০)-শিল্পকলা এবং সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য।
  • নিকা এওয়ার্ড, গোল্ডেন ঈগল এওয়ার্ড (২০০৫)
  • অর্ডার অব মেরিট ফর দা ফাদারল্যান্ড
    • চতুর্থ শ্রেণী(২০০৭)
    • তৃতীয় শ্রেণী (২০১১)
  • দা ‘আইডল’ এওয়ার্ড (২০০৯)
  • রুশ অব দা ইয়ার ন্যাশনাল এওয়ার্ড (২০১১)[২০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Lyubov Lebedina। "She Ages Beautifully Too"। www.demidova.ru। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১০ 
  2. Shenderova, Alla। "Alla Demidova. Biography"। www.demidova.ru। ১৩ এপ্রিল ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১০ 
  3. Rasskazova, Tatyana. Alla With a Doggie. www.demidova.ru.
  4. Demidova, A.S. One's Memory Running Line Eksmo-Press. 2003.
  5. ইউটিউবে Alla Demidova. As the Night Time Approaches. Part. 1.
  6. Matizen, Victor। "Actress Alla Demidova. First Royalties Paid me a Shoe-maker."। Novyie Izvestiya। ২০১১-০৮-১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১০ 
  7. Arefyeva, Anastasiya। "Demidova, Alla Sergeevna"। Krugosvet (Around the World) Encyclopedia (Russia)। ২ এপ্রিল ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১০ 
  8. "Alla Demidova in Theatre"। www.demidova.ru.। ২৮ মার্চ ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১০ 
  9. Novikova, L. Alla Demidova: "I’ve been befriended by real geniuses" – Kultura (newspaper, Russia), 2006.
  10. Fedorovsky, D. Alla Demidova: 'Why do I want to play Hamlet'. Yunost, August 1968, No.8 issue
  11. "The Other Cinema. Alla Demidova"। www.inoekino.ru। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মে ২০১০ 
  12. "Vladimir Vengerov"। funeral-spb.narod.ru। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১০ 
  13. Shakh-Azizova, Т. (১৯৭১–১৯৭২)। ""Tchayka" by Alla Demodova"। Ekran (The Screen) magazine। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০১০ 
  14. Moskvina, Tatyana (১৯৯৭)। "The Lady at Winter (All Stand Still! compilation)"। Amphora Publishers, Saint Petersburg। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১০ 
  15. Shvydkoy, Mikhail (১৪ অক্টোবর ১৯৯২)। "What's That Electra to Us?"। Literaturnaya Gazeta, No.42 (5419)। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০১০ 
  16. Vengerova, Ella (১১–১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩)। "Theatre Without Catharsis"। Ekran y Stsena (Screen and Scene, newspaper), No. (161)। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০১০ 
  17. Dolin, Anton. Alla Demidova in The Tuner. www.demidova.ru.
  18. Bykov, Dmitry (২৮ সেপ্টেম্বর – ৪ অক্টোবর ২০০৬)। "To Play for Dionis"। Rossiya (newspaper)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০১০ 
  19. Kutlovskaya, Yelena (২৩ মে ২০০৮)। "Talent Vs. Character."। Nezavisimaya Gazeta। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১০ 
  20. «Россиянин года» на сайте Российской Академии бизнеса и предпринимательства

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]