আবু সয়ীদ আইয়ুব
আবু সয়ীদ আইয়ুব | |
|---|---|
| জন্ম | ১৪ এপ্রিল ১৯০৬ কলকাতা, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ) |
| মৃত্যু | ২১ ডিসেম্বর ১৯৮২ (বয়স ৭৬) কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ |
| পেশা | দার্শনিক, সাহিত্য সমালোচক,লেখক, অধ্যপাক |
| ভাষা | বাংলা, ইংরাজি, উর্দু |
| শিক্ষা | সেন্ট জেভিয়ার'স কলেজিয়েট স্কুল, কলকাতা |
| শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান | প্রেসিডেন্সি কলেজ, কলকাতা |
| বিষয় | দর্শন,পদার্থবিজ্ঞান |
| উল্লেখযোগ্য রচনা | আধুনিকতা ও রবীন্দ্রনাথ, পান্থজনের সখা, পথের শেষ কোথায় |
| উল্লেখযোগ্য পুরস্কার | সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (১৯৭০), রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৭০), আনন্দ পুরস্কার(১৯৭৬), দেশিকোত্তম (১৯৮০), মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা (২০১৩). |
| দাম্পত্যসঙ্গী | গৌরী আইয়ুব |
| সন্তান | ১ |
আবু সয়ীদ আইয়ুব (১৯০৬ - ২১ ডিসেম্বর, ১৯৮২) ছিলেন একজন ভারতীয় বাংলা সাহিত্য সমালোচক, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, দার্শনিক, সাহিত্যপ্রেমী ও রবীন্দ্রকাব্য এবং সঙ্গীতের রসজ্ঞব্যাখ্যাতা।[১] তিনি বাংলা ভাষায় আধুনিকতা ও রবীন্দ্রনাথ গ্রন্থ লিখে ১৯৭০ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।[২] এছাড়া রবীন্দ্র পুরস্কার পেয়েছেন। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশিকোত্তম উপাধি লাভ করেন।
জন্ম ও কৈশোর
[সম্পাদনা]আবু সয়ীদ আইয়ুবের জন্ম কলকাতায়।[২] তার পিতার নাম আবুল মকারেদ আব্বাস। তার পিতা বড়লাটের করণিক হিসেবে কাজ করতেন। মাতা ছিলেন আমিনা খাতুন। তার অবাঙালি পরিবার তিন পুরুষ ধরে কলকাতায় বাস করেও বাংলা ভাষা ও বাঙালি সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন না। কিশোর আইয়ুব উর্দু পত্রিকা কাহকুশান-এ রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি পড়ে এমন মুগ্ধ হন যে, ষোল বছর বয়সে বাংলা শেখেন।[১]
শিক্ষাজীবন
[সম্পাদনা]আবু সয়ীদ আইয়ুব পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে এম.এসসি পড়েন। এই সময়েই কিছুদিন সি. ভি. রমণের সঙ্গে গবেষণার সুযোগ পান। অসুস্থতার জন্য এম.এসসি পরীক্ষা দেওয়া হয় নি। পরের বছর দর্শন বিভাগের ছাত্র হন। ১৯৩৩ সনে দর্শনশাস্ত্রে এম.এ পাস করার পর হোয়াইটহেড এর ফিলসফি অব বিউটি-এর গবেষণা করেন।[১] শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দর্শন বিভাগে নিজাম অধ্যাপক হয়ে স্বল্পকাল অধ্যাপনা করেন। সেখানে তার ছাত্রী ছিলেন দর্শনের প্রখ্যাত অধ্যাপক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের কন্যা গৌরী দত্ত। ১৯৫৪ সালে আবু সৈয়দ আইয়ুব ও গৌরী দত্তের বিবাহ হয়। এই অসমবয়সী আন্তঃধর্মীয় বিবাহ সে সময় আলোড়ন ফেলেছিল এবং গৌরীকে দত্তকে তার পিতা চিরকালের মত ত্যাগ করেন। তবে আবু সয়ীদ আইয়ুব ও গৌরী আইয়ুব দত্ত ছিলেন কলকাতার বিদ্বজন সমাজের এক সম্ভ্রান্ত দম্পতি। গৌরী আইয়ুব দত্ত ছিলেন বিশিষ্ট অধ্যাপিকা, শিক্ষাবিদ ও লেখিকা। তাঁদের একমাত্র সন্তান, পুত্র ডঃ পুষান আইয়ুব মুম্বইয়ে টাটা ইন্সটিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক।
সাহিত্যচর্চা
[সম্পাদনা]আবু সয়ীদ আইয়ুবের সাহিত্যকর্মে তার স্ত্রী গৌরীর সহায়তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৩৪ সালের দিকে পরিচয় সাহিত্যগোষ্ঠীর সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। তার প্রথম বাংলা প্রবন্ধ বুদ্ধিবিভ্রাট ও অপরোক্ষানুভূতি এই পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে কবিতা ও চতুরঙ্গ পত্রিকায় প্রবন্ধ লিখেছেন।[১]
রচিত গ্রন্থ
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 5 সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, সংশোধিত ও সংযোজিত পঞ্চম সংস্করণ, দ্বিতীয় মুদ্রণ, নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ৭৪-৭৫, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
- 1 2 "আইয়ুব, আবু সয়ীদ"। বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
- ১৯০৬-এ জন্ম
- ১৯৮২-এ মৃত্যু
- বাঙালি লেখক
- বাঙালি চিন্তাবিদ
- বাঙালি দার্শনিক
- সাহিত্য অকাদেমী পুরস্কার বিজয়ী
- রবীন্দ্র পুরস্কার বিজয়ী
- ২০শ শতাব্দীর ভারতীয় অ-কল্পকাহিনী লেখক
- বাঙালি মুসলিম
- ২০শ শতাব্দীর বাঙালি
- ২০শ শতাব্দীর ভারতীয় দার্শনিক
- ২০শ শতাব্দীর ভারতীয় অনুবাদক
- ভারতীয় সাহিত্য সমালোচক
- বাংলা ভাষার লেখক
- কলকাতার লেখক
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
- বাংলা ভাষায় সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার বিজয়ী
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক