বিষয়বস্তুতে চলুন

আফিম যুদ্ধ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আফিম যুদ্ধসমূহ
অপমানের শতাব্দীর অংশ
প্রথম আফিম যুদ্ধে নৌযুদ্ধ (বামে), পালিকিয়াও যুদ্ধ (ডানে)
তারিখ
অবস্থান
ফলাফল
অধিকৃত
এলাকার
পরিবর্তন
বিবাদমান পক্ষ
প্রথম আফিম যুদ্ধ: দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধ: চিং চীন

আফিম যুদ্ধ (সরলীকৃত চীনা: 鸦片战争; প্রথাগত চীনা: 鴉片戰爭 Yāpiàn zhànzhēng) ছিল ১৯-শতকের মাঝামাঝি সময়ে চীন এবং পশ্চিমা শক্তিগুলির মধ্যে সংগঠিত দুটি দ্বন্দ্ব।

প্রথম আফিম যুদ্ধ ১৮৩৯ থেকে ১৮৪২ পর্যন্ত চীন ও ব্রিটেনের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। আফিম নিষিদ্ধ করার জন্য চীনা সরকারের প্রচারাভিযানের ফলে এই যুদ্ধের সুত্রপাত ঘটেছিল। এর ফলে ব্রিটিশ বণিক এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মালিকানাধীন আফিমের মজুদ ধ্বংস করা হয়েছিল। ব্রিটিশ সরকার চীন সরকারকে ক্ষতিপূরণ দিতে এবং আফিম ব্যবসার অনুমতি দিতে বাধ্য করার জন্য একটি নৌ অভিযান পাঠিয়ে এর প্রতিক্রিয়া জানায়।[] দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধ ১৮৫৬ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত চীনের বিরুদ্ধে ব্রিটেন এবং ফ্রান্স দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। এর ফলে চীনে আফিম বৈধতা পায়।[]

ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সামরিক প্রাধান্যের কারণে প্রতিটি যুদ্ধে তারা চীনের সেনাবাহিনীর উপর সহজেই বিজয় অর্জন করে, যার ফলে চীনকে অসাম্য চুক্তিসমূহ স্বাক্ষরে বাধ্য করা হয়। এসব চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপীয় শক্তিগুলো লাভজনক শুল্ক, বাণিজ্য সুবিধা, ক্ষতিপূরণ ও অঞ্চল অধিগ্রহণ করে। এই দুটি যুদ্ধ এবং অপমানের শতাব্দীজুড়ে আরোপিত বিভিন্ন চুক্তি চীনা সরকারের কর্তৃত্ব দুর্বল করে এবং দেশকে নির্দিষ্ট কিছু চুক্তিভুক্ত বন্দরে—যেমন শাংহাই—পশ্চিমা বণিকদের জন্য উন্মুক্ত করতে বাধ্য করে।[][] এছাড়াও, হংকং অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যা ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণে ছিল।

প্রথম আফিম যুদ্ধ

[সম্পাদনা]

প্রথম আফিম যুদ্ধ ১৮৩৯ সালে চীনব্রিটেনের মধ্যে শুরু হয়, যা বাণিজ্যিক অধিকার (বিশেষ করে মুক্ত বাণিজ্যের অধিকার) এবং চীনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্রিটেনের কূটনৈতিক মর্যাদা নিয়ে সংঘটিত হয়। আঠারো শতকে, চীন ইউরোপের সাথে বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত উপভোগ করত; তারা চীনামাটির বাসন, রেশম এবং চা রপ্তানি করে এর বিনিময়ে রূপা আমদানি করত। আঠারো শতকের শেষ দিকে, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা প্রেসিডেন্সি অঞ্চলে আফিম চাষ সম্প্রসারণ করে এবং তা ব্যক্তিগত বণিকদের কাছে বিক্রি করে, যারা আফিম চীনে নিয়ে গিয়ে গোপনে চীনা চোরাকারবারিদের কাছে বিক্রি করত।[] ১৭৯৭ সালের মধ্যে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতি বছর ৪,০০০টি আফিমের বাক্স (প্রত্যেকটির ওজন ছিল ৭৭ কেজি) ব্যক্তিগত বণিকদের কাছে বিক্রি করত।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Chen, Song-Chuan (১ মে ২০১৭)। Merchants of War and Peace। Hong Kong University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৮-৮৩৯০-৫৬-৪
  2. Feige1, Miron2, Chris1, Jeffrey A.2 (২০০৮)। "The opium wars, opium legalization and opium consumption in China"Applied Economics Letters১৫: ৯১১–৯১৩ Scopus এর মাধ্যমে।{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  3. Taylor Wallbank; Bailkey; Jewsbury; Lewis; Hackett (১৯৯২)। "A Short History of the Opium Wars"Civilizations Past And Present। Chapter 29: "South And East Asia, 1815–1914" Schaffer Library of Drug Policy এর মাধ্যমে।
  4. Kenneth Pletcher (১৬ এপ্রিল ২০২৪)। "Chinese history: Opium Wars"Encyclopædia Britannica Online
  5. "Opium trade – History & Facts"Encyclopedia Britannica (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০১৮
  6. Hanes, William Travis III; Sanello, Frank (২০০৪)। The Opium Wars: The Addiction of One Empire and the Corruption of Another। United States: Sourcebooks। পৃ. ২১, ২৪, ২৫আইএসবিএন ৯৭৮-১৪০২২০১৪৯৩