আনুষ্ঠানিক শিক্ষা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

আনুষ্ঠানিক শিক্ষা বলতে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ধারাবাহিক এবং ক্রম উচ্চস্তরে বিন্যস্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে বোঝানো হয়। আনুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থার একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো থাকে। শিক্ষার্থী একটি বয়সে আনুষ্ঠানিক উপায়ে শিক্ষা অর্জন শুরু করে এবং ধারাবাহিকভাবে ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে থাকে।

আনুষ্ঠানিক শিক্ষার কাঠামো স্তর[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের আলোকে ১৯৭৭ সালে প্রণীত হয় আনুষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচী।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

(Formal Education)- Part 2 আনুষ্ঠানিক শিক্ষা মূলত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক। অর্থাৎ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক নির্ধারিত শিক্ষাক্রম ভিত্তিক যে শিক্ষা ধারা প্রবর্তিত হয়েছে তাকেই আনুষ্ঠানিক শিক্ষা বা Formal Education বলে। যেমন: স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও ইউনিভার্সিটির শিক্ষা ইত্যাদি। শিক্ষার ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পৃথিবীতে প্রথম ধর্মালয় কেন্দ্রিক আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তখনকার শিক্ষা ছিল ধর্মশিক্ষা। ধর্মগুরুগণ তা পরিচালোনা করতেন। প্রাচীন রাজা, বাদশা, সম্রাটগণ তার পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। প্রাচীন গ্রিক, রোমান, মিশরীয়, চৈনিক, পারস্য ও ভারতীয় সভ্যতায় এ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থার নজীর পাওয়া যায়। এর আরো অনেক পরে আধা ধর্মীয় এবং তার পরবর্তীতে পার্থিব শিক্ষার প্রচলন হয়। ধর্মীয় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক পার্থিব শিক্ষা শুরু হয় প্রাচীন গ্রিকের এথেন্স নগরীতে মহান গ্রিক দার্শনিক প্লেটো এর মাধ্যমে। তিনি ছিলেন সক্রেটিসের সুযোগ্য শিষ্য। সক্রেটিসের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুদন্ডের পর তার সুযোগ্য শিষ্য এথেন্স রাজপুত্র প্লেটো, মানুষের মুখে মুখে থাকা সক্রেটিসের জ্ঞান দর্শনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চর্চা করার জন্য এথেন্সে প্রতিষ্ঠা করেন পৃথিবীর প্রথম শিক্ষালয় "Oucadamy (অ্যাকাডেমি)"। প্লেটো নিজেই ছিলেন এ অ্যাকাডেমির অধক্ষ। পরবর্তীতে প্লেটোর সুযোগ্য শিষ্য এরিস্টটল প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার লীলাভূমিতেই প্রতিষ্ঠা করেন, পৃথিবীর প্রথম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় "লাইসিয়াম (Lycium)"। যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানচর্চার জন্য আসতো। এরপর রোমান, পারস্য ও মিশরীয় সভ্যতার ক্রমবিনর্তনের মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে ইউরোপীয় সভ্যতার বিস্তার ঘটে। যেখান থেকে আধুনিক School, College, University এবং Madrasa ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। পরবর্তিতে এগুলোই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। যাদেরকে আমরা বর্তমানে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতিষ্ঠান রুপে গ্রহন করছি।