অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি
প্রতিষ্ঠাকালজুলাই ২০১৩; ৫ বছর আগে (2013-07)
অবস্থান
ওয়েবসাইটbangladeshworkersafety.org

অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি, যেটি "অ্যালায়েন্স" নামেও পরিচিত, বিশ্বের ২৮ টি বিখ্যাত ব্র্যান্ডের সমন্বয়ে গঠিত একটি পাঁচ বছর মেয়াদী সংস্থা, যারা বাংলাদেশের পোশাক কারখানার শ্রমিকদের শ্রম নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করবে, এটি রানা প্লাজার পরে গঠিত হয়। সম্মিলিতভাবে, অ্যালায়েন্স সদস্যরা বিশেষত উত্তর আমেরিকার আমদানিকারক, যারা বাংলাদেশের ৭০০+ কারখানা থেকে তৈরি পোশাক আমদানি করে থাকে।

পটভূমি[সম্পাদনা]

রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পরে ওয়ালমার্ট অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হয়। কাঠামোগত সমস্যার কারনে রানা প্লাজার দুর্ঘটনার আগে থেকেই মনসুন এথিকাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভ -এর সদস্য ছিল।[১][২]

এই ভবনে আলাদা পোশাক কারখানার ৫,০০০ কর্মী, কয়েকটি দোকান, এবং একটি ব্যাংক ছিল।[৩] এই কারখানাগুলি যেসব ব্রান্ডের জন্য পোশাক তৈরি করত, তার মধ্যে ছিল "বেনেত্তন",[৪] মনসুন,[৫] বনমার্চে,[৬] দ্যা চিল্ড্রেন'স প্লেস, এল কোর্টে ইঙ্গলস,[৭] জো ফ্রেস,[৪] মাঙ্গো (বস্ত্র),[৬] মাটাল্যান,[৬][৮] প্রাইমার্ক,[৯] এবং ওয়ালমার্ট.[১০][১১]

অ্যালায়েন্স গঠন[সম্পাদনা]

মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান "বাইপার্টিসান পলিসি সেন্টার" -এর উদ্যোগে, সাবেক মার্কিন সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা সিনেটর জর্জ জে. মিশেল এবং সাবেক সিনেটর অলিম্পিয়া স্নো-র সাথে আলোচনার মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর গঠন প্রক্রিয়ার যুক্ত করা হয়, পোশাক শিল্পের কোম্পানি এবং স্টেকহোল্ডারদের, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকার, নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক এনজিও এবং নাগরিক সমাজের সদস্য এবং বাংলাদেশের শ্রমিক সংগঠন। ২০১৩ সালের ১০ জুলাই, বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি ইনিশিয়েটিভ ঘোষণা করা হয়। ইনিশিয়েটিভ একটি বাধ্যতাবাধকতা , যেটি পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা, আগুন এবং ভবন নিরাপত্তা পরিদর্শন, কর্মী প্রশিক্ষণ, এবং কর্মী ক্ষমতায়নের উপর নিবদ্ধ।

অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটির স্বাধীন চেয়ারপারসন হিসেবে নির্বাচিত হন সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি এলেন টাউশার।

অ্যালায়েন্সের প্রধান কাজ[সম্পাদনা]

  • অ্যালায়েন্স কর্ম পরিকল্পনা[১২]
  • অ্যালায়েন্স সময়রেখা[১৩]
  • কোম্পানীর জন্য সদস্য চুক্তি[১৪]
  • অ্যালায়েন্স নিয়মকানুন[১৫]
  • কারখানা পরিদর্শন, প্রতিকার, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য কর্মী ক্ষমতায়ন উদ্যোগ সম্পরকিত তথ্য। অ্যালায়েন্স পরিসংখ্যান

বাংলাদেশে অ্যালায়েন্সের কর্মকান্ড[সম্পাদনা]

কারখানা পরিদর্শন ও প্রতিবেদন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডের (BNBC) সুপারিশ মেনে নিয়ে অ্যালায়েন্স একটি সর্বজনীন অগ্নি ও কাঠামোগত নিরাপত্তা স্ট্যান্ডার্ড/মানদণ্ড তৈরি করেছে, যেখানে কিছু ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হয়েছে। এই মানদণ্ড তৈরির উদ্দেশ্য ছিল সকল সদস্য কারখানায় যেন একি নিরাপত্তা থাকে। এই মানদণ্ড যৌথভাবে তৈরি করেছে অ্যালায়েন্স এবং আকর্ড -এর কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল। এই মানদণ্ডটি বুয়েট কতৃক তৈরিকৃত মানদন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা হয়েছে।[১৬]

অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকা থেকে অগ্নি ও কাঠামোগত নিরাপত্তার একটি স্বতন্ত্র কমিটি করেছে যারা অগ্নি ও কাঠামোগত নিরাপত্তার বিশ্বাসযোগ্য কর্তৃপক্ষ। এই বিশেষজ্ঞ কমিটির দায়িত্ব অ্যালায়েন্স স্ট্যান্ডার্ড বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষন করা, যার মধ্যে আছে যোগ্য পরিদর্শক নিয়োগ, প্রতিকারের অবস্থা দেখার জন্য কারখানা পরিদর্শন এবং পরিদর্শন প্রতিবেদন নিরীক্ষন। ১০ই জুলাই ২০১৪ সালে অ্যালায়েন্স সকল কারখানা পরিসরশনের কথা ঘোষণা করে।

এই স্ট্যান্ডার্ড সব অ্যালায়েন্স কারখানা মূল্যায়নে ব্যবহৃত হয়। পরিচালনা পরিষদ ষাণ্মাসিকভাবে তাদের কাজের অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করে।[১৭]

কর্মী অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে অ্যালায়েন্স একটি জরিপ চালায়, যেখানে ২৮টি কারখানার ৩,২০০ জনেরও বেশি শ্রমিকের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। এছাড়াও বাংলাদেশের তিনটি অঞ্চলে অগ্নি ও অন্যান্য স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে ১০১ জনের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়।

এই জরিপের উদ্দেশ্য ছিল স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুকির বর্তমান অবস্থা অনুধাবন করা এবং শ্রমিকদের চাহিদা সম্পর্কে অবগত হওয়া যাতে কারখানাতে ঝুকি কমানো যায়। এটি প্রশিক্ষন কারিকুলাম তৈরিতেও সাহায্য করে।

স্থানীয় কার্যক্রম[সম্পাদনা]

২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর, অ্যালায়েন্স বাংলাদেশে অফিস চালু করে।[১৮] ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারী অনুযায়ী, ঢাকা অফিস স্টাফ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। ঢাকা অফিসের সকল কর্মী বাংলাদেশি যাদের বহু বছর ধরে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প সম্পর্কে অভিজ্ঞতা রয়েছে। মার্চ ২০১৪ সালে এই দলে যোগ দেয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিভিন্ন বিভাগের ব্যাবস্থাপক এবং অফিস সহকারী।

অ্যালায়েন্স পরিচালনা পদ্ধতি[সম্পাদনা]

পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব - সদস্যদের কমপ্লায়েন্স অনুসরন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ, যার মধ্যে আছে আর্থিক সীমাবদ্ধটা পুরন করা, স্ব-নির্ধারিত পরিদর্শন সময়সীমা অরজন করা, তথ্য-ভাগ এবং কর্মী প্রশিক্ষণ চুক্তি তদারক করা।

বোর্ডের ক্ষমতা আছে সম্ভাব্য নন-কমপ্লায়েন্স পরিদর্শন করার, এবং দুই-তৃতীয়াংশের সর্বাধিক ভোটের মাধ্যমে অপরাধমূলক কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন, এমনকি অ্যালায়েন্স সদস্যপদ স্থগিত[১৫]

পরিচালনা পরিষদ[সম্পাদনা]

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. "Ethical Trading"Monsoon (ইংরেজি ভাষায়)। জানুয়ারি ৩০, ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  2. "About ETI | Ethical Trading Initiative" (ইংরেজি ভাষায়)। Ethicaltrade.org। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ৭, ২০১৫ 
  3. Zain Al-Mahmood, Syed; Smithers, Rebecca (এপ্রিল ২৪, ২০১৩)। "Bangladesh building collapse kills at least 76 garment workers"The Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। London। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ২৪, ২০১৩ 
  4. O'Connor, Clare। "'Extreme Pricing' At What Cost? Retailer Joe Fresh Sends Reps To Bangladesh As Death Toll Rises"Forbes (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ২৬, ২০১৩ 
  5. "Bangladesh Building Collapse: Factory 'Supplied High Street Fashion Retailers'" (ইংরেজি ভাষায়)। The Huffington Post UK। এপ্রিল ২৪, ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ৭, ২০১৫ 
  6. Smithers, Rebecca (এপ্রিল ২৯, ২০১৩)। "Benetton admits link with firm in collapsed Bangladesh building"The Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। London। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ২৬, ২০১৩ 
  7. Greenhouse, Steven (মে ১৩, ২০১৩)। "Major Retailers Join Bangladesh Safety Plan"The New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। 
  8. Nelson, Dean; Bergman, David (এপ্রিল ২৫, ২০১৩)। "Scores die as factory for clothing stores collapses"The Irish Independent (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ২৬, ২০১৩ 
  9. Alam, Julhas (এপ্রিল ২৪, ২০১৩)। "At least 87 dead in Bangladesh building collapse"USA Today (ইংরেজি ভাষায়)। Associated Press। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ২৪, ২০১৩ 
  10. Greenhouse, Steven (মে ১৪, ২০১৩)। "Wal-Mart Announces Its Own Factory Safety Plan in Bangladesh"The New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। 
  11. Johnson, Kay; Alam, Julhas (এপ্রিল ২৬, ২০১৩)। "Major Retailers Rejected Bangladesh Factory Safety Plan"Huffington Post (ইংরেজি ভাষায়)। এপ্রিল ২৭, ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ২৭, ২০১৩ 
  12. "The Alliance for Bangladesh Worker Safety" (PDF) (ইংরেজি ভাষায়)। Bangladeshworkersafety.org। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ৭, ২০১৪ 
  13. "Milestones : A Five-Year Commitment" (PDF) (ইংরেজি ভাষায়)। Bangladeshworkersafety.org। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ৭, ২০১৫ 
  14. "Members Agreement" (PDF) (ইংরেজি ভাষায়)। Bangladeshworkersafety.org। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ৭, ২০১৫ 
  15. "Bylaws of the Alliance for Bangladesh Worker Safety, Inc." (PDF) (ইংরেজি ভাষায়)। Bangladeshworkersafety.org। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ৭, ২০১৫ 
  16. "National Tripartite Plan of action on Fire Safety for the Ready-Made Garment Sector in Bangladesh" (PDF) (ইংরেজি ভাষায়)। Ilo.org। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ৭, ২০১৫ 
  17. "Alliance for Bangladesh Worker Safety – Home" (ইংরেজি ভাষায়)। Bangladeshworkersafety.org। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ৭, ২০১৫ 
  18. "Alliance for Bangladesh Worker Safety Opens its Doors in Dhaka"Alliance for Bangladesh Worker Safety (ইংরেজি ভাষায়)। ডিসেম্বর ৯, ২০১৩।