অ্যান্থনি ব্রিজম্যান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
অ্যান্টনি অরল্যান্ডো ব্রিজম্যান
Anthony Orlando Bridgman 1949.jpg
১৯৪৯ সালে অ্যান্টনি ব্রিজম্যান
Bornঅ্যান্টনি অরল্যান্ডো ব্রিজম্যান
(১৯১৫-০৬-০৪)৪ জুন ১৯১৫
উত্তর স্টোক, সমারসেট, যুক্ত রাজ্য
Died১৪ জানুয়ারি ২০০৬(2006-01-14) (বয়স ৯০)
নর্থহাম, উত্তর ডেভন, যুক্ত রাজ্য
Nationalityইংলিশ
Educationম্যাগডালেন কলেজ স্কুল
Aviation career
First flight১৯৩৩
ডি হ্যাভিল্যান্ড টাইগার মথ
Air forceরয়েল এয়ার ফোর্স
Rankস্কোয়াড্রন লিডার
Awardsবিশিষ্ট উড়ন্ত ক্রস

স্কোয়াড্রন লিডার অ্যান্টনি অরল্যান্ডো ‘অস্কার’ ব্রিজম্যান, ডিএফসি (৪ জুন ১৯১৫ - ১৪ জানুয়ারী ২০০৬) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-এর সময় রয়্যাল এয়ার ফোর্স-এর বোমারু পাইলট ছিলেন। ১৯৪০ সালে তাঁকে বিশিষ্ট উড়ন্ত ক্রস প্রদান করা হয়। তৃতীয় স্তালাগ লুফ্ট-এ যুদ্ধ বন্দী অবস্থায় তিনি উডেন হর্স পলায়নের একজন সহযোগী ছিলেন।

প্রথম জীবন এবং শিক্ষা[সম্পাদনা]

ব্রিজম্যান কেনসহ্যাম-এর পাশে উত্তর স্টোক, সামারসেট-এ ১৯৫৫ সালের ৪ জুনে জন্মে ছিলেন। তাঁর প্রথম পাঁচ বছর কাটে দক্ষিণ ভারত-এর মান্নার-এ। যেখানে তাঁর বাবা এক চা বাগানের ম্যানেজার ছিলেন। এরপর তিনি ম্যাগডালেন কলেজ স্কুল-এ পড়াশোনার জন্য ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন। সেখানে বিমান চালনায় আগ্রহী হয়ে উড্ডয়ন বিদ্যা শেখেন এবং আঠারো বছর বয়স পর্যন্ত সেখানে ছিলেন। ১৯৩৪ সালে তিনি উনিশ বছর বয়সে উত্তর ইয়র্কশায়ার-এর আর.এ.এফ. থর্নাবী-র ভিত্তিতে রয়্যাল এয়ার ফোর্স-এ যোগদান করেন।

অ্যান্টনি ব্রিজম্যান ১৯৩৩ সালে আর.এ.এফ. অ্যাবিংডন-এ এক বিমান প্রশিক্ষণে ডি হ্যাভিল্যান্ড টাইগার মথ-এর সাথে।

আর.এ.এফ. পরিষেবা[সম্পাদনা]

২৩ শে মার্চ ১৯৩৬ সালে ব্রিজম্যানকে ভারপ্রাপ্ত পাইলট অফিসার হিসাবে একটি সার্ভিস কমিশন মঞ্জুর করা হয়।[১]. ১৯৩৭ সালের ২৭ শে জানুয়ারী তিনি পাইলট অফিসার হিসাবে কমিশন লাভ করেন[২] এবং ২ নম্বর গ্রুপ, বম্বার কমান্ড পদ লাভ করেন। তারপরই তাঁকে পাঠানো হয়, এডিনবার্গ-এর কাছে টার্নহাউস-এ হকার হিন্ডস দিয়ে সুসজ্জিত, ৮৩ নং স্কোয়াড্রন-এর একটি বোমারু ইউনিটে। [৩], তাঁর মধ্য-নাম অরল্যান্ডো লুকোতে, নামের ফোনেটিক প্রাথমিক অক্ষর থেকে তৈরি ‘অস্কার’-কে তাঁর ডাকনাম হিসাবে গ্রহণ করেন এবং তা দিয়েই তিনি সারা কর্মজীবন পরিচিত ছিলেন। ১৯৩৭ সালের সেপ্টেম্বরে, টার্নহাউসে তাঁর সহকর্মী জুনিয়র অফিসার ক্যাডারের জেমস পিটকের্ন-হিল এবং জন কলিয়ার কে অন্তর্ভুক্ত করে, গাই গিবসন-এর তত্ত্বাবধানে ব্রিজম্যানের দেখভাল ও শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হয়।[৪] অচিরেই তাঁরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম সুসজ্জিত ব্রিটিশ পাইলট হয়ে ওঠেন। ১৯৩৭ সালের জুনে কমান্ডিং অফিসার হিসাবে এই স্কোয়াড্রনে যোগদান করেন, ১৯৩১ সালের স্নাইডার ট্রফি বিজয়ী দলের স্কোয়াড্রন লিডার লিওনার্ড স্নাইথ।

আর.এ.এফ. থর্নাবী-তে একটি হকার হার্ট-এর সাথে অ্যান্টনি ব্রিজম্যান, ১৯৩৪।

১৯৩৪ সালের মার্চ মাসে, ৮৩ নং স্কোয়াড্রন, ৫ নং গ্রুপের, বোমারু কমান্ড-এর অংশ হিসাবে লিংকনশায়ার-এর আর.এ.এফ. স্ক্যাম্পটন-এ চলে এসেছিল, এবং ৪৯ নং স্কোয়াড্রন-এর সাথে ভাগ করে নিয়েছিল। একই বছরের মে মাসে ব্রিজম্যানকে ভারপ্রাপ্ত উড়ান কর্মকর্তা করা হয়[৫] এবং আগস্টে ফ্লাইং অফিসার পদে উন্নিত করা হয়।[৬] তারপরই হন ফ্লাইটের ভারপ্রাপ্ত ফ্লাইট কমান্ডার। ইতিমধ্যে, ৮৩ নং স্কোয়াড্রনকে সজ্জিত করা হয় নতুন হ্যান্ডলি-পেজ হ্যাম্পডেন দিয়ে। এটি একটি দ্রুতগতির, দ্বিইঞ্জিনবিশিষ্ট, মাঝারি বোমারু বহনকারী চার ক্রু বহনকারী মনোপ্লেইন। তার সঙ্কীর্ণ অভ্যন্তরটির জন্য তাকে 'উড়ন্ত স্যুটকেস' নামে ডাকা হত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ[সম্পাদনা]

১৯৩৯ সালের ডিসেম্বরে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার তিন মাস পরে, ব্রিজম্যানকে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট [৭] এবং ফ্লাইট কমান্ডার পদে উন্নিত করা হয়। ৮৩ নং স্কোয়াড্রনকে নিম্ন-উচ্চতায় বিশেষজ্ঞ হতে হয়, যাতে যথাযথ বোমা হামলার "গার্ডেনিং" করে বিভিন্ন সমুদ্রপথ এবং পোতাশ্রয়ের প্রবেশ পথগুলিতে মাইন স্থাপন করা যায়। ১৯৪০ সালের এপ্রিলে ডেনমার্কনরওয়ে-তে জার্মান আগ্রাসনের সাথে সাথে, ৮৩ নং স্কোয়াড্রন, বাল্টিক থেকে কিয়েল পর্যন্ত এবং ডেনিস বন্দরের প্রবেশপথে মাইন দিয়ে শত্রুর জাহাজ পরিবহনকে বিপর্যস্ত করে তোলে।

বিশিষ্ট উড়ন্ত ক্রস[সম্পাদনা]

বোমা হামলা থেকে ফিরে ১৯৪০ সালের ১৭/১৮ এপ্রিল রাতে স্কাগেরারাক স্ট্রেইটের প্রবেশপথে, ব্রিজম্যান এবং অস্ট্রেলিয়ার ফ্লাইং অফিসার এলিস হেনরি রস, দ্বিতীয় হ্যাম্পডেনে নতুন প্রতিষ্ঠিত অ্যালবার্গ এরোড্রোমে বিমান আক্রমণ চালান। অ্যালবার্গ ছিল ডেনমার্ক এবং নরওয়ের সেনা আদানপ্রদান ও সরবরাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এর পরপরই ২০/২১ এপ্রিলের রাতে ব্রিজম্যান ও রস, সাফল্যের সঙ্গে পরবর্তী বোমা হামলা চালান এবং তার জন্য তাঁদের বিশিষ্ট উড়ন্ত ক্রস প্রদান করে সম্মানিত করা হয়।[৮][৯][১০].

বন্দী[সম্পাদনা]

জার্মানী লন্ডন-এ বোমা হামলা চালানোর কারণে, ১৯৪০ সালের মধ্যে বার্লিন বোমারু কমান্ডের একটি স্বীকৃত লক্ষ্যে পরিণত হয়ে ওঠে। ১৯৪০ সালের ২৩/২৪ সেপ্টেম্বর রাতে বার্লিনে হামলা করার জন্য ২০০-র বেশি আর.এ.এফ. হামলাকারীদের একটি বাহিনী পাঠানো হয়। এই বিমানগুলির মধ্যে ১১ টি ছিল ব্রিজম্যানের নেতৃত্বে হ্যাম্পডেন্সের ৮৩ নং স্কোয়াড্রন।[১১].

ব্রিজম্যান যে আক্রমণ চালিয়েছিলেন, তার সাংকেতিক পরিচিতি ছিল, ফ্লাইং হ্যাম্পডেন এল৪০৪৯, কোড চিঠি ওএল-এ। কিন্তু একটি ৫০০ পাউন্ড বোমা বিমানটি ছাড়তে ব্যর্থ হয়। যখন তাঁরা ব্রেমেন-এর দক্ষিণ-পশ্চিম অতিক্রম করে, জার্মান উপকূলের অর্ধেকেরও বেশি পথ পার করে বাড়ি ফেরার পথে, এমন সময় হ্যাম্পডেনকে জার্মান সার্চলাইট দেখে ফেলে। বিমান-ধ্বংসী অস্ত্র প্রয়োগ করে তাতে অগ্নি সংযোগ করে। একটি ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বিমানটি জার্মানী-র বেথেনের কাছে , নাইদারসাচেন-এ ভেঙ্গে পড়ে। [১২][১৩]

একমাত্র প্রাণে রক্ষা পাওয়া ব্রিজম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয় [১৪] এবং ওবেরুরসেল-এ অবস্থিত দুলাগ লুফ্ট-এ পাঠানো হয়। এটি ছিল নতুন যুদ্ধবন্দীদের জমায়েত করার একটি কেন্দ্র। তারপর তাঁকে যুদ্ধবন্দী হিসাবে স্প্যানজারবার্গ দূর্গের অফল্যাগ নবম-এ পাঠানো হয়। যুদ্ধের পুরো সময়কালে তাঁকে শিবির থেকে শিবিরে স্থানান্তরিত করা হয়।

যুদ্ধ বন্দী[সম্পাদনা]

১৯৪১ সালের মার্চে, ব্রিজম্যানকে স্প্যানজারবার্গে পাঠানোর আগে তিন মাসের জন্য স্টালাগ ২০-এ স্থানান্তরিত করা হয়।[১৫]. তারপর ১৯৪২ সালের সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ড-এর জুবিন-এর ওফল্যাগ ২১-বি-তে। ১৯৪২ সালের নভেম্বরে তিনি একজন কমরেডের সাথে টানেল দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করেন। সেটি তাঁর ইন্টার্নমেন্ট কার্ডে লিপিবদ্ধ করা হয় এবং [১৬] পরবর্তীকালে দশ দিন তাঁকে কড়া নজরে রাখা হয়। এপ্রিল ১১, ১৯৪৩ সালে, ব্রিজম্যানকে স্টালাগ লুফ্ট ৩-এ স্থানান্তরিত করা হয়।[১৭].

সে বছরের অক্টোবরে তিনি বিখ্যাত উডেন হর্স পলায়ন পরিকল্পনার একটি উল্লেখযোগ্য অংশীদার ছিলেন। গোপনে টানেল খোঁড়ার লোক ও সরঞ্জাম আড়াল করার জন্য ব্যবহৃত হয় একটি জিমন্যাস্টিক ভল্টিং ঘোড়া। সেটি শিবিরে সদস্যদের অনুশীলনের নাম করে আনা হত। এই পরিকল্পনার সাফল্যের ফলে তিন জন বন্দি, লেফটেন্যান্ট মাইকেল কোডার, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট এরিক উইলিয়ামস এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট অলিভার ফিলপট নিরাপদে ইংল্যান্ডে পালিয়ে আসতে পেরেছিলেন। ১৯৪৯-এর পরবর্তীকালে এরিক উইলিয়ামস-এর বই দি উডেন হর্স প্রকাশিত হয় [১৮], এবং তার ভিত্তিতে ১৯৫০ সালে একই নামে জ্যাক লি পরচালিত, লিও জেন, ডেভিড টমলিনসন এবং অ্যান্টনি স্টিল অভিনীত একটি চলচ্চিএও নির্মিত হয়।

অ্যান্টনি অরল্যান্ডো ব্রিজম্যান, ডি.এফ.সি.-র স্টালাগ লুফ্ট তৃতীয় ইন্টার্নমেন্ট কার্ড।

স্ট্যালাক লুফ্ট তৃতীয়ের পরে বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তরের রেকর্ড তাঁর ইন্টার্নমেন্ট কার্ডে করা হয়নি। তবে সব শেষে রাশিয়া, অন্যান্য অনেকের সঙ্গে ব্রিজম্যানকে মুক্ত করে আমেরিকানদের হাতে তুলে দেয়। তারপর তাঁকে ব্রাসেলস. পাঠানো হয়। একজন ব্রিটিশ অফিসার হিসাবে, তাঁকে প্যারিসের মিত্র সদর দফতরে সমস্ত সহযোগী বন্দীদের একটি তালিকা আনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। প্যারিসে বেশ কয়েক দিন থাকার পরে, ব্রিজম্যান নৌকায় করে ইংল্যান্ডে নিউহ্যাভেন-এ ফিরেছিলেন। ফিরে আর.এ.এফ.-তে কমান্ডিং অফিসারের পদ নিতে অনিচ্ছুক হওয়ায় ১৯৪৪ সালে তাঁকে সরকারীভাবে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

১৯৫০ সালে আমেরিকান জেনিট গ্রাফকে বিয়ে করেন এবং ব্রিজম্যান তাঁর তরুণ পরিবার নিয়ে ১৯৫৬ সালে ভ্যাঙ্কুভারে চলে আসেন। সেখানে পরে তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। অবশেষে যুক্তরাজ্যে ফিরে ব্রিজম্যান গিল্ডফোর্ড-এ ড্রামরাইট প্রিন্টার্স লিমিটেড নামে একটি ছোট মুদ্রণ সংস্থা কিনে সেটিকে লন্ডনে-এর বামন্ডসি-র লং লেন-এ নিয়ে যান। ১৯৮০ সালে বিক্রি হওয়া পর্যন্ত এটি সেখানেই ছিল। তারপর অবসর নিয়ে ব্রিজম্যান কর্নওয়াল-এর পোলরুয়ান গ্রামে চলে যান। তিনি আর বিয়ে করেননি।

১৪ ই জানুয়ারী, ২০০৬ সালে ব্রিজম্যান নর্থহাম, ডিভন-এ মারা যান। রেখে যান, তাঁর তিন মেয়ে, জুডিথ, ফ্রান্সেস এবং ক্যাথলিন আর পাঁচ নাতি-নাতনি। ১৯৩৭ সালে ৮৩ নং স্কোয়াড্রনে তাঁর সহকারী অফিসারদের মধ্যে মূলত ব্রিজম্যানই সর্বশেষ পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। লিওনার্ড স্নেইথ ১৯৮৫ সালে, জন কলিয়ার ২০০০ সালে মারা গিয়েছিলেন। যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছিলেন জেমি পিটকারিন হিল, এলিস রস এবং গাই গিবসন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. [১] The London Gazette 7 April 1936, Issue: 34272 Page: 2284
  2. [২] The London Gazette 20 February 1937 Issue: 34374 Page: 1260
  3. No.83 Squadron RAF www.rafcommands.com Accessed June 1, 2020
  4. Guy Gibson#No. 83 (Bomber) Squadron
  5. [৩] The London Gazette 2 August 1938 Issue: 34537 Page: 4971
  6. [৪] The London Gazette 13 September 1938 Issue: 34551 Page: 5834
  7. [৫] The London Gazette 8 October 1940 Issue: 34964 Page: 5902
  8. [৬] The National Archives reference AIR 27/686/11
  9. [৭] The London Gazette, Supplement, 31 May, 1940, p 3256
  10. ফ্লাইট magazine June 6, 1940, pg 515
  11. [৮] The National Archives reference AIR 27/686/17 RAF Operations Record Book
  12. [৯] The National Archives reference AIR 81/3402
  13. ASN Wikibase Occurrence # 15714 aviation-safety.net Accessed June 1, 2020
  14. Flight magazine October 17, 1940, pg 334
  15. [১০] Anthony Bridgman internment card, Stalug Luft III
  16. [১১] Anthony Bridgman internment card, Stalug Luft III
  17. [১২] Anthony Bridgman internment card, Stalug Luft III
  18. আইএসবিএন ১৫১০৭৬০১৩X, 9781510760134