অ্যাঞ্জেলো কান্তন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

অ্যাঞ্জেলো কান্তন (ইংরেজী: Angelo Canton) (১৯২৫-২০১৪) একজন ইতালীয় খ্রীস্টান যাজক ও ধর্মপ্রচারক। তিনি বাংলাদেশের ১৯৫৪ সালে এসে উত্তরবঙ্গের মানুষের শিক্ষা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে গেছেন। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হোস্টেল প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদার রাখেন।

বাল্য ও শিক্ষা জীবন[সম্পাদনা]

তিনি ইতালির পিদিনো প্রভিন্সের জপ্পলা গ্রামে এক কৃষক পরিবারে ১৯২৫ সালের ১৭ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেছিলেন। চার ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তার বাবার নাম জন কান্তন ও মায়ের নাম পালমিরা মরেটো। বালক কান্তন ৫ম শ্রেণী পড়াকালেই সেমিনারী বা গঠনগৃহে চলে যান যেখানে যাজক হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। তিনি তার গ্রামের সেমিনারীয়ানদের দেখে যাজক হওয়ার জন্য উৎসাহ পান।

কান্তন ১৯৫১ সালে ইতালির মিলানে পিমে সংঘের যাজক হিসেবে অভিষিক্ত হন। তিনি খ্রিষ্টধর্ম প্রচারক হিসেবে বাংলাদেশে আসেন ১৯৫৪ সালে। এসেই আগে ইংরেজী ও বাংলা শিখেন।

কর্ম জীবন[সম্পাদনা]

রাজশাহী অঞ্চলের আন্দারকোটা গির্জায় তিনি প্রথম ২ বছর যাজক পিনোসের সাথে কাজ করেন। এর পর নাটোরের বোনীতে ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পযন্ত ২১ বছর কাজ করেন। এর পর দিনাজপুর কাথলিক ডাযোসিসের বিশপ মাইকেল ডি’রোজারিও তাকে দিনাজপুর ক্যাথিড্রালে নিয়ে যান। সেখানে তিনি গির্জার দায়িত্বসহ স্কুল ও হোস্টেলের দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তিনি ৭ বছর কাজ করেন। এরপর তিনি রংপুরের বলদিপুকুর, নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার মথুরাপুরেও ধর্মপ্রচারের কাজ করেছেন। তিনি অল্প সময়ের জন্য কাজ করেছেন পাবনার ফৈলজনা ও গাজীপুরের কেওয়াচালা ও ফাওকাল গির্জার উন্নয়নের কাজ।

সমাজ সেবা[সম্পাদনা]

বিদেশী হয়েও তিনি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের শিক্ষায় অনেক অবদান রেখেছেন। তিনি বেশ কিছু স্কুল, কলেজ, বোর্ডিং স্থাপন করেছেন। এছাড়া তিনি রাস্তা ঘাট উন্নয়নে ছিলেন সিদ্ধহস্ত।

মুক্তিযুদ্ধেও তার অবদান উল্লেখ করার মত। তিনি যুদ্ধ চলাকালিন সময়ে নাটোরের বড়াইগ্রামের সমস্ত দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারগুলোকে রক্ষার জন্য কাজ করে গেছেন। সেই সময় তিনি ছিলেন বড়াইগ্রামের বোর্নী গির্জার দায়িত্বে। তিনি গির্জায় অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা, খাবার, নিরাপত্তা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেছেন। পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলাসহ অন্যান্য এলাকার ২৫০টি হিন্দু পরিবারকে গোপনে আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তা দিয়ে পাক বাহিনী ও রাজাকারদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।

তিনি ২০১৪ সালের ২৯ জুলাই নিজ দেশে চিকিৎসাবস্থায় মারা যান।

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

• ফাদার অ্যাঞ্জেলো কান্তনের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা, ২০০১