অবমুক্তকরণ প্রক্রিয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সর্বশেষ বন্য ইউরোপীয় বাইসনটি শিকার করা হয় ১৯২৭ সালে; সাম্প্রতিক সময়ে অবমুক্তকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রজাতিটিকে পুনরায় প্রাকৃতিক পরিবেশে ছাড়া সম্ভব হয়েছে

অবমুক্তকরণ বলতে এমন একটি প্রক্রিয়াকে বোঝায় যে প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম উপায়ে কোন একটি প্রজাতির জীবকে আবদ্ধ অবস্থা থেকে বা কোন প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে অন্য কোন প্রাকৃতিক পরিবেশে স্থাপন বা ছেড়ে দেওয়াকে বোঝায়।[১] সাধারণত সেসব জীবকেই অবমুক্ত করা হয় যারা প্রাকৃতিক পরিবেশে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বা বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। এর ফলে একসময় প্রজাতিটি যে অঞ্চলে অবস্থান করত তা পুনরায় সেই অঞ্চলে টিকে থাকার সুযোগ পায়।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মানুষের বন্য পশুপাখিকে তাদের স্বাভাবিক বিচরণস্থল থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে দেয়ার যে প্রবণতা তার উল্লেখ ঐতিহাসিক নথিপত্রে পাওয়া যায়। সাধারণত অন্যত্র শিকারের সুবিধা পাবার জন্য, বা তাদের উৎপাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য অথবা প্রাকৃতিক পর্যটনক্ষেত্রে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে এমনটি করা হয়েছে। ১৯৭০ ও ৮০-র দশকে পশ্চিমা বিশ্বে বেশ কিছু জনপ্রিয় কিন্তু বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি অবমুক্ত করার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। এসব প্রজাতির মধ্যে ওমানে আরবী অরিক্স, ব্রাজিলে সোনালি সিংহ-তামারিন, সুইজারল্যান্ডে ইউরোপীয় বাইসন, উত্তর আমেরিকায় পেরেগ্রিন শাহিন অন্যতম। অর্থাৎ অবমুক্তকরণ প্রক্রিয়াটি তুলনামূলক একটি সাম্প্রতিক বিষয়। বিশ্বজুড়ে বন্য পশুপাখি রক্ষার জন্য যে সামাজিক আন্দোলন ও তার ফলে যে সচেতনতার সৃষ্টি হয়েছে, তারই ফলশ্রুতিতে নানান দেশে বিভিন্ন প্রজাতির অবমুক্তকরণ প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছে।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Campbell-Palmer, R.; Rosell, F. (২০১০)। "Conservation of the Eurasian beaver Castor fiber: an olfactory perspective"। Mammal Review40 (4): 293–312। ডিওআই:10.1111/j.1365-2907.2010.00165.x 
  2. Seddon; Armstrong, DP; Maloney, RF (২০০৭)। "Developing the Science of Reintroduction Biology"। Conservation Biology21 (2): 303–312। ডিওআই:10.1111/j.1523-1739.2006.00627.xপিএমআইডি 17391180 

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]