হুসাইন-ম্যাকমোহন চুক্তি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

হুসাইন-ম্যাকমোহন চুক্তি ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় হুসাইন বিন আলীমিশরের ব্রিটিশ হাইকমিশনার স্যার হেনরি ম্যাকমোহনের মধ্যে উসমানীয় সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলের ব্যাপারে পত্রবিনিময় (১৪ জুলাই ১৯১৫ থেকে ৩০ জানুয়ারি ১৯১৬)।[১] আরবরা ইতিমধ্যেই উসমানীয়দের বিরুদ্ধে একটি বড় আকারের বিদ্রোহের ব্যাপারে ভাবছিল। ব্রিটিশরা আরবদের বিদ্রোহে উৎসাহ দেয়ার মাধ্যমে উসমানীয় সাম্রাজ্যকে দুর্বল করে তোলে। ১৯১৪ সালের নভেম্বরের পর থেকে উসমানীয়রা জার্মানদের মিত্র ছিল।[২]

চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে আরবরা যুক্তরাজ্যের অনুকূলে বিদ্রোহ করবে এবং বিনিময়ে যুক্তরাজ্য আরব স্বাধীনতাকে স্বীকার করে নেবে। পরবর্তীতে ১৯১৬ সালের যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে অনুষ্ঠিত সাইকস-পিকট চুক্তি প্রকাশিত হয়ে পড়ার পর জানা যায় যে এ দুটি দেশ প্রতিশ্রুত আরব রাষ্ট্রকে বিভক্ত ও অধীনস্ত করার পরিকল্পনা করছে।

উৎপত্তি ও বিস্তার[সম্পাদনা]

দামেস্ক প্রটোকল[সম্পাদনা]

১৯১৯ সালের প্যারিস শান্তি সম্মেলন। বাম থেকে ডানে: রুস্তম হায়দার, নুরি আস সাইদ, ফয়সাল, ক্যাপ্টেন পিসানি (ফয়সালের পিছনে), টি ই লরেন্স, ফয়সালের সহযোগী (নাম অজ্ঞাত), ক্যাপ্টেন তাহসিন কাদরি

১৯১৪ সালে ইস্তানবুল থেকে ফেরার সময় ফয়সাল বিন হুসাইন তার পিতা হুসাইন বিন আলীকে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে এমন সংবাদ পান। এরপর তিনি গোপন আরব সংগঠন আল-ফাতাতআল-আহাদের সাথে আলাপ পুনরায় শুরু করার জন্য দামেস্ক যান। এসময় ফয়সান তাদের বিপ্লবী আন্দোলনে যুক্ত হন। এসময় তাকে “দামেস্ক প্রটোকল” নামক নথি প্রদর্শন করা হয়। এতে উল্লেখ ছিল যে আরবরা যুক্তরাজ্যের অনুকূলে বিদ্রোহ করলে যুক্তরাজ্য আরব স্বাধীনতায় সমর্থন দেবে এবং আরব অঞ্চলের সীমানা তুরস্কের দক্ষিণ সীমানায় তোরোস পর্বতমালার কাছে ৩৭তম সমান্তরাল থেকে পূর্বে পারস্যপারস্য উপসাগর পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর ও দক্ষিণে আরব সাগর নিয়ে গঠিত হবে।[৩][৪]

১৯১৪ সালের এপ্রিলের প্রথমদিকে আবদুল্লাহ বিন হুসাইন কায়রোর ব্রিটিশ হাইকমিশনারের কাছে জানতে চান যে আরবরা বিদ্রোহ করলে ব্রিটিশদের আচরণ কীরূপ হবে। ব্রিটিশরা এতে নেতিবাচক উত্তর দেয়। তবে ১৯১৪ সালের ১১ নভেম্বর জার্মানির পক্ষে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানীয়রা যোগ দেয়ায় ব্রিটিশদের নীতিতে বদল আসে।[২]

১৯১৫ সালের জুনে তাইফে হুসাইন ও তার পুত্রদের সাথে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে হুসাইন বিন আলী বিদ্রোহের বিপক্ষে অবস্থান নেন, ফয়সাল সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এবং আবদুল্লাহ কাজ শুরু করার মত প্রদান করেন ও তার পিতাকে হেনরি ম্যাকমোহন সাথে সহযোগিতা করার জন্য উৎসাহিত করেন। হুসাইন বিন আলি ১৯১৬ সালের জুনে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরুর দিন স্থির করেন এবং কায়রোর ব্রিটিশ হাইকমিশনার স্যার হেনরি ম্যাকমোহনের সাথে আলোচনা শুরু করেন।[৩]

আঞ্চলিক সংরক্ষণ[সম্পাদনা]

ম্যাকমোহন চিটি অনুযায়ী উসমানীয় সাম্রাজ্যের জেলা ও তাদের প্রশাসনিক শ্রেণিবিভাগ

১৯১৫ সালের ২৪ অক্টোবর হুসাইন বিন আলীকে লেখা হেনরি ম্যাকমোহনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে ব্রিটেন কিছু ছাড়ের মাধ্যমে স্বাধীনতায় সমর্থন দিতে সম্মতি প্রকাশ করে:

The districts of Mersina and Alexandretta, and portions of Syria lying to the west of the districts of Damascus, Homs, Hama and Aleppo, cannot be said to be purely Arab, and must on that account be excepted from the proposed limits and boundaries. With the above modification and without prejudice to our existing treaties concluded with Arab Chiefs, we accept these limits and boundaries, and in regard to the territories therein in which Great Britain is free to act without detriment to interests of her ally France, I am empowered in the name of the Government of Great Britain to give the following assurance and make the following reply to your letter: Subject to the above modifications, Great Britain is prepared to recognize and support the independence of the Arabs within the territories in the limits and boundaries proposed by the Sherif of Mecca. [৫]

প্রকাশিত ব্রিটিশ ক্যাবিনেট নথিতে ১৯১৫ সালের ১৯ অক্টোবর তারিখের একটি টেলিগ্রাম আছে। এটি স্যার হেনরি ম্যাকমোহন বৈদেশিক বিষয়ের জন্য সেক্রেটারি অব স্টেব লর্ড গ্রের কাছে নির্দেশনা চেয়ে পাঠান।[৬] ম্যাকমোহন বলেন যে আল ফারুকি নামে আবদ পার্টির এক সদস্য ধারাটি প্রস্তাব করেছে যাতে আরবের স্বাধীনতার জন্য সিরিয়ান জাতীয়তাবাদীদের দাবি পূর্ণ হয়। ফারুকি বলেন যে ফরাসিরা যদি দামেস্ক, হোমস, হামা ও আলেপ্পো দখলের চেষ্টা করে তবে আরবরা লড়াই করবে কিন্তু তিনি ধারণা করেন তারা উত্তর পশ্চিম সীমান্তের মক্কার শরিফের প্রস্তাবিত সীমানার ব্যাপারে কিছু পরিবর্তন মেনে নেবে। ফারুকির বক্তব্য ছিল: "In so far as Britain was free to act without detriment to the interests of her present Allies, Great Britain accepts the principle of the independence of Arabia within limits propounded by the Sherif of Mecca."। লর্ড গ্রে মিত্রদের রক্ষার জন্য শরিফের অনুরোধে সম্মতি দেন।

মেরোনাইট, অর্থোডক্স ও দ্রুজ জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত অঞ্চলে বৃহৎ শক্তিগুলো তখনও রেগুলামেন্টাল অরগানিক নামক আন্তর্জাতিক চুক্তি দ্বারা আবদ্ধ ছিল। ৫ ডিসেম্বর ১৯১৮ সালে সিরিয়া ও ফিলিস্তিন বিষয়ক নীতি নিয়ে যুদ্ধকালীন ক্যাবিনেট বৈঠক হয়, বলা হয় যে ফিলিস্তিনকে এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং ভবিষ্যতে স্বাধীন হবে। লর্ড কার্জন উল্লেখ করেন যে সাইকস-পিকট চুক্তিতে ফরাসিদেরকে দেয়া অধিকারের মাধ্যমে রেগুলামেন্টাল অরগানিকের ধারা ও অন্যান্য মিত্রদের যুদ্ধের লক্ষ ভঙ্গ হচ্ছে।[৭] (সাইকস পিকট চুক্তির প্রকাশিত হওয়ার পর স্যার হেনরি ম্যাকমোহনকে পদত্যাগ করতে হয়)[৮]

১৯১৭ সালের মের মাসে কূটনৈতিক উন্নয়নের ব্যাপারে ক্যাবিনেটের বিশ্লেষণে ডব্লিউ. অরমসবি-গোর যুক্তি তুলে ধরেন যে:

French intentions in Syria are surely incompatible with the war aims of the Allies as defined to the Russian Government. If the self-determination of nationalities is to be the principle, the interference of France in the selection of advisers by the Arab Government and the suggestion by France of the Emirs to be selected by the Arabs in Mosul, Aleppo, and Damascus would seem utterly incompatible with our ideas of liberating the Arab nation and of establishing a free and independent Arab State. The British Government, in authorising the letters despatched to King Hussein before the outbreak of the revolt by Sir Henry McMahon, would seem to raise a doubt as to whether our pledges to King Hussein as head of the Arab nation are consistent with French intentions to make not only Syria but Upper Mesopotamia another Tunis. If our support of King Hussein and the other Arabian leaders of less distinguished origin and prestige means anything it means that we are prepared to recognise the full sovereign independence of the Arabs of Arabia and Syria. It would seem time to acquaint the French Government with our detailed pledges to King Hussein, and to make it clear to the latter whether he or someone else is to be the ruler of Damascus, which is the one possible capital for an Arab State, which could command the obedience of the other Arabian Emirs.[৯]

পরবর্তী দশকগুলোএ ব্রিটিশ সরকার বলে এসেছে যে বেলফোর ঘোষণার সাথে ম্যাকমোহনের অঙ্গীকার অসঙ্গতিপূর্ণ নয়। ১৯২০ সালে মেজর হুবারট ইয়ং এর পর্যবেক্ষণের পর এই অবস্থানে আসা হয়। তিনি বলেন যে মূল সমঝোতা যা উভয় পক্ষেই আরবি ভাষায় লিখিত হয়েছিল তাতে ইংরেজি "ডিস্ট্রিক্ট" শব্দকে "ভিলায়েত" থেকে অনুবাদ করা হয়েছে। ভিলায়েত বলতে বোঝায় বড় আকারের একটি প্রশাসনিক জেলা। উসমানীয় সাম্রাজ্য এরূপ প্রশাসনিক বিভাগে বিভক্ত ছিল। তিনি বলেন যে "ডিস্ট্রিক্ট অব দামাস্কাস" যার মানে "ভিলায়েত অব দামাস্কাস" তা দ্বারা অবশ্যই সেই ভিলায়েত বোঝাতে যার রাজধানী দামেস্ক, অর্থাৎ সিরিয়া ভিলায়েত। এই ভিলায়েত দক্ষিণে আকাবা উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত কিন্তু ফিলিস্তিনের অধিকাংশ স্থান এর বাইরে ছিল। সরকারের ব্যাখ্যার এই দুর্বল দিকগুলো বৈদেশিক বিষয়ক সেক্রেটারি অব স্টেট লর্ড হেলিফেক্সের মেমোরেন্ডামে স্বীকার করা হয়নি, ১৯৩৯ সালে তিনি বলেন:[৫]

  • (i) the fact that the word "district" is applied not only to Damascus, &c., where the reading of vilayet is at least arguable, but also immediately previously to Mersina and Alexandretta. No vilayets of these names exist...and it would be difficult to argue that the word "districts" can have two completely different meanings in the space of a few lines.
  • (ii) the fact that Horns and Hama were not the capitals of vilayets, but were both within the Vilayet of Syria.
  • (iii) the fact that the real title of the "Vilayet of Damascus" was "Vilayet of Syria."
  • (iv) the fact that there is no land lying west of the Vilayet of Aleppo.

পররাষ্ট্র সচিবের বিশ্লেষণ নিম্নোক্ত কথা উল্লেখ করা হয়, "It may be possible to produce arguments designed to explain away some of these difficulties individually (although even this does not apply in the case of (iv)), but it is hardly possible to explain them away collectively. His Majesty's Government need not on this account abjure altogether the counter-argument based on the meaning of the word "district," which have been used publicly for many years, and the more obvious defects in which do not seem to have been noticed as yet by Arab critics."

আরব বিদ্রোহ[সম্পাদনা]

আরবরা ম্যাকমোহনের প্রতিশ্রুতিকে তাদের ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হিসেবে দেখত। লয়েড জর্জ এবং আর্থার বেলফোর যুদ্ধপরবর্তী এক আলোচনায় এই চুক্তির কথা উল্লেখ করেন। আরবরা হুসাইন বিন আলীর ছেলে ফয়সালের অধীনে একটি সামরিক বাহিনী গঠন করে। লরেন্স অব আরাবিয়া খেত ট ই লরেন্স উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আরব বিদ্রোহের সময়কার এই লড়াইয়ে আরবদের সাহায্য করেন।[৪] ১৯১৬ সালে লিখিত একটি গোয়েন্দা নথিতে লরেন্স উল্লেখ করেন যে,

আমাদের জন্য লাভজনক, কারণ এটি আমাদের তাৎক্ষনিক লক্ষ্য ইসলামি ব্লকের ভাঙন এবং উসমানীয় সাম্রাজ্যের পরাজয় ও ঐক্যবিনষ্টের দিকে এগোচ্ছে, এবং যেহেতু (শরিফ হুসাইনের) তুর্কিদের পরবর্তী গঠিত রাষ্ট্র আমাদের জন্য ক্ষতিকর হবে না ... আরবরা এমনকি তুর্কিদের চেয়েও বেশি অস্থিতিশীল। সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে তারা রাজনৈতিক মোজাইক হিসবে থাকবে যা হবে সংযোগ অসম্ভব বিদ্বেষ পরায়ণ রাজ্য।[১০]

১৯১৬ সালের জুনে আরব বিদ্রোহ শুরু হয়। প্রায় ৭০,০০০ আরব সেনার একটি বাহিনী উসমানীয়দের বিরুদ্ধে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে এর সূচনা হয়। তারা আকাবা অধিকারে অংশ নেয় এবং হেজাজ রেলওয়ে হামলা করে। এটি আরব উপদ্বীপের জন্য দামেস্ক থেকে মদিনা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পথ ছিল। জেনারেল এডমন্ড এলেনবির ইজিপশিয়ান এক্সপেডিশনারি ফোর্স এর ফলে ফিলিস্তিন ও সিরিয়ার উসমানীয় অঞ্চলে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ পায়।[১১]

ব্রিটিশদের অগ্রসরের ফলে ১৯১৮ সালের সেপ্টেম্বর মেগিড্ডোর যুদ্ধ হয় এবং ১৯১৮ সালের ৩১ অক্টোবর আত্মসমর্পণ করে।

হোগারথের বার্তা[সম্পাদনা]

কায়রোর আরব ব্যুরোর প্রধান কমান্ডার ডেভিড হোগারথকে ১৯১৮ সালের জানুয়ারি মাসে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে লেখা স্যার মার্ক সাইকসের একটি চিঠি হুসাইন বিন আলীকে পৌছে দেয়ার জন্য জেদ্দা পাঠানো হয়। এতে নিশ্চিত করা হয় যে,

The Entente Powers are determined that the Arab race shall be given full opportunity of once again forming a nation in the world. This can only be achieved by the Arabs themselves uniting, and Great Britain and her Allies will pursue a policy with this ultimate unity in view.[১২]

এবং ফিলিস্তিন ও বেলফোর ঘোষণা অনুযায়ী,

Since the Jewish opinion of the world is in favour of a return of Jews to Palestine and in as much as this opinion must remain a constant factor, and further as His Majesty's Government view with favour the realisation of this aspiration, His Majesty's Government are determined that insofar as is compatible with the freedom of the existing population both economic and political, no obstacle should be put in the way of the realisation of this ideal.[১২]

হোগারথের বার্তা ও এটি বেলফোর ঘোষণার বক্তব্যে আদৌ পরিবর্তন এনেছিল কিনা তা এখনও বিতর্কিত বিষয়।[১৩][১৪] তবে হোগারথ রিপোর্ট করেছিলেন যে হুসাইন “ফিলিস্তিনে একটি স্বাধীন ইহুদি রাষ্ট্র মেনে নেবেন না, গ্রেট ব্রিটেন এমন রাষ্ট্র চায় বলে তাকে সতর্ক করতে আমাকে নির্দেশনা দেয়া হয়নি”।

গোপন সাইকস-পিকট চুক্তি আরব সার্বভৌমত্বের জন্য হয়নি। ফরাসি ও ব্রিটিশ চুক্তি একটি "আরব প্রধানের স্বাধীন রাজ্য" ও একটি "আন্তর্জাতিক প্রশাসন" চাইছিল যা রাশিয়া, অন্যান্য মিত্র ও মক্কার শরিফের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার পর ঠিক হবে। এই চুক্তির আওতায় জায়নবাদি সংঘটনকে একটি চুক্তির মাধ্যমে নিরাপত্তার দরকার ছিল।

সাতের ঘোষণা[সম্পাদনা]

হুসাইন-ম্যাকমোহন চুক্তি, এর পরবর্তীতে জায়নবাদিদের জন্য বেলফোর ঘোষণা ও কয়েক সপ্তাহ পর বলশেভিকদের দ্বারা প্রকাশিত সাইকস-পিকট চুক্তির কারণে সাতজন সিরিয়ান গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নবগঠিত পার্টি অব সিরিয়ান ইউনিটির পক্ষে থেকে একটি মেমোরেন্ডাম জারি করেন যাতে ব্রিটিশ সরকারের কিছু বিষয় পরিষ্কার করার আবেদন জানানো হয় যার মধ্যে "আরবের চূড়ান্ত স্বাধীনতার নিশ্চয়তা" এর কথাও উল্লেখ ছিল। প্রতিউত্তরে ১৯১৮ সালের ১৬ জুন জারি করা ব্রিটিশ নীতিতে বলা হয় যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মিত্রশক্তি কর্তৃক দখলকৃত উসমানীয় সাম্রাজ্যের অঞ্চলগুলোর ভবিষ্যত সরকার শাসিতদের সম্মতিতে হবে।

ফয়সালকে এলেনবির নিশ্চয়তা প্রদান[সম্পাদনা]

১৯১৮ সালের ১৯ অক্টোবর জেনারেল এলেনবি ব্রিটিশ সরকারকে জানান যে, তিনি ফয়সালকে জানিয়েছেন যে,

official assurance that whatever measures might be taken during the period of military administration they were purely provisional and could not be allowed to prejudice the final settlement by the peace conference, at which no doubt the Arabs would have a representative. I added that the instructions to the military governors would preclude their mixing in political affairs, and that I should remove them if I found any of them contravening these orders. I reminded the Amir Faisal that the Allies were in honour bound to endeavour to reach a settlement in accordance with the wishes of the peoples concerned and urged him to place his trust whole-heartedly in their good faith.[১৫]

ইঙ্গ-ফরাসি ঘোষণা, ১৯১৮[সম্পাদনা]

১৯১৮ সালের ৭ নভেম্বর ইঙ্গ-ফরাসি ঘোষণায় দুই সরকার উল্লেখ করে যে,

The object aimed at by France and the United Kingdom in prosecuting in the East the War let loose by the ambition of Germany is the complete and definite emancipation of the peoples so long oppressed by the Turks and the establishment of national governments and administrations deriving their authority from the initiative and free choice of the indigenous populations.[১৬]

সরকারি কর্মচারী ইয়ার ক্রো যিনি ঘোষণার মূল খসড়া দেখেছেন, বলেন, “আমরা (১) আরব ত্যাগ ও (২) সিরিয়ার কোনো ফরাসিদের অধিকার করার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট বিবৃতি জারি করেছি”।[১৭]

ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার পূর্বাঞ্চল কমিটি[সম্পাদনা]

অনেক বছর পর ইতিহাসবিদ ও পন্ডিতদের অনুসন্ধানের মাধ্যমে জাতীয় আর্কাইভ থেকে পাওয়া নথিতে জানা যায় যে ফিলিস্তিন হুসাইনকে দেয়ার কথা ছিল। মন্ত্রিসভার পূর্বাঞ্চলীয় কমিটি যা ইতিপূর্বে মধ্যপ্রাচ্য কমিটি নামে পরিচিত ছিল, ১৯১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর বৈঠকে ফিলিস্তিনের ব্যাপারে সরকারের অঙ্গীকার আলোচনা করে। লর্ড কার্জন এতে সভাপতিত্ব করেন। জেনারেল জেন স্মাটস, লর্ড বেলফোর, লর্ড রবার্ট চেচিল, জেনারেল স্যার হেনরি উইলসন, চিফ অব ইম্পেরিয়াল জেনারেল স্টাফ ও বৈদেশিক কার্যালয়, ভারত অফিস, নৌসেনাবিভাগ, যুদ্ধ অফিস ও কোষাগারের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। টি ই লরেন্সও এতে উপস্থিত ছিলেন। লর্ড কার্জন বলেন,

"The Palestine position is this. If we deal with our commitments, there is first the general pledge to Hussein in October 1915, under which Palestine was included in the areas as to which Great Britain pledged itself that they should be Arab and independent in the future . . . the United Kingdom and France - Italy subsequently agreeing - committed themselves to an international administration of Palestine in consultation with Russia, who was an ally at that time . . . A new feature was brought into the case in November 1917, when Mr Balfour, with the authority of the War Cabinet, issued his famous declaration to the Zionists that Palestine 'should be the national home of the Jewish people, but that nothing should be done - and this, of course, was a most important proviso - to prejudice the civil and religious rights of the existing non-Jewish communities in Palestine. Those, as far as I know, are the only actual engagements into which we entered with regard to Palestine."[১৮]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর[সম্পাদনা]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ফিলিস্তিনের সকল অংশে শরিফ হুসাইন ও ব্রিটিশ, উভয় পক্ষে আরবদের স্বাধীনতার জন্য ইঙ্গ-আরব চুক্তির ব্যাপারে হাজারের মত ইশতেহার বিলি করা হয়।[১৯]

ফ্রান্স একটি সিরিয়ান প্রোটেক্টরেট চাইছিল। ১৯১৯ সালের শান্তি সম্মেলনে রাজা হুসাইনের পক্ষে অংশ নেয়া যুবরাজ ফয়সাল তাৎক্ষনিকভাবে আরবদের স্বাধীনতা চাননি। তিনি ব্রিটিশ মেন্ডেটের অধীনে আরব রাষ্ট্রের প্রস্তাব করেন।[২০]

সিরিয়ার স্বাধীন রাজতন্ত্র[সম্পাদনা]

১৯২০ সালের ৬ জানুয়ারি যুবরাজ ফয়সাল ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ক্লেমেনশর সাথে একটি চুক্তিতে আসেন। এর আওতায় সিরিয়ানদেরকে নিজেদের একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে একতাবদ্ধ হওয়ার কথা স্বীকার করে নেয়া হয়।[২১] ১৯২০ সালের ৮ মার্চ দামেস্কে সিরিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের একটি বৈঠকে সিরিয়ার স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করা হয়। নতুন রাষ্ট্রের মধ্যে সিরিয়া, ফিলিস্তিন, উত্তর মেসোপটেমিয়াও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফয়সালকে এর রাজা ঘোষণা করা হয়। সান রেমো সম্মেলন আহবান করা হয় এবং যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স উভয়েই সিরিয়া ও মেসোপটেমিয়ার একটি অন্তর্বর্তীকালীন স্বাধীনতা মেনে নেয় তবে তাদের প্রশাসনে সহায়তা করার জন্য মেন্ডেটের দাবি করতে থাকে। ফিলিস্তিনের অন্তর্বর্তীকালীন স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে এটিকে ক্লাস এ মেন্ডেট হিসেবে ধরা হয়েছিল।

ফ্রান্স সরাসরি সিরিয়া শাসন করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং লীগ অব নেশনসের সভায় অনুমোদনের পূর্বেই সিরিয়ার মেন্ডেট প্রয়োগ করতে চায়। ১৯২০ সালের জুনে মায়সালুনের যুদ্ধে ফরাসিরা সামরিক পদক্ষেপ নেয়। তারা স্থানীয় আরব সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং আগস্টে রাজা ফয়সালকে দামেস্ক থেকে সরিয়ে দেয়। যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনে নিজেদের মেন্ডেট প্রতিষ্ঠার জন্য লীগ অব নেশনসের সভার পূর্বেই একজন হাইকমিশনারও নিয়োগ দেয়।

লীগ অব নেশনসের মেন্ডেট[সম্পাদনা]

১৯১৬ সালের মে মাসে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্য স্বাক্ষরিত সাইকস-পিকট চুক্তি (রুশ বিপ্লবের পর বলশেভিকরা এটি মুক্ত করে দেয়) লীগ অব নেশনসের মেন্ডেট প্রক্রিয়া উল্লেখ ছিল। যুদ্ধের পর ফ্রান্স ও ব্রিটেন আরব স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিতে থাকলেও সমগ্র অঞ্চল নিজেদের শাসনাধীনে রাখার পরিকল্পনা ছিল।[২২][২৩]

যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট রবার্ট লেনসিং ১৯১৯ সালে প্যারিসে শান্তি আলোচনার জন্য আমেরিকান কমিশনের সদস্য ছিলেন। তার ভাষ্যমতে, মেন্ডেট প্রক্রিয়া ছিল আন্তর্জাতিক আইনের বাহানায় যুদ্ধের অর্জিত অঞ্চলগুলো ভাগকে ঢাকার জন্য বৃহৎ শক্তিগুলোর উপায়। অঞ্চলগুলো সরাসরি সমর্পণ করলে প্রাক্তন জার্মান ও উসমানীয় অঞ্চলগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ প্রযোজ্য হবে। তিনি এও বলেন যে জেন স্মাটস ছিলেন মূল ধারণার লেখক।[২৪]

প্যারিস শান্তি সম্মেলনে লেনসিং ড. ওয়েইজমেনকে জিজ্ঞাসা করেন যদি ইহুদিদের জাতীয় ভূমি বলতে স্বায়ত্বশাসিত ইহুদি সরকার বোঝায় কিনা। জায়নবাদি প্রতিনিধিদের প্রধান এর ব্যাপারে না সূচক উত্তর দেন।[২৫]

লরেন্সের যুদ্ধপরবর্তী কর্মকাণ্ড[সম্পাদনা]

ব্রিটিশরা শরিফ হুসাইনের সাথে চুক্তির মূল্যায়ন করছে না দেখে লরেন্স অপরাধবোধে আক্রান্ত হন তবে তিনি ফয়সালকে এই আশ্বাস দেন যে উসমানীয়দের বিরুদ্ধে লড়াই আরবদের জন্য লাভজনক হবে। ১৯১৯ সালের প্যারিসের শান্তি সম্মেলন ও ১৯২১ সালের কায়রো সম্মেলনে লরেন্স আরব স্বাধীনতার পক্ষাবলম্বন করেন। কিন্তু হুসাইন ও ফয়সালকে প্রদান করা আঞ্চলিক অখন্ডতার ব্যাপারে তার প্রতিশ্রুতি, সে সাথে ফরাসিদের প্রভাব কমিয়ে আনার ব্যাপারও শেষপর্যন্ত ফলপ্রসু হয়নি। শেষপর্যন্ত লরেন্স মেসোপটেমিয়াট্রান্সজর্ডানের জন্য গ্রহণযোগ্য মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন মঞ্জুর করতে সক্ষম হন। ব্রিটিশরা ১৯১৭ সালে জায়নিস্ট ফেডারেশনকে প্রতিশ্রুতি দেয়া ফিলিস্তিন বেসামরিক প্রশাসনের আওতায় মেন্ডেটে রেখে দেয়। হার্বার্ট স্যামুয়েল এর প্রধান ছিলেন। বাকি অঞ্চলকে ইরাক ও ট্রান্সজর্ডানে ভাগ করা হয় ও যথাক্রমে ফয়সাল ও তার ভাই আবদুল্লাহর কাছে হস্তান্তর করা হয়।[১০][২৬]

ত্রি প্রতিশ্রুত ভূমি[সম্পাদনা]

হুসাইন-ম্যাকমোহন চুক্তিতে বিস্তারিত উল্লেখ নেই কিন্তু হুসাইনের প্রস্তাবিত সীমান্তে উল্লেখ ছিল - এই বিষয়কে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

আরবদের অবস্থান ছিল "দামেস্ক, হোমস, হামা ও আলেপ্পো জেলার পশ্চিমে অবস্থিত সিরিয়ার অংশ..." ফিলিস্তিন বোঝানো যাবে না কারণ তা নামোক্ত স্থানের দক্ষিণে অবস্থিত। নির্দিষ্টভাবে আরবরা যুক্তি তুলে ধরে যে দামেস্ক ভিলায়েতের (প্রদেশ) অস্তিত্ব নেই, দামেস্ক সানজাক (জেলা) শুধু শহরের চারপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত ও অধিকন্তু ফিলিস্তিন ‘সিরিয়া আ-শাম’ ভিলায়েতের অংশ যা বিনিময় হওয়া চিঠিতে উল্লেখ ছিল না।[২৭] উভয় পক্ষে এ নিয়ে নিজস্ব যুক্তি প্রমাণ উত্থাপন করে।

লিবারেল ও লেবার সোশ্যালিস্টরা "মিত্র সরকারগুলোর সাথে গোপন চুক্তিগুলো তাদের বর্তমানরূপে পুনরায় যাচাই করতে হবে, কারণ যে কারনে এই দেশ যুদ্ধ প্রবেশ করেছে তার সাথে অপ্রাসঙ্গিক, এবং তাই গণতান্ত্রিক শান্তির পথে বাধা" শীর্ষক একটি বিবৃতির সময় হাউজ অব কমন্সে বেলফোরের সমালোচনা করা হয়।[২৮]

যুক্তরাজ্য কর্তৃক সাধিত হুসাইন-ম্যাকমোহন চুক্তি, সাইকস-পিকট চুক্তিবেলফোর ঘোষণাতে কথার গড়মিলের জন্য সৃষ্ট পরিস্থিতির উত্তরে ১৯২২ চার্চিল শ্বেতপত্রে বলা হয়[২৯],

it is not the case, as has been represented by the Arab Delegation, that during the war His Majesty's Government gave an undertaking that an independent national government should be at once established in Palestine. This representation mainly rests upon a letter dated 24 October 1915, from Sir Henry McMahon, then His Majesty's High Commissioner in Egypt, to the Sharif of Mecca, now King Hussein of the Kingdom of the Hejaz. That letter is quoted as conveying the promise to the Sherif of Mecca to recognise and support the independence of the Arabs within the territories proposed by him. But this promise was given subject to a reservation made in the same letter, which excluded from its scope, among other territories, the portions of Syria lying to the west of the District of Damascus. This reservation has always been regarded by His Majesty's Government as covering the vilayet of Beirut and the independent Sanjak of Jerusalem. The whole of Palestine west of the Jordan was thus excluded from Sir. Henry McMahon's pledge.[৩০]

১৯২২ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ অফিস থেকে স্যার জন শাকবার্গকে পাঠানো একটি চিঠিতে ম্যকমোহন লেখেন: "It was my intention to exclude Palestine from independent Arabia, and I hoped that I had so worded the letter as to make this sufficiently clear for all practical purposes. My reasons for restricting myself to specific mention of Damascus, Hama, Homs and Aleppo in that connection in my letter were: 1) that these were places to which the Arabs attached vital importance and 2) that there was no place I could think of at the time of sufficient importance for purposes of definition further South of the above. It was as fully my intention to exclude Palestine as it was to exclude the more Northern coastal tracts of Syria."[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

১৯৩৯ সালে ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত একটি কমিটি দেখতে পায় যে যুদ্ধের সময় ও যুদ্ধের পরে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে এবং এগুলোর সবগুলোকেই একসাথে অধ্যয়ন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সেক্রেটারি অব স্টেট এন্ড ফরেন এফেয়ার্স লর্ড গ্রে ১৯২৩ সালের ২৭ মার্চ হাউজ অব লর্ডসে বক্তব্য রাখেন। এতে তিনি বলেন,

" A considerable number of these engagements, or some of them, which have not been officially made public by the Government, have become public through other sources. Whether all have become public I do not know, but I seriously suggest to the Government that the best way of clearing our honour in this matter is officially to publish the whole of the engagements relating to the matter, which we entered into during the war."[৩১]

কমিটি উল্লেখ করে:

'It is beyond the scope of the Committee to express an opinion upon the proper interpretation of the various statements mentioned in paragraph 19 and such an opinion could not in any case be properly expressed unless consideration had also been given to a number of other statements made during and after the war. In the opinion of the Committee it is, however, evident from these statements that His Majesty's Government were not free to dispose of Palestine without regard for the wishes and interests of the inhabitants of Palestine, and that these statements must all be taken into account in any attempt to estimate the responsibilities which—upon any interpretation of the Correspondence—His Majesty's Government have incurred towards those inhabitants as a result of the Correspondence."[৩২]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.law.fsu.edu/library/collection/LimitsinSeas/IBS094.pdf p.8
  2. ২.০ ২.১ http://www.law.fsu.edu/library/collection/LimitsinSeas/IBS094.pdf p.7
  3. ৩.০ ৩.১ Paris, 2003, p. 24.
  4. ৪.০ ৪.১ Biger, 2004, p. 47.
  5. ৫.০ ৫.১ English version quoted in "Palestine: Legal Arguments Likely to be Advanced by Arab Representatives", Memorandum by the Secretary of State for Foreign Affairs (Lord Halifax), January 1939, UK National Archives, CAB 24/282, CP 19 (39). The original correspondence was conducted in Arabic, and various slightly differing English translations are extant.
  6. See UK National Archives CAB/24/214, CP 271 (30)
  7. See UK National Archives CAB 27/24, EC-41
  8. See CAB 24/271, Cabinet Paper 203(37)
  9. See UK National Archives CAB/24/143, Eastern Report, No. XVIII, 31 May 1917
  10. ১০.০ ১০.১ Waïl S. Hassan "Lawrence, T. E." The Oxford Encyclopedia of British Literature. David Scott Kastan. Oxford University Press 2005.
  11. "Arab Revolt" A Dictionary of Contemporary World History. Jan Palmowski. Oxford University Press, 2003. Oxford Reference Online. Oxford University Press.
  12. ১২.০ ১২.১ Report of a Committee Set up to Consider Certain Correspondence Between Sir Henry McMahon and the Sharif of Mecca in 1915 and 1916, UNISPAL, Annex F.
  13. Friedman, 2000, p. 328.
  14. Kedourie, 2002, p. 257.
  15. Report of a Committee Set up to Consider Certain Correspondence Between Sir Henry McMahon and the Sharif of Mecca in 1915 and 1916, UNISPAL, Annex H.
  16. Report of a Committee Set up to Consider Certain Correspondence Between Sir Henry McMahon and the Sharif of Mecca in 1915 and 1916, UNISPAL, Annex I.
  17. Hughes, 1999, pp. 116–117.
  18. Palestine Papers 1917–1922, Doreen Ingrams, page 48 and UK Archives PRO. CAB 27/24
  19. Report of a Committee Set up to Consider Certain Correspondence Between Sir Henry McMahon and the Sharif of Mecca in 1915 and 1916, UNISPAL, Annex A, paragraph 19.
  20. DESIRES OF HEDJAZ STIR PARIS CRITICS; Arab Kingdom's Aspirations Clash With French Aims in Asia Minor
  21. [Britain, the Hashemites and Arab Rule, 1920-1925, by Timothy J. Paris, Routledge, 2003, ISBN 0-7146-5451-5, Page 69]
  22. Federal Research Division, 2004, p. 41.
  23. Milton-Edwards, 2006, p. 57.
  24. Project Gutenberg: The Peace Negotiations by Robert Lansing, Boston and New York: Houghton Mifflin Company. 1921, Chapter XIII 'THE SYSTEM OF MANDATES'

    If the advocates of the system intended to avoid through its operation the appearance of taking enemy territory as the spoils of war, it was a subterfuge which deceived no one. It seemed obvious from the very first that the Powers, which under the old practice would have obtained sovereignty over certain conquered territories, would not be denied mandates over those territories. The League of Nations might reserve in the mandate a right of supervision of administration and even of revocation of authority, but that right would be nominal and of little, if any, real value provided the mandatory was one of the Great Powers as it undoubtedly would be. The almost irresistible conclusion is that the protagonists of the theory saw in it a means of clothing the League of Nations with an apparent usefulness which justified the League by making it the guardian of uncivilized and semi-civilized peoples and the international agent to watch over and prevent any deviation from the principle of equality in the commercial and industrial development of the mandated territories.

    It may appear surprising that the Great Powers so readily gave their support to the new method of obtaining an apparently limited control over the conquered territories, and did not seek to obtain complete sovereignty over them. It is not necessary to look far for a sufficient and very practical reason. If the colonial possessions of Germany had, under the old practice, been divided among the victorious Powers and been ceded to them directly in full sovereignty, Germany might justly have asked that the value of such territorial cessions be applied on any war indemnities to which the Powers were entitled. On the other hand, the League of Nations in the distribution of mandates would presumably do so in the interests of the inhabitants of the colonies and the mandates would be accepted by the Powers as a duty and not to obtain new possessions. Thus under the mandatory system Germany lost her territorial assets, which might have greatly reduced her financial debt to the Allies, while the latter obtained the German colonial possessions without the loss of any of their claims for indemnity. In actual operation the apparent altruism of the mandatory system worked in favor of the selfish and material interests of the Powers which accepted the mandates. And the same may be said of the dismemberment of Turkey. It should not be a matter of surprise, therefore, that the President found little opposition to the adoption of his theory, or, to be more accurate, of the Smuts theory, on the part of the European statesmen.

  25. 'The Secretary's Notes of a Conversation Held in M. Pichon's Room at the Quai d'Orsay, Paris, on Thursday, 27th February, 1919, at 3 p. m.', United States Department of State Papers relating to the foreign relations of the United States, The Paris Peace Conference, 1919: Volume IV (1919), The Council of Ten: minutes of meetings February 15 to June 17, 1919, Page 169
  26. "Lawrence, Thomas Edward, 'Lawrence of Arabia'" A Dictionary of Contemporary World History. Jan Palmowski. Oxford University Press, 2003.
  27. Biger, 2004, p. 48.
  28. No Peace Basis Yet, Balfour Asserts, 21 June 1918
  29. Zachary Lockman "Balfour Declaration" The Oxford Companion to the Politics of the World, 2e. Joel Krieger, ed. Oxford University Press Inc. 2001.
  30. British White Paper of June 1922, The Avalon Project at Yale Law School.
  31. Report of a Committee Set up to Consider Certain Correspondence Between Sir Henry McMahon and the Sharif of Mecca in 1915 and 1916, UNISPAL, enclosure to Annex A.
  32. Report of a Committee Set up to Consider Certain Correspondence Between Sir Henry McMahon and the Sharif of Mecca in 1915 and 1916, UNISPAL

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]