হুয়াংহো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হুয়াংহো

গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোসহ হুয়াংহো নদীর বর্তমান গতিপথ
উৎস বায়ান হার পর্বতমালা, কিনঘাই প্রদেশ
মোহনা বোহাই সাগর
অববাহিকার দেশ গণপ্রজাতন্ত্রী চায়না
দৈর্ঘ্য ৫৪৬৪ কি.মি. (৩৩৯৮ মাইল)
উত্সের উচ্চতা ৪৫০০ মিটার (১৪,৭৬৫ ফুট)
গড় নিষ্কাশন ২৫৭১ বর্গমিটার/সেকেন্ড
(৯০,৮০৮ বর্গফুট/সেকেন্ড)
অববাহিকা আয়তন ৭,৫২,০০০ বর্গ কি.মি.

হুয়াংহো চীনের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী। এর অপর নাম পীত নদী। হুয়াংহো নদীর সর্ব্বমোট দৈর্ঘ্য ৫৪৬৪ কিলোমিটার। এশিয়ার ২য় বৃহত্তম নদী। কুনলুন পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে নদীটি পীতসাগরে পতিত হয়েছে। বস্তুত ছিংহাই প্রদেশের বায়ান হার পবর্তের উত্তরাংশে হুযাংহো নদীর উৎপত্তি হয়েছে। ছিংহাই, সিছুয়ান, গানসু , নিংসিয়া, অন্তর্মঙ্গোলিয়া, সেনসী, শানসী, হোনান আর শানডোং এর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হুয়াংহো নদী শানডোং এর খেনলিজেলায় বেহাই সাগরে গিয়ে মিশেছে। লানযে, বাত্তথৌ, যেমষ্ঠে, জিনোন প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ শহর-বন্দর এ নদীর তীরে অবস্থিত।

চীনের দুঃখ[সম্পাদনা]

হুয়াংহো নদী অর্থাৎ পীতনদীকে "চীনের দু:খ" বলা হত। প্রাচীন চীনে প্রায়ই হুয়াংহো নদী ছাপিয়ে উঠে সবকিছু বন্যায় ভাসিয়ে দিত বলে এই নদীর নাম ছিল "চিনের দু:খ"। ইতিহাসে ছাব্বিশবার এই নদীর গতিপথ বদল হয়েছে অতি প্রচন্ডভাবে। এর ফলে প্রত্যেকবারই চীনের জনগণের জীবনে নেমে এসেছে অবর্ণনীয় দু:খদুদর্শা। নয়া চীন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর চীন সরকার হুয়াংহো নদীর উজানের দিকে ও মধ্য এলাকা বরাবর মৌলিক গুরুত্বসম্পন্ন কতকগুলো জলসংরক্ষণ প্রকল্প নিমার্ণ করেছে এবং ভাটির দিকে নদীর পাড়ের ভেড়িগুলোকে আরো মজবুত করেছে। এভাবে বিংশ শতাব্দীতে নদীর তীরবর্তী জনসাধারণের নিরাপত্তা সুরক্ষিত করা হয়েছে।

গুরুত্ব[সম্পাদনা]

হুয়াংহো নদীর অববাহিকার পশুচারণ ভূমি বেশ উর্বর ও খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ। এই নদীর অববাহিকাতে চীনের প্রাচীনতম সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। এ নদীর অববাহিকা চীনের সভ্যতা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির লালনাগর।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • Sinclair, Kevin. 1987. The Yellow River: A 5000 Year Journey Through China. (Based on the television documentary). Child & Associates Publishing, Chatswood, Sydney, Australia. ISBN 0-86777-347-2

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]