রিটা হেওয়ার্থ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রিটা হেওয়ার্থ
Rita Hayworth in Blood and Sand trailer.jpg
জন্ম মার্গারেট কারম্যান ক্যানসিনো
(১৯১৮-১০-১৭)অক্টোবর ১৭, ১৯১৮
ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
মৃত্যু মে ১৪, ১৯৮৭(১৯৮৭-০৫-১৪) (৬৮ বছর)
নিউইয়র্ক সিটি, নিউইয়র্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
মৃত্যুর কারণ Alzheimer's disease
সমাধি হলিক্রস সিমেট্রি, কালভার সিটি
জাতীয়তা আমেরিকান
পেশা অভিনেত্রী, নর্তকী
কার্যকাল ১৯৩৪-১৯৭২
দম্পতি এডওয়ার্ড সি. জাডসন (১৯৩৭-১৯৪২)
অরসন ওয়েলস (১৯৪৩-১৯৪৮)
প্রিন্স অ্যালি খান (১৯৪৯-১৯৫৩)
ডিক হেমেস (১৯৫৩-১৯৫৫)
জেমস হিল (১৯৫৮-১৯৬১)
সন্তান রেবেকা ওয়েলেস (১৯৪৪-২০০৪)
ইয়াসমিন আগা খান (২৮ ডিসেম্বর, ১৯৪৯-)
পিতা-মাতা এডুয়ার্ডো ক্যানসিনো, সিনিয়র
ভল্গা হেওয়ার্থ
আত্মীয় এডুয়ার্ডো ক্যানসিনো, জুনিয়র (ভাই)
স্বাক্ষর Rita Hayworth signature.svg

মার্গারেট কারম্যান ক্যানসিনো (ইংরেজি: Margarita Carmen Cansino; জন্ম: ১৭ অক্টোবর, ১৯১৮ - মৃত্যু: ১৪ মে, ১৯৮৭) নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্মগ্রহণকারী বিশিষ্ট মার্কিন অভিনেত্রী ও নর্তকী ছিলেন। বৈশ্বিক চলচ্চিত্র জগতে তিনি মূলতঃ রিটা হেওয়ার্থ নামেই সমধিক পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি স্পেনীয় ও আইরিশ বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হিসেবে ১৯৪০-এর দশক থেকে ১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত সময়কালে সেরা যৌন আবেদনময়ী হিসেবেও ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৪০ সাল থেকে লাইফ সাময়িকীতে পাঁচবার প্রচ্ছদচিত্রে স্থান পান রিটা।[১] তিনি তাঁর কর্মজীবনে চূড়ায় পৌঁছে হলিউডের রাণী হিসেবে পরিচিত পান ও অনেক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

হেওয়ার্থ তাঁর ৩৭ বছরের কর্মময় চলচ্চিত্র জীবনে ৬১টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তিনি ছিলেন ছয়জন মহিলাদের একজন, যিনি ফ্রেড অ্যাস্তায়েরজিন কেলি’র সাথে রূপালী পর্দায় নাচার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছিলেন।[২] আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউট কর্তৃক সর্বকালের সেরা ১০০ তারকাদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

স্পেনীয়-বংশোদ্ভূত নৃত্যশিল্পী এডোয়ার্ডো ক্যানসিনো[৩] ও তাঁর অংশীদার আইরিশ-ইংরেজ বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ভল্গা হেওয়ার্থের[৪] সন্তান রিটা ক্যানসিনো পেশাদার শিশু নর্তকী হিসেবে বাবা-মায়ের সাথে নৈশক্লাবে অংশগ্রহণ করেন। এডোয়ার্ডো-ভল্গা দম্পতি ১৯১৭ সালে ক্যাথলিক চার্চে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংস্থারে এডোয়ার্ডো জুনিয়র এবং ভার্নন ক্যানসিনো নামীয় আরও দুই পুত্র ছিল।[৪][৫]

রিটার বাবা তাঁকে পেশাদার নর্তকী করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, তাঁর মা চেয়েছিলেন তাঁকে অভিনেত্রী করতে।[৬] পৈত্রিক সম্পর্কীয় দাদা অ্যান্টোনিও ক্যানসিনো স্পেনের প্রসিদ্ধ ধ্রুপদী নৃত্যশিল্পী। অ্যান্টোনিও’র মাদ্রিদভিত্তিক বিশ্বখ্যাত নৃত্যের বিদ্যালয় ছিল এবং তিনি বোলিরোয় জনপ্রিয় ছিলেন।[৭] হেওয়ার্থ পরবর্তীকালে বলেছিলেন যে, সাড়ে তিন বছর বয়স থেকে তিনি ... যখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখি, আমি নাঁচের বিষয়াবলী শিখতে থাকি।[৮] তিনি বলেন, আমি এটি খুব বেশী পছন্দ করিনি ... কিন্তু, আমি বাবাকে তা বলতে সাহস পাইনি। তাই, আমি নাঁচ শিখতে শুরু করি। মহড়া দেওয়াই ছিল আমার বালিকাজীবনের প্রধান কাজ।[৯] কয়েক বছর যাবৎ প্রতিদিন তিনি ধ্রুপদী নৃত্যকলা শিখতে কার্নেগি হল কমপ্লেক্সে উপস্থিত হতেন। সেখানে তাঁকে তাঁর চাচা অ্যাঞ্জেল ক্যানসিনো নৃত্যকলা শিখতে দিতেন। ছয় বছর বয়সে তিনি জনসমক্ষে নৃত্য প্রদর্শন করতে শুরু করেন।[৪] ১৯২৬ সালে আট বছর বয়সে তিনি ওয়ার্নার ব্রাদার্সের স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র লা ফিয়েস্তায় অভিনয় করেন।[৪]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

কিশোরী অবস্থায় রিটা ক্যানসিনো নামে চার্লি চ্যান ইন ইজিপ্ট (১৯৩৫), দাঁন্তে’স ইনফার্নো (১৯৩৫) এবং মিট নিরো ওল্ফ (১৯৩৬) চলচ্চিত্রে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এডওয়ার্ড জনসন ১৯৩৭-১৯৪২ মেয়াদে তাঁর প্রথম স্বামী ছিলেন। জনসনের পরামর্শক্রমে রিটা তাঁর নাম পরিবর্তনসহ চুলে রং দেন। জনসন পরবর্তীকালে তাঁর ম্যানেজার হয়েছিলেন।

১৯৩৭ সালে হেওয়ার্থ কলম্বিয়া পিকচার্সের অধীনে পাঁচটি অনুল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র ও স্বাধীনভাবে তিনটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ন করেন। পরের বছর তাঁকে কলম্বিয়া পিকচার্সের খ শ্রেণীভূক্ত চলচ্চিত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়। স্টুডিও প্রধান হ্যারি কন পরিচালক হাওয়ার্ড হক্সকে চাপ প্রয়োগ করে ছোট্ট অথচ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অনলি অ্যাঞ্জেলস হ্যাভ উইংস (১৯৩৯) নামের চলচ্চিত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন। এ চলচ্চিত্রে তিনি ক্যারি গ্রান্ট এবং জোয়াও আর্থারের বিপরীতে একজন অবিশ্বাসী স্ত্রী’র চরিত্রে অভিনয় করেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে।[৪] চলচ্চিত্রটি ব্যাপকভাবে দর্শক জনপ্রিয়তা লাভ করে ও হেওয়ার্থের কাছে সমর্থকদের চিঠি আসতে শুরু করে ব্যাপকভাবে। কনও তাঁকে তাঁর প্রথম ও আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন চলচ্চিত্র তারকা হিসেবে ভাবতে শুরু করেন। জোয়াও আর্থার ছাড়া স্টুডিওটি কখনো কোন তারকার সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়নি।

১৯৪০-এর দশকে রিটা বিভিন্ন সঙ্গীতানুষ্ঠানে তাঁর প্রাণবন্ত নৃত্যকলা প্রদর্শন করেন। পাশাপাশি গিল্ডা (১৯৪৬), অ্যাফেয়ার ইন ত্রিনিদাদ (১৯৫২)-এর ন্যায় উচ্চমার্গের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত বিখ্যাত মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা, লেখক এবং প্রযোজক অরসন ওয়েলসের সাথে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। এ সময়ে তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র ছিল দ্য লেডি ফ্রম সাংহাই (১৯৪৮)।[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bill Geerhart "Atomic Goddess, Part I", Knol, accessed 21 March 2012
  2. Faris, Gerald (May 18, 1987)। "A Screen Goddess and Hollywood Rebel Loses The Battle Against Disease"। The Age। সংগৃহীত June 7, 2009 
  3. Márquez Reviriego, Víctor (24 March 1984)। "Del firmamento al limbo"ABC। সংগৃহীত April 5, 2012 
  4. ৪.০ ৪.১ ৪.২ ৪.৩ ৪.৪ ৪.৫ (Ware 2005, p. 281)
  5. "Princess Born to Rita After Pre-dawn Dash to Clinic", Associated Press, December 28, 1949. Accessed June 13, 2009.
  6. "Rita Hayworth Delights Papa and Mama Cansino." Ellensburg Daily Record, July 13, 1944. Accessed June 7, 2009.
  7. "Actress Rita Hayworth's Grandfather Dies at 89." Los Angeles Times, June 22, 1954
  8. (Agan 1979, p. 67)
  9. (Morella 1983, p. 16)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]