বিপরীতকামী-সমকামী অনবচ্ছেদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
যৌন প্রবৃত্তি
প্রবৃত্তি
অযৌন • উভকামী • বিপরীতকামী • সমকামী • সর্বকামী
লিঙ্গভিত্তিক বিকল্প ধারণা
পুরুষ যৌনতার অপাশ্চাত্যায়িত ধারণা • তৃতীয় লিঙ্গ • টু-স্পিরিট
গবেষণা
জীববিজ্ঞান • জনতত্ত্ব • পরিবেশ • কিনসলে মাপকাঠি • ক্লেইন যৌন প্রবৃত্তি গ্রিড • অ-বিপরীতকামী • এলজিবিটি গবেষণা • যৌনতত্ত্ব
তালিকা
যৌন প্রবৃত্তির তালিকা
এলজিবিটি প্রবেশদ্বার • যৌনতা প্রবেশদ্বার

বিপরীতকামী-সমকামী অনবচ্ছেদ বা যৌন অনবচ্ছেদ (ইংরেজি: heterosexual-homosexual continuum বা sexual continuum) মানব যৌনতার ক্ষেত্রে একটি মনস্তাত্ত্বিকদার্শনিক ধারণা। এই ধারণায় যৌন অভিরুচিকে বিপরীতকামিতা থেকে সমকামিতার মধ্যে স্থিত একটি অনবচ্ছেদ ব্যবস্থায় স্থাপন করা হয়। ১৯৪০-এর দশকে আলফ্রেড কিন্সের (ইংরেজি: Alfred Kinsey অ্যাল্‌ফ্রেড্‌ কিন্‌সি‌) একটি যৌনতা সমীক্ষা থেকে এই ধারণাটি উদ্ভুত হয়: কিনসির সমীক্ষার অনেক বিষয়ই বিভিন্ন পর্যায়ের উভকামিতার কথা বলে। উল্লেখ্য, এগুলিকে আগে কঠোরভাবে বিপরীতকামিতা/সমকামিতা বিভাগের অধীনে রাখা হতো। ফ্রিৎজ ক্লেইন এই বিষয়ে আরও গবেষণা চালান। তিনি যৌন প্রবৃত্তিকে একটি সক্রিয়, বহুপরিবর্তনশীল প্রক্রিয়া, আকর্ষণজনিত, আচরণ, কল্পনা বা ফ্যান্টাসি, আবেগ সংক্রান্ত, এবং একটি সামাজিক অভিরুচি, আত্ম-পরিচিতি, ও জীবনযাত্রা বলে ধরে নিয়েছিলেন।[১] ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকের নারীবাদীসমকামী অধিকার আন্দোলনে এই ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। কারণ, বিশেষজ্ঞ মহল ও আন্দোলনের নেতৃস্থানীয়েরা শারীরিক লিঙ্গের (যেমন, পুরুষ বা স্ত্রী) বদলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিকতার ভিত্তিতে লিঙ্গ ও যৌনতার শ্রেণীবিভাগে উদ্যোগী হন। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে:

যৌন প্রবৃত্তি অন্যের প্রতি এক স্থায়ী আবেগ, প্রণয়, যৌন ও স্নেহ সম্পর্কিত আকর্ষণ। জীববৈজ্ঞানিক যৌনতা, লিঙ্গ পরিচয় (পুরুষ বা স্ত্রী হওয়ার মনস্তাত্ত্বিক চেতনা) এবং সামাজিক লিঙ্গ ভূমিকা (পুরুষালি ও মেয়েলি আচরণের সাংস্কৃতিক প্রথার প্রতি আনুগত্য) – যৌনতার এই সব উপাদানের থেকে তাকে সহজেই পৃথক করা যায়।

যৌনপ্রবৃত্তি একটি অনবচ্ছেদে বিভিন্ন উভকামিতা-বিষয়ক উপবর্গ সহ একান্তভাবে বিপরীতকামী থেকে একান্তভাবে সমকামী বিষয়শ্রেণী সহকারে অবস্থান করে। [...][২]

সাধারণভাবে এই শব্দটি বা এর কোনো অনুরূপ পাঠান্তর যৌন প্রবৃত্তি সংক্রান্ত গবেষণায় ব্যবহৃত হয়। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিপরীতকামী যৌনপ্রবৃত্তির বাইরে অন্যান্য যৌনতাকে (যেমন উভকামিতা, রূপান্তরকামিতা কিংবা সমকামিতা)কে অনেক সময় সমান্তরাল যৌনতা (parallel sex) নামেও অভিহিত করা হয় [৩]

আজকাল, অনেক যৌনতত্ত্ববিদ এই মাপকাঠি এবং কিন্সে মাপকাঠিটিকে অতিসরল মনে করে থাকেন। "তাঁদের মতে যৌন প্রবৃত্তি ও যৌন পরিচয়ের বিষয়টি আরও জটিল ও বৈচিত্র্যপূর্ণ হওয়া উচিৎ।"[৪]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Sexuality Continuum
  2. American Psychological association
  3. অভিজিৎ রায়, সমকামিতা : একটি বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান, শুদ্ধস্বর, ২০১০
  4. Planned Parenthood: Sexual Orientation & Gender, LGBTQ ... The Labels and Their Meaning