সমকামিতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নারী সমকামী, পুরুষ সমকামী, উভকামী, রূপান্তরকামী (এলজিবিটি) সমাজ
LGBT pride flag
যৌন অভিমুখিতা
সমকামিতা · জনপরিসংখ্যান
জীববিজ্ঞান ·
পরিবেশ
ইতিহাস
এলজিবিটি ইতিহাস · কালপঞ্জি
সামাজিক আন্দোলন
সংস্কৃতি
এলজিবিটি কমিউনিটি · কামিং আউট
প্রাইড ·
স্ল্যাং · প্রতীক
গে ভিলেজ
অধিকার
বিশ্বব্যাপী আইন
বিবাহ ·
ইউনিয়ন · দত্তকগ্রহণ
সামরিক বাহিনী
রূপান্তরকামিতার আইনি দিক
সামাজিক মনোভাব
হেটেরোনর্ম্যাটিভিটি
এলজিবিটি স্টিরিওটাইপ
ধর্ম ও সমকামিতা
রূপান্তরকামীদের প্রতি ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি
কুসংস্কার · সহিংসতা
হেটেরোসেক্সিজম · হোমোফোবিয়া
লেসবোফোবিয়া ·
বাইফোবিয়া
মনোসেক্সিজম ·
ট্রান্সফোবিয়া
এলজিবিটি ব্যক্তিদের প্রতি সহিংসতা
আকাদেমিক ক্ষেত্র
ডিসকোর্স
এলজিবিটি/কুইয়্যার স্টাডিজ
নারী সমকামী নারীবাদ
কুইয়্যার তত্ত্ব ·
ট্রান্সফেমিনিজম
ল্যাভেন্ডার ভাষাতত্ত্ব
Portal LGBT.svg এলজিবিটি প্রবেশদ্বার

সমকামিতা (ইংরেজি: Homosexuality, হোমোসেক্‌শুয়্যালিটি) একটি যৌন অভিমুখিতা, যার দ্বারা সমলিঙ্গের ব্যক্তির প্রতি যৌন আকর্ষণ বোঝায়। এইরূপ আকর্ষণের কারণে এক লিঙ্গের মানুষের মধ্যে যৌনসম্পর্ক ঘটতে পারে। প্রবৃত্তি হিসেবে সমকামিতা বলতে বোঝায় মূলত সমলিঙ্গের ব্যক্তির প্রতি "স্নেহ বা প্রণয়ঘটিত এক ধরনের যৌন প্রবণতা"। এই ধরনের সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ব্যক্তিগত বা সামাজিক পরিচিতি, এই ধরনের আচরণ এবং সমজাতীয় ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত কোনো সম্প্রদায়কেও এই শব্দটি দ্বারা নির্দেশ করা হয়।"[১][২]

উভকামিতাবিপরীতকামিতার সাথে সমকামিতা বিপরীতকামী-সমকামী অনবচ্ছেদের অন্তর্গত যৌন অভিমুখিতার তিনটি প্রধান ভাগের অন্যতম বলে স্বীকৃত।[১] ব্যক্তির মনে কেমন করে কোনো নির্দিষ্ট যৌন অভিমুখিতার সঞ্চার হয় সেই ব্যাপারে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতৈক্য নেই।[১] অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন জিনগত, হরমোনগত এবং পরিবেশগত কারণ একত্রে যৌন অভিমুখিতা নির্ধারণের জন্য দায়ী।[১][৩] জীববিদ্যা-নির্ভর কারণগুলোকে বেশি সমর্থন করা হয়।[৩] এর অন্তর্গত হল জিন, ভ্রূণের ক্রমপরিণতি, এই দুই প্রভাবের মেলবন্ধন অথবা এই সব কিছুর সাথে সামাজিক প্রভাবের মেলবন্ধন।[৪][৫] যৌন অভিমুখিতা নির্ধারণে যে সন্তানপালন বা শৈশবের অভিজ্ঞতার কোনো ভূমিকা আছে তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।[৪] সমলিঙ্গের প্রতি যৌন আচরণের প্রভাবক হিসেবে এক পরিবেশে থাকার ভূমিকা মহিলাদের ক্ষেত্রে নগণ্য এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে শূণ্য।[৫] কেউ কেউ সমকামী যৌন আচরণকে অপ্রাকৃতিক মনে করলেও[৬] বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে জানা গেছে সমকামিতা মানব যৌনতার একটি সাধারণ ও প্রাকৃতিক প্রকার মাত্র, এবং অন্য কোনো প্রভাবকের অস্তিত্ব ছাড়া এটি মনের উপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।[১][৭] অধিকাংশ মানুষের অভিজ্ঞতায় যৌনতার ব্যাপারে সচেতন পছন্দের কোনো ভূমিকা থাকে না।[১] যৌন অভিমুখিতা পরিবর্তনের বিভিন্ন কর্মসূচীর কার্যকারিতা সম্পর্কে যথেষ্ট প্রমাণ নেই।[৮]

মহিলা সমকামীদের বোঝাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শব্দটি হল লেসবিয়ান এবং পুরুষ সমকামীদের ক্ষেত্রে গে, যদিও গে কথাটি প্রায়শ সমকামী মহিলা ও পুরুষ উভয়কে বোঝাতেও সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। নানা কারণে স্বঘোষিত সমকামীর সংখ্যা এবং মোট জনসংখ্যার মধ্যে সমলৈঙ্গিক সম্পর্কে আবদ্ধ মানুষের অনুপাত নির্ণয় করা দুঃসাধ্য। এই কারণগুলোর মধ্যে প্রধান হল সমকামভীতি জনিত বৈষম্যের কারণে অনেক সমকামীর প্রকাশ্যে তাঁদের যৌনতা না স্বীকার করা।[৯] অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যেও সমকামী আচরণের নিদর্শন নথিভুক্ত হয়েছে।[১০][১১][১২][১৩][১৪]

অনেক সমকামী মানুষ স্থায়ী পারস্পরিক সম্পর্কে আবদ্ধ আছেন, যদিও আদমশুমারির ফর্ম, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইত্যাদির আনুকূল্যে তাঁদের আত্মপ্রকাশের পথ নিরাপদ হয়েছে একেবারে সাম্প্রতিক কালে।[১৫] মূল মনস্তাত্ত্বিক গঠনের দিক দিয়ে এই সম্পর্কগুলো বিষমকামী সম্পর্কের সমান।[২] নথিভুক্ত ইতিহাস জুড়ে সমকামী সম্পর্ক এবং কার্যকলাপের প্রশস্তি ও নিন্দা - উভয়েরই নিদর্শন মেলে; কেবল প্রকাশের ভঙ্গিমা ও সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতিজনিত তারতম্য দেখা যায়।[১৬] ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাপী আন্দোলন শুরু হয়েছে, যার অন্তর্গত বিবাহ, দত্তক গ্রহণসন্তানপালন, কর্মক্ষেত্রে সমানাধিকার, সামরিক পরিষেবা, স্বাস্থ্য পরিষেবায় সমানাধিকার, এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সমকামীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অ্যান্টি-বুলিং আইন

শব্দতত্ত্ব[সম্পাদনা]

বাংলা সমকামিতা শব্দটির গঠন সংস্কৃত-সঞ্জাত। সংস্কৃত শব্দ সম-এর অন্যতম অর্থ সমান অথবা অনুরূপ[১৭] এবং কাম শব্দের অন্যতম অর্থ যৌন চাহিদা, রতিক্রিয়া তথা যৌন তৃপ্তি[১৮]। অতঃপর এই দুই শব্দের সংযোগে উৎপন্ন সমকামিতা শব্দ দ্বারা অনুরূপ বা সমান বা একই লিঙ্গের মানুষের (বা অন্য প্রাণীর) প্রতি যৌন আকর্ষণকে বোঝায়।

সমকামিতার ইংরেজি প্রতিশব্দ হোমোসেক্সুয়ালিটি তৈরি হয়েছে গ্রিক ‘হোমো’ এবং ল্যাটিন ‘সেক্সাস’ শব্দের সমন্বয়ে। গ্রিক ভাষায় ‘হোমো’ বলতে বোঝায় ‘সমধর্মী’ বা ‘একই ধরণের’। আর সেক্সাস শব্দটির অর্থ হচ্ছে যৌনতা। কাজেই একই ধরনের অর্থাৎ, সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বোধ করার যৌন অভিমুখিতাকে বলে হোমোসেক্সুয়ালিটি[১৯][১]

১৮৬৯ সালে কার্ল মারিয়া কার্টবেরি সডোমি আইনকে তিরষ্কার করে ইংরেজিতে প্রথম ‘হোমোসেক্সুয়াল’ শব্দটি ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে জীববিজ্ঞানী গুস্তভ জেগার এবং রিচার্ড ফ্রেইহার ভন ক্রাফট ইবিং ১৮৮০’র দশকে তাঁদের সাইকোপ্যাথিয়া সেক্সুয়ালিস গ্রন্থে হেটারোসক্সুয়াল ও হোমোসেক্সুয়াল শব্দ দুটো দ্বারা যৌন পরিচয়কে দুই ভাগে বিভক্ত করেন, যা পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী যৌন পরিচয়ের শ্রেণীবিভাজন হিসেবে ব্যাপক পরিসরে গৃহীত হয়।[২০][২১]

বর্তমানে হোমোসেক্সুয়াল শব্দটি বিদ্বৎসমাজে এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যবহৃত হলেও ‘গে’ এবং ‘লেসবিয়ান’ শব্দদুটি অধিক জনপ্রিয়। গে শব্দটির দ্বারা পুরুষ সমকামীদের বোঝানো হয় এবং নারী সমকামীদেরকে বোঝানো হয় লেসবিয়ান শব্দটির দ্বারা। পশ্চিমে ‘গে’ শব্দটি সমকামী অর্থে প্রথম ব্যবহৃত হতে দেখা যায় সম্ভবত ১৯২০ সালে। তবে সে সময় এটির ব্যবহার একেবারেই সমকামীদের নিজস্ব গোত্রভুক্ত ছিলো। মুদ্রিত প্রকাশনায় শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হতে দেখা যায় ১৯৪৭ সালে। লিসা বেন নামে এক হলিউড সেক্রেটারী ‘Vice Versa: America’s Gayest Magazine’ নামের একটি পত্রিকা প্রকাশের সময় সমকামিতার প্রতিশব্দ হিসেবে ‘গে’ শব্দটি ব্যবহার করেন। আর ‘লেসবিয়ান’ শব্দটি এসেছে গ্রিস দেশের ‘লেসবো’ নামক দ্বীপমালা থেকে। কথিত আছে, খ্রীষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে স্যাফো নামে সেখানকার এক কবি/শিক্ষিকা মেয়েদের সমকামী যৌন জীবন নিয়ে কাব্য রচনা করে ‘কবিতা উৎসব’ পালন করতেন।[২২][২৩] এইভাবে প্রথম দিকে লেসবিয়ান বলতে ‘লেসবো দ্বীপের অধিবাসী’ বোঝালেও, পরবর্তীতে নারীর সমকামিতার সাথে এটি যুক্ত হয়ে যায়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

দেশ ও কালভেদে সমকামিতার প্রতি সামাজিক সহিষ্ণুতার বিভিন্ন স্তর পরিলক্ষিত হয়েছে। সমকামী সম্পর্ককে সমস্ত পুরুষের জীবনেরই এক স্বাভাবিক ঘটনা মনে করা, এর প্রতি সামাজিক উদাসীনতা, সাধারণ সহনশীলতা, একে একপ্রকার লঘু পাপ হিসেবে গণ্য করা থেকে শুরু করে আইন প্রণয়ন ও বিচারব্যবস্থার সাহায্যে এর অবদমন এবং মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে সমাজ সমকামিতাকে গ্রহণ বা বর্জন করেছে।

প্রাণীজগতে সমকামিতা[সম্পাদনা]

জীববিজ্ঞানীরা সমকামিতাকে প্রাণীজগতে সংঘটিত বহুমুখী যৌনতাসমূহের একটি অন্যতম অংশ বলে মনে করেন। জীববিজ্ঞানী ব্রুস ব্যাগমিল তার ‘বায়োলজিকাল এক্সুবারেন্স : অ্যানিমাল হোমোসেক্সুয়ালিটি অ্যান্ড ন্যাচারাল ডাইভার্সিটি’ বইয়ে প্রায় পাঁচশ' প্রজাতিতে সমকামিতার অস্তিত্বের উদাহরণ লিপিবদ্ধ করেছেন [২৪]। সামগ্রিকভাবে জীবজগতে ১৫০০ রও বেশী প্রজাতিতে সমকামিতার অস্তিত্ব প্রমাণিত[২৫]। তালিকায় স্তন্যপায়ী প্রাণী থেকে শুরু করে পাখি, মাছ, সরীসৃপ, উভচর, কীটপতঙ্গ ইত্যাদি সকল প্রাণী বিদ্যমান। বিজ্ঞানীরা এখন মনে করেন, পৃথিবীর সকল প্রজাতির প্রাণিতে সমকামিতা ও উভকামিতা দেখতে পাওয়া যায় [২৬][২]। সমকামিতা ছাড়াও প্রাণিজগতে উভকামিতা এবং রূপান্তরকামিতারও বহু প্রমাণ পাওয়া গেছে [২৭]

মানব সমাজে সমকামিতা[সম্পাদনা]

বিপরীতকামী-সমকামী অনবচ্ছেদ অনুসারে যৌন অভিমুখিতার প্রধান তিনটি বর্গের অন্যতম হল সমকামিতা (অপর বর্গদুটি হল উভকামিতাবিপরীতকামিতা)। বিভিন্ন কারণে গবেষকেরা সমকামী রূপে চিহ্নিত ব্যক্তির সংখ্যা বা সমলৈঙ্গিক যৌন সম্পর্কে অভিজ্ঞতাসম্পন্নদের অনুপাত নির্ধারণ করতে সক্ষম হন নি।[৯]

আধুনিক পাশ্চাত্য জগতে বিভিন্ন প্রধান গবেষণার ফলে অনুমিত হয় সমকামী বা সমলৈঙ্গিক অভিজ্ঞতাসম্পন্নরা মোট জনসংখ্যার ২% থেকে ১৩%।[২৮][২৯][৩০][৩১][৩২][৩৩][৩৪][৩৫][৩৬][৩৭][৩৮] ২০০৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, জনসংখ্যার ২০% নাম প্রকাশ না করে নিজেদের মধ্যে সমকামী অনুভূতির কথা স্বীকার করেছেন; যদিও এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে খুব অল্পজনই নিজেদের সরাসরি সমকামীরূপে চিহ্নিত করেন।[৩৯]

মানব ইতিহাসের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন রুপে সমকামিতার অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়। কোন কোন জায়গায় সমকামী যৌনাচরণের চর্চা হত গুপ্ত বিনোদন হিসেবে, আবার কোন কোন জায়গায় সমকামিতা উদযাপন করা হত সংস্কৃতির অংশ হিসেবে। প্রাচীন গ্রীসে পাইদেরাস্ত্রিয়া, কিংবা এরাস্তেস এবং এরোমেনোস-এর সম্পর্কগুলো উল্লেখযোগ্য। সমকামিতার প্রছন্ন উল্লেখ আছে প্রাচীন বহু সাহিত্যে। হোমারের বর্ণিত আকিলিস এবং পেট্রোক্লুসের সম্পর্ক, প্লেটোর দার্শনিক গ্রন্থ সিম্পোজিয়ামে ফায়াডেরাস, পসানিয়াস, এগাথন, অ্যারিস্টোফেনেস, এরিক্সিমাচুসের নানা বক্তব্য এবং সক্রেটিসের সাথে আলকিবিয়াডসের প্লেটোনিক সম্পর্ককে বহু বিশেষজ্ঞ সমকামিতার দৃষ্টান্ত হিসেবে হাজির করেন। খ্রীস্টপূর্ব ছয় শতকের গ্রিসের লেসবো দ্বীপের উল্লেখযোগ্য বাসিন্দা স্যাপো নারীদের নিয়ে, তাদের সৌন্দর্য নিয়ে কাব্য রচনা করেছেন [৪০]। এই লেসবো থেকেই লেসবিয়ান (নারী সমকামিতা) শব্দটি এসেছে। বহু রোমান সম্রাট - যেমন জুলিয়াস সিজার, হাড্রিয়ান, কমোডাস, এলাগাবালাস, ফিলিপ দ্য এরাবিয়ান সহ অনেক সম্রাটেরই সমকামের প্রতি আসক্তি ছিলো বলে ইতিহাসে উল্লিখিত আছে[৪১]রেনেসাঁর সময় বহু খ্যাতনামা ইউরোপীয় শিল্পী যেমন, দোনাতেল্লো, বত্তিচেল্লী, লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি এবং মাইকেলেঞ্জেলোর সমকাম প্রবণতার উল্লেখ আছে। চৈনিক সভ্যতা এবং ভারতীয় সংস্কৃতিতেও সমকামিতার উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমন বিষ্ণুর মোহিনী অবতাররূপে ধরাধামে এসে শিবকে আকর্ষিত করার কাহিনী এর একটি দৃষ্টান্ত। বিষ্ণু (হরি) এবং শিবের (হর) মিলনের ফসল অয়াপ্পানকে হরিহরপুত্র নামেও সম্বোধন করা হয়। এ ছাড়া অষ্টাবক্র, শিখন্ডী এবং বৃহন্নলার উদাহরণগুলো সমকামিতা এবং রূপান্তরকামিতার দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে উঠে এসেছে। এছাড়া আব্রাহামীয় ধর্মসমূহের ইতিহাসেও লূত নবীর সম্প্রদায় সডোম ও গোমোরাহ নামক জাতির নেতিবাচক যৌনাচার হিসেবে ইঙ্গিত করে সমকামিতার কথা খুজে পাওয়া যায়, যেখানে সমকামিতা ও অজাচার ত্যাগ না করার অপরাধে ঐশী বিপর্যয় কর্তৃক তাদেরকে ধ্বংস করার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

কারণ[সম্পাদনা]

সাধারণ[সম্পাদনা]

বিজ্ঞান সমকামিতার কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছে, আর ফলস্বরূপ জৈবিকপরিবেশগত কারণগুলিই এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। যে সমস্ত জৈবিক কারণ সম্বন্ধে গবেষণা করা হয়েছে সেগুলো হল জিনগত ও হরমোনগত, বিশেষ করে ভ্রূণের পরিণতির সময় যে সমস্ত পরিবর্তনের ফলে মস্তিষ্কের গঠনগত ও কার্যগত পরিবর্তন ঘটে এবং ডান-হাতি বা বাঁ-হাতি হওয়ার প্রবণতা ইত্যাদি অন্য কোনো কোনো স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যও নির্ধারিত হয়।[৩][৪] পরিবেশের বহুসংখ্যক নিয়ামক প্রভাব (সামাজিক, মানসিক) এবং জৈবনিক বিষয় রয়েছে যা যৌন অভিমুখিতাকে প্রভাবিত করতে পারে; যদিও অনেক গবেষক মনে করেন মূলত প্রকৃতি ও প্রতিপালন — এই দুইয়ের জটিল বোঝাপড়ার ফলেই বিষয়টি নির্ধারিত হয়।[১][৩]

মার্কিন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ আকাদেমি ২০০৪ এ পেডিয়াট্রিক্সে বলে:

যৌন অভিমুখিতা সম্ভবত কোনো একটা কারণে নির্ধারিত হয় না,বরং তা জিনগত, হরমোনগত ও পরিবেশগত একাধিক কারণের সমষ্টিগত প্রভাবেরই ফল। সাম্প্রতিক দশকগুলিতে বিশেষজ্ঞেরা জীববিদ্যা ভিত্তিক তত্ত্বগুলি সমর্থন করেন। [...] নানা প্রকার মানব যৌনতার উৎপত্তির ব্যাপারে প্রচুর বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা থাকলেও এখনও এই ব্যাপারে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে অস্বাভাবিক সন্তানপালন, যৌন অত্যাচার বা অন্যান্য পীড়াদায়ক অভিজ্ঞতা যৌন অভিমুখিতাকে প্রভাবিত করে। বর্তমানে জ্ঞাত তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়, সাধারণত শৈশবের সূচনাতেই যৌন অভিমুখিতা নির্ধারিত হয়।[৩][৪২]

মার্কিন মনোবিদ্যা সমিতি, মার্কিন মনোচিকিৎসক সমিতি এবং জাতীয় সমাজ সেবক সমিতি ২০০৬ এ একটি যৌথ বিবৃতিতে জানায়:

আপাতত একজন মানুষের সমকামী, বিষমকামী বা উভকামী হয়ে ওঠার পিছনে নির্দিষ্ট কী কী কারণ থাকতে পারে সেই ব্যাপারে, তথা সম্ভাব্য জৈবিক, মানসিক বা বাবা-মায়ের যৌন অভিমুখিতার ভূমিকার ব্যাপারে কোনো বৈজ্ঞানিক ঐক্যমত্য নেই। যদিও, উপস্থিত প্রমাণ থেকে এইটুকু বোঝা যায় যে প্রাপ্তবয়স্ক সমকামী জনসাধারণের মধ্যে অধিকাংশই বিষমকামী মা-বাবার সন্তান এবং সমকামী মা-বাবাদের সন্তানদের মধ্যে অধিকাংশই বড় হয়ে বিষমকামী হন।[২]

২০১৪ তে রয়াল কলেজ অব সাইকিয়াট্রিস্ট্‌স জানায়:

রয়াল কলেজ অব সাইকিয়াট্রিস্ট্‌স মনে করে যে যৌন অভিমুখিতা হল একাধিক জৈবিক ও জন্ম-পরবর্তী পরিবেশগত কারণের মিলিত প্রভাবের ফল। এর চেয়ে বেশি বলার মত আর যৌন অভিমুখিতার কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে দায়ী করার মত কোনো তথ্য-প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।[৪৩]

মার্কিন মনোবিদ্যা সমিতির মতে "ব্যক্তিবিশেষের যৌন অভিমুখিতার অনেক সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে, যে কারণগুলো ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।" তাঁরা এ'কথাও বলেন যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষের যৌন অভিমুখিতা অল্প বয়সেই নির্ধারিত হয়ে যায়।[১] পুরুষদের মধ্যে জিনগত বা জন্ম-পূর্ববর্তী অন্যান্য প্রভাবকের দ্বারা কিভাবে যৌন অভিমুখিতা নির্ধারিত হয়, সেই সংক্রান্ত গবেষণা সমকামিতার রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এবং চিকিৎসা-জিনতত্ত্বপ্রিন্যাটাল ডায়াগ্‌নসিস সম্বন্ধেও নতুন করে ভাবায়।[৪৪]

প্রফেসর মাইকেল কিং-এর মতে: "যে সমস্ত বিজ্ঞানী যৌন অভিমুখিতার উৎপত্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে গবেষণা করেছেন তাঁদের সিদ্ধান্ত হল এই যে, যৌন অভিমুখিতা এমন একটি মানবীয় বৈশিষ্ট্য যা জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ধারিত হয় এবং যা অপরিবর্তনীয়। সমকামিতার উৎপত্তি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদি ধর্মীয় ও সামাজিক বিতর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে সমকামিতা ব্যক্তির সচেতন পছন্দ মাত্র নয়।"[৪৫]

বিবর্তনীয় প্রেক্ষাপট[সম্পাদনা]

২০০৮ এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বিবৃতি দেওয়া হয়: "মানুষের যৌন অভিমুখিতা নির্ধারণে যে জিনের প্রভাব আছে সেই সম্পর্কে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই বোঝা যায় না প্রজননগত সাফল্যের হার কমিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও সমকামিতা কীভাবে জনসংখ্যার অপেক্ষাকৃত বেশি অংশে দেখা যায়।" তাঁরা অনুমান করেন যে "সমকামিতার জিন সমকামীদের প্রজননগত সাফল্যের হার কমিয়ে দিলেও যে সমস্ত বিষমকামী ঐ জিনসমূহ বহন করেন তাঁদের নিশ্চয়ই কিছু সুবিধে করে দেয়।" এই গবেষণার ফলাফল থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে "সমকামিতার জন্য দায়ী জিনসমূহ সম্ভবত বিষমকামীদের কোনো প্রজননগত সুবিধে দেয়, যার ফলে জনসংখ্যায় সমকামীদের বিবর্তন ও ধারাবাহিকতা সম্ভব হয়েছে।"[৪৬] ২০০৯ এর একটা গবেষণায় এ-ও দেখা যায় যে মায়ের দিক থেকে (বাবার দিক থেকে নয়) সমকামী ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত মহিলাদের যৌন ফলপ্রসূতা বেশি হয়।[৪৭]

প্রাণীজগতে সমকামী যৌনাচরণ সম্পর্কিত বেইলি এবং জুকের একটি রিভিউয়ে সমকামিতার প্রজনন-হ্রাসের তত্ত্বটিকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়। সমকামী যৌনাচার কেমনভাবে অভিযোজিত হতে পারে তার অনেক সম্ভাব্য কারণ এখানে উল্লেখ করা হয়। প্রজাতিভেদে এই কারণগুলো আলাদা আলাদা হতে পারে। বেইলি এবং জুক আরও বলেন যে ভবিষ্যতে গবেষকদের শুধুমাত্র সমকামিতার উৎস অনুসন্ধান না করে তার বিবর্তনীয় পরিণতি সম্বন্ধে আরও গবেষণা করা উচিত।[৪৮]

লেসবিয়ান অভিজ্ঞতা ও যৌন অভিমুখিতা সচেতনতা[সম্পাদনা]

অ্যানিস পার্কার হুস্টন শহরের প্রকাশ্য লেসবিয়ান মেয়র।[৪৯]

লেসবিয়ান নারীদের যৌনতার অভিজ্ঞতা প্রায়ই গে পুরুষদের থেকে আলাদা হয়, আর কার্যকারণগত দিক থেকেও শুধুমাত্র সমকামী পুরুষ সম্পর্কিত গবেষণা থেকে স্ত্রী সমকামিতার সঠিক ধারণা পাওয়া দুঃসাধ্য।

শেরে হিতের তত্ত্বাবধানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ১৯৭০ এর একটি চিঠি-ভিত্তিক সমীক্ষায় লেসবিয়ানরা তাঁদের যৌনতার কারণের নিজস্ব ব্যাখ্যা দেন। ১৯৫৩ এ কিন্‌সির গবেষণার পর সেটাই ছিল নারী যৌনতার উপর প্রথম গবেষণা যেখানে নারীরা নিজেরা তাঁদের সমকামিত্বকে কীভাবে দেখেন, তা বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। পুরুষের তুলনায় অন্য নারীদের সাথে যৌন সংসর্গ করতে বেশি পছন্দ করার বিভিন্ন তত্ত্ব এই গবেষণায় উঠে আসে, যেমন অন্যের অনুভূতির প্রতি নারীদের বেশি সংবেদনশীলতা।[৫০]

তাঁর গবেষণার পর শেরে হিতে স্বীকার করেন কোনো কোনো মহিলা রাজনৈতিকভাবে লেসবিয়ান পরিচিতি গ্রহণ করে থাকতে পারেন। ২০০৯ তেও যুক্তরাজ্যের সাংবাদিক জুলি বিন্ডেল পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন যে "রাজনৈতিক লেসবিয়ানিজ্‌মের প্রাসঙ্গিকতা অব্যাহত আছে, কারণ এর মাধ্যমে বোঝা যায় যৌনতা একটা মুক্ত সিদ্ধান্তের বিষয় আর আমরা ক্রোমোজোমের জন্য কোনো নির্দিষ্ট নিয়তিতে আবদ্ধ নই।"[৫১]

যৌন অভিমুখিতা পরিবর্তনের কর্মসূচী[সম্পাদনা]

সমকামিতার সামাজিকতা[সম্পাদনা]

মানবজাতির ইতিহাসের সমগ্র সময়কাল জুড়ে সমকামী সম্পর্ক ও আচরণ নিন্দিত হয়ে এসেছে। তবে কখনো-কখনো সামাজিক ঔদার্য ও আনুকূল্যও পরিলক্ষিত হয়েছে। এই প্রশংসা ও নিন্দা নির্ভর করেছে স্থানভেদে সমকামিতার বহিঃপ্রকাশের রূপ, সমসাময়িক বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের প্রভাব ও সাংস্কৃতিক মানসিকতার উপর। তবে অধিকাংশ সমাজে এবং সরকার ব্যবস্থায় সমকামী আচরণকে দণ্ডণীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। উদাহরণস্বরূপ ভারত এবং বাংলাদেশ সহ বিশ্বের ৭টি দেশের সংবিধানে ৩৭৭ ধারা এবং ১৯টি দেশে সমপর্যায়ের ধারা এবং ১১টি দেশে সম্পূরক ধারা মোতাবেক সমকামিতা ও পশুকামিতা প্রকৃতিবিরোধী যৌনাচার হিসেবে শাস্তিযোগ্য ও দন্ডনীয় অপরাধ। পৃথিবীর মোট ৮১ টি দেশে সমকামিতা সরকারীভাবে অবৈধ এবং ৭টি দেশে সমকামী আচরণের অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রাষ্ট্রীয়ভাবে চালু আছে।

সমকামিতা আবহমানকাল ধরে অসামাজিক বিবেচিত হয়েছে যার প্রধান কারণ হলো, এটি এমন একটি যৌনাচরণ যার মাধ্যমে সন্তানের জন্মদান সম্ভব নয়, ফলে মানুষের বংশরক্ষা সম্ভব নয়। এছাড়া সকল প্রধান ধর্ম সমকামী যৌনাচরণ নিষিদ্ধ করেছে। আধুনিক সমাজেও সমকামী যৌনাচরণ একপ্রকার যৌনবিকৃতি হিসাবে সাধারণভাবে পরিগণিত। তবে ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে পাশ্চাত্য মনস্তাত্ত্বিকরা 'সমকাম প্রবণতাকে' মনোবিকলনের তালিকা থেকে বাদ দেন। ১৯৭৫-এ যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মনস্তত্ত্ব ফেডারেশন 'সমকাম প্রবণতাকে' স্বাভাবিক বলে দাবি করে। তবে পাশ্চাত্য ও উন্নত কিছু দেশ ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সকল দেশে সমকামী যৌনাচারণের প্রতি সাধারণ মানুষের বৈরীভাব বহাল আছে। অধিকাংশ সমাজে সমকামী যৌনাচারণ একটি অস্বাভাবিক ও নেতিবাচক প্রবৃত্তি হিসেবে লজ্জার ব্যাপার এবং ধিক্কারযোগ্য। ধর্ম এবং আইনের বিধান এবং সামাজিক অনুশাসনের কারণে কার্যকলাপ তথা সমকামী যৌনসঙ্গম একটি অবৈধ ও গুপ্ত আচরণ হিসাবেই সংঘটিত হয়।

বিগত শতাব্দীর সমকামিতা ও সমকামিতাবিরোধী আন্দোলন, রাষ্ট্রীয় সহনশীলতা এবং গে, এক্স-গে আন্দোলন[সম্পাদনা]

বিশ শতাব্দীর দ্বিতীয় পদে সমকামীদের ক্রমাগত আন্দোলনের কারণে সমকামিতার ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় শৈথিল্য দেখা যেতে শুরু করে। পাশ্চাত্যের বেশ কিছু দেশে সমকামী যৌনাচারণের অবৈধতা তুলে নেয়া হয়। কয়েকটি দেশ সমকামী ব্যক্তিদের বিবাহ আইনসিদ্ধ ঘোষণা করে। স্টোনওয়াল দাঙ্গার পর থেকে[৫২] সমকামী ব্যক্তিরা এলজিবিটি সামাজিক আন্দোলনের সূচনা ঘটায়। এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল সমকামীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ, স্বীকৃতি, আইনি অধিকারদান এবং একই সঙ্গে সমলিঙ্গের বিবাহ, দত্তকগ্রহণ, সন্তানপালন, বৈষম্যবিরোধী আইন প্রয়োগ, পরিষেবা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় বৈষম্যের বিরুদ্ধে অধিকার প্রদানের দাবি উত্থাপন। এছাড়া একই সময়ে বেশ কিছু প্রাক্তন সমকামী বা এক্স-গে সংগঠনের সূচনা ঘটে যারা সমকামী মনোভাব দুরীকরণ ও সমকামী প্রবনতা প্রতিকারের জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে আসে। সমকামিতার পক্ষে ও বিপক্ষে সমাজ প্রভাবক অগনিত উত্থানপতন প্রকাশ্য ও গোপনে এখনও ঘটে চলেছে।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ ১.৩ ১.৪ ১.৫ ১.৬ ১.৭ "Sexual orientation, homosexuality and bisexuality"American Psychological Associationআসল থেকে August 8, 2013-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত August 10, 2013 
  2. ২.০ ২.১ ২.২ "Case No. S147999 in the Supreme Court of the State of California, In re Marriage Cases Judicial Council Coordination Proceeding No. 4365(...) – APA California Amicus Brief — As Filed" (PDF)। পৃ: 30। সংগৃহীত 21 December 2010 
  3. ৩.০ ৩.১ ৩.২ ৩.৩ ৩.৪ Frankowski BL; American Academy of Pediatrics Committee on Adolescence (June 2004)। "Sexual orientation and adolescents"Pediatrics 113 (6): 1827–32। ডিওআই:10.1542/peds.113.6.1827পিএমআইডি 15173519 
  4. ৪.০ ৪.১ ৪.২ "Submission to the Church of England's Listening Exercise on Human Sexuality"। The Royal College of Psychiatrists। সংগৃহীত 13 June 2013 
  5. ৫.০ ৫.১ ডিওআই:10.1007/s10508-008-9386-1
    This citation will be automatically completed in the next few minutes. You can jump the queue or expand by hand
  6. Robinson, B. A. (2010)। "Divergent beliefs about the nature of homosexuality"। Religious Tolerance.org। সংগৃহীত 12 September 2011 
  7. ""Therapies" to change sexual orientation lack medical justification and threaten health"। Pan American Health Organization। সংগৃহীত 26 May 2012  archived here [৩].
  8. American Psychological Association: Resolution on Appropriate Affirmative Responses to Sexual Orientation Distress and Change Efforts
  9. ৯.০ ৯.১ LeVay, Simon (1996). Queer Science: The Use and Abuse of Research into Homosexuality. Cambridge: The MIT Press ISBN 0-262-12199-9
  10. "Same-sex Behavior Seen In Nearly All Animals, Review Finds"ScienceDaily 
  11. 1,500 animal species practice homosexuality. The Medical News, 23 October 2006
  12. Sommer, Volker & Paul L. Vasey (2006), Homosexual Behaviour in Animals, An Evolutionary Perspective. Cambridge University Press, Cambridge. ISBN 0-521-86446-1
  13. (Bagemihl 1999)
  14. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; Biological_Exuberance:_Animal নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
  15. Sexual Orientation. American Psychiatric Association.
  16. অভিধানে 'সম' শব্দার্থ
  17. অভিধানে 'কাম' শব্দার্থ
  18. "The word homosexual combined a GreekThe Greek prefix, homo, meaning "same" with a Latin noun, sexus, meaning sex"
  19. Krafft-Ebing, Richard von (1840–1902). glbtq.com.
  20. "Psychopathia Sexualis", Kino.com, সংগৃহীত 7 September 2007 
  21. (Campbell 1982, পৃ. x-xi)
  22. Page, Sappho and Alcaeus, p. 224-5.
  23. Bagemihl, Bruce (1999)। Biological Exuberance: Animal Homosexuality and Natural Diversity। London: Profile Books, Ltd.। আইএসবিএন 1861971826 
  24. "1,500 Animal Species Practice Homosexuality". News-medical.net. 2006-10-23. http://www.news-medical.net/?id=20718. Retrieved 2007-09-10.
  25. "No species has been found in which homosexual behaviour has not been shown to exist, with the exception of species that never have sex at all, such as sea urchins and aphis. Moreover, a part of the animal kingdom is hermaphroditic, truly bisexual. For them, homosexuality is not an issue" - Petter Bøckman, the scientific advisor of the exhibition "Against Nature?" in 2007
  26. Roughgarden, Joan (May 2004)। Evolution's Rainbow: Diversity, Gender, and Sexuality in Nature and People। Berkeley, CA: University of California Pressআইএসবিএন 0520240731  |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  27. ACSF Investigators (1992). AIDS and sexual behaviour in France. Nature, 360, 407–409.
  28. Billy, J. O. G., Tanfer, K., Grady, W. R., & Klepinger, D. H. (1993). The sexual behavior of men in the United States. Family Planning Perspectives, 25, 52–60.
  29. Binson, D., Michaels, S., Stall, R., Coates, T. J., Gagnon, & Catania, J. A. (1995). Prevalence and social distribution of men who have sex with men: United States and its urban centers. Journal of Sex Research, 32, 245–254.
  30. Bogaert, A. F. (2004). The prevalence of male homosexuality: The effect of fraternal birth order and variation in family size. Journal of Theoretical Biology, 230, 33–37. [৪] Bogaert argues that: "The prevalence of male homosexuality is debated. One widely reported early estimate was 10% (e.g., Marmor, 1980; Voeller, 1990). Some recent data provided support for this estimate (Bagley and Tremblay, 1998), but most recent large national samples suggest that the prevalence of male homosexuality in modern western societies, including the United States, is lower than this early estimate (e.g., 1–2% in Billy et al., 1993; 2–3% in Laumann et al., 1994; 6% in Sell et al., 1995; 1–3% in Wellings et al., 1994). It is of note, however, that homosexuality is defined in different ways in these studies. For example, some use same-sex behavior and not same-sex attraction as the operational definition of homosexuality (e.g., Billy et al., 1993); many sex researchers (e.g., Bailey et al., 2000; Bogaert, 2003; Money, 1988; Zucker and Bradley, 1995) now emphasize attraction over overt behavior in conceptualizing sexual orientation." (p. 33) Also: "...the prevalence of male homosexuality (in particular, same-sex attraction) varies over time and across societies (and hence is a ‘‘moving target’’) in part because of two effects: (1) variations in fertility rate or family size; and (2) the fraternal birth order effect. Thus, even if accurately measured in one country at one time, the rate of male homosexuality is subject to change and is not generalizable over time or across societies." (p. 33)
  31. Fay RE, Turner CF, Klassen AD, Gagnon JH (January 1989)। "Prevalence and patterns of same-gender sexual contact among men"Science 243 (4889): 338–48। পিএমআইডি 2911744  |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  32. Johnson AM, Wadsworth J, Wellings K, Bradshaw S, Field J (December 1992)। "Sexual lifestyles and HIV risk"। Nature 360 (6403): 410–2। ডিওআই:10.1038/360410a0পিএমআইডি 1448163  |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  33. Laumann, E. O., Gagnon, J. H., Michael, R. T., & Michaels, S. (1994). The social organization of sexuality: Sexual practices in the United States. Chicago: University of Chicago Press.
  34. Sell RL, Wells JA, Wypij D (June 1995)। "The prevalence of homosexual behavior and attraction in the United States, the United Kingdom and France: results of national population-based samples"। Arch Sex Behav 24 (3): 235–48। পিএমআইডি 7611844  |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  35. Wellings, K., Field, J., Johnson, A., & Wadsworth, J. (1994). Sexual behavior in Britain: The national survey of sexual attitudes and lifestyles. London, UK: Penguin Books.
  36. Norway world leader in casual sex, Aftenposten
  37. Sex uncovered poll: Homosexuality, Guardian
  38. McConaghy et al., 2006
  39. Crompton, Louis (2003)। Homosexuality and Civilization। Cambridge, Massachusetts: Belknap Pressআইএসবিএন 067401197X 
  40. [Edward Gibbon. History of the Decline and Fall of the Roman Empire. Vol. 1, London. 1898, p. 313.]
  41. Perrin, E. C. (2002)। Sexual Orientation in Child and Adolescent Health Care। New York: Kluwer Academic/Plenum Publishers। আইএসবিএন 0-306-46761-5 
  42. "Royal College of Psychiatrists' statement on sexual orientation"। Royal College of Psychiatrists' statement on sexual orientation। সংগৃহীত 31 March 2015 
  43. Mitchum, Robert (12 August 2007), "Study of gay brothers may find clues about sexuality", Chicago Tribune, সংগৃহীত 4 May 2007 [অকার্যকর সংযোগ]
  44. "How much is known about the origins of homosexuality?"। Church Times। 16 November 2007। সংগৃহীত 24 August 2010 [অকার্যকর সংযোগ]
  45. Zietsch et al. (2008)
  46. Iemmola, Francesca and Camperio Ciani, Andrea (2009)। "New Evidence of Genetic Factors Influencing Sexual Orientation in Men: Female Fecundity Increase in the Maternal Line"। Archives of Sexual Behavior (Springer Netherlands) 38 
  47. Bailey, N. W., & Zuk, M. (2009). Same-sex sexual behavior and evolution. Trends In Ecology & Evolution, 24(8), 439–446. doi:10.1016/j.tree.2009.03.014 [৫]
  48. "Locke Concedes In Mayor's Race – Politics News Story – KPRC Houston"। 16 December 2009-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত 13 December 2009 
  49. Shere Hite, The Hite Report: A Nationwide Study of Female Sexuality (N.Y.: Seven Stories Press, 2004 ed. pbk. [1st printing?] © 1976, 1981, 2004), pp. 325–328 & 330 (ISBN 1-58322-569-2).
  50. Bindel, Julie (30 January 2009)। "My sexual revolution"The Guardian (London)। সংগৃহীত 4 May 2010 
  51. Adam, p. 82.

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

গ্রন্থ[সম্পাদনা]

  • Kenneth J. Dover, Greek Homosexuality, , Gerald Duckworth & Co. Ltd. 1979, ISBN 0-674-36261-6 (hardcover), ISBN 0-674-36270-5 (paperback)
  • John d'Emilio, Sexual Politics, Sexual Communities: The Making of a Homosexual Minority in the United States, 1940-1970, University of Chicago Press 1983, ISBN 0-226-14265-5
  • Norman Roth. The care and feeding of gazelles - Medieval Arabic and Hebrew love poetry. IN: Lazar & Lacy. Poetics of Love in the Middle Ages, George Mason University Press 1989, ISBN 0-913969-25-7
  • Allan Bérubé, Coming out under Fire: The History of Gay Men and Women in World War Two, New York: MacMillan 1990, ISBN 0-02-903100-1
  • Bret Hinsch, Passions of the Cut Sleeve: The Male Homosexual Tradition in China, The University of California Press, 1990, ISBN 0-520-06720-7
  • Dynes, Wayne R. (ed.) The Encyclopedia of Homosexuality New York and London, Garland Publishing 1990, ISBN 0-8240-6544-1
  • Foucault, Michel, The History of Sexuality vol. 1: An Introduction, p. 43. Trans. Robert Hurley. New York: Vintage 1990
  • George Rousseau, Perilous Enlightenment: Pre- and Post-Modern Discourses--Sexual, Historical, Manchester University Press 1991, ISBN 0-7190-3301-2
  • Lillian Faderman, Odd Girls and Twilight Lovers: A History of Lesbian Life in Twentieth Century America, Penguin 1992
  • Arno Schmitt & Jehoeda Sofer (eds). Sexuality and Eroticism Among Males in Moslem Societies. Haworth Press, 1992
  • George Chauncey, Gay New York: Gender Urban Culture and the Making of the Gay Male World, New York: Basic Books, 1994
  • Juanita Ramos , Compañeras: Latina Lesbians : An Anthology, Routledge 1994
  • Johansson, Warren and Percy, William A., (1994), Outing: Shattering the Conspiracy of Silence, Harrington Park Press
  • Robert T. Michael, John H. Gagnon, Edward O. Laumann, and Gina Kolata. Sex in America: A definitive survey. Boston: Little, Brown, 1995. ISBN 0-316-07524-8
  • Percy, William A Pederasty and Pedagogy in Archaic Greece. University of Illinois Press, 1996
  • Lester G. Brown, Two Spirit People, 1997, Harrington Park Press, ISBN 1-56023-089-4
  • Bullough et al. (eds.) (1996). Handbook of Medieval Sexuality. Garland Publishing. ISBN 0-8153-1287-3.
  • Jennifer Terry, An American Obsession: Science, Medicine, and Homosexuality in Modern Society, University of Chicago Press 1999, ISBN 0-226-79367-2
  • Bullough, Vern L. Before Stonewall: Activists for Gay and Lesbian Rights in Historical Context, Harrington Park Press 2002
  • Ruth Vanita, Queering India: Same-Sex Love and Eroticism in Indian Culture and Society, Routledge 2002
  • Joanne Meyers, Historical Dictionary of the Lesbian Liberation Movement: Still the Rage, Scarecrow Press 2003
  • David K. Johnson, The Lavender Scare: The Cold War Persecution of Gays and Lesbians in the Federal Government, Chicago: University of Chicago Press, 2004

পত্রিকা প্রবন্ধ[সম্পাদনা]

  • Bowman, Karl M.; Eagle, Bernice The Problem of Homosexuality, Journal of Social Hygiene 1953
  • Norton, Rictor and Crew, Louis The Homophobic Imagination, College English 1974
  • Simon LeVay, A difference in hypothalamic structure between homosexual and heterosexual men, Science Magazine 1991
  • Christopher Bagley and Pierre Tremblay, On the Prevalence of Homosexuality and Bisexuality, in a Random Community Survey of 750 Men Aged 18 to 27, Journal of Homosexuality, Volume 36, Number 2, pages 1–18, 1998

অনলাইন প্রবন্ধ[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]