বিএমডব্লিউ হাইড্রোজেন ৭
| বিএমডাব্লিউ হাইড্রোজেন ৭ | |
|---|---|
| উৎপাদনকারী | বিএমডব্লিউ |
| শ্রেণী | সৌখিন কার |
| সম্পর্কিত | বিএমডব্লিউ ৭ সিরিজ |
বিএমডব্লিউ হাইড্রোজেন ৭ একটি সীমিত উৎপাদিত হাইড্রোজেন গাড়ি যেটি জার্মান অটোমোবাইল নির্মাতা বিএমডব্লিউ কতৃক নির্মিত। গাড়িটি বিএমডব্লিউর ঐতিহ্যগত পেট্রল যান ৭-সিরিজের একটি গাড়ি, আরো বিশেষভাবে বলতে গেলে ৭৬০এল আই মডেলের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি ৭৬০আই এবং ৭৬০এল আই এর একই ৬ লিটার ভি-১২ মোটর ব্যবহার করছে; তবে, এর ইঞ্জিনটিকে একটু পরিমার্জিত করা হয়েছে হাইড্রোজেন এবং গ্যাসোলিন উভয়কে দহন উপযোগী করবার জন্য, যার ফলে এটি হয়ে উঠেছে দ্বিযোজী ইঞ্জিন। বর্তমানে যে সমস্ত হাইড্রোজেন চালিত গাড়ি হোন্ডা, জেনারেল মোটরস এবং ডেইমলার এজি উত্পাদন করছে - সেগুলো জ্বালানি কোষ প্রযুক্তি এবং হাইড্রোজেনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উত্পাদন করে গাড়ির চালাবার কাজে ব্যবহার করছে। বিএমডব্লিউর হাইড্রোজেন ৭, হাইড্রোজেন একটি অভ্যন্তরীণ অন্তর্দহন ইঞ্জিনে পোড়ে।
পরিচ্ছেদসমূহ |
উৎপাদন [সম্পাদনা]
বিএমডব্লিউ দাবি করেছে হাইড্রোজেন ৭ "বিশ্বের প্রথম উৎপাদন-প্রস্তুত হাইড্রোজেন গাড়ি"; যদিও, হাইড্রোজেন ৭ শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু উচ্চ পর্যায়ের ব্যাক্তিবর্গের কাছে ধার হিসাবে প্রদান করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক মোট মাত্র ১০০ টি যান তারা উৎপাদন করেছে তাদের এ প্রযুক্তি পরীক্ষা করবার লক্ষ্যে এবং ধারণা করা হচ্ছে আর উত্পাদন করবার কোন পরিকল্পনাই তাদের নেই।[১] বিএমডব্লিউর বলেছে তারা বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব যেমন রাজনীতিবিদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী এবং বিনোদন শিল্পের নামী ব্যক্তিত্ব যেমন ২০০৭ সালে অ্যাকাডেমি পুরস্কার-বিজয়ী পরিচালক ফ্লোরিয়ান হেনকেল ভন ডোনেরসমার্ক এবং সিক্সট এজি'র চেয়ারম্যান, এরিক সিক্সট, কারণ, হাইড্রোজেন জ্বালানীর সাফল্য অর্জনের জন্য "তারা আদর্শ দূত হবেন" এবং এই নতুন প্রযুক্তির জন্য যে সচেতনতা প্রয়োজন তা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হবেন।[২] এই গাড়িটিকে কখনো বৃহত্তর উৎপাদন ব্যবস্থায় আনা হবে কিনা সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে, এমনকি যদি কখনো হাইড্রোজেন জ্বালানি প্রযুক্তি স্বল্পব্যয়ী এবং "সবুজ" সম্ভাব্য হিসেবে বহুল প্রচলিত হয়ে উঠে এবং পর্যাপ্ত পরিকাঠামো হাইড্রোজেন যানবাহনের চাহিদা বাড়িয়ে দিতে চাইবে তখনো। হাইড্রোজেন ৭ অনেক ট্রাকের চাইতে বেশী জ্বালানী ব্যবহার করে, এটি ১৩.৯ লিঃ/১০০ কিমি পেট্রল এবং ৫০ লিঃ/১০০ কিমি হাইড্রোজেন জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করে। নিম্নলিখিত টেবিলে উভয় ইম্পেরিয়াল এবং মার্কিন গ্যালনে জ্বালানি খরচ (লি/১০০ কিমি) দেখানো হল।
| গ্যাসোলিন (পেট্রল) | হাইড্রোজেন | ||||
|---|---|---|---|---|---|
| লিঃ/১০০ কিঃমিঃ | Imp. mpg | ইউএস mpg | লিঃ/১০০ কিঃমিঃ | Imp. mpg | ইউএস mpg |
| ১৩.৯ | ২০.৩ | ১৬.৯ | ৫০.০ | ৫.৬ | ৪.৭ |
জ্বালানি খরচের মূল পার্থক্যের প্রধান কারণ দুটি ভিন্ন ঘনত্বের শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে তাই, পেট্রল প্রদায়ক ৩৪.৬ MJ /লিঃ এবং তরল হাইড্রোজেনের প্রদায়ক ১০.১ [MJ/লিঃ]। এই শক্তির ঘনত্ব পরিসংখ্যান ভিত্তিতে, ১৩.৯ লিঃ/১০০ কিমি পেট্রলের উপর নির্ভর করে যে কেউ আশা করবে যে হাইড্রোজেনে ৪৭.৬ লিঃ/১০০ কিমি; যেটি ৫০.০ লি/১০০ কিমি থেকে খুব কাছাকাছি। অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন শক্তির একটি উৎস হিসেবে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তির ন্যায় সাশ্রয়ি হবার ক্ষেত্রে অনেক পথ অতিক্রম করতে হবে, যদিও এই সিস্টেম যদিও সীমিত কিন্তু এর উত্পাদন যে হচ্ছে সেটাই অনেক বিশাল একটি ব্যাপার।
বৈশিষ্ট্য [সম্পাদনা]
গাড়িটি ৬.০ লিটার ভি১২ ইঞ্জিন উভয় প্রিমিয়াম গ্যাসোলিন এবং হাইড্রোজেন জ্বালানিতে চলতে সক্ষম। এটি ১৯১-কিলোওয়াট (২৬০পিএস; ২৫৬ এইচপি) এবং ৩৯০N·m (২৯০ ft·lbf) টর্ক সমৃদ্ধ উভয় জ্বালানীতেই। কারটির বন্ধ থেকে ১০০ কিমি/ঘন্টা (৬২ মাইল/ঘন্টা) গতি উঠতে সময় প্রয়োজন ৯.৫ সেকেন্ড। হাইড্রোজেন ফুয়েল ট্যাংকে প্রায় ৮ কেজি (১৮ পাউণ্ড) হাইড্রোজেন, যার সাহায্যে ১২৫ মাইল (২০১ কিমি) পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব। পেট্টল ট্যাংকে ১৯.৫ গ্যালন তেল আটে যার সাহায্যে ৬০০ মাইল (৪৮০ কিলোমিটার) ভ্রমণ করা সম্ভব। মিলিত ভাবে সমগতীতে ৪০০ মাইল (৬৪০ কিলোমিটার) যাওয়া সম্ভব। হাইড্রোজেন ৭ চলে ৫.৬ mpg-imp (৫০ লি/১০০কিমি-মার্কিন) হাইড্রোজেনে (তুলনা হিসাবে হোন্ডার FCX Clarity যায় ৮১ mpg-imp (৩.৫ লি/১০০কিমি-মার্কিন)) এবং ১৬.৯ mpg-imp (১৬.৭ লি/১০০কিমি-মার্কিন) পেট্রলে। হাইড্রোজেন ৭ এর ওজন, ৭৬০Li অপেক্ষা প্রায় ৫৫০ পাউন্ড (২৫০ কেজি) বেশী, এর মোট ওজন ৫,১০০ পাউন্ড (২,৩০০ কেজি)।
আরও দেখুন [সম্পাদনা]
তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]
বহিঃসংযোগ [সম্পাদনা]
| উইকিমিডিয়া কমন্সে নিচের বিষয় সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে: BMW Hydrogen 7 |