বাইয়্যিনাহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

সূরা আল বাইয়্যিনাহ (আরবি: سورة البينة‎‎) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ৯৮ নম্বর সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ৮ টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ১। আল বাইয়্যিনাহ সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।

আয়াতসমূহ[সম্পাদনা]

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

(১) আহ্‌লে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের ছিল, তারা প্রত্যাবর্তন করত না যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসত।
(২) অর্থাৎ, আল্লাহ্‌র একজন রসূল, যিনি আবৃত্তি করতেন পবিত্র সহীফা,
(৩) যাতে আছে, সঠিক বিষয়বস্তু।
(৪) অপর কিতাব প্রাপ্তরা যে বিভ্রান্ত হয়েছে তা হয়েছে, তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরেই।
(৫) তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ্‌র এবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম।
(৬) আহ্‌লে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম।
(৭) যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই সৃষ্টির সেরা।
(৮) তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে তাদের প্রতিদান চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার তলদেশে নির্ঝরিণী প্রবাহিত। তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহ্‌র প্রতি সন্তুষ্ট। এটা তার জন্যে, যে তার পালনকর্তাকে ভয় করে।

ব্যাখ্যা[সম্পাদনা]

প্রথম আয়াতে রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর আবির্ভাবের পূর্বে দুনিয়াতে কুফল, শিরক, ও মূর্খতার ঘোর অন্ধকারের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, এহেন সর্বগ্রাসী অন্ধকার দূর করার জন্যে একজন পারদর্শী সংস্কারক প্রেরণ করা ছিল অপরিহার্য। রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর জন্ম ও আবির্ভাবের পূর্বে আহ্‌লে-কিতাবরা সবাই তাঁর নবুওয়তের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করত। কেননা, তাদের ঐশীগ্রন্থ তৌরাতইঞ্জীলে রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর নবুওয়ত, তাঁর বিশেষ গুণাবলী ও তাঁর প্রতি কোরআন অবতর সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা ছিল। তাই ইহুদীখ্রীষ্টানদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোন বিরোধ ছিল না যে, শেষ যমানার মোহাম্মদী মোস্তফা (সাঃ) আগমন করবেন, তাঁর প্রতি কোরআন নাযিল হবে এবং তাঁর অনুসরণ সবার জন্যে অপরিহার্য হবে। কোরআনেও তাদের এই ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছেঃ

আহ্‌লে কিতাবরা রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর আবির্ভাবের পূর্বে তাঁর আগমনের অপেহ্মায় ছিল এবং যখন মুশরেকদের সাথে তাদের মোকাবেলা হত, তখনই তাঁর মধ্যস্থতায় আল্লাহ্‌ তাআলার কাছে বিজয় কামনা করে দোয়া করত যে, শেষ নবীর বরকতে আমাদের দান করা হোক।

অথবা তারা মুশরিকদেরকে বলতঃ

তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে শক্তি পরীহ্মা করছ বটে, কিন্তু সত্বরই একজন রসূল আসবেন, যিনি তোমাদেরকে পদানত করবেন। আমরা তাঁর সাথে থাকব, ফলে আমদেরই বিজয় হবে।

রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর আগমনের পূর্বে আহ্‌লে-কিতাবরা সবাই তাঁর নবুওয়ত সম্পর্কে অভিন্ন মত পোষণ করত, কিন্তু যখন তিনি আগমন করলেন, তখন তারা অস্বীকার করতে লাগল। কোরআনেরও অন্য এক আয়াতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ

তাদের কাছে যখন পরিচিত রসূল, সত্যধর্ম অথবা কোরআন আগমন করল, তখন তারা কুফর করতে লাগল।

আলোচ্য আয়াতে এ বিষয়টি এভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, আশ্চর্যের বিষয়, রসূলের আগমন ও তাঁকে দেখার পূর্বে তো তাদের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে কোন মতবিরোধ ছিল না; সবাই তার নবুওয়ত সম্পর্কে একমত ছিল, কিন্তু যখন সুস্পষ্ট প্রমাণ অর্থাৎ শেষনবী আগমন করলেন, তখন তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়ে গেল। কেউ তো বিশ্বাস স্থাপন করে মুমিন হল এবং অনেকেই কাফের হয়ে গেল।[১]

সবশেষে পরিস্কারভাবে বলে দেয়া হয়েছে, যেসব আহ্‌লি কিতাব ও মুশরিক এই রসূলকে মেনে নিতে অস্বীকার করবে তারা নিকৃষ্টতম সৃষ্টি। তাদের শাস্তি চিরস্তন জাহান্নাম। আর যারা ঈমান এনে সৎ কর্মের পথ অবলম্বন করবে এবং দুনিয়ায় আল্লাহ্‌কে ভয় করে জীবন যাপন করবে তারা সর্বোত্তম সৃষ্টি। তারা চিরকাল জান্নাতে থাকবে। এই তাদের পুরস্কার।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. তফসীর মাআরেফুল ক্বোরআন (১১ খন্ডের সংহ্মিপ্ত ব্যাখ্যা)।
  2. তাফহীমুল কোরআন।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

পূর্ববর্তী সূরা:
ক্বদর
আল কুরআন
পরবর্তী সূরা:
যিলযাল
সূরা বাইয়্যিনাহ ([[:চিত্র:Sura{{{4}}}.pdf|আরবি ভাষায়]])

                  ১০  ১১  ১২  ১৩  ১৪  ১৫  ১৬  ১৭  ১৮  ১৯  ২০  ২১  ২২  ২৩  ২৪  ২৫  ২৬  ২৭  ২৮  ২৯  ৩০  ৩১  ৩২  ৩৩  ৩৪  ৩৫  ৩৬  ৩৭  ৩৮  ৩৯  ৪০  ৪১  ৪২  ৪৩  ৪৪  ৪৫  ৪৬  ৪৭  ৪৮  ৪৯  ৫০  ৫১  ৫২  ৫৩  ৫৪  ৫৫  ৫৬  ৫৭  ৫৮  ৫৯  ৬০  ৬১  ৬২  ৬৩  ৬৪  ৬৫  ৬৬  ৬৭  ৬৮  ৬৯  ৭০  ৭১  ৭২  ৭৩  ৭৪  ৭৫  ৭৬  ৭৭  ৭৮  ৭৯  ৮০  ৮১  ৮২  ৮৩  ৮৪  ৮৫  ৮৬  ৮৭  ৮৮  ৮৯  ৯০  ৯১  ৯২  ৯৩  ৯৪  ৯৫  ৯৬  ৯৭  ৯৮  ৯৯  ১০০  ১০১  ১০২  ১০৩  ১০৪  ১০৫  ১০৬  ১০৭  ১০৮  ১০৯  ১১০  ১১১  ১১২  ১১৩  ১১৪