পদমৈথুন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পদমৈথুন

পদমৈথুন পায়ের পাতাদ্বয় দ্বারা কৃত একটি যৌন অভ্যাস[১][২] যাতে একজনের পায়ের পাতাদ্বয় তার সঙ্গী বা সঙ্গীনীর দেহের উপর কামোদ্রেক, উদ্দীপনা বা রাগমোচন-এর প্রবৃত্তিতে ঘর্ষিত হয়। এটি পাদদেশ বস্তুকাম-এর একটি অংশ বলে মনে করা হয়। পদমৈথুন বেশীরভাগ পুরুষের উপর সম্পাদিত হয়, একজন সঙ্গী বা সঙ্গীনী তার পায়ের পাতাদ্বয় এবং/বা পায়ের আঙ্গুল ব্যবহার করে অপর সঙ্গীর লিঙ্গ (পুরুষাঙ্গ) আন্দোলিত ও মর্দন করে থাকে। এছাড়াও পদমৈথুনের ক্ষেত্রে, একজনের পায়ের পাতাদ্বয় এবং/বা পায়ের আঙ্গুল ব্যবহার করে একটি মহিলার স্তন বা যোনি এলাকায় আদরের অভ্যাসও উল্লেখ করা যেতে পারে।[৩][৪]

সারাংশ[সম্পাদনা]

পদমৈথুন অভেদকারী যৌনসহবাস-এর একটি নমুনা বিশেষ যা পূর্বরাগের ক্রিয়া হিসাবে অথবা যৌনসঙ্গীটির রাগমোচন গ্রহণ করা পর্যন্ত সম্পাদিত হতে পারে। যাদের পাদদেশ বস্তুকাম আছে, যারা তাদের পুরুষাঙ্গে পায়ের পাতাদ্বয়ের দর্শনমাত্র এবং অনুভবে বিশেষভাবে কামোত্তেজিত হয়ে ওঠে, তাদের কাছে এই দুটিই খুব জনপ্রিয়। পদমৈথুনের সর্ব্বোচ স্তরে তীব্র রাগমোচন (যদি রাগমোচনের উদ্দেশে করা হয়) এবং শক্তিশালী লিঙ্গ ঋজুতা এবং আরো সবল যৌনমিলন (যদি পূর্বরাগের উদ্দেশে করা হয়) সম্ভব হয়। এটি সম্পন্ন করা যেতে পারে নগ্নপদে, অথবা কিছু পরিহিত অবস্থায় যেমন মোজা, প্যাণ্টীহোস, স্টকিংস, ফ্লিপ-ফ্লপ, হাই হিল, বুট এবং চপ্পল

পদ্ধতি[সম্পাদনা]

পদমৈথুন ক্রিয়া সম্পাদন করতে একজন পুরুষ কিংবা নারীর ব্যতিক্রমী স্তরের পায়ের এবং পায়ের পাতাদ্বয়ের চতুরতা এবং উদরপেশীর শক্তি থাকতে হবে। খুব অল্প সংখ্যক পুরুষ কিংবা নারীর শুধুমাত্র নিজের পায়ের পাতাদ্বয় এবং/বা পায়ের আঙ্গুল ব্যবহার করে একজনকে কামের শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছে দেওয়ার দক্ষতা, নৈপুণ্য এবং শক্তি আছে। পদমৈথুনে ব্যবহার করার মতো বিভিন্ন অবস্থান আছে যেগুলির মধ্যে কিছু অন্যগুলোর তুলনায় অনেক সহজ। এছাড়াও, যদি কোনও মহিলা দেখেন যে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে পদমৈথুন করতে অক্ষম কিংবা বন্ধন আলগা হয়ে আসছে তখন পুরুষটি মহিলাটির পায়ের পাতাদ্বয় ধরে রাখতে এবং তার পদধনুতে খোঁচা দিতে পারেন, অনুরূপভাবে মহিলাটির যোনিতেও এটি করতে পারেন।

মৌলিক পদ্ধতি[সম্পাদনা]

বিপরীত পদমৈথুন

পদমৈথুনের বিভিন্ন পদ্ধতি আছে, নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলি এতে অন্তর্ভুক্ত:

  • পর্যায়ক্রমে অথবা একই সময়ে একজনের পায়ের আঙ্গুল, পদতল এবং পদধনু ব্যবহার করে সঙ্গীটির যৌনাঙ্গ আন্দোলিত ও মর্দন।
  • পদাঙ্গুলিমৈথুন: একজন সঙ্গী প্রাথমিকভাবে তার পায়ের আঙ্গুল ব্যবহার করে অপর সঙ্গীটির লিঙ্গ ঘর্ষণ করে, ক্রমাগত তার পায়ের বুড়ো-অঙ্গুলী এবং দ্বিতীয় অঙ্গুলী এর মধ্যে পুরুষটির লিঙ্গের শিশ্নাগ্র এবং/অথবা শিশ্ন-খাদ স্থাপন করে।
  • পদতলমৈথুন: একজন সঙ্গী প্রধানত তার পদতল ব্যবহার করে অপর সঙ্গীটির লিঙ্গ আন্দোলিত ও মর্দন করতে।
  • পদবিন্যাস: একজন সঙ্গী অপর সঙ্গীটির লিঙ্গে পদবিন্যাস দ্বারা একটা চাপ প্রয়োগ করে। এটা হিল দিয়ে, নগ্নপদে বা অন্যান্য পাদুকা দ্বারা করা হতে পারে।

অবস্থান বা ভঙ্গী[সম্পাদনা]

পদমৈথুনের প্রধান দুই ধরনের অবস্থান বা ভঙ্গী আছে: সেইসব মহিলারা যারা পায়ের উপরিভাগ বিকশিত করতে পারে এবং যারা পদতল বিকশিত করতে পারে। পুরুষ বিশেষে প্রথমটি অথবা দ্বিতীয়টি দ্বারা অধিক কামোত্তেজিত হয়। সাধারণত যেসব পুরুষেরা পদতল পছন্দ করে তারা খুশি হয় যখন নারী তার পায়ের আঙ্গুল কূঞ্চিতকরণ দ্বারা তার পদতল কূঞ্চিত করে। কিন্তু প্রথমে যে অবস্থান বা ভঙ্গীতে পদমৈথুন হয় সেটা নিম্নে লিখিত হল।

একই সমতলে[সম্পাদনা]

উভয় ব্যক্তি মুখোমুখি বসা অবস্থায়, যখন এক সঙ্গী অপর সহযোগীকে তার পায়ের পাতাদ্বয়ের ব্যবহারে উদ্দীপিত করে তোলে। যে ব্যক্তি পদমৈথুন প্রয়োগ করছেন তিনি তার পেটের উপর ভর দিয়ে শুয়ে, সঙ্গীটির থেকে বিপরীতে মুখ করে তার পায়ের পাতাদ্বয় ব্যবহার করেও ক্রিয়াটি করতে পারেন। এই অবস্থানকে অনেক সময় "বিপরীত পদমৈথুন" বলা হয়। অথবা, যে ব্যক্তি পদমৈথুন প্রয়োগ করছেন তিনি দুই পা ফাঁক করে পিছন থেকে, সঙ্গীটির চারপাশে তার পায়ে বেড় দিয়ে ক্রিয়াটি করতে পারেন।[৫]

গ্রাহক ঊর্ধ্বস্থিত[সম্পাদনা]

যে ব্যক্তিটি পদমৈথুন গ্রহণ করছেন তিনি কোনও উচ্চস্থানে (যেমন একটি চেয়ার বা বিছানা) সোজা দাঁড়িয়ে অথবা বসে থাকেন, যেখানে যে ব্যক্তিটি পদমৈথুন প্রয়োগ করছেন তিনি সঙ্গীটির থেকে নিম্নস্থানে পিঠের উপর ভর দিয়ে শুয়ে, পা বাড়িয়ে পুরুষটির পুরুসাঙ্গের উপর তার পায়ের পাতাদ্বয়ের নিপূণভাবে ব্যবহার করেন।[৫]

প্রদানকারী ঊর্ধ্বস্থিত[সম্পাদনা]

যে ব্যক্তিটি পদমৈথুন গ্রহণ করছেন তিনি নিম্ন স্থানে, যেমন ঘরের মেঝেতে শুয়ে থাকেন, যেখানে যে ব্যক্তিটি পদমৈথুন প্রয়োগ করছেন তিনি সঙ্গীটির থেকে উচ্চস্থানে বসে, নিম্নে শায়িত পুরুষটির লিঙ্গ নিজের পায়ের পাতাদ্বয়ের সাহায্যে মর্দন ও পেষন করে তৃপ্তি প্রদান করেন।[৫]

জনপ্রিয় সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্রসমূহ[সম্পাদনা]

  1. Eric Danville। The Penthouse Erotic Video Guide। Grand Central Publishing। পৃ: 263। আইএসবিএন 0-446-61293-6 
  2. Angela Lewis। My Other Self: Sexual fantasies, fetishes and kink। The Great American Publishing Society। পৃ: 18। 
  3. Urban dictionary, definition of the word "Footjob" (2010), Number V
  4. David Deida (2007)। The Enlightened Sex Manual। Sounds True, Inc.। পৃ: 123। আইএসবিএন 1-59179-585-0 
  5. ৫.০ ৫.১ ৫.২ http://www.sexinfo101.com/footjobs.shtml
  6. Paszylk, Bartłomiej (2009)। The pleasure and pain of cult horror films: an historical survey। McFarland। পৃ: 140। আইএসবিএন 0-7864-3695-6 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]