ক্রাকেন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ক্রাকেন কিংবদন্তির দানবাকৃতির জীব, যারা আইসল্যান্ডনরওয়ের উপকূলে বাস করত বলে প্রচলিত রয়েছে। তাদের বিশাল আকার ও ভয়াল চেহারা বিভিন্ন কল্পকাহিনীতে সমুদ্রে বাসকারী একটি দানব হিসেবে ক্রাকেনকে স্থান করে দিয়েছে। কিঙবদন্তীটির উদ্ভব হয়েছে সম্ভবত দানব স্কুইড অবলোকনের ঘটনা থেকে, যারা শুঁড়সহ ১৩-১৫ মিটার (৪০-৫০ ফুট) লম্বা হতে পারে বলে মনে করা হয়।[১][২] এই প্রাণীরা সাধারণত অত্যন্ত গভীর সমুদ্রে বসবাস করে, কিন্তু সমুদ্রপৃষ্টে এদের দেখা গিয়েছে এবং এরা জাহাজ আক্রমণ করেছে বলে শোনা গিয়েছে। kraken শব্দটি krake এর রূপ, একটি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান শব্দ যার অর্থ অসুস্থ জন্তু, বা বিকৃত কিছু। আধুনিক জার্মান ভাষায়, krake অর্থ অক্টোপাস, কিন্তু এটি কিংবদন্তির ক্রাকেনকেও নির্দেশ করতে পারে।

Pierre Dénys de Montfort কর্তৃক, অ্যাঙ্গোলার উপকূলে এরকম একটি প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত ফরাসি নাবিকদের বিবরণ শুনে আঁকা ছবি।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

যদিও kraken নামটি নর্স গাঁথা (saga) গুলোতে পাওয়া যায় না, কিন্তু এ-ধরনের সমুদ্রদানব, hafgufalyngbakr এর বর্ণনা রয়েছে Örvar-Odds saga-এ এবং আনুমানিক ১২৫০ সালের নরওয়েজীয় টেক্সট, Konungs skuggsjá-এ। ক্যারোলাস লিনিয়াস তাঁর Systema Naturae, জীবিত প্রাণীদের শ্রেণীবিভাগের একটি গ্রন্থের প্রথম সংস্করণে ক্রাকেনকে একটি cephalopods হিসেবে Microcosmus নামে অন্তর্ভুক্ত করেন, কিন্তু পরবর্তী সংস্করণগুলোতে প্রাণীটিকে বাদ দেন। Erik Pontoppidan, বার্জেনের বিশপও বিস্তারিতভাবে ক্রাকেনের বিবরণ দিয়েছেন তাঁর "Natural History of Norway"-তে (Copenhagen, 1752–3)। পুরনো বিবরণগুলোতে, Pontoppidan-এরটিসহ, ক্রাকেনকে বর্ণনা করা হয়েছে একটি প্রাণী হিসেবে যার 'আকার একটি ভাসমান দ্বীপের মত', নাবিকদের জন্য যার প্রধান বিপদ প্রাণীটি নিজে নয়, বরং এটি ডুব দিলে যে ঘূর্ণিস্রোত সৃষ্টি হয় তা। যাইহোক, Pontoppidan দানবীয় পশুটির ধ্বংস ক্ষমতারও বিবরণ দিয়েছেনঃ "বলা হয় যে যদি এটি সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজটিকে আঁকড়ে ধরে, তবে তাকে এটি সমুদ্রের তলদেশে টেনে নিতে সক্ষম" (Sjögren, ১৯৮০)। ক্রাকেন সবসময়েই সমুদ্রসর্প থেকে স্বতন্ত্র ছিল, ক্রাকেনের মতই স্ক্যান্ডিনেভীয় গাঁথায় যাদের পাওয়া যায় (উদাহরণস্বরূপ Jörmungandr এর কথা বলা যায়)। একটি প্রতিনিধিত্বমূলক আদি বর্ণনা দিয়েছেন সুইডেনের অধিবাসী Jacob Wallenberg তাঁর বই Min son på galejan ("My son on the galley")-এ, ১৭৮১ সালেঃ

...ক্রাকেন, যাকে কাঁকড়া মাছও বলা হয়, যেটি [নরওয়ের নাবিকদের বর্ণনা অনুযায়ী] ততটা বিশাল নয়, মস্তক এবং লেজসমূহ গণ্য করে, আমাদের Öland এর চেয়ে সে বড় নয় [অর্থাৎ ১৬ কি. মি. এর কম]... সে সমুদ্রের তলদেশে অবস্থান করে, অগনন ক্ষুদ্র মাছ দ্বারা নিরন্তর পরিবেষ্টিত, যারা তার খাদ্য হিসেবে কাজে লাগে এবং বিনিময়ে তার নিকট হতে খাবার পায়ঃ তার ভোজন, E. Pontoppidan যা লিখেছিলেন তা যদি সঠিকভাবে আমার মনে থাকে, তিন মাসের অধিক স্থায়ী হয় না, এবং আরও তিন মাস প্রয়োজন হয় তা হজম করতে। তার বর্জ্য ক্ষুদ্রতর মাছের একটি বাহিনীর প্রয়োজনে লাগে, একারণে জেলেরা তার বিশ্রামের স্থানে মাছ ধরে... ধীরে ধীরে, ক্রাকেন সমুদ্রপৃষ্টে ভেসে ওঠে, এবং সে যখন ১০ থেকে ১২ ফ্যাদম গভীরে, নৌকাগুলো তার এলাকা থেকে সরে যাওয়াই ভালো, কারণ স্বল্পক্ষণের মধ্যেই সে সজোরে ভেসে উঠবে, ভাসমান একটি দ্বীপের মত, তার ভয়াবহ নাসারন্ধ্র দিয়ে জল নিঃসরণ করতে করতে এবং চারপাশে বৃত্তাকার ঢেউ তৈরি করতে করতে, যা বহু মাইল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ-ব্যাপারে কি কারো সন্দেহ আছে যে এটি ইয়াকুবের লেভিয়াথান ?

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. ১। O'Shea, S. 2003. "Giant Squid and Colossal Squid Fact Sheet". The Octopus News Magazine Online.
  2. ২। Boyle, Peter; Rodhouse, Paul (2005). "The search for the giant squid Architeuthis". Cephalopods: Ecology and Fisheries. Oxford, England: Blackwell. pp. 196. ISBN 0-632-06048-4.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]