আব্দুল মতিন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আব্দুল মতিন
Abdul Matin.jpg
জন্ম ৩ ডিসেম্বর, ১৯২৬
সিরাজগঞ্জ
মৃত্যু ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩(২০১৩-০২-১৩) (৮৬ বছর)
সেন্ট জর্জ, দক্ষিণ লন্ডন
জাতীয়তা বাংলাদেশী
বংশোদ্ভূত বাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ Flag of Bangladesh.svg
যে জন্য পরিচিত ভাষা সৈনিক
ধর্ম মুসলিম
পুরস্কার একুশে পদক

আব্দুল মতিন (জন্ম: ৩ ডিসেম্বর, ১৯২৬ ১৯৫২ সালের বাংলা ভাষা আন্দোলনের অন্যতম ভাষা সৈনিক।

শৈশব ও শিক্ষা জীবন[সম্পাদনা]

আব্দুল মতিন ১৯২৬ সালের ৩ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার একটি ছোট্ট গ্রাম ধুবালীয়ায় এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম আব্দুল জলিল এবং মায়ের নাম আমেনা খাতুন। তিনি ছিলেন তাদের প্রথম সন্তান। জন্মের পর তাঁর ডাক নাম ছিল গেদু। ১৯৩০ সালে গ্রামের বাড়ী যমুনা ভাঙনে ভেঙ্গে গেলে আবদুল জলিল জীবিকার সন্ধানে ভারতের দার্জিলিং এ চলে যান। সেখানে জালাপাহারের ক্যান্টনমেন্টে সুপারভাইস স্টাফ হিসেবে একটি চাকরি পেয়ে যান। ১৯৩২ সালে আব্দুল মতিন শিশু শ্রেণীতে দার্জিলিং-এর বাংলা মিডিয়াম স্কুল মহারাণী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিলেন এবং তখন সেখানেই তাঁর শিক্ষা জীবনের শুরু। ১৯৩৩ সালে আব্দুল মতিনের মাত্র ৮ বছর বয়সে তার মা অ্যাকলেমশিয়া রোগে মারা যান। মহারানী গার্লস স্কুলে ৪র্থ শ্রেণী পাশ করলে এখানে প্রাইমারি স্তরের পড়াশোনার শেষ হয়। এরপর ১৯৩৬ সালে দার্জিলিং গভর্মেন্ট হাই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হন। তিনি ১৯৪৩ সালে এনট্রেন্স (Secondary Certificate Examination) পরীক্ষায় ৩য় বিভাগ নিয়ে উত্তীর্ণ হন।

ছেলে দার্জিলিং এ ভাল কোন কলেজে ভর্তি হোক বাবা তা চাইলেও আব্দুল মতিন ১৯৪৩ সালে রাজশাহী গভর্মেন্ট কলেজে ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষে ভর্তি হলেন। ২ বছর পর ১৯৪৫ সালে তিনি এইচ এস সি পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ নিয়ে উত্তীর্ণ হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে আব্দুল মতিন বৃটিশ আর্মির কমিশন র‌্যাঙ্কে ভর্তি পরীক্ষা দেন। দৈহিক আকৃতি, উচ্চতা, আত্মবিশ্বাস আর সাহসিকতার বলে তিনি ফোর্ট উইলিয়াম থেকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কমিশন পান। এরপর তিনি কলকাতা থেকে ব্যাঙ্গালোর গিয়ে পৌছান। কিন্তু ততদিনে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। ফলে তিনি একটি সার্টিফিকেট নিয়ে আবার দেশে ফিরে আসেন। দেশে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি ১৯৪৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর অব আর্টস (পাশ কোর্স) এ ভর্তি হলেন। ফজলুল হক হলে তাঁর সিট হয়। ১৯৪৭ সালে গ্র্যাজুয়েশন কোর্স শেষ করেন এবং পরে মাস্টার্স করেন ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন বিভাগ থেকে।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

গ্রন্থপুঞ্জি[সম্পাদনা]

আব্দুল মতিনের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হচ্ছে:

  • ‘ইউরোপের দেশে দেশে’ (১৯৬০)
  • ‘কাস্তে’ (১৯৮৭)
  • ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রবাসী বাঙালি’ (১৯৮৯)
  • ‘প্রবাসীর দৃষ্টিতে বাংলাদেশ’ (১৯৯১)
  • ‘শামসুদ্দিন আবুল কালাম ও তার পত্রাবলী’ (১৯৯৮)
  • ‘শেখ হাসিনা: একটি রাজনৈতিক আলেখ্য’ (১৯৯২)
  • আত্মজীবনী ‘স্মৃতিচারণ পাঁচ অধ্যায়’ (১৯৯৫)
  • ‘জীবনস্মৃতি: একটি বিশেষ অধ্যায়’ (২০১২)
  • রাজনীতি বিষয়ক ‘জেনেভায় বঙ্গবন্ধু’ (১৯৮৪)
  • ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব: কয়েকটি প্রাসঙ্গিক বিষয়’ (১৯৯৩)
  • ‘খালেদা জিয়ার শাসনকাল: একটি পর্যালোচনা’ (১৯৯৭)
  • ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব: মুক্তিযুদ্ধের পর’ (১৯৯৯)
  • ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব: কয়েকটি ঐতিহাসিক দলিল’ (২০০৮)
  • ‘বিজয় দিবসের পর: বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ (২০০৯)
  • ইতিহাস বিষয়ক ‘রোমের উত্থান ও পতন’ (১৯৯৫)
  • ‘মহানগরী লন্ডন’ (১৯৯৬)
  • ‘ক্লিওপেট্রা’ (২০০০)
  • ‘দ্বি-জাতি তত্ত্বের বিষবৃক্ষ’ (২০০১)
  • ‘ভলতেয়ার: একটি অনন্য জীবনকাহিনী’ (২০০২)
  • ‘কামাল আতাতুর্ক: আধুনিক তুরস্কের জনক’ (২০০৩)
  • ‘মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালি: যুক্তরাজ্য’ (২০০৫)
  • ‘ইউরোপের কথা ও কাহিনী’ (২০০৫); ‘ইউরোপের কথা ও কাহিনী’ (২০০৭)
  • ‘ইউরোপের কথা ও কাহিনী’ (২০০৯)

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]